Ali'S DiarY

Ali'S DiarY Hazrat Ali, LL.B. LL.M.DU.

02/07/2024

গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশোনা বা আলোচনা কেন জরুরি এটা কি আইন বুঝতে বা মনে রাখতে সহায়ক? এই প্রশ্নটির সব চেয়ে সহজ উত্তর হলো কোন বিষয়ে পড়া বুঝতে ও মনের রাখতে যতগুলো উপযোগী পথ ও পদ্ধতি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি গুলোর একটি হলো এটি। সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করা চাকরিটা হলো আমার ৪র্থ চাকরি। তার পূর্বে আমি ৩ টি চাকরিতে প্রায় ৫ বছরের অধিককাল চাকরি করেছি। তবে আমার বিচারক হওয়ার প্রস্তুতিটা ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়টা ছিল সোনালী ব্যাংকে অফিসার(জেনারেল) হিসেবে চাকরি করার প্রায় ৩ বছর কালীন সময়টা। একটা সময় এমন মনে হত যে, আমার চাকরি জীবন মনে হয় এখানেই শেষ।

তখনই আমার সামনে সুযোগ আসলো গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশোনা করার এবং যথারীতি ৫/৬ জনের একটি গ্রুপ ও হয়ে গেল। করনা ভাইরাসের আগে থেকে এই গ্রুপটি চালু হলেও পড়াশোনা ও নিয়মিত আলোচনায় গতি আসলো মূলত করনাকালীন সময়ে। আলহামদুলিল্লাহ সেই গ্রপের যারা নিয়মিত ছিলেন তাদের ৪ জন এখন বিচারক।

গ্রুপ ভিত্তিক পড়াশোনায় আমি যে ভাবে উপকৃত হতাম তার সার সংক্ষেপ হলো। আমাদের পত্যেকদিনের আলোচ্য বিষয় আগের দিন নির্ধারন করে দেওয়া হত এবং আমরা সবাই ব্যক্তিগতভাবে যার যার মত করে ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পড়াশোনা করতাম এবং কারও কোন বিষয়ে প্রশ্ন বা অস্পষ্টতা থাকলে তা লিখে রাখতাম। নির্দিষ্ট দিনে এই সকল বিষয়ের উপর আলোচনা হতো এবং কারও কোন সমস্যা থাকলে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের আলোচনায় নতুন নতুন আইনের রেফারেন্স, ব্যতিক্রম, অন্য কোন আইনে এই বিষয়ে কিছু বলা আছে কিনা এবং প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ কেস রেফারেন্স চলে আসতো। আলোচনা শেষে আমাদের অনেকে এমনও বলতো যে, আমি এই বিষয়টি এমনভাবে আগে বুঝিনি কোন দিন। আরও একটি কার্যকরী দিক হলো ঐ বিষয় আপনার কাছে স্পষ্ট হওয়ায় তা দীর্ঘ সময় ধরে মনে থাকে। আপনি কিভাবে একটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করবেন তার খুব ভালো ধারনা পাওয়া যায় আলোচনা থেকে। যারা একাকী পড়তে চান না বা বেশিক্ষন ধরে পড়তে পারেন না তাদের জন্য গ্রুপ ভিত্তিক আলোচনা বা পড়াশোনা করার কোন বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না। আপনি এখান থেকে একদিকে যেমন পড়াশোনার চলমান প্রক্রিয়া ধরে রাখতে পারবেন অন্যদিকে তেমনি আপনার গঠনমূলক প্রস্তুতিও চলবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মূলত আমার এই উদ্যোগ। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন এবং সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন আপনিও হতে পারেন বিচার বিভাগের গর্বিত সদস্য।

বিঃদ্রঃ পরবর্তী লেখায় থাকবে আপনি কেন বিচারক হবেন? এই ‍বিষয় নিয়ে আমার ভিন্ন ভিন্ন চাকরির অভিজ্ঞতার আলোকে বাস্তবধর্মী ধারনা এবং কেন বিচারকের পেশা অন্যান্য পেশা থেকে স্বতন্ত্র এবং শ্রেষ্ঠ।

