Advocate Mostakim Hossen

  • Home
  • Advocate Mostakim Hossen

Advocate  Mostakim Hossen nothing

রায়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।মামলা: Criminal Appeal Nos. 63-66 ...
05/07/2026

রায়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

মামলা: Criminal Appeal Nos. 63-66 of 2017
রায়ের তারিখ: ১৮.০২.২০২০

বিষয়: Negotiable Instruments Act, 1881-এর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী "স্টপ পেমেন্ট" (Payment Stopped by Drawer) এন্ডোর্সমেন্টযুক্ত চেক ডিজঅনার হলে অপরাধ সংঘটিত হয় কি না।

মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনা:

বিবাদী (Respondent) অভিযোগকারীর নিকট একটি সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি করেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অভিযোগকারীকে সম্পত্তি ক্রয়মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করার কথা ছিল। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে বিবাদী ৪টি চেক প্রদান করেন।কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগকারী চুক্তির শর্ত পালন করেননি; বিশেষ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেননি।

ফলে বিবাদী ব্যাংককে "Payment Stopped by Drawer" নির্দেশ দেন।

অভিযোগকারী সেই চেকগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ব্যাংক "Payment Stopped by Drawer" মর্মে ফেরত দেয়।

এরপর ধারা ১৩৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।

আইনি প্রশ্ন
প্রশ্ন ছিল—

শুধুমাত্র "Payment Stopped by Drawer" এন্ডোর্সমেন্ট থাকলেই কি ধারা ১৩৮-এর অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংঘটিত হবে?

আপিল বিভাগের বিশ্লেষণ:

আদালত ধারা ১৩৮-কে বিচ্ছিন্নভাবে না পড়ে ধারা ৪, ৬, ৯, ৪৩, ১১৮ ও ১৩৮ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন।

আদালত বলেন—

ধারা ১৩৮ একটি কঠোর (strict liability) বিধান হলেও এটি সব পরিস্থিতিতে যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

আদালতের মতে বিচারককে অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে—

চেকটি কোন উদ্দেশ্যে ইস্যু হয়েছিল;

প্রকৃতপক্ষে কোনো আইনগত দেনা (legally enforceable debt) ছিল কি না;

চেকটি কি নিঃশর্ত ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া হয়েছিল, নাকি কোনো ভবিষ্যৎ শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল ছিল;

অভিযোগকারী নিজে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন কি না।

Presumption (ধারা ১১৮ ও ১৩৮)
আদালত বলেন—

আইন অনুযায়ী প্রথমে ধরে নেওয়া হবে—

চেক বৈধভাবে ইস্যু হয়েছে;

বিনিময় মূল্য (consideration) ছিল;

দেনা ছিল।

কিন্তু এই Presumption চূড়ান্ত নয়।

আসামি সম্ভাব্য (Probable Defence) উপস্থাপন করে Presumption ভেঙে দিতে পারেন।

এর জন্য আসামিকে অপরাধের মতো "Beyond Reasonable Doubt" প্রমাণ করতে হবে না।

শুধু এমন প্রতিরক্ষা দেখাতে হবে যা যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাসযোগ্য।

Stop Payment সবসময় অপরাধ নয়
এটি রায়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি।

আদালত বলেছেন—

"Payment Stopped by Drawer" লেখা থাকলেই ধারা ১৩৮-এর অপরাধ হবে—এমন কোনো আইন নেই।

বরং দেখতে হবে—

Stop Payment-এর কারণ কী;

সেটি প্রতারণামূলক কি না;

নাকি বৈধ কারণ ছিল।

Conditional Cheque
আদালত এই মামলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন—

চেকগুলো ছিল একটি চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তসাপেক্ষে (Conditional Cheque)।

অর্থাৎ—

সম্পত্তি বিক্রয় সম্পন্ন হলে চেক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

যেহেতু অভিযোগকারী নিজেই চুক্তি বাস্তবায়ন করেননি, তাই বিবাদীর অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়নি।

Complainant-এর ব্যর্থতা
আদালত লক্ষ্য করেন—

অভিযোগকারী—

সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি;

ক্রেতা উপস্থিত করেছিলেন—এমন প্রমাণ নেই;

রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেননি;

