Vox Law Academy

Vox Law Academy Legal Advice | Legal Education | Law Coaching | Case Analysis

03/04/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয় :

The Specific Relief Act 1877 এর
________________________________________________

দলিল সংশোধন (Rectification Of The Instruments)
__________________________________________________

সংশোধনের বিষয়টি তখনই আসে যখন দলিলে ভুল থাকে। দলিল প্রণয়নের সময় নানা কারণে দলিলে ভুল হতে পারে। সেই ভুলটি হতে পারে ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত বা সেটা হতে পারে এক পক্ষের প্রতারণার মাধ্যমে বা দুই পক্ষের পারস্পরিক ভুলের কারণে । যে কারণেই দলিলে ভুল হোক না কেন দলিলটি অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করে নিতে হবে যদি দলিলটি আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা না হয় তাহলে উক্ত দলিল দ্বারা পক্ষদ্বয় বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় উক্ত ভুল দলিল দ্বারা কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না তাই এই ধরনের ভুল দলিল থাকা বা না থাকা একই কথা । তাই দলিলের পক্ষদ্বয়কে আদালতের মাধ্যমে এই ধরনের ভুল সংশোধন করে নিতে হবে। যখন দলিলের পক্ষদ্বয় জানতে পারবে দলিলে ভুল হয়েছে এবং সেই ভুলের কারণে লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী দলিলের যেকোনো পক্ষ বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে উক্ত ভুল সংশোধন করে নিতে পারবে।

➤দলিল বলতে কি বুঝায়?
__________________________________________________

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের ৩ ধারা অনুযায়ী:

কোন বস্তু বা পদার্থের উপর

১) অক্ষর(Letters)

২) সংখ্যা(Figures)

৩) চিহ্ন(Marks)

ব্যবহার করে কোন তথ্য বর্ণনা করা বা সংরক্ষণ করা হলে তাই দলিল। অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে কোন একটি চুক্তির বিষয়বস্তু লিখিত আকারে বা সংখ্যার মাধ্যমে বা চিহ্নের মাধ্যমে যেভাবেই হোক না কেন কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হলে তাই দলিল ।

➤কখন দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়:
________________________________________________

যখন কোন লিখিত দলিল নিম্নরূপ ভাবে সৃষ্টি করা হলে

১) প্রতারণার মাধ্যমে(By Fraud): দলিলের কোন পক্ষ যদি অপর পক্ষের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে কোন দলিল সৃষ্টি করে তখন অপর পক্ষ যখন প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারবে তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে উক্ত দলিলটি সংশোধনের জন্য আদালতের নিকট আবেদন করতে পারবে।

২) যদি এমন হয় পক্ষসমূহের নিজেদের পারস্পরিক ভুলের কারণে দলিলে ভুল হলে তখন উক্ত দলিলের ভুল সংশোধনের জন্য আদালতে নিকট আবেদন করা যাবে।(By Mistake of both Parties)

৩) যদি চুক্তি বা অপর কোনো লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাহাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করলে অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে পক্ষদ্বয় দলিলটি প্রস্তুত করতে চেয়েছিল সেই উদ্দেশ্যই যদি দলিলে লিপিবদ্ধ না করা হয় তখন উক্ত দলিলটি সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

➤কে দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারে:
__________________________________________________

১) দলিলের যে কোন পক্ষ।

অথবা

২) তাহাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

➤দলিল সংশোধনের ব্যাপারে আদালতের নিকট কি প্রমাণ করতে হবে:
________________________________________________

আদালতের কাছে প্রমাণ করতে হবে

১) দলিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতারণা হয়েছে।

২) দলিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে।

অথবা

৩) দলিলের পক্ষদ্বয় যে উদ্দেশ্যে দলিলটি প্রণয়ন করেছে সেই উদ্দেশ্যেই দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয় নাই ।

➤যতদূর পর্যন্ত আদালত দলিল সংশোধন করতে পারে:
__________________________________________________

আদালত ততদূর পর্যন্ত এই দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারে যা ৩য় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে ।

➤দলিল সংশোধনের ব্যাপারে আদালতের ক্ষমতা:
__________________________________________________

