অ্যাডভোকেট রুম্মাত রওশন জুঁই

অ্যাডভোকেট রুম্মাত রওশন জুঁই Lawyer & Law Farm

06/06/2026

কারাগারে / জেলখানায় কত মাসে বছর? #জেলখানায়কতমাসেবছর

জেলখানায় কত মাসে বছর? (প্রিজন্স অ্যাক্ট, ১৮৯৪ এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত জেলকোড, ১৯২০ এর বিধি অনুযায়ি)

✪ স্বাভাবিকভাবে আমরা জানি ৩৬৫ দিনে বছর, ৩০ দিনে মাস; জেলখানার কয়েদিদের জন্যও কি সেই হিসেব প্রযোজ্য? নাকি তাদের বেলা ভিন্ন হিসেব? চলুন আজকে আলোচনা করা যাক সেই বিষয়েই..

➤ সূচনা আলোচনা: দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪৯ ধারায় বছর ও মাসের সংজ্ঞায় বলা আছে ব্রিটিশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যেভাবে বছর ও মাস গণনা করা হয় তাকেই বোঝাবে। একই কথা বলা হয়েছে General Clauses Act, 1897 আইনের ৩ (৫৯) ধারায়ও। সুতরাং, বছর মানে ৩৬৫ দিন ও মাস মানে ৩০ দিন এটাই প্রযোজ্য আইনে এবং কারাগারের ক্ষেত্রেও এই হিসেবেই বছর ও মাসের হিসেবটা হবে!

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা যে শুনি জেলাখানায় ৮ মাস, ১০ মাস বা ৬ মাসে বছর এই কথাগুলো আসলো কিভাবে? চলুন তাহলে সেই বিষয়টা জেনে নেই।

➤ মূল আলোচনা: রেয়াতের মাধ্যমে মূলত কারাবন্দিদের দণ্ডকাল কমে আসে। তাহলে রেয়াত বিষয়টি বুঝলেই কিন্তু আমরা বুঝতে পারবো কয়েদিদের ক্ষেত্রে কত মাসে বছর কিংবা কত দিনে মাস!

আদালতের রায়ে কাউকে কারাগারে পাঠানো হলে আদালতের আর কোনো দায় থাকেনা এরপর থেকে দায়িত্ব বর্তায় কারা কর্তৃপক্ষের উপর। কারা কর্তৃপক্ষ ও কারাগারের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় Prisons Act, 1894 এর ধারা: ৫৯ এ বর্ণিত Jail Code, 1920 মোতাবেক।

জেলকোড, ১৯২০ এর ১১শ অধ্যায়ের ৭৫০-৭৮১ বিধিতে সন্নিবেশিত আছে বন্দিদের রেয়াত (remission) মঞ্জুরের বিধানবলী। রেয়াত মানে হলো অব্যাহতি দেয়া বা ছাড় দেয়া বা রেহাই দেয়া। এই রেয়াত এর মাধ্যমেই মূলত কোনো আসামীর দণ্ডের মেয়াদ কমানোর সুযোগ চলে আসে যা কিনা ঐ বিধিগুলো মোতাবেকই হতে হবে।

✪ রেয়াত (Remission) : রেয়াত দুই প্রকারের হয়: সাধারণ ও বিশেষ রেয়াত।

➤ রেয়াত মঞ্জুর: জেলকোডের ৭৬১ বিধি মোতাবেক 'সাধারণ রেয়াত' মঞ্জুর করতে পারেন সিনিয়র জেল সুপারিন্টেন্ডেন্ট বা জেল সুপার বা তার কতৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো জেল কর্মকর্তা।
অপরদিকে, ৭৬৬ বিধি মোতাবেক সরকার বা আইজি প্রিজন্স অথবা জেল সুপার কার্যকর করতে পারেন 'বিশেষ রেয়াত'।

✪ জেলকোডের বিধি মোতাবেক রেয়াতের পরিমাণ:

➤ কারাবন্দীদের সাধারণ রেয়াৎ প্রাপ্তি:
☞ কারাগারের সব নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিমাসে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (এ)]

