01/05/2026
ভূমি এবং ভূমি আইন সংক্রান্ত ২৫টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ টার্ম :
👇
👉১. নামজারি ও জমাভাগ (Mutation & Separation):
শুধু নাম পরিবর্তন নয়, যৌথ খতিয়ান থেকে নিজের অংশ আলাদা করে নতুন খতিয়ান খোলাই হলো আসল কাজ।
👉২. বায়া দলিল (Via Deed/Chain of Deeds):
মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রমাণের দলিল। আপনার বিক্রেতা কার কাছ থেকে কিনেছেন, সেই আগের দলিলগুলোই হলো বায়া দলিল। এটি ছাড়া জমি কেনা খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
👉৩. হেবা দলিল (Heba/Gift):
মুসলিম আইনে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে রক্ত সম্পর্কের ভিত্তিতে জমি দান করা। এর রেজিস্ট্রি খরচ খুব কম।
👉৪. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of Attorney):
নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে জমি দেখাশোনা বা বিক্রির আইনি ক্ষমতা অন্যকে অর্পণ করা।
👉৫. বণ্টননামা (Partition Deed):
পৈতৃক সম্পত্তি ভাই-বোন বা শরিকদের মধ্যে আপস-বণ্টনের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল। এটি ছাড়া ভবিষ্যতে ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা ১০০%।
👉৬. অছিয়তনামা বা উইল (Will):
মৃত্যুর আগে নিজের সম্পত্তি কাউকে দেওয়ার ঘোষণা। তবে মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করে পুরো সম্পত্তি উইল করা যায় না।
👉৭. পর্চা (Parcha/ROR):
খতিয়ানের নকল। জমি কেনা বা লোনের আবেদনের জন্য এটি প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
👉৮. দাগ নম্বর (Plot Number):
জমির নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করার আইডি। সিএস, আরএস বা বিএস জরিপে এই নম্বর ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
👉৯. মৌজা ম্যাপ (Mouza Map):
জমির নকশা। কাগজে কলমে মালিকানা থাকলেও বাস্তবে জমি কোথায় এবং কতটুকু তা ম্যাপ ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।
👉১০. ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা (Land Tax):
সরকারকে বার্ষিক কর দেওয়া। খাজনার রশিদ (দাখিলা) হালনাগাদ না থাকলে জমি বিক্রি বা নামজারি করা যায় না।
👉১১.অগ্রক্রয় বা প্রিয়েমশন (Pre-emption):
জমির সহ-শরিক বা সংলগ্ন প্রতিবেশীর জমিটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেনার আইনি অধিকার। অন্য কেউ কিনলে মামলা করে তা ফেরত নেওয়া যায়।
👉১২. রেকর্ড সংশোধন (Correction of Record):
জরিপে বা খতিয়ানে ভুল নাম বা ভুল দাগ নম্বর আসলে তা দেওয়ানি আদালত বা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ঠিক করা।
👉১৩. ডি-সি-আর (DCR):
নামজারি বা সরকারি কোনো ফি জমা দেওয়ার পর যে রসিদ দেওয়া হয় (Duplicate Carbon Receipt)। এটি মালিকানার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
👉১৪. খাস জমি (Khas Land):
যে জমির কোনো মালিক নেই বা যার মালিক সরকার। ভূমিহীনদের এটি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।
👉১৫. সিকস্তি ও পয়স্তি (Alluvion & Diluvion):
নদী ভাঙনে জমি হারানো (সিকস্তি) এবং চর জেগে জমি ফিরে পাওয়া (পয়স্তি)।
👉১৬. বিএস/বিআরএস জরিপ (BS/BRS Survey):
বর্তমানে চলমান বা সর্বশেষ আধুনিক জরিপ। এই জরিপ অনুযায়ী খতিয়ান থাকা মালিকানার সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ।
👉১৭. বায়না দলিল (Agreement to Sale):
জমি কেনার আগে টাকা লেনদেনের চুক্তিপত্র। এটি অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হয়, অন্যথায় আইনি ভিত্তি থাকে না।
👉১৮. এনালগ ও ডিজিটাল খতিয়ান:
পুরানো হাতে লেখা খতিয়ান বনাম বর্তমানের অনলাইন বা কম্পিউটারাইজড খতিয়ান।
👉১৯. ফারায়েজ (Farayez):
মৃত্যুর পর ধর্মীয় আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের গাণিতিক পদ্ধতি।
👉২০. প্রতিকূল দখল (Adverse Possession):
দীর্ঘ ১২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে কেউ যদি অন্যের জমি প্রকাশ্য এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে দখলে রাখে, তবে সে মালিকানা দাবি করতে পারে (যদিও এটি অত্যন্ত জটিল আইনি প্রক্রিয়া)।
👉২১. অর্পিত সম্পত্তি (Vested Property):
যা পূর্বে ‘শত্রু সম্পত্তি’ ( Enemy Property ) নামে পরিচিত ছিল। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় যারা দেশত্যাগ করেছিলেন তাদের ফেলে যাওয়া জমি।
👉২২. বিনিময় দলিল (Exchange Deed):
একজনের জমির বদলে অন্যজনের জমি অদলবদল করার রেজিস্ট্রিকৃত প্রক্রিয়া।
👉২৩. স্থিতিাবস্থা (Status Quo):
আদালতের এমন আদেশ যেখানে জমির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
👉২৪. ডিক্রি (Decree):
ভূমি সংক্রান্ত মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সিদ্ধান্ত।
👉২৫. দখলনামা (Possession Order):
আদালতের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে পাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
💥 বি.দ্র. : আইন ,রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে নিয়মিত জানতে পেইজটি follow দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।
Robiul Awal
Law, University of Rajshahi