01/07/2024

আপনাদের অনেকের আন্তরিক অনুরোধে আমার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে বিজেএস কেন্দ্রীক এবং বার কেন্দ্রীক ২টি আলাদা পেইড ব্যাচ তৈরি করতে যাচ্ছি। আমার ভিতরে দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন হলো এমন কাউকে বিচারক বা আইনজীবী হতে নির্দেশনা দেওয়া যারা মন থেকে বিচারক বা আইন পেশায় আসতে চায়। সেই লক্ষ্যেই মূলত আমার এই ছোট প্রয়াস। আশা করি সাথে থাকবেন।
উক্ত ব্যাচের লক্ষ্য:
১। নির্দিষ্ট সংখ্যক আইনের ছাত্র ছাত্রী নিয়ে গঠনমূলক ভাবে আইনে ও সাধারন বিষয়ে পাঠদান।
২। বিজেএস ও বারের সিলেবাস কে কৌশলগত ভাবে ছোট করে সকলের আয়ত্তে নিয়ে আসা।
৩। প্রত্যেকটি ব্যাচ কে নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রীক গাইড করা ও পাঠদান।
৪। প্রিলি, লিখিত এবং ভাইভা কে একেত্রে লক্ষ্য করে ব্যাচ নির্বাচন করা।
৫। প্রত্যেকটি ব্যাচের সকল সদস্যকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় পাশের ১০০% নিশ্চয়তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং সময় বেশি হওয়ায় একাধিক বার পরীক্ষার মাধ্যমে দূর্বলতা খুঁজে বের করে সেই ভাবে গাইড করা।
৬। যারা বাংলায় লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বিচারক হতে চান তাদের জন্য থাকবে, বাংলায় লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বিচারক হওয়া এমন একজন সহকারী জজের অসংখ্য ক্লাস ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

উক্ত ব্যাচে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলি :
১। যে কোন বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী এবং একাধিক বার ব্যর্থ হওয়া সকলেই যোগ দিতে পারবেন।
২। যে কেউ একটি ব্যাচে বা ২ উভয় ব্যাচে আলাদা আলাদাভাবে যোগ দিতে পারবেন।
৩। প্রত্যেক ব্যাচে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য থাকবে এবং ব্যাচ টি শুরু হলে নতুন কাউকে আর নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে পরবর্তী নতুন ব্যাচ তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
৪। কাউকে ব্যাচে অন্তর্ভুক্তির আগে আমি সরাসরি তার মৌখিক পরীক্ষা নিবো যে, সে ব্যাচে যোগদানের জন্য বা বিচারক অথবা আইনজীবী হওয়ার জন্য কতটা আন্তরিক বা প্যাশানাট।

14/06/2024

এই অনুভূতি প্রকাশ করার শারীরিক কোন ভাষা আমার জানা নেই। বিশেষ করে তাদের জন্য যারা বিচারক হওয়ার স্বপ্ন মনে লালন করেন সবসময়।

03/06/2024

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয় ১০০০ নম্বরের। তন্মেধ্যে আইন বিষয়ের উপর লিখিত পরীক্ষায় বরাদ্ধ থাকে ৬০০ নম্বর। একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ৫০% নম্বর পেলে তিনি ঐ বিষয়ে কৃতকার্য হন। আবার কোন বিষয়ে যদি তিনি ৩০% এর কম নম্বর পান তাহলে লিখিত পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবে। এখানে বিষয়টি সকলের বোঝার জন্য এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। ধরুন একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় মোট ৫০০ নম্বর অর্থ্যাৎ গড়ে ৫০% নম্বর পেল তার অর্থ এই নয় যে, তিনি লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। এখানে তাকে একটি শর্ত পূরণ করতে হবে তা হল কোন বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পেতে পারবেন না। মোট ৫০০ নম্বর পেয়েও যদি কোন একটি বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পান তাহলে তিনি লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবেন। অর্থ্যাৎ ১০০০ নম্বরের মধ্যে কোন পরীক্ষার্থী যদি ৯২৯ নম্বরও পায় তাহলে তিনি লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হতে পারেন। যদি তিনি কোন একটি একক বিষয়ে ৩০% এর কম নম্বর ২৯ পান। এখানে যদি বিষয়টি এমনও হয় যে, তিনি ৯ টি বিষয়ে ৯০০ নম্বর পেলেন আবার কোন একটি একক বিষয়ে ২৯ নম্বর পেয়েছেন তাহলে লিখিত পরীক্ষার ২য় শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। আবার দেখা গেল, কোন একজন পরীক্ষার্থী একটি বিষয়ে ৩০ পেল এবং অন্য নয়টি বিষয়ে মোট ৪৭০ নম্বর পেল তাহলে ঐ পরীক্ষার্থী মোট ৫০০ নম্বর পাওয়ায় তিনি লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন বলে গন্য হবে।