আদালত তাহার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে দলিল সংশোধন করতে পারে। অর্থাৎ আদালত চাইলে দলিল সংশোধন করতে পারে আবার না-ও করতে পারে এটা তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।(Discretionary Power)

➤দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা দায়েরের সময়সীমা:
__________________________________________________

যখন দলিলের পক্ষদ্বয় দলিলের ভুল সম্পর্কে অবগত হবেন তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে দলিল সংশোধনের জন্য দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

➤মোকাদ্দমার কোর্ট ফি:
__________________________________________________

দলিল সংশোধনের মোকদ্দমায় মোকাদ্দমার মূল্যমানের উপর এডভেলোরাম কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়।

➤কখন ভুল দলিলটি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে:
_________________________________________________

যখনই উক্ত ভুল দলিলটি আদালতের মাধ্যমে সংশোধিত করা হবে তখনই দলিলটি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। (ধারা ৩৪)

অ্যাডভোকেট রেহানা খান
প্রভাষক
আইন বিভাগ
ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অল্টারনেটিভ। (UODA)

26/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয়:-
দলিল সংশোধন
(Rectification Of The Instruments)

The Specific Relief Act 1877
____________________________________________________________________

সংশোধনের বিষয়টি তখনই আসে যখন দলিলে ভুল থাকে। দলিল প্রণয়নের সময় নানা কারণে দলিলে ভুল হতে পারে। সেই ভুলটি হতে পারে ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত বা সেটা হতে পারে এক পক্ষের প্রতারণার মাধ্যমে বা দুই পক্ষের পারস্পরিক ভুলের কারণে । যে কারণেই দলিলে ভুল হোক না কেন দলিলটি অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করে নিতে হবে যদি দলিলটি আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা না হয় তাহলে উক্ত দলিল দ্বারা পক্ষদ্বয় বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় উক্ত ভুল দলিল দ্বারা কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না তাই এই ধরনের ভুল দলিল থাকা বা না থাকা একই কথা । তাই দলিলের পক্ষদ্বয়কে আদালতের মাধ্যমে এই ধরনের ভুল সংশোধন করে নিতে হবে। যখন দলিলের পক্ষদ্বয় জানতে পারবে দলিলে ভুল হয়েছে এবং সেই ভুলের কারণে লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী দলিলের যেকোনো পক্ষ বা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে উক্ত ভুল সংশোধন করে নিতে পারবে।

➤দলিল বলতে কি বুঝায়?

____________________________________________________________________

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের ৩ ধারা অনুযায়ী:

কোন বস্তু বা পদার্থের উপর

১) অক্ষর(Letters)

২) সংখ্যা(Figures)

৩) চিহ্ন(Marks)

ব্যবহার করে কোন তথ্য বর্ণনা করা বা সংরক্ষণ করা হলে তাই দলিল। অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে কোন একটি চুক্তির বিষয়বস্তু লিখিত আকারে বা সংখ্যার মাধ্যমে বা চিহ্নের মাধ্যমে যেভাবেই হোক না কেন কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হলে তাই দলিল ।

➤কখন দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়:

________________________________________________
________________________________

যখন কোন লিখিত দলিল নিম্নরূপ ভাবে সৃষ্টি করা হলে

১) প্রতারণার মাধ্যমে(By Fraud): দলিলের কোন পক্ষ যদি অপর পক্ষের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে কোন দলিল সৃষ্টি করে তখন অপর পক্ষ যখন প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারবে তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে উক্ত দলিলটি সংশোধনের জন্য আদালতের নিকট আবেদন করতে পারবে।

২) যদি এমন হয় পক্ষসমূহের নিজেদের পারস্পরিক ভুলের কারণে দলিলে ভুল হলে তখন উক্ত দলিলের ভুল সংশোধনের জন্য আদালতে নিকট আবেদন করা যাবে।(By Mistake of both Parties)

৩) যদি চুক্তি বা অপর কোনো লিখিত দলিল সত্যিকারভাবে তাহাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করলে অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে পক্ষদ্বয় দলিলটি প্রস্তুত করতে চেয়েছিল সেই উদ্দেশ্যই যদি দলিলে লিপিবদ্ধ না করা হয় তখন উক্ত দলিলটি সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