☞ শিল্প ও দৈনন্দিন দেয়া কাজগুলো সঠিকভাবে করাে জন্য প্রতিমাসে ২ দিন। [বিধি: ৭৫৬ (বি)]

☞ কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৭ দিন ও নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনে প্রতিমাসে ৬ দিন। [বিধি: ৭৫৭]

☞ শুক্রবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বাবুর্চি ও সুইপারের কাজে নিয়োজিত থাকলে অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি কোয়ার্টারে ৩ দিন। [বিধি: ৭৫৯]

☞ দণ্ডাদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী মাসের ১ তারিখ হতে ১ বছর পার হবার পর; কারা অপরাধের সর্বশেষ শাস্তিভোগের তারিখ হতে ১ বছর অতিক্রম করার পর বন্দি যদি অন্যকোনো কারা অপরাধ না করেন সেক্ষেত্রে বছরে আরও ১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পাবেন। [বিধি: ৭৬০]

◑ তাহলে দেখা যাচ্ছে, একজন বন্দী বিধি মোতাবেক কাজকর্ম করলে মাসে ১০-১৫ দিন সাধারণ রেয়াত পেতে পারেন যা সম্ভব নয় তবে প্রত্যেক বন্দিই কিছু রেয়াত পেয়ে থাকেন। ফলে বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রতিমাসে দিনের পরিমাণ কমে আসে।

➤ কারাবন্দীদের বিশেষ রেয়াৎ প্রাপ্তি: বিশেষ রেয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে জেলকোডের ৭৬৫ ও ৭৬৬ বিধিতে। উক্ত বিধি দুটি মোতাবেক জেল সুপার বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিন ও আইজি প্রিজন্স অথবা সরকার বছরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বিশেষ রেয়াত প্রদান করতে পারেন। যে যে ক্ষেত্রে বিশেষ রেয়াত প্রদান করা হয়:
☞ কারাগারে শৃঙ্খলা বা নিয়ম ভঙ্গের বিষয় শনাক্ত করা কিংবা প্রতিরোধ করার কাজে সহযোগিতা করা।
☞ হস্তশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদানে কৃতিত্ব।
☞ বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ কোনো কাজ কিংবা আয় বৃদ্ধিকারক উন্নতমানের কোনো কাজ।
☞ আক্রমণ হতে কারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রক্ষা করা।
☞ কারা বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আগুন বা সমপ্রকৃতির জরূরী ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করা।
☞ পোশাক ব্যবহারে মিতব্যয়িতা।
☞ টেকনিক্যাল বা একাডেমিক ট্রেনিং গ্রহণে দক্ষতা প্রদর্শন।
☞ কারাগারের বিধিবিধান পালনে মনোযোগী হওয়া ও একটানা তিন বছর কোনো কারাশাস্তি ভোগ না করা।

✪ রেয়াত প্রাপ্তির শর্তাবলী:
☞ জেলকোডের ৭৬৮ বিধি মোতাবেক এক দণ্ডের তৃতীয়াংশের বেশি রেয়াত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমতি লাগবে।
☞ বিচারাধীন বন্দি কোনো রেয়াতই পাবেন না।
☞ জরিমানা অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ড ব্যতীত ৬ মাসের কম মেয়াদের কারাদণ্ডে সাধারণ রেয়াত প্রযোজ্য নয়।
☞ বিধি ৭৫৪ মোতাবেক কারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ কিংবা কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আঘাত করার অপরাধে কারা কর্তৃপক্ষ রেয়াত বাতিল করতেও পারবেন।

✪ উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে একজন কারাবন্দী রেয়াতের ভিত্তিতে দণ্ডাকাল কমিয়ে আনতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এমনও হতে পারে বছর ৬ মাসেও হতে পারে কিংবা ৮ মাস বা ১১ মাসেও হতে পারে। একেক বন্দীর ক্ষেত্রে সাধারণ ও বিশেষ রেয়াতের মাধ্যমে বন্দিরা দণ্ডকাল কমিয়ে আনতে পারবেন।

29/05/2026

"Justice is the great interest of man on earth"-Daniel Webster

তাক্বাব্বালাল্লাহু_মিন্না_ওয়া_মিনকুম!🕌 োবারক🌙
20/03/2026

তাক্বাব্বালাল্লাহু_মিন্না_ওয়া_মিনকুম!

