Advocate Auliullah Mitho

Advocate Auliullah Mitho As a lawyer from 2000

04/06/2026

মামলা চলাকালীন জমির নামজারি করা যাবে কী? হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়.....
_______________________________

জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলাকালীন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি (মিউটেশন) করা যাবে কি না—এ প্রশ্নে সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তি ও মতবিরোধ ছিল। কেউ বলেন নামজারি করা যায়, আবার কেউ বলেন মামলা চলাকালীন তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট পিটিশনের রায়ে উচ্চ আদালত পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

রিট নম্বর 5420/2014, মোঃ শফিকুল ইসলাম বনাম সরকার—এই মামলার ভিত্তিতে হাইকোর্ট ডিভিশন রায় প্রদান করে।

মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, দেওয়ানি আদালতে জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এসিল্যান্ডের নিকট মিউটেশন আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে, সেটি বন্ধ থাকবে কি না।

হাইকোর্ট ডিভিশন বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। তবে সংবিধান ও প্রতিষ্ঠিত আইনানুযায়ী, একই বিষয়ের উপর নির্বাহী ও বিচারিক ফোরাম দুইটি সমান্তরালভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

অর্থাৎ, দেওয়ানি আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় এসিল্যান্ড মিউটেশন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন না—even যদি আদালত থেকে পৃথকভাবে কোনো stay order না আসে।

কনসার্ন অথরিটিকে জানালেই বন্ধ থাকবে মিউটেশনঃ

রায়ে আরও বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি যিনি উক্ত জমিতে আগ্রহী বা ক্ষতিগ্রস্ত হন, এসিল্যান্ডকে অবহিত করেন যে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাহলে এসিল্যান্ড বা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসাররা মিউটেশন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন।

এই জন্য আদালতের stay order প্রয়োজন হবে না। বরং কেবল তথ্যটি তাদের জ্ঞাত হওয়াই যথেষ্ট।

ভূমি মন্ত্রণালয়কে পরিপত্র জারির নির্দেশ

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয় যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিপত্র (সার্কুলার) জারি করে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। যেন তারা জানার পরপরই জমি নিয়ে মিউটেশন কার্যক্রম স্থগিত রাখেন।

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, দেওয়ানি আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় জমির নামজারি করা আইনসম্মত নয়, এবং এটি বন্ধ রাখতে কোনো পৃথক আদালতের আদেশের প্রয়োজন নেই—শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে মামলার বিষয়ে অবগত করলেই যথেষ্ট।

এটি দেশের ভূমি প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে সুসমন্বয় এবং বিচারাধীন বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখার একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত।

23/05/2026

⛔জমি জায়গা নিয়ে কেউ জা'ল দলিল করলে ফৌ'জদারি আ'ইনে তার কি শা'স্তি হতে পারে।

বাংলাদেশে জমি-জায়গা নিয়ে জা'ল দলিল (Forged Deed) তৈরি করা, ব্যবহার করা, বা জেনে-শুনে সেই জা'ল দলিল দিয়ে জমি দখল/বিক্রি করার বিষয়টি ফৌ'জদারী অপ'রাধ। এ ধরনের অপ'রাধে দ'ণ্ড'বিধি ১৮৬০ (Penal Code) অনুযায়ী জে'ল ও জরি'মা'নার শা'স্তি হতে পারে।

নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১) “জাল দলিল” বলতে কী বোঝায়?

যখন কেউ—

ভুয়া সই করে,

মৃত ব্যক্তির নামে দলিল বানায়,

নকল টিপসই ব্যবহার করে,

ভু'য়া মালিক দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করে,

আসল দলিল পরিবর্তন করে,

একই জমি অন্যের নামে প্র'তা'রণা করে বিক্রি করে,

তখন সেটি “Forgery” বা জালি'য়াতি হিসেবে গণ্য হয়।

২) কোন কোন আইনে মামলা হয়?