➤কে দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারে:

____________________________________________________________________

১) দলিলের যে কোন পক্ষ।

অথবা

২) তাহাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিল সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

➤দলিল সংশোধনের ব্যাপারে আদালতের নিকট কি প্রমাণ করতে হবে

______________________________________________________________________

আদালতের কাছে প্রমাণ করতে হবে

১) দলিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতারণা হয়েছে।

২) দলিল প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে।

অথবা

৩) দলিলের পক্ষদ্বয় যে উদ্দেশ্যে দলিলটি প্রণয়ন করেছে সেই উদ্দেশ্যেই দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয় নাই ।

➤যতদূর পর্যন্ত আদালত দলিল সংশোধন করতে পারে:

____________________________________________________________________

আদালত ততদূর পর্যন্ত এই দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারে যা ৩য় পক্ষ কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে ।

➤দলিল সংশোধনের ব্যাপারে আদালতের ক্ষমতা:

____________________________________________________________________

আদালত তাহার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে দলিল সংশোধন করতে পারে। অর্থাৎ আদালত চাইলে দলিল সংশোধন করতে পারে আবার না-ও করতে পারে এটা তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।(Discretionary Power)

➤দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা দায়েরের সময়সীমা:

____________________________________________________________________

যখন দলিলের পক্ষদ্বয় দলিলের ভুল সম্পর্কে অবগত হবেন তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে দলিল সংশোধনের জন্য দেওয়ানী আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

➤মোকাদ্দমার কোর্ট ফি:

____________________________________________________________________

দলিল সংশোধনের মোকদ্দমায় মোকাদ্দমার মূল্যমানের উপর এডভেলোরাম কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়।

➤কখন ভুল দলিলটি সুনির্দিষ্টভাবে
বাস্তবায়ন করা যাবে:

____________________________________________________________________

যখনই উক্ত ভুল দলিলটি আদালতের মাধ্যমে সংশোধিত করা হবে তখনই দলিলটি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। (ধারা ৩৪)

মো: আরিফ হাওলাদার
এডভোকেট জজকোর্ট,মাদারীপুর
✆মোবাইল-01783-962499

অভিনন্দন নবাগত সকল আইনজীবীদের ভালবাসা অবিরাম, আপনাদের আইন চর্চা হউক বিচার প্রার্থী অসহায় মানুষের কল্যানে 🙏১৫/০৩/২৬ ইং
15/03/2026

অভিনন্দন নবাগত সকল আইনজীবীদের ভালবাসা অবিরাম, আপনাদের আইন চর্চা হউক বিচার প্রার্থী অসহায় মানুষের কল্যানে 🙏
১৫/০৩/২৬ ইং

14/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয় :-

যেই চুক্তি সমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না
(Contracts which cannot be Specifically Enforced)

😈প্রারম্ভিক আলোচনা:-

----------------------------------
যে সমস্ত ক্ষেত্রে একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ এবং ২১(ক) তে বলা হয়েছে। ধারা ২১ এ বলা হয়েছে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ৮ টি ক্ষেত্রে একটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্য সম্পাদন না করার আদেশ দিতে পারে। এবং ধারা ২১(ক) তে বলা হয়েছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। তাই এই ২ টি ধারা একত্রে পড়তে হবে।

😈ধারাঃ ২১ --

-------------------

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী আদালত তাহার স্বেচ্ছাদিন ক্ষমতা বলে( Discretionary power) নিম্নবর্ণিত ৮ টি ক্ষেত্রে একটি চুক্তি সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন না করার আদেশ দিতে পারেন। সেগুলো নিম্নরূপঃ

😈১) আর্থিক ক্ষতি পূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার দেওয়া গেলেঃ

---------------------------------------------

অর্থাৎ আদালত যদি দেখেন যে, চুক্তিটি আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার দেওয়া সম্ভব সে ক্ষেত্রে আদালত উক্ত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন না করার আদেশ দিবেন। অর্থাৎ চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।

