19/04/2026
Medicine and Petroleum VAT Calculation Procedures und VAT & SD Act,2012.
ভ্যাট প্রফেশনালদের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের "সাধারণ আদেশ নং-১৮/মূসক/২০১৯" এর আলোকে পেট্রোলিয়াম ও ঔষধ শিল্পের ভ্যাট নিরূপণের আইনি বিশ্লেষণ এবং গাণিতিক সমস্যার একটি সহজ ও পরিচ্ছন্ন হিসাব উপস্থাপন নিচে তৈরি করে দেওয়া হলো:
পেট্রোলিয়াম ও ঔষধ শিল্পের মূসক নিরূপণ: একটি প্র্যাকটিক্যাল অ্যানালাইসিস
ভ্যাট আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে স্তরে মূল্য সংযোজন হয়, সেই স্তরেই ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু জনস্বার্থে বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য এবং ঔষধ শিল্পের ক্ষেত্রে এনবিআর একটি বিশেষ পদ্ধতি (Deductive Method বা ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন) নির্ধারণ করেছে। এই নিয়মে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী—উভয় পর্যায়ের মূসক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকেই পরিশোধ করতে হয়।
নিচে এই দুটি খাতের আইনি বিশ্লেষণ এবং প্র্যাকটিক্যাল কেস স্টাডি তুলে ধরা হলো:
পর্ব ১: পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূসক নিরূপণ
আইনি বিশ্লেষণ:
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ভোক্তা পর্যায়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের (অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ইত্যাদি) যে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে, তার মধ্যে ২% ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। খুচরা মূল্য থেকে এই ২% ভ্যাট বাদ দেওয়ার পর যে মূল্য পাওয়া যায়, তাকে উৎপাদন পর্যায়ের 'কর-উত্তর মূল্য' ধরা হয়, যার ভেতর উৎপাদন পর্যায়ের ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে।
গাণিতিক সমস্যা (Case Study):
ধরা যাক, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বিপণন কোম্পানি পদ্মা অয়েল পিএলসি-এর নিকট ১০,০০০ লিটার অকটেন সরবরাহ করল। প্রতি লিটার অকটেনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১২২.৪০ টাকা। এখন, উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাটের পরিমাণ এবং উৎপাদন পর্যায়ে সরবরাহ মূল্য কত হবে?
সহজ গাণিতিক সমাধান:
মোট খুচরা মূল্য = ১০,০০০ লিটার x ১২২.৪০ টাকা = ১,২২,৪০০ টাকা।
• ধাপ ১ (ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট): খুচরা মূল্যের ভেতর ২% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।
হিসাব: ১,২২,৪০০ x (২ / ১০২) = ২,৪০০ টাকা।
• ধাপ ২ (ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরবরাহ মূল্য): হিসাব: ১,২২,৪০০ - ২,৪০০ = ১,২০,০০০ টাকা।
• ধাপ ৩ (উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট): ব্যবসায়ী পর্যায়ের সরবরাহ মূল্যকেই উৎপাদন পর্যায়ের কর-উত্তর মূল্য ধরা হয়, যার ভেতর ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত।
হিসাব: ১,২০,০০০ x (১৫ / ১১৫) = ১৫,৬৫২.১৭ টাকা।
• ধাপ ৪ (উৎপাদন পর্যায়ে সরবরাহ মূল্য): হিসাব: ১,২০,০০০ - ১৫,৬৫২.১৭ = ১,০৪,৩৪৭.৮৩ টাকা।
ফলাফল: উৎপাদন পর্যায়ে অকটেনের প্রকৃত সরবরাহ মূল্য ১,০৪,৩৪৭.৮৩ টাকা, উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট ১৫,৬৫২.১৭ টাকা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ২,৪০০ টাকা।
পর্ব ২: ঔষধ শিল্পের (Medicine) মূসক নিরূপণ
আইনি বিশ্লেষণ:
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) ঔষধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) নির্ধারণ করে। এই MRP-এর ভেতরে উৎপাদন পর্যায়ের ১৫% ভ্যাট এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ের ১৬% ভ্যালু এডিশনের ওপর ১৫% ভ্যাট (যা মূল ট্রেড প্রাইসের ২.৪%) অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে হিসাবের ভিত্তি ধরা হয় ১৩৩.৪। এই খাতের সকল ভ্যাট উৎপাদন পর্যায়ে পরিশোধ হয় বলে সরবরাহের সময় কোনো উৎসে মূসক (VDS) কর্তন করা হয় না।
গাণিতিক সমস্যা (Case Study):
ধরা যাক, একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে একটি ঔষধের চালান সরবরাহ করল, যার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মূসকসহ সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) ১৩,৩৪,০০০ টাকা। এই চালানের বিপরীতে ভ্যাটের হিসাব কী হবে?
সহজ গাণিতিক সমাধান:
ভোক্তা পর্যায়ে ঔষধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) = ১৩,৩৪,০০০ টাকা।
• ধাপ ১ (ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রদেয় মূসক): সূত্রের ভিত্তি ১৩৩.৪ এবং ভ্যাটের অনুপাত ২.৪।
হিসাব: ১৩,৩৪,০০০ x (২.৪ / ১৩৩.৪) = ২৪,০০০ টাকা।
• ধাপ ২ (ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরবরাহ মূল্য): হিসাব: ১৩,৩৪,০০০ - ২৪,০০০ = ১৩,১০,০০০ টাকা।
• ধাপ ৩ (উৎপাদন পর্যায়ে প্রদেয় পণ নিরূপণ): ব্যবসায়ী পর্যায়ে ১৬% মূল্য সংযোজন হয়, তাই এটি বিয়োগ করতে হবে। এখানে ভিত্তি হবে ১৩১।
মূল্য সংযোজন = ১৩,১০,০০০ x (১৬ / ১৩১) = ১,৬০,০০০ টাকা।
উৎপাদন পর্যায়ে পণ = ১৩,১০,০০০ - ১,৬০,০০০ = ১১,৫০,০০০ টাকা।
• ধাপ ৪ (উৎপাদন পর্যায়ে প্রদেয় ভ্যাট ও সরবরাহ মূল্য): উৎপাদন পর্যায়ের পণের ভেতর ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট = ১১,৫০,০০০ x (১৫ / ১১৫) = ১,৫০,০০০ টাকা। উৎপাদন পর্যায়ে সরবরাহ মূল্য = ১১,৫০,০০০ - ১,৫০,০০০ = ১০,০০,০০০ টাকা।
ফলাফল: উক্ত ঔষধের চালানে উৎপাদন পর্যায়ের প্রকৃত সরবরাহ মূল্য ১০,০০,০০০ টাকা, উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট ১,৫০,০০০ টাকা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ২৪,০০০ টাকা।
Thanking
F. M Parvej
VAT Consultant
E - Mail : [email protected]