নিজেই চুক্তি পালন করেননি।

অতএব তিনি নিজের ভুলের সুবিধা নিয়ে ধারা ১৩৮-এর মামলা করতে পারেন না।

Burden of Proof
আদালত বলেন—

প্রথমে অভিযোগকারী Presumption-এর সুবিধা পাবেন।

কিন্তু—

যখন আসামি যুক্তিসঙ্গত প্রতিরক্ষা (Probable Defence) উপস্থাপন করবেন,

তখন আবার অভিযোগকারীকেই প্রমাণ করতে হবে—

প্রকৃত ঋণ ছিল;

চেক বৈধ দেনার জন্য ইস্যু হয়েছিল;

শর্ত পূরণ হয়েছিল।

আদালতের সিদ্ধান্ত
আদালত দেখতে পান—

✔ অভিযোগকারী চুক্তি পালন করেননি।

✔ সম্পত্তি বিক্রির শর্ত পূরণ হয়নি।

✔ চেকগুলো শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছিল।

✔ Stop Payment বৈধ কারণেই করা হয়েছিল।

✔ আইনগত দেনা তখনও সৃষ্টি হয়নি।

অতএব,

ধারা ১৩৮-এর অপরাধ সংঘটিত হয়নি।

ফলে হাইকোর্টের খালাসের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের সব আপিল খারিজ করেন।

রায়ের মূল নীতিমালা (Ratio Decidendi)
১. "Payment Stopped by Drawer" এন্ডোর্সমেন্ট থাকলেই ধারা ১৩৮-এর অপরাধ হবে—এমন নয়।

২. আদালতকে প্রতিটি মামলায় Stop Payment-এর প্রকৃত কারণ পরীক্ষা করতে হবে।

৩. ধারা ১৩৮-এর Presumption rebuttable।

৪. Probable Defence দেখাতে পারলেই Presumption ভেঙে যায়।

৫. Conditional Cheque-এর শর্ত পূরণ না হলে চেকের অর্থ প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি নাও হতে পারে।

৬. অভিযোগকারী নিজে চুক্তি ভঙ্গ করলে ধারা ১৩৮-এর সুবিধা নিতে পারবেন না।

এই রায়ের ব্যবহারিক গুরুত্ব
এই রায় বর্তমানে বাংলাদেশের Negotiable Instruments Act-এর ধারা ১৩৮ সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নজির। বিশেষত যেসব মামলায়—

Security Cheque,

Conditional Cheque,

Property Sale Agreement,

Commission Agreement,

Business Agreement,

অথবা Payment Stopped by Drawer

বিষয়গুলো জড়িত থাকে, সেখানে এই রায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

এই রায়ের ভিত্তিতে আসামি যুক্তি দিতে পারেন যে, যদি চেকটি কোনো ভবিষ্যৎ শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল হয় এবং সেই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে কেবল "স্টপ পেমেন্ট" হওয়ার কারণে ধারা ১৩৮-এর অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না।

09/04/2026
একাধিক চেকের মামলায় সাজা: জেল কি পাহাড় সমান হবে নাকি একসাথে খাটা যাবে?বাংলাদেশে চেক ডিসঅনার মামলায় শাস্তি হিসেবে সর্বোচ...
01/04/2026

একাধিক চেকের মামলায় সাজা: জেল কি পাহাড় সমান হবে নাকি একসাথে খাটা যাবে?

বাংলাদেশে চেক ডিসঅনার মামলায় শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড, চেকের অর্থের ৩ গুণ পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দন্ড হতে পারে। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি একাধিক চেকের জন্য একাধিক মামলা হয় এবং প্রত্যেকটিতে জেল-জরিমানার সাজা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠে সাজাগুলো কি পরপর চলবে, নাকি সমসাময়িক করে সর্বোচ্চ জেলটুকু খেটেই বের হওয়া যাবে? উত্তরে হ্যাঁ, সুযোগ আছে। তবে এটি আদালতের বিবেচনাধীন এবং নির্ভর করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (১) ধারার উপর। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন একই ট্রায়ালে একজন ব্যক্তিকে দুই বা তার বেশি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তখন আদালত তাকে প্রত্যেক অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দিতে পারে। কারাদ-ের ক্ষেত্রে শাস্তিগুলো পরপর চলবে, যদি না আদালত নির্দেশ দেয় যে সেগুলো সমসাময়িকভাবে চলবে।

একাধিক চেক যদি একই লেনদেন বা একই ট্রানজেকশন থেকে হয় এবং সেগুলো একসঙ্গে ট্রায়াল হয়, তাহলে আদালত সহজেই সমসাময়িক আদেশ দিতে পারে। ফলে সাজা হবে সবচেয়ে বড় জেলটুকু অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ বছর।