🕌 োবারক🌙

শুভ জন্মদিন প্রিয় ❤️❤️
27/12/2025

শুভ জন্মদিন প্রিয় ❤️❤️

🇧🇩দলিলের ভুল হলে কিভাবে সংশোধন করতে হবে জেনে নিন.....​দলিলে সাধারণত দুই ধরনের ভুল দেখা যায়:​১. ছোটখাটো ভুল বা করণিক ভুল ...
14/10/2025

🇧🇩দলিলের ভুল হলে কিভাবে সংশোধন করতে হবে জেনে নিন.....

​দলিলে সাধারণত দুই ধরনের ভুল দেখা যায়:

​১. ছোটখাটো ভুল বা করণিক ভুল (Clerical or bona fide mistake): যেমন-
​নামের বানানে সামান্য ভুল।
​ঠিকানার ভুল (যদি মূল সম্পত্তির পরিচয় সঠিক থাকে)।
​দাগ নম্বর, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি বা অন্যান্য বর্ণনায় সামান্য ভুল যা মূল সম্পত্তির পরিচয়কে প্রভাবিত করে না।
​আইন অনুযায়ী এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে যা করা যেতে পারে (সর্বশেষ আপডেট):
​সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সংশোধন (ভ্রম সংশোধন দলিল): সাধারণত, এই ধরনের ছোটখাটো বা করণিক ভুল (Clerical Mistake) দলিলের মূল কাঠামো পরিবর্তন না করলে এবং যদি উভয় পক্ষ (দাতা ও গ্রহীতা) জীবিত ও রাজি থাকেন, তাহলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ভ্রম সংশোধন দলিল (Correction Deed) বা ভ্রম সংশোধনী দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। এটি আদালতের বাইরে সংশোধনের অন্যতম সহজ উপায়। এর জন্য মূল দাতা বা বিক্রেতাকে উপস্থিত থাকতে হয়।

​২. বড় ধরনের ভুল (Major Mistake): যেমন-
​সম্পত্তির ভুল দাগ নম্বর, খতিয়ান বা মৌজা নম্বর উল্লেখ করা, যার ফলে এক সম্পত্তির পরিবর্তে অন্য সম্পত্তি বোঝানো হয়।
​বিক্রিত জমির পরিমাণ বা চৌহদ্দির বড় ধরনের ভুল।
​প্রতারণামূলক ভুল (Fraudulent entry)।
​আইন অনুযায়ী এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে যা করতে হয়:
​বড় ধরনের ভুল বা প্রতারণার কারণে ভুল হলে, তা সংশোধনের জন্য দেওয়ানি আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা (Section 31 of the Specific Relief Act, 1877) অনুযায়ী দলিল সংশোধনের মামলা (Suit for Rectification of Instrument) দায়ের করতে হয়।

​এই ধরনের মামলা সাধারণত ভুলটি ধরা পড়ার ৩ (তিন) বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। ৩ বছর অতিবাহিত হলে তামাদি আইনের কারণে সরাসরি সংশোধনের মামলা করা যায় না, সেক্ষেত্রে অন্য ধরনের মামলা (যেমন: ঘোষণামূলক মামলা) করা যেতে পারে।

🇧🇩দলিল নম্বর ও তারিখ থাকা সত্ত্বেও দলিল তল্লাশি দিলে অফিস থেকে বলে বালাম বই এর পাতা ছেড়া, দলিল নেই, এমতাবস্থায় আপনার সর্...
09/10/2025

🇧🇩দলিল নম্বর ও তারিখ থাকা সত্ত্বেও দলিল তল্লাশি দিলে অফিস থেকে বলে বালাম বই এর পাতা ছেড়া, দলিল নেই, এমতাবস্থায় আপনার সর্বশেষ করনীয় কি জেনে নিন।

