12/09/2024
নেইমার! একটি আবেগ,একগুচ্ছ অকৃত্রিম ভালোবাসা,একটি যন্ত্রণাদগ্ধ নাম। বিরানব্বই এ সাও-পাওলোতে জন্ম নেওয়া ছোট ছেলেটা আজ ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করছে দুঃখের রাজকুমার হয়ে। সান্তোসে ক্যারিয়ার শুরু করা নেইমার পিছনে ফেলেছে একের পর এক অসংখ্য রেকর্ড। পেলে,রোনালদো,রিভালদো,কাকা'দের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে নেতা হয়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে।মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১১-১২ সিজনে দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠ ফুটবলার নির্বাচিত হয়ে যেন জানান দিয়েছিলেন "দেখো ফুটবল,নেইমার এসে গেছে! "। যুগের পর যুগে আসা মহারথীদের পিছনে ফেলে একমাত্র ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে।
ক্যাপটেনের ঐ আর্মব্রান্ড পরিহিত নেইমার যেন এক যোদ্ধা। এ যুগের রোনালদো,মেসির পর যাকে ভাবা হতো ফুটবল বিশ্বের শাসনকর্তা। ফুটবল বিশ্বে তাক লাগানো রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফারে প্যারিস ফুটবল শাসন করা নেইমার হয়ে উঠে ভয়ংকর উইঙ্গার। দলের প্রাণভোমরা নামে খ্যাত নেইমারের হতে পারতো একটা বর্ণময়,সাফল্যে ভরপুর সমৃদ্ধ বর্ণিল ক্যারিয়ার। ফুটবল ঈশ্বর নিজ হাতে ফুটবল প্রতিভা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তারমধ্যে। তেমনিকরে লেলিয়ে দিয়েছেন ইনজুরিকে। একের পর এক ইনজুরিতে টগবগে দুরন্ত ক্যারিয়ার থমকে গেলো। কিন্তু এই নেইমার তো একটা যোদ্ধা।সে হারার আগে হারে না। সে ফিরে আসে,নেইমার ফিরে আসে। কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া নেইমার; পেলে'র হলুদ জার্সি গায়ে ৭৭ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করে নাম লেখালো ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোল স্কোরার হিসেবে। ক্লাব ক্যারিয়ারে অসংখ্য ম্যাচে তার দু-পায়ের জাদুতে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে ভক্তদের। সান্তোস থেকে লা-লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ,লিগ-ওয়ান,সৌদি লিগ সহ সারাবিশ্ব তার ফুটবল নৈপুণ্যে বিভোর। শতবর্ষী ব্রাজিল ফুটবলের কখনো পতন হয় না,ওরা শিকর রেখে যায়। সেই শিকর আজকের নেইমার। নেইমার ফিরুক তার ফুটবল সৌন্দর্য্য নিয়ে।এই ব্রাজিলে বড্ড প্রয়োজন তাকে। নেইমার ফিরুক।
- লেলিন