আবার পৃথক পৃথক মামলায় আলাদা ট্রায়াল ও সাজার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৭ ধারার বিধান প্রয়োজ্য হবে। যদি কোনো ব্যক্তি ইতোমধ্যে একটি মামলায় সাজা ভোগ করছেন এবং পরবর্তী মামলায় নতুন সাজা হয়, তাহলে নতুন সাজা পুরনো সাজার পরে শুরু হবে। তবে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিলে নতুন সাজা পুরনো সাজার সঙ্গে সমসাময়িক চলতে পারে। অর্থাৎ, আদালতের বিবেচনায় একাধিক জেল সাজা একসঙ্গে চলতে পারে। ফলে অভিযুক্ত সর্বোচ্চ জেলটুকু খেটেই মুক্তি পেতে পারেন। তবে প্রত্যেক মামলার জরিমানা আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।

একই ধরনের অপরাধ যেমন একাধিক চেক ডিসঅনার যদি একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয় এবং অপরাধগুলো ‘সিঙ্গেল ট্রান্সজিকশন’ এর অংশ মনে হয়, তাহলে সমসাময়িক শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত। অন্যথায় পরপর অর্থাৎ একটি শেষ হলে অন্যটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের অনুরূপ মামলায় (যেমন V.K. Bansal v. State of Haryana I K. Padmaja Rani v. State of Telangana) বলা হয়েছে একই ট্রানজেকশন থেকে হলে সমসমায়িক, আলাদা ট্রানজেকশন হলে একটি শেষ হলে অন্যটি। বাংলাদেশেও একই নীতি প্রয়োগ হয়, কারণ ফৌজদারি প্রায় একই।

আমাদের মহামন্য হাইকোর্ট/আপিল আদালতে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৭ ধারা উল্লেখ করে আবেদন করলে আদালত সমসাময়িক আদেশ দিতে পারেন। এটি রিভিশন বা আপিল এর সময়ও সম্ভব। অনেক মামলায় আসামি আপিলে গিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৭ ধারা এর আওতায় সমসাময়িক আদেশ চেয়ে সফল হয়েছেন। ফলে সব জেল একসঙ্গে চলে এবং সর্বোচ্চ ১ বছর বা যে মামলায় সবচেয়ে বেশি খেটে বের হয়েছেন। জরিমানা আলাদা পরিশোধ করতে হয়।

আবার যদি সব চেক একই ঋণ বা লেনদেনের জন্য হয়, তাহলে ট্রায়াল কোর্ট বা আপিল কোর্ট সহজেই সমসাময়িক করে দেন। এতে আসামির অতিরিক্ত কষ্ট এড়ানো যায়। প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিভিশন/আপিলের/রিটের মাধ্যমে এই বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন। তবে লেনদেনের প্রকৃতি এবং আদালতের বিবেচনা সবকিছু নির্ধারণ করে।

চেকের মেয়াদ ৬ মাস পার হয়ে গেছে? নো টেনশন! টাকা আদায়ের পথ এখনো বন্ধ হয় নি  ৷   Advocate  Mostakim Hossen চেকের মেয়াদ পার ...
27/03/2026

চেকের মেয়াদ ৬ মাস পার হয়ে গেছে? নো টেনশন! টাকা আদায়ের পথ এখনো বন্ধ হয় নি ৷

Advocate Mostakim Hossen

চেকের মেয়াদ পার হয়ে গেলে সাধারণত এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করার সুযোগ থাকে না। তবে এর মানে এই নয় যে আপনার পাওনা টাকা আপনি পাবেন না। আইনের ভাষায় অধিকার কখনো শেষ হয় না, কেবল প্রতিকার বদলে যায়।
সাধারণত একটি চেকের মেয়াদ থাকে ইস্যুর তারিখ থেকে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন না করলে সেটি বাসি চেকে পরিণত হয়। যখন একটি চেকের আইনি কার্যকারিতা বিশেষ করে এন.আই অ্যাক্টের আওতায় মামলার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন পাওনাদার কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইনে পাওনা টাকা আদায়ের পথ এখনো খোলা।

চেকের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দেওয়ানি আদালতে 'মানি রিকভারি স্যুট' করতে পারেন। তামাদি আইন অনুযায়ী, টাকা লেনদেনের বা চেক মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সাধারণত ৩ বছরের মধ্যে এই মামলা করতে হয়।