জুডিশিয়ারির লিখিত পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীকে আইন বিষয়ের উপর ৬০০ নম্বরের জন্য মোটামুটি ৪০ টির ও অধিক আইন পড়তে হয়। আমাদের লিখিত পরীক্ষায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এখানেই মূলত বড় ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। কারন যারা বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে জুডিশিয়ারিতে অংশগ্রহণ করে তারা ছাড়া বাকিরা জেনারেল বিষয় গুলোতে মোটামুটি গড় নম্বর পায়। একাডেমিক পড়াশোনায় যেখানে আমরা মাত্র একটি আইনের উপর ১০০ নম্বরের কোর্স সম্পন্ন করি, সেখানে ১০০ নম্বরের জন্য অনেক গুলো আইনকে একত্রিত করে জুডিশিয়ারির মত প্রতিযোগীতাপূর্ণ পরীক্ষায় নিজের চাওয়ার মত করে ভালো নম্বর পাওয়া বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে যে ভুলটা আমরা প্রায়শই করি, বিষয়ভুক্ত সব কয়টি আইনের উপর ভালো প্রস্তুতি নিতে যেয়ে কোন আইনের উপরই সুস্পষ্ট ধারনা ও ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারিনা। এখানে আমার পরামর্শ হলো প্রত্যেকটি আইনের উপর মোটামুটি ধারনা না নিয়ে বিষয় ভিত্তিক ধারনা তৈরি করা। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো আমি আইন পড়ার কথা বলছি না, বিষয় ভিত্তিক বা টপিক ভিত্তিক ধারনার কথা বলছি। যা আপনার লিখিত পরীক্ষায় ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর যে কোন প্রশ্ন বা সমস্যার ভালো উত্তর তৈরি করতে সহযোগিতা করবে।

লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর প্রাপ্তির আর একটা কৌশল হলো বিষয় ভিত্তিক ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা এবং উক্ত বিষয়ের উপর কোন ব্যতিক্রম বা অন্য কোন আইনে একই বিষয়ে কিছু বলা আছে কিনা তা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরীক্ষার্থীদের প্রায়শই কেস রেফারেন্স নিয়ে বলতে শোনা যায় যে, আমার কেস রেফারেন্স মনে থাকে না বা আমি কেস রেফারেন্স যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করতে পারি না। আমি সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগের ৫টি বিজেএস লিখিত পরীক্ষায় গড়ে যদি ২০ টা কেস রেফারেন্স দিয়ে থাকি ১৫ শ বিজেএস লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নে চাহিত কেস রেফারেন্স ছাড়া একটিও কেস উল্লেখ করি নাই। আসলে কেস রেফারেন্স যথাযথ জায়গায় যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এটা ভালো নম্বর পাওয়ার কোন নিশচয়তা বহন করে না। তাই যারা অসাধারন ভালো করার ইচ্ছা নিয়ে জুডিশিয়ারি দিবে তারা ছাড়া অন্যদের কেস রেফারেন্স নিয়ে অযথা চিন্তা না করাই ভালো। সব থেকে ভালো হবে যদি আপনি নির্দিষ্ট আইনের ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ঐ ধারার উপর সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে তা না হলে ভুল ধারাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করলে আপনার লিখিত পরীক্ষায় ভালো সম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে বুমেরাং হতে পারে।