🔵করনীয় কি
১। রেকর্ড রুমে আবেদন এবং রিসিভ কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
২। দলিল না পেলে লিখিত নিতে হবে।
৩। মহামান্য হাইকোর্টে রিট করতে হবে।
৪। আদালত আপনার স্বপক্ষে রায় বা ডিগ্রি দিবে।
৫। ডিগ্রি মূলে আপনি জমির মালিকানা অর্জন করবেন।
৬। এই ডিগ্রি আপনার আসল দলিল হিসেবে কাজ করবে।

🔵এবার বিস্তারিত

🔴প্রথম ধাপ – নিজের প্রমাণ সংগ্রহ:
সবার আগে আপনার জমির সকল তথ্য সংগ্রহে রাখতে হবে, যেমন
✅দাগ নম্বর
✅নামজারি
✅খতিয়ান
✅দাখিলা

🔴দ্বিতীয় ধাপ- আবেদন
✅জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে দলিলের নম্বর ও তারিখ দিয়ে আবেদন করতে হবে।
✅আবেদন জমা দিয়ে অবশ্যই প্রাপ্তি রশিদ সংগ্রহ করবেন।

🔴তৃতীয় ধাপ-দলিল না পেলে
✅যদি রেজিস্ট্রার অফিস বলে দলিল পাওয়া যাচ্ছে না বা বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া, তবে লিখিতভাবে সনদ (Non-availability Certificate) চাইবেন।

✅মৌখিক কথায় থামবেন না। লিখিত নোটিশ/সার্টিফিকেট চাইবেন, লেখে দেন যে পাতা ছেড়া যা আপনার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

🔴 লিখিত না দিলে করণীয় কি?

✅১) প্রাপ্তি রশিদ সংগ্রহ করুন
👉আপনার আবেদন অবশ্যই জমা দেবেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্তি রশিদ (Received Copy) নিবেন।
👉যদি তারা রশিদ না দেয়, তাহলে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় আপনার কপি/ডুপ্লিকেটে সিল ও সই করাতে হবে।
💠 এটা আপনার প্রমাণ হবে যে আপনি অফিসে আবেদন জমা দিয়েছেন।

🔴অফিস যদি লিখিত জবাব না দেয়, আপনি তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর আওতায় লিখিতভাবে তথ্য চাইতে পারেন। তারা বাধ্য থাকবে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে। যদি তারা জবাব না দেয়, আপনি তথ্য কমিশন-এ অভিযোগ করতে পারবেন, যেখানে জরিমানার বিধান আছে।Form-লিল পাওয়া এটা আপনারা আইনগত অধিকার

🔵🔵দলিল তল্লাশি ও কপি পাওয়ার আইনগত অধিকার কি জেনে নিন। 🔵🔵

🔴১) Registration Act, 1908 (নিবন্ধন আইন, ১৯০৮)
💠ধারা ৫৭(১)
> রেজিস্ট্রি অফিসের বই (Register Books) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং আগ্রহী ব্যক্তি দলিলের অনুসন্ধান (Search) করতে পারবে।

👉 অর্থাৎ, দলিল নম্বর, তারিখ, নাম দিয়ে আপনি সার্চ করার অধিকার রাখেন।

💠ধারা ৫৭(২)
আগ্রহী ব্যক্তি দলিলের নকল (Certified Copy) চাইলে রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার তা দিতে বাধ্য।

👉 আপনি দলিলের কপি চাইলে অফিস আপনাকে দিতে বাধ্য, তারা ইচ্ছে করে আটকাতে পারবে না।

💠ধারা ৫৭(৩)
> কপি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করতে হবে।

👉 শুধু ফি দিলে আপনার কপি পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত।

💠ধারা ৫৭(৫)
> যদি দলিল পাওয়া না যায় বা নথি হারানো থাকে তবে অফিসকে লিখিতভাবে কারণ দেখিয়ে উত্তর দিতে হবে।

👉 তারা যদি বলে "পাতা ছেঁড়া, দলিল নাই" – তবে তা লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য। মৌখিকভাবে বললে আইন লঙ্ঘন করছে।