এন.আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করলে আসামির জেল বা জরিমানা হয়। কিন্তু চেকের মেয়াদ চলে গেলে আপনি সিভিল কোর্টে গিয়ে দাবি করতে পারেন যে, বিবাদী আপনার কাছ থেকে এভাবে সেবা নিয়েছেন যার বিনিময়ে এই চেকটি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, চেকটি এখানে একটি 'ডকুমেন্টারি এভিডেন্স' বা লিখিত প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। কাজেই কেবল চেক বাসি হয়ে গেলেই দেনাদার তার দায় থেকে মুক্তি পায় না।

প্রথমেই একজন আইনজীবীর মাধ্যমে দেনাদারকে নোটিশ পাঠান। তাকে মনে করিয়ে দিন যে চেকের মেয়াদ শেষ হলেও তার মূল ঋণ বা দেনা এখনো বিদ্যমান। চেকের পাশাপাশি যদি কোনো চুক্তিপত্র, ভাউচার বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থাকে যেখানে তিনি দেনা স্বীকার করেছেন, সেগুলো গুছিয়ে রাখুন। উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে মোকদ্দমা শুরু করুন। আদালত আপনার দাবি সঠিক মনে করলে বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোক বা নিলামের মাধ্যমে টাকা আদায়ের আদেশ দিতে পারেন। আবার দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯এ ধারা অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী মামলার চেয়ে দ্রুত ফল দেয়।

এ মামলা করতে রীতিরকম অ্যাড-ভ্যালোরিম কোর্ট ফি দিতে হয়। কোর্ট ফি নির্দিষ্ট নয় বরং এটি আপনার দাবিকৃত টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। মানি স্যুটের ক্ষেত্রে দাবিকৃত অর্থের ওপর সাধারণত আড়াই শতাংশ হারে কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে দেওয়ানি মোকদ্দমায় সর্বোচ্চ কোর্ট ফির সীমা হলো ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা। অর্থাৎ, আপনার পাওনা টাকার পরিমাণ কোটি টাকা হলেও আপনাকে ৫০ হাজার টাকার বেশি কোর্ট ফি দিতে হবে না। মূল কোর্ট ফির ওপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য। অর্থাৎ ৫০,০০০ টাকা কোর্ট ফি হলে তার সাথে ৭,৫০০ টাকা ভ্যাট যোগ হয়ে মোট ৫৭,৫০০ টাকা হবে।

আনন্দের সংবাদ এই যে, আপনি যদি মামলায় জয়লাভ করেন (ডিক্রি পান), তবে আদালত বিবাদীকে নির্দেশ দিতে পারেন যে মামলা করতে আপনার যে কোর্ট ফি এবং অন্যান্য খরচ হয়েছে, সেটিও যেন বিবাদী আপনাকে পরিশোধ করে। একে আইনের ভাষায় 'কস্ট অব দ্য স্যুট' বলা হয়।

চেকের মামলায় জেল খাটলেই দায়মুক্তি নয়ঃ উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত                       Advocate  Mostakim Hossen...
22/03/2026

চেকের মামলায় জেল খাটলেই দায়মুক্তি নয়ঃ উচ্চ আদালতের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

Advocate Mostakim Hossen

ফৌজদারি মামলায় যখন আদালত কোনো আসামিকে কারাদন্ডের পাশাপাশি অর্থদন্ড বা জরিমানা প্রদান করেন, তখন আসামির সামনে দুটি পথ খোলা থাকে- হয় জরিমানা পরিশোধ করা অথবা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদন্ড ভোগ করা। তবে সঞ্জয় কুমার ঘোষ বনাম রাষ্ট্র মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পরিষ্কার করেছেন যে, জরিমানা অনাদায়ে কারাদ- ভোগ করলেই আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধের দায় থেকে মুক্তি পাবে না। রাষ্ট্র বা ভিকটিম চাইলে আসামির সম্পত্তি থেকে সেই জরিমানার টাকা আদায় করার আইনি অধিকার রাখে।

আদালত এই রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার কথা উল্লেখ করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, আদালত জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

আসামির মালিকানাধীন যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পত্তি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে ক্রোক করে তা বিক্রির মাধ্যমে জরিমানার টাকা আদায় করতে পারেন।

আদালত জেলা কালেক্টরকে (ডিসি) নির্দেশ দিতে পারেন আসামির স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভূমি রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতিতে এই অর্থ আদায় করতে।