😈২) যদি চুক্তিটি ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল হয় এবং চুক্তিটিতে যদি জটিল বিবরণের সমষ্টি থেকে থাকেঃ

----------------------------------------------

অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি যার সাথে চুক্তিটি করেছেন উক্ত চুক্তিটি যদি তাহার ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল হয় সেই সকল চুক্তি আদালত সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আদেশ দিবে না। এবং আদালত যদি দেখেন যে, আপনি এমন একটা চুক্তি করেছেন যা কিনা অত্যন্ত জটিল বিবরণের সমষ্টি যা আদালত নিজেই পরীক্ষা করে বুঝতে পারে না সেক্ষেত্রেও আদালত উক্ত চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের আদেশ দিবে না।

😈৩) যখন আদালত চুক্তির শর্তাবলী নিশ্চয়তার সাথে নির্ণয় করতে পারে নাঃ
--------------------------------------------------

অর্থাৎ আপনারা পক্ষদ্বয় এমন একটি চুক্তি করেছেন যার শর্তাবলী আদালত নিশ্চয়তার সাথে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যাইতে পারে যে, মনে করুন আপনি রহিমের সাথে একটি চুক্তি করেছেন যে রহিম যদি আপনার ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে পারে তাহলে আপনি রহিমকে একটি সোনার চেইন দিবেন। একটু খেয়াল করে দেখেন যে উক্ত চুক্তিতে কিন্তু বলা নাই যে আপনি কতটুকু সোনা রহিম কে দিবেন এবং বলা নাই যে রহিম আপনার ছেলেকে কোন দেশে এবং কোথায় নিবে। এর মানে উক্ত চুক্তির শর্তসমূহই অস্পষ্ট যা কিনা আদালত যুক্তিসংগত নিশ্চয়তার সাথে নিরূপণ করতে পারে না। তাই উক্ত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর যোগ্য নয়।

😈৪) যদি চুক্তিটি তার প্রকৃতিগত কারণেই বাতিলযোগ্য হয়ঃ

-----------------------------------------

আপনি এমন একটি চুক্তি করলেন যা কিনা প্রকৃতিগত কারণেই বাতিলযোগ্য হয় সেই চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য আদালত আদেশ দিবে না।

😈৫) জিম্মাদার যদি তাহার ক্ষমতার বহির্ভূত চুক্তি করেঃ

------------------------

অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি আপনার জিম্মাদার কে সম্পত্তি সংক্রান্ত ব্যাপারে যে ক্ষমতা প্রদান করেছেন সে যদি তার ক্ষমতার অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোন কাজ করে অন্য কারো সাথে চুক্তিতে লিপিবদ্ধ হয় তখন উক্ত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর যোগ্য নয়। যেমন ধরেন, আপনি আপনার জিম্মাদার কে একটি জমি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা চুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা দিলেন। কিন্তু সে আপনার প্রদত্ত ক্ষমতার বেশি প্রয়োগ করে সাত বছরের জন্য উক্ত জমির ব্যাপারে ইজারা চুক্তি করিল। তখন চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর যোগ্য নয়। কারণ জিম্মাদার তার ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ করে চুক্তি করেছে।

😈৬) বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত কোন কোম্পানির কর্মকর্তা যদি ক্ষমতা বহির্ভূত কোন কাজ করেঃ

-------------------------

অর্থাৎ এমন কিছু কোম্পানি আছে যা কিনা কোন বিশেষ কাজ করার লক্ষ্যে তৈরি হয়। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, উক্ত কোম্পানীর কর্মকর্তা ঐ বিশেষ কাজটি সম্পাদন না করে তার ক্ষমতার বাহিরে অন্য কোন চুক্তি করে থাকে তখন উক্ত চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ধরুন একটি কোম্পানি রেলপথ তৈরি ও চালু রাখিবার একমাত্র লক্ষ্যে গঠিত হইল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে কোম্পানির কর্মকর্তা বস্ত মিলস নির্মাণের জন্য কোন জমি কেনার চুক্তি করল। উক্ত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর যোগ্য নয়। কারণ সে তার বিশেষ উদ্দেশ্য বহির্ভূত কাজ সম্পাদন করেছে।