🔴২) Registration Rules (বাংলাদেশ নিবন্ধন বিধি)

নিবন্ধন বিধিমালায় বলা আছে –

Form-37 দিয়ে Certified Copy এর আবেদন করতে হবে।
অফিস আবেদন নিলে প্রাপ্তি রশিদ (Receipt) দিতে বাধ্য।

🔴৩) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (Right to Information Act, 2009)

✅ধারা ৪(১)
> প্রত্যেক নাগরিক যেকোনো সরকারি অফিস থেকে তথ্য চাইতে পারবেন।

✅ধারা ৬(১)
> আবেদন করলে ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য দিতে হবে, না হলে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

✅ধারা ৬(৫)
> তথ্য গোপন করলে বা না দিলে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করা যাবে।
👉 অর্থাৎ, আপনি RTI আবেদন করলে অফিস ২০ দিনের মধ্যে লিখিত উত্তর দিতে বাধ্য।

🔴৪) সংবিধান (বাংলাদেশ সংবিধান, ১৯৭২)

✅অনুচ্ছেদ ৩১
> আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার – প্রত্যেক নাগরিক আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাবে।

✅অনুচ্ছেদ ৪৪
> মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হাইকোর্টে রিট করার অধিকার রয়েছে।

🔵🔵 যদি অফিস আপনাকে লিখিত না দেয়, আপনার সংবিধানগত অধিকার হলো হাইকোর্টে রিট করা🔵🔵

🔴🔴রিট করবেন কিভাবে (ধাপে ধাপে)🔴🔴

💠১. আইনজীবী নিয়োগ করুন
👉হাইকোর্টে রিট করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী (High Court Division-এ প্র্যাকটিস করেন এমন) নিয়োগ করতে হবে।
👉কারণ, রিট আবেদন সাধারণ মানুষ সরাসরি করতে পারেন না, অবশ্যই আইনজীবীর মাধ্যমে করতে হয়।

💠২. রিটের ধরন নির্ধারণ

✅এক্ষেত্রে আপনি রিট অব ম্যান্ডামাস (Mandamus) করতে পারবেন।
✅Mandamus মানে হলো – সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা।
✅এখানে দায়িত্ব হলো: সাব-রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রার অফিস আপনার দলিলের সঠিক তথ্য যাচাই করে কপি প্রদান করবে।

💠৩. রিট পিটিশন প্রস্তুতকরণ

রিটে সাধারণত যা থাকে –
✅1. পিটিশনার (আপনি) এর নাম, ঠিকানা।
✅2. রেসপন্ডেন্ট (যাদের বিরুদ্ধে রিট) –
👉সাব-রেজিস্ট্রার,
👉জেলা রেজিস্ট্রার,
👉Inspector General of Registration (IGR),
👉ভূমি মন্ত্রণালয় (প্রয়োজনে)।
✅3. বিষয়বস্তু:
👉আপনার দলিল নম্বর, তারিখ, দলিলের ধরণ।
👉অফিস বলেছে বালাম বইয়ের পাতা ছেঁড়া।
👉দলিল না দেওয়ায় আপনার ক্ষতি হচ্ছে।
👉লিখিত প্রত্যাখ্যানও দেয়নি।
✅4. আপনার প্রার্থনা (Prayer):
👉হাইকোর্ট যেন নির্দেশ দেন দলিল সঠিকভাবে যাচাই করে কপি প্রদান করতে।
👉প্রয়োজনে বালাম বই পুনর্গঠন বা অন্য নথি থেকে তথ্য উদ্ধার করতে।

💠৪. রিট ফাইল করা
✅আপনার আইনজীবী হাইকোর্টের রিট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করবেন।
✅কোর্ট ফি ও স্ট্যাম্প (প্রায় ২০০-৩০০ টাকা) দিতে হবে।

💠৫. শুনানি ও আদেশ
✅কোর্ট রেসপন্ডেন্টদের নোটিশ দিবে।
✅সাধারণত কোর্ট প্রথমে রুল (Rule Nisi) জারি করে জিজ্ঞেস করবে – কেন দলিল না দেওয়াটা বেআইনি হবে না?
✅পরে শুনানি শেষে কোর্ট নির্দেশ দিবে (Order)।

