17/11/2020
বাংগালী হলো আবেগী জাতি। এরা সবকিছু আবেগ দিয়ে বিচার করতে চায়। রাজনীতি, বিচারকাজ, আইন এসব আবেগ দিয়ে চলে না, এটা এদেরকে কে বোঝাবে? ফেসবুকের মাধ্যমে এরা যাবতীয় বিচার করে রায় দিয়ে দেয়। বিচার করা যদি এতোই সহজ কাজ হতো তাহলে কষ্ট করে কেউ আইনের উপর এতো বড় বড় ডিগ্রি নিতো না।
ধর্ষকের পক্ষে, কোন খুনীর পক্ষে কোন আইনজীবী মামলা গ্রহণ করলে পাবলিক তাকে সহ ধর্ষক, খুনী বানিয়ে ফেলে। ফেসবুকে ছবি আপলোড করে গালিগালাজ করে।
প্রথমত,একজন আইনজীবী কোন মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। আবার সে তার ইচ্ছেমতো মামলা গ্রহণ করতে পারে। এতে কারো কিছু বলার নেই। একজন খুনী বা ধর্ষক এর পক্ষেও সে মামলা গ্রহণ করতে পারে। দি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার এবং রুলস,১৯৭২ এর ২য় অধ্যায় এর ৯ বিধি অনুযায়ী অপরাধীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করা একজন আইনজীবীর অধিকার। এই বিধির উদ্দেশ্য অপরাধীকে সহায়তা করা নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। অভিযুক্ত হলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না। বিচারে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তবেই সে অপরাধী হয়। ফেসবুকে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করার অধিকার আমাদের নেই। অপরাধের বিচার করার দায়িত্ব আদালতের।
দ্বিতীয়ত, আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যাক্তির আইনগত অধিকার। বাংলাদেশে সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এই অধিকার দিয়েছে। কাজেই কারো যদি মনে হয়, একজন খুনী বা ধর্ষকের পক্ষে কোন আইনজীবীর মামলা পরিচালনা করা উচিত নয়, তারা ফেসবুকে চিল্লাচিল্লি না করে হাইকোর্ট এ যান। সংবিধান সংশোধনের মামলা করুন।আইনজীবীদের গালাগালি করবেন না।
তৃতীয়ত, কোন বার এসোসিয়েশন যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে ঐ বারের কোন আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না,এতে আবেগে আপ্লুত হয়ে আমরা প্রশংসায় ভাসি। কিন্তু এটা সুস্পষ্টভাবে আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধি এবং বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন।
আবেগে আপ্লুত হয়ে সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা দেখানো জাতি সম্ভবত দুনিয়াতে একটাই আছে।
অনেকেই বলবেন, আইনজীবীরা দিনকে রাত বানিয়ে ফেলে। অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যে মিথ্যা বলে। একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, আজকে কেউ আপনার নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা অথবা হত্যা মামলা করলো, কালকের মাঝে আপনার এবং আপনার পরিবারের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলো, আপনি দোষী নাকি নির্দোষ সেটা অনেক পরের ব্যাপার, অনেক সময় লাগবে সেটা প্রমাণ হতে, আপনি মামলা করতে গেলেন, কেউ আপনার হয়ে মামলা পরিচালনা করছে না, আপনার সামাজিক মর্যাদা, পরিবারের নিরাপত্তা সব শেষ.........কি? চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন?
সব আইনজীবী না হয় ভালো না, এমন একটা প্রফেশন দেখান, যে প্রফেশনে সবাই সততার সাথে কাজ করে? যারা ফেসবুকে আইনজীবীদের গালিগালাজ করছেন, তাদেরকে যদি বলা হয়, ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিলে কোন সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে, তখন ঘুষ দিয়ে সরকারি চাকরি নিতে তাদের বিবেকে বাধবে না। তখন তারা বলবেন, যে দেশের যে নিয়ম, এই দেশে চাকরি পেতে গেলে কিছু ঘুষ দিতেই হয়।😂😂😂
তাই আইনজীবীদের গালিগালাজ করার আগে একটু ভেবে নিবেন, কারণ আল্লাহ না করুক, ভবিষ্যতে আপনারও কোন আইনজীবীর সাহায্য দরকার হতে পারে।