বিশেষ করে চেক ডিজঅনার মামলা বা অর্থ সংক্রান্ত অপরাধে ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াই মূল লক্ষ্য থাকে। আসামি জেল খেটে পার পেয়ে গেলে ভিকটিম আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তই থেকে যায়। এই রায় ভিকটিমের পাওনা নিশ্চিত করে।

এই রায়টি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, আদালতের নির্দেশিত জরিমানার অর্থ একটি রাষ্ট্রীয় পাওনা বা ডিক্রির মতো, যা থেকে আসামি কোনোভাবেই অব্যহতি পাবে না। যদি সে স্বেচ্ছায় পরিশোধ না করে, তবে ৩৮৬ ধারার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে তার সম্পত্তি থেকে তা আদায় করা আদালতের আইনি বাধ্যবাধকতা।

প্রথমে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালত কালেক্টরকে জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য একটি পরোয়ানা বা রিকুইজিশন পাঠান। এই পরোয়ানা পাওয়ার পর কালেক্টর এটিকে সরকারি পাওনা আদায় আইন এর আওতায় একটি বকেয়া হিসেবে গণ্য করেন। এ আইনের ৭ ধারার বিধান মতে কালেক্টর বা তার মনোনীত সার্টিফিকেট অফিসার (সাধারণত এসি ল্যান্ড) আসামির বিরুদ্ধে একটি সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামিকে (সার্টিফিকেট খাতক) একটি নোটিশ পাঠানো হয়, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়।

এই সময়ের মধ্যে আসামি টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টর তার অধিক্ষেত্রে থাকা আসামির স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, দালান বা ঘরবাড়ি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। তহশিলদারের মাধ্যমে সম্পত্তির তফসিল যাচাই করে তা ক্রোক করা হয়। ক্রোকের পর ওই সম্পত্তি আসামি আর হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেন না।

সম্পত্তি বিক্রির আগে কালেক্টরকে একটি নিলাম ইশতেহার জারি করতে হয়। এতে উল্লেখ থাকে: সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ ও অবস্থান। বকেয়া জরিমানার পরিমাণ। নিলামের তারিখ, সময় ও স্থান। এই ইশতেহারটি সংশ্লিষ্ট জমি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং কালেক্টর অফিসের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হয় যাতে সর্বসাধারণ নিলাম সম্পর্কে জানতে পারে। নির্ধারিত দিনে কালেক্টর বা তার প্রতিনিধি প্রকাশ্য নিলাম পরিচালনা করেন। সর্বোচ্চ দরদাতার নিকট সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত জমা দিতে হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা পুরো টাকা পরিশোধ করলে কালেক্টর তাকে একটি বিক্রয়/সেল সার্টিফিকেট প্রদান করেন। নিলাম সম্পন্ন হওয়ার পর কালেক্টর ক্রেতাকে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রথমে নিলাম পরিচালনার খরচ কাটা হয়। তারপর জরিমানার সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদি কোনো টাকা অবশিষ্ট থাকে, তবে তা দ-িত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়া হয়।

মনে রাখবেন, যদি নিলামের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়, তবে কালেক্টর নিজেই সেই নিলাম বাতিল করে পুনরায় নিলামের নির্দেশ দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় কালেক্টর অনেকটা দেওয়ানি আদালতের মতো ক্ষমতা ভোগ করেন। তবে তিনি কেবল ততটুকুই সম্পত্তি বিক্রি করবেন যা দ্বারা জরিমানার টাকা ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটানো সম্ভব।

ব্যাংক ঋণের জামিনদার কখন ও কিভাবে দায়মুক্তি পেতে পারে@ব্যাংক ঋণের গ্যারান্টার বা জামিনদার হওয়া মানে কেবল একটি কাগজে সই ক...
10/03/2026

ব্যাংক ঋণের জামিনদার কখন ও কিভাবে দায়মুক্তি পেতে পারে

@
ব্যাংক ঋণের গ্যারান্টার বা জামিনদার হওয়া মানে কেবল একটি কাগজে সই করা নয়, বরং ঋণের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নেওয়া। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্যারান্টারের দায়মুক্তি পাওয়া বেশ জটিল কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি সম্ভব।

বাংলাদেশে গ্যারান্টারের দায় মূলত চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১২৬ থেকে ১৪৭ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গ্যারান্টারকে তখনই ‘দায়মুক্ত’ বলা হয় যখন আইনত তার আর কোনো দেনা থাকে না। তবে যদি ব্যাংক এবং মূল ঋণগ্রহীতা গ্যারান্টারের সম্মতি ছাড়াই ঋণের চুক্তিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনে যেমন- সুদের হার বাড়ানো বা মেয়াদে পরিবর্তন, তবে গ্যারান্টার সেই মুহূর্ত থেকে দায়মুক্ত হন।