💠৬. সম্ভাব্য কোর্টের আদেশ
✅অফিসকে আপনার দলিল অনুসন্ধান করে কপি দিতে হবে।
✅যদি বালাম বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে অন্যান্য নথি (Volume Book, Microfilm, Digital Copy, মিউটেশন রেকর্ড ইত্যাদি) থেকে তথ্য উদ্ধার করে দিতে হবে।
✅লিখিত কারণপত্র দিতে হবে।
✅অবহেলার প্রমাণ হলে অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হতে পারে।

🔴 কোন কোন আইনের ভিত্তিতে আপনি রিট করতে পারবেন?

✅1. বাংলাদেশ সংবিধান – 102 অনুচ্ছেদ
👉Fundamental Rights ভঙ্গ হলে, বা সরকারি অফিস কর্তব্যে অবহেলা করলে, হাইকোর্টে রিট করা যায়।

✅2. Registration Act, 1908
👉Section 51, 57 – দলিল রেজিস্ট্রার অফিসে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
👉Section 60 – দলিল রেজিস্ট্রার ভেরিফাই করে কপি প্রদানের দায়িত্বে।

✅3. Evidence Act, 1872 – Section 74, 76
👉পাবলিক ডকুমেন্ট (যেমন দলিল) নাগরিক কপি পাওয়ার অধিকার রাখে।

✅4. Right to Information Act, 2009 – Section 4, 7, 9
👉নাগরিক তথ্য চাইলে সরকারি অফিস লিখিতভাবে দিতে বাধ্য।

🔴🔴রিটের পরও দলিল না পাওয়া গেলে করণীয়🔴🔴

✅১. হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ
👉হাইকোর্ট যদি দেখে দলিল উদ্ধার করা যাচ্ছে না, তবে সাধারণত বলে দেবে:

👉সাব-রেজিস্ট্রার বা জেলা রেজিস্ট্রার লিখিতভাবে সার্টিফিকেট দিবে যে “এই দলিলটি অফিসে পাওয়া যায়নি / পাতা ছেঁড়া / নষ্ট হয়েছে”।

👉এই লিখিত নথি ভবিষ্যতে আপনার প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে।

✅২. ডিক্লারেটরি স্যুট (Declaratory Suit) করবেন – সিভিল কোর্টে
👉দলিল না থাকলেও আপনি সিভিল কোর্টে মামলা করতে পারবেন।
👉মামলা হবে Specific Relief Act, 1877 – Section 42 অনুযায়ী।
👉এখানে আপনি প্রার্থনা করবেন → কোর্ট যেন ঘোষণা দেয় যে আপনি বৈধ মালিক এবং দলিল হারিয়ে গেছে।
👉কোর্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ (মিউটেশন, খাজনা রসিদ, মৌজা রেকর্ড, বিক্রেতা/সাক্ষীর সাক্ষ্য) দেখে মালিকানা ঘোষণা দেবে।

🔵একবার কোর্ট ঘোষণা দিলে সেটা আসল দলিলের সমান কার্যকর হবে। আর এই ডিগ্রি বা ঘোষণা দিয়ে আসল মালিকানা প্রমাণ ও পরবর্তীতে জমি ক্রয় বিক্রি করতে পারবেন।
শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন।

04/09/2025

সুপ্রিম কোর্ট এর ভ্যাকেশন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতভেদ আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে পক্ষে কারণ আইন পেশায় অনেক স্ট্রেস নিতে হয়। সবকিছু গুছিয়ে নিতে এ ধরনের লম্বা ছুটি আবশ্যক।

24/08/2025

মূর্খের সাথে তর্ক করতে নেই।

❤️🇧🇩❤️
24/08/2025

❤️🇧🇩❤️

Address

Sunamgoanj. Jamalganj. Dhaka
Sunamganj
3020

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অ্যাডভোকেট রুম্মাত রওশন জুঁই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share