😈৭) তিন বছর যাবত বা তার বেশি ক্রমাগত কাজ করার চুক্তিঃ

-------------------------------------

অর্থাৎ যে চুক্তির কার্য সম্পাদন করিতে হইলে চুক্তিটি আরম্ভ করিবার তারিখ হইতে ক্রমাগত তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে কাজ করিতে হইবে। সেই চুক্তি আদালতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।

😈৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই যদি চুক্তির বিষয়বস্তু বিলুপ্ত হয়ঃ

-------------------------------------------

যখন এমন হয় যে, পক্ষগণ যে বিষয় নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করেছে, অথচ উক্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই উক্ত চুক্তির বিষয়বস্তু বিলুপ্ত হয়েছে। তখন উক্ত চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।

😈ধারাঃ ২১(ক) অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় নাঃ

----------

২০০৪ সালে ২১(ক) ধারাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে সংযুক্ত করে একটি নিয়ম করা হলো যে, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তি যদি রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি না হয় তাহলে উক্ত চুক্তি নিয়ে কোন বিরোধ দেখা দিলে উক্ত চুক্তিটি আদালতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না। অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তিটি যদি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে হয় তাহলে অবশ্যই নিম্নবর্ণিত দুটি শর্ত পূরণ করতে হবেঃ

ক) চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ ধারা রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।

খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় অবশ্যই আদালতে জমা দিতে হবে।

😈গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় যা মনে রাখা জরুরীঃ

-----------

# ধারা ২১(ক) শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

# ২০০৪ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ২১(ক) ধারাটি সংযুক্ত করা হয়। এবং উক্ত ধারাটি ১ লা জুলাই ২০০৫ ইং তারিখ হতে কার্যকর হয়।

# যখন কোন চুক্তিতে আরবিট্রেশন ক্লোজ থাকে তখন কোন চুক্তিই সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।


মো: আরিফ হাওলাদার
এডভোকেট জজকোর্ট মাদারীপুর
মোবাইল নং-০১৭৮৩-৯৬২৪৯৯

13/03/2026

চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন
(Specific Performance of contract)

😈 চুক্তির সুনিদিষ্ট কার্য সম্পাদন কি?
-------------------------------------------------
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন বলতে বোঝায় চুক্তির পক্ষদ্বয় যেমন ভাবে একটি চুক্তি পালন করতে সম্মত হয়েছে ঠিক তেমনভাবে চুক্তিটি কার্যকর করাকে বুঝায়। অর্থাৎ সহজ ভাবে বলতে গেলে চুক্তিতে পক্ষদ্বয় যেমন ঘোষণা করেছে ঠিক সেভাবে উক্ত চুক্তিটি কার্যকর করা। চুক্তি ভঙ্গের কারণে চুক্তিতে আবদ্ধ পক্ষসমূহের মধ্যে কোন পক্ষ এমন ক্ষতির সম্মুখীন হন যাহার প্রতিকার আর্থিক ক্ষতি পূরণের মাধ্যমে দেওয়া ন্যায় সঙ্গত এবং যথাযথ নয় তখন আদালত তাহার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে উক্ত চুক্তির শর্তাবলী সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর এবং প্রতিপালন করার জন্য যে আদেশ প্রদান করেন তাকে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন বলে।

☺এখন অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে আদালত কখন একটি চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার আদেশ দিতে পারেন? উক্ত প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ।।

😈 যে সমস্ত ক্ষেত্রে একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করতে বাধ্য করা যায়ঃ --

------------------------------------------------------
কোন কোন ক্ষেত্রে একটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে। আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে( Discretionary power) নিম্ন লিখিত ৪ ক্ষেত্রে একটি চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার আদেশ দিতে পারেন।

😇ক) চুক্তিটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলেঃ
-------------------------------------------

অর্থাৎ জিম্মাদার যদি জিম্মা চুক্তি ভঙ্গ করে উক্ত চুক্তির ভিন্ন কোন কাজ করে থাকে তখন জিম্মা দাতা উক্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালতের কাছ থেকে আদেশ পাবেন।