চুক্তি আইনের ১৩৪ ধারা অনুযায়ী যদি ব্যাংক কোনো চুক্তির মাধ্যমে মূল ঋণগ্রহীতাকে ঋণ থেকে মুক্তি দেয়, তবে গ্যারান্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যান।

চুক্তি আইনের ১৩৫ ধারা অনুযায়ী যদি ব্যাংক গ্যারান্টারের অনুমতি ছাড়া ঋণগ্রহীতাকে ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় দেয় বা অন্য কোনো আপস করে।

চুক্তি আইনের ১৪১ ধারা অনুযায়ী ঋণের বিপরীতে যদি কোনো স্থাবর সম্পত্তি (যেমন জমি) বন্ধক থাকে এবং ব্যাংকের অবহেলায় সেই জামানত নষ্ট হয় বা ব্যাংক তা হারিয়ে ফেলে, তবে ওই জামানতের মূল্য পরিমাণ দায় থেকে গ্যারান্টার মুক্তি পাবেন।

সোনালী ব্যাংক বনাম এস.এম. এ সাইদ (১৯৮৩) ৩৫ ডিএলআর মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, গ্যারান্টারের দায় মূল ঋণগ্রহীতার দায়ের সমান। অর্থাৎ, ব্যাংক চাইলে মূল ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা না করে সরাসরি গ্যারান্টারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। তবে এটি ঋণ চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে।

হাবিব ব্যাংক বনাম জি.এম.এস এপারেলস (২০০১), ৫৩ ডিএলআর মামলায় আদালত বলেছেন অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাংক মামলা করার সময় মূল ঋণগ্রহীতা এবং গ্যারান্টার উভয়কেই বিবাদী করতে বাধ্য। তবে আদালত আগে মূল ঋণগ্রহীতার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করবে। তাতেও টাকা আদায় না হলে গ্যারান্টারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যায়।

তবে যদি ব্যাংক গ্যারান্টারকে ঋণের খেলাপি অবস্থা সম্পর্কে দীর্ঘ সময় অবহিত না করে অর্থাৎ নোটিশ প্রদান না করে, তাহলে তিনি দায়মুক্তির দাবি করতে পারেন।

গ্যারান্টারের জন্য সবেচয়ে বড় সুরক্ষা হচ্ছে যদি গ্যারান্টার প্রমাণ করতে পারেন যে তার সই জালিয়াতি করা হয়েছে বা তাকে ভুল বুঝিয়ে সই নেওয়া হয়েছে, তবে চুক্তি বাতিল হবে।

আবার যদি ব্যাংক ঋণের কিস্তি খেলাপি হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে মামলা না করে, তবে গ্যারান্টারের বিরুদ্ধে মামলা করার আইনি অধিকার হারাবে তামাদি আইন অনুযায়ী।

যদি মূল ঋণগ্রহীতার বন্ধকী সম্পত্তি ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশি হয়, তবে গ্যারান্টার আদালতে আবেদন করতে পারেন যাতে আগে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করা হয়।

অনেকে মনে করেন গ্যারান্টার মারা গেলে দায় শেষ হয়ে যায়। এটি ভুল। চুক্তি আইনের ১৩১ ধারা অনুযায়ী, গ্যারান্টার মারা গেলে তার উত্তরসূরিরা ওই ঋণের জন্য দায়ী থাকেন, যদি না চুক্তিতে বিপরীত কিছু লেখা থাকে।

উল্লেখ্য, অর্থ ঋণ আদালত আইনের অধীনে মামলা হলে গ্যারান্টারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বা পাসপোর্ট জব্দের আদেশ হওয়ার সম্ভাবনা পর্যন্ত থাকে।

জমি জমার কাগজে বালাম বই ধ্বংস: আতংক নয়; আইনি সমাধান নিন!                      এডভোকেট মোস্তাকিম হোসেনআমাদের দেশে জমির অত...
05/03/2026

জমি জমার কাগজে বালাম বই ধ্বংস: আতংক নয়; আইনি সমাধান নিন!