মূলত নিচের ধারাগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়:

(ক) দণ্ডবিধি ১৮৬০ — ধারা 463

এখানে “Forgery” বা জা'লি'য়াতির সংজ্ঞা দেওয়া আছে।

(খ) ধারা 464

“False document” বা মিথ্যা/জাল দলিল কিভাবে তৈরি হয় তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৩) জাল দলিল করলে কী শাস্তি হতে পারে?

ধারা 465 — সাধারণ জা'লি'য়াতি

সাধারণ Forgery করলে:

সর্বোচ্চ ২ বছর কা'রা'দণ্ড

অথবা জরি'মানা

অথবা উভয় দ'ণ্ড হতে পারে।

ধারা 467 — মূল্যবান দলিল/সম্পত্তির দলিল জা'ল করা

জমির দলিল সাধারণত “valuable security” বা মূল্যবান দলিলের মধ্যে পড়ে।

এই ধারায় শাস্তি:

যাব'জ্জীবন কা'রা'দণ্ড পর্যন্ত হতে পারে

অথবা সর্বোচ্চ ১০ ব'ছর কা'রা'দণ্ড

এবং জরি'মা'না।

এটি জমি সংক্রান্ত জাল দলিলের সবচেয়ে গুরুতর ধারা।

ধারা 468 — প্রতা'রণার উদ্দেশ্যে জা'লি'য়াতি

যদি জা'ল দলিল ব্যবহার করে কাউকে ঠ'কানো হয়:

সর্বোচ্চ ৭ বছর কা'রা'দণ্ড

এবং জ'রি'মানা।

ধারা 471 — জা'ল দ'লিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার

কেউ নিজে জাল না করলেও যদি জেনে-শুনে জা'ল দলিল ব্যবহার করে:

একই শা'স্তি হবে,

যেন সে নিজেই জাল করেছে।

৪) শুধু দলিল বানালেই অপরাধ, নাকি ব্যবহার করলেও?

দুইটাই অপরাধ।

ধরা যাক:

একজন দলিল জাল করলো,

আরেকজন সেই দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করলো,

তাহলে দুজনের বিরুদ্ধেই মা'মলা হতে পারে।

৫) বাস্তবে কী কী অপরাধ ধরা হয়?

সাধারণত নিচের কাজগুলো করলে ফৌজদারী মামলা হয়:

ভুয়া মালিক সাজা

মৃত ব্যক্তির নামে দলিল

জাল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি

নকল খতিয়ান/পর্চা

জাল টিপসই

ভুয়া এনআইডি ব্যবহার

একই জমি একাধিকবার বিক্রি

রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতারণা

৬) মামলার ধাপ কীভাবে চলে?

ধাপ ১ — থানায় অভিযোগ

ভুক্তভোগী থানায় এজাহার (FIR) করে।

সাধারণত ধারা:

467

468

471

420 (প্রতারণা)

একসাথে দেওয়া হয়।

ধাপ ২ — তদন্ত

পুলিশ/সিআইডি:

দলিল যাচাই করে,

সই পরীক্ষা করে,

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে কপি নেয়,

ফরেনসিক পরীক্ষা করে।

ধাপ ৩ — চার্জশিট

প্রমাণ পেলে আদালতে চা'র্জশিট দেয়।

ধাপ ৪ — বিচার

সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত শা'স্তি দেয়।

৭) এই অপরাধ কি জামিনযোগ্য?

সবসময় না।

বিশেষ করে:

467 ধারা গুরুতর,

অনেক ক্ষেত্রে non-bailable হিসেবে কঠিন হয়ে যায়,

আদালত পরিস্থিতি দেখে জামিন দেয়।

৮) দেওয়ানী মামলা ও ফৌজদারী মামলা একসাথে হয়?

হ্যাঁ।

জমি বিরোধে সাধারণত দুই ধরনের মামলা হয়:

দেওয়ানী মামলা

দলিল বাতিল,

মালিকানা ঘোষণা,

দখল পুনরুদ্ধার।

ফৌজদারী মা'মলা

জা'লি'য়াতি,

প্র'তা'রণা,

জা'ল দলিল ব্যবহার।

দুই মামলা একসাথে চলতে পারে।

৯) প্রমাণ হিসেবে কী লাগে?

গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ:

আসল দলিল

সার্টিফাইড কপি

খতিয়ান

নামজারি

ট্যাক্স রসিদ

সাক্ষী

হ্যান্ডরাইটিং/ফরেনসিক রিপোর্ট

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড

১০) কেউ যদি না জেনে জাল দলিল কিনে?

যদি সত্যিই না জানে, আদালত সেটা বিবেচনা করে।

কিন্তু পরে জেনে-শুনে ব্যবহার করলে ধারা 471 প্রযোজ্য হতে পারে।

১১) গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব বিষয়

অনেক সময় দেখা যায়:

আসল মালিক বিদেশে,

বা মৃত,

বা বয়স্ক,

এই সুযোগে জাল দলিল করা হয়।

তাই জমি কেনার আগে অবশ্যই:

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই,

খতিয়ান মিল,

নামজারি,

দখল,

পূর্বের দলিল চেইন,

সব পরীক্ষা করা জরুরি।

১২) সংক্ষেপে শাস্তির তালিকা

ধারাঅপরাধশাস্তি465সাধারণ জালিয়াতি২ বছর পর্যন্ত জেল467জমি/মূল্যবান দলিল জালযাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত468প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি৭ বছর পর্যন্ত471জাল দলিল ব্যবহারমূল জালিয়াতির সমান শাস্তি

আইনের অফিসিয়াল টেক্সট দেখতে পারেন:

বাংলাদেশ দ'ণ্ডবিধি (BD Laws)

BD Law Portal – Penal Code

#দলিল #জাল_দলিল #শাস্তি #ভূমি_আইন

22/05/2026
05/05/2026

⛔এসিল‍্যান্ড অফিসে জমির যে সকল ভুল সংশোধন করা যায়।👇
এসিল্যান্ড (Assistant Commissioner of Land) অফিসে জমি সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুল বা অসঙ্গতি সংশোধন করা যায়। সাধারণত এগুলো ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান ও নামজারি সংক্রান্ত সমস্যা হয়ে থাকে। নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

✅ যে ধরনের ভুল সংশোধন করা যায়:

১. নামের ভুল (Owner’s Name Correction)
খতিয়ান বা রেকর্ডে মালিকের নাম বানান ভুল বা আংশিক ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যায়।

২. পিতার/স্বামীর নামের ভুল
অনেক সময় পিতা বা স্বামীর নাম ভুলভাবে লেখা থাকে—এটাও ঠিক করা যায়।

৩. জমির পরিমাণ (Area) ভুল
জমির পরিমাণ কম-বেশি দেখানো হলে তা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সংশোধন করা যায়।

৪. দাগ নম্বর বা খতিয়ান নম্বরের ভুল
ভুল দাগ বা খতিয়ান নম্বর থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়।

৫. জমির শ্রেণি (Land Classification) ভুল
যেমন কৃষি জমি, বসতভিটা ইত্যাদি ভুলভাবে উল্লেখ থাকলে তা পরিবর্তন করা যায়।

৬. নামজারি (Mutation) সংক্রান্ত ভুল
নামজারিতে ভুল নাম, অংশ বা মালিকানা সংক্রান্ত ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা যায়।

৭. ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ভুল
ভুলভাবে ওয়ারিশ অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়লে সংশোধনের সুযোগ আছে।

📄 কীভাবে সংশোধন করবেন:

এসিল্যান্ড অফিসে লিখিত আবেদন করতে হবে

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (খতিয়ান, দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, কর রশিদ ইত্যাদি) জমা দিতে হবে

তদন্ত বা শুনানির পর সংশোধন করা হয়

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

সব ধরনের ভুল এসিল্যান্ড অফিসে ঠিক করা যায় না—কিছু জটিল বা বিরোধপূর্ণ বিষয় আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে হয়

সঠিক কাগজপত্র না থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

[শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দিন]
#দলিল_সংশোধন এ #উপজেলা_ভূমি_অফিস

Address

Hazi Abdul Gofur Market, Upzila Moor, Court Road
Narsingdi
1600

Telephone

+8801711102483

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Auliullah Mitho posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Advocate Auliullah Mitho:

Share