সব শেষে আর একটি কথা শেয়ার করি, আমার লিথিত পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয় ছিল ঐচ্ছিক-১। আমি বরাবরই সবচেয়ে ভালো এবং চিন্তা মুক্ত পরীক্ষা দিতাম এই বিষয়ে। কারন ঐচ্ছিক-১ বিষয়ের আইনের উপর আমার প্রস্তুতি ছিলো একেবারে ধারা কেন্দ্রিক। আমি পরীক্ষার আগের রাত্রে কখনও এই বিষয়ের কোন বই হাতেই করতাম না শুধু ধারা গুলো মনে রাখার চেষ্টা করতাম। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এই বিষয়ে মোট ৫ টি আইন থাকলেও আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের সাথে আরও কয়েকটি সাবসিডিয়ারি আইনসহ মোট ৭/৮ টা আইন পড়তে হয়। এছাড়াও শিশু আইন,২০১৩ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ আইন দুটি বেশ বড় এবং জটিল। এক্ষেত্রে আমি কিছু কৌশল ব্যবহার করতাম। যেমন নারা ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ এ মোট ৩৪ টি ধারা এবং পৃষ্ঠা হিসেবে ৯/১০ পৃষ্ঠা। সেক্ষেত্রে উক্ত আইনের উপরে ভালো দক্ষতা অর্জনে মোটামুটি একটা সময় প্রয়োজন। অথচ উক্ত আইনটি আমি ১০ মিনিটে মুখস্ত বলতে পারবো। কোন ধারা বা বিষয় ছেড়ে দেওয়া ছাড়াই। তার অর্থ এই নয় যে, আইনটি আমার ঠোটস্থ । আসলে এটা হল অনেক বড় আইনকে ছোট করে পড়ার বা মনে রাখার কৌশল মাত্র। এই কৌশলটি জানা থাকলে আপনি কোন আইনের ধারা নম্বর , ধারার মর্মার্থ , সংজ্ঞা, শাস্তি মনে রাখতে পারবেন কোন ভুল ছাড়াই।

বি.দ্র: বিষয়ভিত্তিক ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য আমাদের করনীয় এবং কিভাবে বড় সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায় সে বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক নির্দেশনা থাকবে পরের লেখায়। সাথে থাকুন।

হযরত আলী
সহকারী জজ
ভোলা

03/06/2024

জুডিশিয়ারি এবং বার যাদের লক্ষ্য,বিশেষ করে যারা এক বা একাধিকবার প্রিলি, লিখিত বা ভাইভা তে ব্যর্থ হয়েছেন এমনদের কে নিয়ে একটা গ্রুপ করতে চাই। আর একটি গ্রূপ করবো ফ্রেশারদের কে নিয়ে যারা ফাইনাল ইয়ার বা মাস্টার্স এ পড়ছেন বা সম্প্রতি শেষ করেছেন। আমরা যেমন নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রীক আলোচনা বা প্রস্তুতি নিবো, তেমনি আমাদের লক্ষ্য হবে চূড়ান্ত ভাবে সফল না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থির থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া। যারা গ্রুপে যোগদান করতে চান নাম ও আইডি লিংক আমার ম্যাসেঞ্জারে দিন। আর গ্রুপের জন্য ভালো নাম সাজেস্ট করতে পারেন।

বিঃদ্রঃ আমি নির্দিষ্ট সংখ্যক কে নিয়ে দুটি আলাদা গ্রুপ করবো এবং কেউ উভয়টির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

