17/08/2026
🚨 ৬৫ বছর বয়সী, কোনো আয় নেই—জমি বিক্রি করার জন্য “শূন্য রিটার্ন” দেওয়া যাবে?
একজন আমাকে প্রশ্ন করেছেন—
👉 “আমার বয়স ৬৫ বছর। কোনো আয় নেই। জমি বিক্রি করার জন্য রিটার্ন লাগছে। আমি যদি শূন্য রিটার্ন দিই, তাহলে আয়-ব্যয় কী দেখাবো?”
প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু জমি বিক্রি করার প্রয়োজনে ‘শূন্য রিটার্ন’ দিতে গিয়ে আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য ভুলভাবে শূন্য দেখিয়ে দিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
🔴 প্রথম কথা—৬৫ বছর বয়স মানেই সবকিছু শূন্য নয়
বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে করমুক্ত সীমা/করহার সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা থাকতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে—
❌ কোনো আয় নেই ধরে নেওয়া যাবে
❌ কোনো ব্যক্তিগত ব্যয় নেই দেখানো যাবে
❌ জমি-জমা বা অন্যান্য সম্পদ শূন্য করা যাবে
❌ পূর্বের সম্পদ বাদ দেওয়া যাবে
❌ ব্যাংকে টাকা থাকলে সেটি গোপন করা যাবে
রিটার্নে Tax Payable শূন্য হতে পারে, কিন্তু তাই বলে Return-এর সব তথ্য শূন্য হবে—এমন ধারণা ভুল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনাতেও রিটার্নের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শনের গুরুত্ব রয়েছে।
⚠️ তাহলে আয়-ব্যয় কী দেখাবেন?
যদি সত্যিই ওই ব্যক্তির কোনো করযোগ্য আয় না থাকে, তাহলে বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী আয় দেখাতে হবে।
কিন্তু তিনি যদি নিজের জীবনযাপন করেন, তাহলে বাস্তবে যে পারিবারিক/ব্যক্তিগত ব্যয় করেছেন সেটিও রিটার্নের সংশ্লিষ্ট অংশে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
কারণ প্রশ্ন আসতে পারে—
👉 আয় নেই, তাহলে সারা বছর সংসার চললো কীভাবে?
👉 খাবার, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াত ইত্যাদির টাকা এলো কোথা থেকে?
👉 ব্যাংকে টাকা থাকলে তার উৎস কী?
👉 জমিটি কীভাবে অর্জিত হয়েছিল?
👉 জমির ক্রয়মূল্য/অর্জনমূল্য কত ছিল?
👉 জমি বিক্রি করে টাকা পাওয়ার পর সেই টাকা কোথায় গেল?
“আয় নেই” আর “জীবনযাপনের কোনো ব্যয় নেই”—এই দুটি বিষয় এক নয়।
🏠 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—জমিটি রিটার্নে কোথায়?
জমি তার নামে থাকলে সেটি সম্পদ বিবরণীতে যথাযথভাবে থাকতে হবে।
শুধু জমি বিক্রি করার জন্য—
“আগে জমি ছিল, কিন্তু এবার বিক্রি করবো তাই সম্পদ শূন্য”
এভাবে তথ্য গোপন করা উচিত নয়।
বরং জমির প্রকৃত মালিকানা, মূল্য, পূর্বের রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্য এবং অর্জনের উৎস—সবকিছু বিবেচনা করে রিটার্ন প্রস্তুত করতে হবে।
💰 ভবিষ্যতে জমি বিক্রি করলে কী হবে?
এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২৫ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে অর্জিত আয় মূলধনি আয়ের আওতায় আসতে পারে। (National Board of Revenue)
অর্থাৎ আজ যদি রিটার্নে জমি, সম্পদ ও অর্থের উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়, পরে যখন জমি বিক্রি হবে তখন প্রশ্ন উঠতে পারে—
“আপনার কাছে এই জমি এলো কীভাবে?”
“জমির ক্রয়/অর্জনমূল্য কত ছিল?”