এডভোকেট মোস্তাকিম হোসেন

আমাদের দেশে জমির অতি প্রয়োজনীয় মূল দলিল বা কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া বেশ দুশ্চিন্তার বিষয়। তবে প্রচলিত আইনে এর সুনির্দিষ্ট প্রতিকারও রয়েছে। সঠিক আইনী পদ্ধতি অনুসরণ করলে মালিকানা নিয়ে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। যদি জমির দলিল দস্তাবেজ হারিয়ে যায় তাহলে নিকটস্থ থানায় দলিলের নম্বর, তারিখ, দাতা-গ্রহীতার নাম এবং হারিয়ে যাওয়ার বিবরণ স্পষ্ট লিখে একটি জিডি করুন। পাশাপাশি স্থানীয় বা জাতীয় একটি পত্রিকায় ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করা ভালো। এটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে যে আপনি দলিলটি উদ্ধারে সচেষ্ট ছিলেন। এরপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হারানো দলিলের একটি ‘নকল’ বা সার্টিফাইড কপি উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী যে কেউ নির্দিষ্ট ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন অফিস থেকে দলিলের নকল বা তল্লাশ করার অধিকার রাখেন। মূল দলিলের অনুপস্থিতিতে এটিই আইনীভাবে মূল দলিলের মতো গুরুত্ব বহন করে সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী। আর যদি দলিল হারানোর সুযোগ নিয়ে অন্য কেউ মালিকানা দাবি করে, তবে আপনি আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারামতে ‘ঘোষণামূলক মামলা’ করে আপনার স্বত্ব সাব্যস্ত করতে পারেন।

আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি, যদি মূল দলিল এবং সার্টিফাইড কপি উভয়ই পাওয়া না যায়, তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের 'বালাম বই' অর্থাৎ ভলিউম বুক চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। উচ্চ আদালত বলেছেন, "বালাম বইয়ের রেকর্ড কখনো মিথ্যা বলে না যদি না তা জালিয়াতি প্রমাণিত হয়।"

উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন যে, "দলিল হারিয়ে গেলেই মালিকানা নষ্ট হয় না।" যদি নামজারি, খাজনা রশিদ এবং দখল আপনার পক্ষে থাকে, তবে শুধু দলিলের অভাবে মালিকানা হারাবে না।

যদি বালাম বইও নষ্ট হয়ে যায় যেমন অগ্নিকা- বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেক্ষেত্রে এসিল্যান্ড অফিস থেকে নামজারির রেকর্ড সংগ্রহ করতে হবে। অনেক সময় বালাম বই ধ্বংস হলেও 'ইনডেক্স' বা সূচিপত্র বেঁচে যায়। সেখানে দাতা-গ্রহীতার নাম ও জমির দাগ নম্বর থাকে, যা মালিকানা প্রমাণের একটি শক্তিশালী সূত্র। পাশাপাশি আপনার দাতা বা তার আগের মালিকের দলিলের কপি সংগ্রহ করে মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে দেওয়ানী আদালতে টাইটেল স্যুট বা স্বত্ব ঘোষণার মামলা করে আদালতের মাধ্যমে নতুন মালিকানা দলিল তৈরি করে নেওয়া যায়।

আবার কেউ যেন আপনার হারানো দলিল ব্যবহার করে জমি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি লিখিত আবেদন বা 'দলিল স্থগিতকরণ' দিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

রেজিস্ট্রেশন আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো মালিকানা নিশ্চিত করা। যদি বালাম বই ধ্বংস হয়, তবে সরকার সাধারণত একটি বিশেষ গেজেট বা প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের দলিলগুলো পুনরায় তালিকাভুক্ত করার সুযোগ দেয়।

আবার বালাম বই ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এবং নিজের মালিকানা দাবি করে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের সামনে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে একটি লিখিত প্রত্যয়ন সংগ্রহ করা যে, অমুক তারিখের বালাম বই অগ্নিকা- বা দুর্যোগে ধ্বংস হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি লড়াইয়ে আপনার পক্ষে 'সাফাই সাক্ষী' হিসেবে কাজ করবে।

জমি দখলমুক্ত হবে ৩ মাসেইঃ নতুন আইনের ম্যাজিক!রহিম সাহেব দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে দেখেন তার পৈত্রিক ৫ শতাংশ জমি ...
05/03/2026

জমি দখলমুক্ত হবে ৩ মাসেইঃ নতুন আইনের ম্যাজিক!