31/05/2024

আববা যখন জানতে পারলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি; প্রথমেই জানতে চাইলেন আমি ইংরেজি বিষয়ে পড়তে পারবো কিনা ? আমি বললাম হ্যাঁ খ, ইউনিটের প্রায় সকল বিষয় নিতে পারবো। আব্বার চোখে সেদিন যে তৃপ্তি আমি লক্ষ্য করেছিলাম তা আমার কাছে এখনও পর্যন্ত জীবনের সেরা অর্জন এবং সন্তান হিসেবে আমার সব চেয়ে বড় পাওয়া। অতঃপর বাবা একবাক্যে বলে দিলেন ইংরেজি বিষয় নিয়ে পড়তে হবে। আমার বাবার আমাকে ইংরেজিতে পড়ানোর কারন একটু বলে রাখি। আব্বা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত মানুষ যার বাংলা পড়ার দক্ষতা ছিল অসাধারন। ভালো লিখতে না পারলেও মাঝে মাঝে আমার বাংলা সম্পর্কিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উপর আমার দক্ষতা যাচাই করার যে পান্ডিত্য দেখাতেন তা আমার কাছে বরাবরই তার শিক্ষার প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেত। হয়তো সুযোগ পেলে তিনিও হতে পারতেন কোন বিদ্বান বা মহান শিক্ষা যোদ্ধা। যাই হোক নিজের অপারগতাকে উপলদ্ধি করে আমার ইংরেজি ও গনিত পরীক্ষার দিন গুলোতে মনের ভুলেও প্রশ্ন গুলো চাইতোও না বা আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতো না। শুধু এতটুকু বলতো পরীক্ষা কেমন হইছে। এই অপূর্ণতা থেকেই মূলত তার আমাকে ইংরেজি পড়ানোর তীব্র ইচ্ছা। আমি ইংরেজিতে পড়লে তার সুবিধা হল উনি আমার কাছে ইংরেজি শিখবেন। কারণ তার ধারনা হল যারা ইংরেজিতে পড়ে একমাত্র তারাই ইংরেজি পড়াতে পারে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই সহ আমার শুভাকাঙ্ক্ষী বা হিতৈষীগন চান যে আমি আইন বিষয় নিয়ে পড়ি। আইন বিষয় সম্পর্কে পূর্বে কোন ধারণা না থাকলেও সকলের আলোচনা থেকে বিষয়টি নিয়ে পড়ার আগ্রহ তখন আমার মধ্যে প্রবলভাবে বাসা বেধেছে। কিন্তু বিপত্তি তো একটাই আব্বাকে রাজি করাতে হবে। ইংরেজির প্রতি তার দূর্বলতার কারণ হল, আমি যদি ইংরেজি না পড়ি তাহলে তার আর ইংরেজি শেখা হবে না। তখন মনে মনে বুদ্ধি করলাম, এটাই তো আমার জন্য সুযোগ তাকে রাজি করানোর। আমি আব্বাকে বললাম বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আইন বিষয়টি ইংরেজিতে পড়ানো হয় সুতরাং আমি যদি আইন বিষয় নিয়ে পড়ি তাহলে একসাথে দুটি বিষয় নিয়ে পড়া হবে। এছাড়াও আইন বিষয় নিয়ে আরও কিছু ভালো দিক তুলে ধরলাম, ফলাফল; বাবা তো রাজি। কিন্তু শর্ত হল একটাই তাকে ইংরেঝি পড়াতে হবে। শুরু হল আমার আইনে অধ্যায়নের যাত্রা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর একবার বাবার সাথে সাক্ষাত করার সুযোগ হয়েছিল। স্বহাস্যবদনে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন , আইনে পড়লে কোন ধরনের চাকরি হবে বলতো শুনি। আমি যত গুলো চাকরির কথা বললাম তার মধ্যে যেই বললাম বিচারক হতে পারবো। সেদিন তার মুখের যে অভিব্যাক্তি ছিল তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য না। আমি বিচারকের মত মহান পেশাতে যেতে পারবো, এটা যেন উনার বিশ্বাষ করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল! মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে বললেন তাহলে ভালো করে পড়, বিচারক হওয়া কিন্তু অনেক পড়াশোনার বিষয়। এরপর আর আব্বার সাথে মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ আল্লাহ তায়ালা আমাকে দেয়নি। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ মাস ৫ দিন পর বাবা হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরলোকগমন করেন। তার মৃত্যুর বিগত ১৫ বছরে প্রথমদিকে কয়েকবার স্বপ্নে কথা হলেও কোন দিন ইংরেজিতে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করে নি। আমার মনের কোনে বাবার সেই লালিত স্বপ্ন স্পষ্টত আঁকা থাকলেও মাঝে মাঝে মনের অজান্তে বলে ফেলতাম বাবা তো নেই।