😉খ) ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কোন মানদণ্ড না থাকলেঃ
--------------------------------------------------

যদি এমন হয় যে আপনি যার সাথে একটি বৈধ চুক্তি সম্পন্ন করেছেন সে যদি উক্ত চুক্তির শর্তাবলী সঠিকভাবে পালন না করে এবং তার ফলে আপনার যে ক্ষতি হবে তার পরিমাণ নির্ণয়ে কোন মানদন্ড না থাকলে আদালত তখন উক্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার জন্য আপনার পক্ষে আদেশ দিবে।

😐গ) আর্থিক ক্ষতি পূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার না হলেঃ

--------------------------------------------------

যদি এমন সম্ভাবনা থাকে যে, চুক্তিভুক্ত কার্যসম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে আপনাকে পর্যাপ্ত প্রতিকার দেওয়া যাবে না তখন আদালত উক্ত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদন করার জন্য আপনার পক্ষে আদেশ দিবে।

😴ঘ) যখন আর্থিক ক্ষতিপুরণই পাওয়া যাবে নাঃ
-------------------------------------------------

যখন এমন সম্ভাবনা থাকে যে, চুক্তিভুক্ত কার্য সম্পাদন না করার জন্য আপনি কোন আর্থিক ক্ষতি পূরণই পাবেন না তখন আদালত উক্ত চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আপনার পক্ষে আদেশ দিবে।

😈 গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় যেগুলি মনে রাখা খুবই জরুরী সেগুলো নিম্নরূপঃ

--------------------------------------------------

😈 # সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে আদালত ৪ টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার আদেশ দিতে পারে।

☺ # চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার আদেশ আদালতের একটি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা।

😀 # অত্র ধারা অনুযায়ী বাদী আদেশ পেতে হলে তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, বিবাদীর সাথে বাদীর একটি বৈধ চুক্তি ছিল, এবং বিবাদী উক্ত চুক্তি অনুযায়ী কার্য সম্পাদনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যার ফলে বাদীর অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

😃 # চুক্তি প্রবলের মামলা ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।

😄 # সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের মোকাদ্দমায় চুক্তির মূল্য হইবে মোকাদ্দমার মূল্য এবং এই মূল্যের উপর Ad-valorem court fee প্রদান করতে হয়।

😆 # চুক্তি প্রবলের মামলা অবশ্যই নালিশি বিষয় যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার আঞ্চলিক এবং চুক্তির মূল্যমানের উপর আর্থিক এখতিয়ার সম্পূর্ণ দেওয়ানী আদালতে উক্তরূপ মোকাদ্দমা দায়ের করতে হবে।

😨 # স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে কেউ যদি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত চুক্তি ভঙ্গ করে তখন আদালত উক্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আদেশ দিবে।

😰 # তবে অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া যায়।
মো আরিফ হাওলাদার
এডভোকেট জজকোট মাদারীপুর
মোবাইল নং-০১৭৮৩৯৬২৪৯৯

10/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয়:-

সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার
(Recovery of possession of property)

‌‌পার্ট-০২

পার্ট-০১ এ ধারা ৮ সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে আজ আমরা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৯ সম্পর্কে জানবো। কখন বাদী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের না করে ৯ ধারায় মামলা দায়ের করে এ সম্পর্কেই আজ আলোচনা করা হবে।)☺

➤সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারাঃ ৯

⇨বাদী স্বত্ব ছাড়া শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধার করতে চাইলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে হয়। এই ধারায় বলা হয়েছে যে,

✔আইনগত পন্থা ছাড়াই যদি কোন ব্যক্তি কে তার স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হয়। অথবা

✔ উক্ত দখলচ্যুত তার সম্মতি ছাড়াই করা হয়।


তখন সে ব্যক্তি ধারা ৯ অনুযায়ী মোকাদ্দমা দায়ের করে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে। এই ধারা অনুযায়ী বাদীকে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই যে উক্ত সম্পত্তিতে তার স্বত্ব আছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে,বাদী শুধুমাত্র প্রমাণ করবে যে উক্ত সম্পত্তিতে তার দখল ছিল এবং বিবাদী তার সম্মতি ছাড়াই এবং আইনানুগ পন্থা ব্যতীত তাকে দখলচ্যুত করেছে ব্যাস এতটুকু প্রমাণ করতে পারলেই আদালত বাদীর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করবে। ৯ ধারার নীতি হচ্ছে, যিনি দখলে আছে, তিনি দখলে থাকবে।

