07/08/2026
পুলিশ কি চাইলেই আপনার মোবাইল ফোন চেক করতে পারে?
রাস্তায় চলার সময় কোনো পুলিশ সদস্য আপনার কাছে এসে মোবাইল ফোন দেখতে চাইলে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান,ফোনটি কি দিতে হবে? পুলিশ কি ইচ্ছামতো ফোনের ছবি, মেসেজ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারে?
বিষয়টি একটু পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ নাগরিকের যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার স্বীকার করে। তবে এই অধিকার সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ নয়; আইনে নির্ধারিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো অপরাধের তদন্তে প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইনের অধীনে পুলিশ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তল্লাশি ও আলামত জব্দ করতে পারে।
যেমন—
🔹 আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট থাকলে আইনানুগভাবে তল্লাশি করা যেতে পারে।
🔹 ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৬৫-এর নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে তল্লাশি করতে পারেন।
🔹 কোনো মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস কোনো অপরাধের আলামত বলে আইনগতভাবে বিবেচিত হলে, সেটি জব্দ করা হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
পুলিশের আইনগত তল্লাশির ক্ষমতা থাকা আর ইচ্ছামতো একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত ফোন ঘেঁটে দেখার ক্ষমতা থাকা,এক বিষয় নয়।
তাই শুধু “পুলিশ চেয়েছে” বলেই যে কোনো পরিস্থিতিতে ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য দেখার অধিকার সৃষ্টি হয়,এমনটা বলা ঠিক নয়।
👉এমন পরিস্থিতিতে আপনার করণীয়:-
প্রথমেই শান্ত থাকুন। পুলিশের সঙ্গে তর্ক বা শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
ভদ্রভাবে জানতে পারেন—
“আমার ফোনটি তল্লাশি করার আইনগত কারণ বা ভিত্তিটি কি জানাবেন?”
ফোন জব্দ করা হলে সম্ভব হলে কেন জব্দ করা হচ্ছে, কোন মামলার তদন্তে প্রয়োজন এবং জব্দের কোনো কাগজপত্র/রসিদ আছে কি না,তা জানতে চান।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের নাম, পদবি, পরিচয়/ব্যাজ নম্বর ও থানার তথ্য নোট করে রাখুন।
পরবর্তীতে মনে হলে আপনার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে যথাযথ আইনি প্রতিকার নেওয়া যেতে পারে।
আইন জানুন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
কারণ একজন সচেতন নাগরিক জানেন,
পুলিশের আইনগত ক্ষমতা যেমন আছে, তেমনি নাগরিকেরও আইন দ্বারা সুরক্ষিত অধিকার আছে।