রহিম সাহেব দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে দেখেন তার পৈত্রিক ৫ শতাংশ জমি প্রতিবেশী প্রভাবশালী ব্যক্তি জাল দলিল তৈরি করে দখল করে নিয়েছেন এবং সেখানে একটি সীমানা প্রাচীর দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এ ধরনের সমস্যায় রহিম সাহেবকে দেওয়ানী আদালতে 'টাইটেল স্যুট' অর্থাৎ স্বত্ব সাব্যস্তের মামলা করতে হয়েছিল, যা শেষ হতে ১০-১৫ বছর লেগেছিল। এ তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে রহিম সাহেব পরামর্শ নেন একজন আইনজীবীর সাথে। তাঁর পরামর্শক্রমে রহিম সাহেব ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর অধীনে জেলা প্রশাসকের নিকট বা নির্ধারিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের দলিলপত্র যাচাই করেন। দেখা যায়, প্রতিবেশীর দলিলটি সাম্প্রতিক সময়ে করা এবং তার কোনো সঠিক বায়া দলিল নেই। আইন অনুযায়ী, বিগত ৩০ বছর যাবত নিরবচ্ছিন্ন দখল বা বৈধ মালিকানা প্রমাণ করতে না পারায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেশীর দলিলটি অবৈধ ঘোষণা করেন এবং রহিম সাহেবকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এ ধারা ৪ এ বলা আছে, অন্যের জমি নিজের নামে লিখে নেওয়া বা ভুয়া দলিল তৈরি করলে এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদ- ও অর্থদ-। অন্যদিকে এ আইনের ধারা ৫ এ বলা আছে, মালিকানা গোপন করে জমি বিক্রি বা তথ্য বিকৃতি করলে এর শাস্তিও সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদ-।

জামান সাহেব ঢাকা থেকে গ্রামে গিয়ে দেখেন, তার পৈত্রিক কৃষি জমির এক অংশ স্থানীয় এক ব্যক্তি জোরপূর্বক বেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন। দখলদার দাবি করছেন যে, তিনি এই জমিটি জামানের মৃত চাচার কাছ থেকে মৌখিকভাবে কিনেছেন, যদিও তার কাছে কোনো বৈধ দলিল নেই। জামান সাহেব বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও দখলদার জমি ছাড়ছিলেন না।

জামান সাহেব ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৮ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের নিকট উচ্ছেদের আবেদন করেন। তিনি তার পক্ষে সি.এস এবং আর.এস খতিয়ান এবং হালনাগাদ দাখিলা (খাজনা রসিদ) প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন।

জেলা প্রশাসক বা মনোনীত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেন। তদন্তে দেখা যায় দখলদারের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। আইন অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ফোর্স ব্যবহার করে দখলদারকে উচ্ছেদ করেন এবং জামান সাহেবকে দখল বুঝিয়ে দেন। পাশাপাশি দখলদারকে জেল ও জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এ ধারা ৭ এ বলা হয়েছে যে,যদি কোনো ব্যক্তি উপযুক্ত দলিল ছাড়াই অন্যের জমি দখল করেন বা দখল বজায় রাখেন, তবে সেটি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদ- ও অর্থদ-।

ধারা ৮ এ বলা আছে, এই ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তি দখলচ্যুত হলে তিনি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করতে পারেন। জেলা প্রশাসক প্রমাণাদি যাচাই করে ৩ মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করবেন।

তবে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তার বৈধ মালিকানা (দলিল ও খতিয়ান) রয়েছে এবং তিনি বেআইনিভাবে দখলচ্যুত হয়েছেন।

আদালতের একটি সাধারণ নজির হলো, যদি কারো কাছে বৈধ মালিকানার কাগজ থাকে এবং তার বিপরীতে কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখে, তবে আইনত দখলটি প্রকৃত মালিকেরই প্রাপ্য। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক, দলিলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। প্রবাদে আছে, জমির দলিল যার, জমি তার।

২০২৩ সালের আইনের পর আদালতের মনোভাব হলো শুধুমাত্র 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি আর চলবে না। জেলা প্রশাসনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষ দেওয়ানী আদালতে যাওয়ার আগেই দ্রুত প্রশাসনিকভাবে জমি ফেরত পায়।

যদি দখলদার দাবি করে যে তার কাছেও দলিল আছে (অর্থাৎ জটিল স্বত্ব বিরোধ), তবে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি সিভিল কোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তবে যদি দখলদার কোনো কাগজ দেখাতে না পারে, তবে দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব!

Address

Gobindaganj

5740

Telephone

+8801717666099

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Mostakim Hossen posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your practice to be the top-listed Law Practice?

Share