➤ ৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার পেতে হলে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবেঃ

✔ সম্পত্তিতে বাদী দখলে ছিল এবং বিবাদী তাকে বেদখল করেছে।

✔ উক্ত বেদখল টি বাদীর সম্মতি ছাড়া এবং আইনানুগ পন্থা ব্যতীত করা হয়েছে।

✔ বাদী দখলচ্যুত হওয়ার তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করেছে।

✔ শুধুমাত্র দখলচ্যুত ব্যক্তি বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি দ্বারা দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করতে হবে।

✔ বাদীকে মোকাদ্দমার মূল্যমানের উপর Ad-valorem court fee এর অর্ধেক ফি অবশ্যই জমা দিতে হবে।

➤ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে যেগুলো জানা সবার জন্য ফরজ। সেগুলো নিম্নরূপঃ

✔ এই ধারা অনুযায়ী সরকারের বিরুদ্ধে মোকাদ্দমা দায়ের করা যায় না।

✔ এই ধারার অধীনে দায়েরকৃত মামলায় আদালতের দেওয়া ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল বা রিভিউ দায়ের করা যায় না। অর্থাৎ রিভিশন দায়ের করা যায়।

✔ তবে রিভিশন দায়ের করবে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১১৫ মোতাবেক হাই কোর্ট বিভাগে।

✔ আর্জিতে যে পরিমাণ কোট ফি প্রদান করা হয় রিভিশনের দরখাস্তে ও সে পরিমাণ কোট ফি প্রদান করতে হবে।

✔ ৯ ধারার অধীনে স্থাবর সম্পত্তির মালিক নিজে বা যে স্থাবর সম্পত্তির মালিক নয় সেও দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।।

এডভোকেট আরিফ হাওলাদার
জজকোর্ট,মাদারীপুর
মোবাইল নং-০১৭৮৩৯৬২৪৯৯

09/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয়:-

সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার
(Recovery of possession of Property)
পার্ট-০১
➤ সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার সর্ম্পকিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৮ থেকে ১১পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

➤ এই ধারা গুলোতে সাধারণত ২ প্রকার সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
সেগুলো নিম্নরূপঃ

(১) স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার( ধারা ৮ এবং ৯)

(২) অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার( ধারা ১০ এবং ১১)

✔ এর মানে হল যখন কোন স্থাবর সম্পত্তির দখল নিয়ে কোন বিরোধ দেখা দিলে তখন বাদী কে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ এবং ৯ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে।

✪✪✪এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে তাহলে কি স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে একসাথে এই দুটি ধারায় মামলা করতে হবে কিনা?

☞ উত্তর হল না কারণ আপনি যখন ৮ ধারার অধীন মামলা করবেন তখন উক্ত সম্পত্তিতে আপনার অবশ্যই স্বত্ব থাকতে হবে অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি উক্ত সম্পত্তির মালিক নিজেই। অর্থাৎ স্বত্ব সহ দখল পুনরুদ্ধার করতে চাইলে আপনাকে ৮ ধারার অধীন মামলা দায়ের করতে হবে।

⇨ কিন্তু ধারা ৯ অনুযায়ী শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করা যায় অর্থাৎ আপনি যদি শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধার করতে চান তাহলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে। এই ধারায় মামলা করতে হলে জমির মালিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে উক্তি সম্পত্তিতে আপনি দখলে ছিলেন। কিন্তু আপনাকে আপনার সম্মতি ছাড়া এবং আইনানুগ পন্থা ব্যতীত উক্ত সম্পত্তি থেকে বেদখল করা হয়েছে ব্যাস এটুকুই প্রমাণ৷ করতে পারলে আদালত আপনার পক্ষে রায় দিবে।।৷ অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে কেউ যদি স্বত্ব ছাড়া৷ শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধার করতে চায় তাহলে তাকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার অধীন মামলা৷ দায়ের করতে হবে।