“বিক্রয়মূল্য কত?”
“বিক্রয়ের টাকা ব্যাংকে জমা হলো কীভাবে?”
“আগের রিটার্নে জমিটির মূল্য কত দেখানো হয়েছিল?”
এমনকি পরবর্তীতে বিক্রয়ের টাকা দিয়ে—
🏦 ব্যাংকে FDR
🏦 সঞ্চয়পত্র
🏠 নতুন জমি/বাড়ি
🚗 গাড়ি
💰 নগদ অর্থ
💳 অন্য কোনো বিনিয়োগ
করলে সেই সম্পদের উৎসও ব্যাখ্যা করতে হতে পারে।
🚨 “শূন্য রিটার্ন” দিয়ে ভবিষ্যতে জমি বিক্রি—এখানেই বিপদ হতে পারে
ধরুন—
একজন ব্যক্তির নামে ২০ লাখ টাকার একটি জমি আছে।
তিনি জমি বিক্রি করার আগে রিটার্ন দিলেন এবং সেখানে—
আয় = ০
ব্যয় = ০
সম্পদ = ০
দেখিয়ে দিলেন।
পরের বছর জমিটি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করলেন এবং ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা করলেন।
তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে—
👉 ৩০ লাখ টাকার সম্পদের অস্তিত্ব আগের রিটার্নে কোথায় ছিল?
👉 জমিটি কীভাবে অর্জিত হয়েছিল?
👉 আগের রিটার্নে কেন জমি দেখানো হয়নি?
👉 ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমার উৎস কী?
👉 বিক্রয় থেকে মূলধনি আয় কত হলো?
এখানেই একটি “সস্তায় শূন্য রিটার্ন” ভবিষ্যতে ব্যাখ্যার বড় ঝামেলায় পরিণত হতে পারে।
📌 আরেকটি বিষয় মনে রাখুন
বর্তমান আয়কর ব্যবস্থায় রিটার্ন দাখিল না করার ক্ষেত্রেও আইনগত ঝুঁকি রয়েছে। NBR-এর FAQ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল না করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ সমাধান হলো—
রিটার্ন না দেওয়া নয়; বরং সঠিক তথ্য দিয়ে সঠিক রিটার্ন দেওয়া।
✅ তাহলে করণীয় কী?
যদি ওই ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তির সত্যিই কোনো নিয়মিত আয় না থাকে, তাহলে—
✔️ প্রকৃত আয় সঠিকভাবে দেখাতে হবে
✔️ বাস্তব ব্যক্তিগত/পারিবারিক ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে
✔️ তার নামে থাকা জমি ও অন্যান্য সম্পদ সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে
✔️ সম্পদের অর্জন/উৎসের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে
✔️ পূর্ববর্তী রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে
✔️ জমি বিক্রির পর বিক্রয়মূল্য ও মূলধনি আয়ের হিসাব সঠিকভাবে করতে হবে
✔️ বিক্রয়ের টাকা ব্যাংকে গেলে তার উৎসের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে
✔️ দলিল, ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
🔥 মনে রাখবেন—
“শূন্য রিটার্ন” মানে সবকিছু শূন্য নয়।
Tax Payable শূন্য হতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবন, সম্পদ, ব্যয় ও অর্থের উৎস শূন্য হয়ে যায় না।
আজ কম টাকা দিয়ে ভুলভাবে রিটার্ন করিয়ে নেওয়া সহজ।
কিন্তু কয়েক বছর পর সেই রিটার্নের তথ্যের সঙ্গে জমি বিক্রির টাকা, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের হিসাব মিলাতে গিয়ে যদি গরমিল ধরা পড়ে—তখন ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু করদাতারই।
তাই জমি বিক্রি, সম্পদ হস্তান্তর বা বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের আগে শুধু “রিটার্ন জমা দেওয়া” নয়—রিটার্নটি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।
অতএব সচেতন হওয়া জরুরী।
01401542465