এইজন্য আমার বিচারক হওয়ার পিছনে দুটি বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতো। তার মধ্যে অন্যতম হলো বাবার স্বপ্ন এবং অন্যটা হলো জুডিশিয়ারীর ভাইভাতে বারবার ব্যর্থতায় মনের কোনে তৈরি জিদ। এই বাবার স্বপ্ন, ভাইভা ব্যর্থতায় তৈরি মনের জিদ ও চাকরি করাকালিন ধারাবাহিক অধ্যাবসায় আজ আমাকে বিচারিক বানিয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই যারা বিচারক হতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ হল মনের কোনে জিদ তৈরি করুন, অধ্যাবসায়ী হন ও লেগে থাকুন। আপনার বিচারক হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।

হযরত আলী,
সহকারী জজ।

30/05/2024

১৪শ বিজেএসে ৫ম বারের মত ভাইভা দিয়ে বের হয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম আর জুডিশিয়ারির প্রিলিতে অংশগ্রহণ করবো না। কারন ভাইভা বোর্ডেই বুঝে গেছিলাম আমি আরও একবার ব্যর্থ হতে এসেছি। যদিও জুডিশিয়ারির বাহিরে বিসিএস, ব্যাংক সহ অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে ৬ টি ভাইভাতে অংশ গ্রহণ করে ৪ টিতে চাকরি পেয়েছি। তখন আমি জুডিশিয়ারিতে বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারন অনুসন্ধানে ২ টি সমস্যা চিহ্নিত করলাম। ১) অনেক পড়াশোনা করা সত্বেও ভাইভা বোর্ডে প্রশ্নকর্তা কর্তৃক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নে তার চাওয়ার মত করে উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়া। মর্মার্থ হলো অনেক পড়েছি কিন্তু ভালো করে বুঝে পড়িনি। ২) আমাকে বিচারক হিসেবে ভাইভা বোর্ড পছন্দ না করা। ২ নং সমস্যাকে বিশ্লেষণ করলে অনেক ভাবে করা যায় আজ আর সেদিকে যাব না। তবে এতটুকু বলে রাখি জুডিশিয়ারির ভাইভাতে ফেল করিয়ে দেওয়ার বা করার নজির অহরহ।
উপরের কথা শুনে মনে হতে পারে আমার লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর ছিলো না বা ভাইভা তে ভালো করতাম না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আশ্চর্যজানিত হলাম এই জেনে যে, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে যখন ৬ ষষ্ঠ বারের মত জুডিশিয়ারির ভাইভাতে অংশগ্রহন করে যখন বিচারক হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নামটি দেখলাম। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৪ শ বিজেএস এর ভাইভার পর থেকে ১৫ শ বিজেএস লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলাম মাত্র ৬ টি আইন বিষয়ে পরীক্ষার আগের রাত্রে একটু খানি চোখ বুলিয়ে। তখন বিচারক হিসেবে চূড়ান্ত ভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া, ভাইভাতে পাশ করার জন্য অনেক গভীর ভাবে জানা, সম্পূর্ণ সিলেবাস মুখস্থ করা ইত্যাদি ইত্যাদি সমীকরণ আর মিলাতে পারলাম না।

অর্থ এই যে, লিখিত পরীক্ষায় অসাধারণ নম্বর পাওয়া, ভাইভা বোর্ডে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দিয়ে বোর্ড কে আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়া এগুলো প্রার্থীকে আত্মবিশ্বাসী করলেও বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বা করার নিশ্চয়তা বহন করে না। তাই যারা বিচারক হতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো; আপনি অল্প পড়ে বা জেনে, লিখিত বা ভাইভাতে অংশগ্রহণ করুন। কিন্তু যেটুকু পড়বেন বা জানবেন সেটা বুঝে পড়ুন, রপ্ত করুন বা আরও সহজ ভাষায় ভালো করে পড়ুন, বারবার পড়ুন। সম্পূর্ণ সিলেবাস ধরে পড়া, অধিক পড়া বা না বুঝে পড়া আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে কিন্তু আপনি বিচারক হতে বারবার ব্যর্থ হবেন।

আসন্ন ১৭শ জুডিশিয়ারির লিখিত পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবেন তাদের জন্য বিষয়ভিত্তিক(সাধারণ ও আইনের উপর) সাজেশন্স দিয়ে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।


হযরত আলী
সহকারী জজ,
ভোলা।

Address

Satkhira

9400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ali'S DiarY posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your practice to be the top-listed Law Practice?

Share