✪✪✪তবে জমির মালিক যদি স্বত্ব ছাড়া শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধার করতে চায় তাহলে সে ও ৯ ধারার অধীন শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে)☺ অর্থাৎ ৯ ধারার অধীন জমির মালিক নিজে এবং যে জমির মালিক নয় তারা উভয়ই শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।।

✪✪✪ আর যখন অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কোন বিরোধ দেখা দিলে বাদিকে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ এবং ১১ ধারার অধীন মামলা দায়ের করতে হবে।☺

✪✪✪স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার( ধারা ৮ এবং ৯)☺

➤সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ এবং ৯ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে কিভাবে স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়।।

✔উক্ত ধারা সমূহ নিম্মে আলোচনা করা হলঃ

➤➤ ধারা- ৮ স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারঃ

⇨ধারা ৮ এর বিধান এই যে কোন সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তিতে দখল পাইবার অধিকারী কোন ব্যক্তি অর্থাৎ যার উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে সে ব্যক্তি দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের বিধান অনুযায়ী উক্ত সম্পত্তিতে তাহার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে ফরিয়াদি যদি উক্ত সম্পত্তিতে তার স্বত্ব প্রমাণ করিতে না পারে তাহলে সে কোন দখলের ডিক্রি লাভ করিতে পারবে না।। সহজে বলতে গেলে বাদীকে অবশ্যই উক্ত সম্পত্তিতে তার স্বত্ব আছে এটা প্রমাণ করতে হবে ব্যাস এটুকু প্রমাণ করতে পারলেই আদালত বাদীর পক্ষে রায় ঘোষণা করবেন।।

☞☞☞ধারা ৮ অনুযায়ী প্রতিকার পেতে হলে নিম্নবর্ণিত শর্তসমূহ অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

✔ সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি কর্তৃক দখল পুনরুদ্ধারের জন্য অবশ্যই মামলা দায়ের করতে হবে।

✔ বাদীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব আছে। এই ধারা অনুযায়ী দখল প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।।

✔ সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

✔ বাদীকে বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হবে।

✔ বাদীকে মোকদ্দমা দায়েরের সময় ২% হারে Ad-valorem court fees প্রদান করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ Ad-valorem court fees ৪০,০০০/--( চল্লিশ হাজার টাকা)।

✪✪✪✪গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় যেগুলি অবশ্যই মনে রাখা জরুরীঃ

✔ ৮ ধারার অধীন মোকাদ্দমার ক্ষেত্রে বাদী দখল ছাড়াও স্বত্ব পাওয়ার অধিকারী। তাই তাকে ৮ ধারার সাথে ৪২ ধারার অধীন( স্বত্ব ঘোষণার) মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

✔ ৮ ধারার অধীন সরকারের বিরুদ্ধে মোকাদ্দমা দায়ের করা যায়।

✔ ৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে বাদীকে শুধুমাত্র স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ বিরোধীয় সম্পত্তির মালিক বাদী নিজেই এটা প্রমাণ করতে পারলেই আদালত বাদীর পক্ষে ডিক্রি প্রদান করবে।

✔ ৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কোট ফি ৪০,০০০/- টাকা।
এডভোকেট আরিফ হাওলাদার
জজকোর্ট মাদারীপুর
মোবাইল নং-০১৭৮৩৯৬২৪৯৯

08/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয়:-

➤নিরোধ মূলক প্রতিকারের প্রকৃতি(Nature of Preventive Relief)

পার্ট-০১

➤নিরোধক প্রতিকার (ধারা-৬)

⇨ ৫ ধারার(গ) উপ ধারার অধীন মঞ্জুরি ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কে নিরোধক প্রতিকার (Preventive Relief) বলা হয়।

⇨অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে নিষেধাজ্ঞার আদেশ হচ্ছে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের নিরোধ মূলক প্রতিকার( Preventive Relief)

✪⊕✪☞তবে এই আইনের ধারা ৫২ আরেকটু স্পষ্ট করে বলেছে যে, অস্থায়ী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিরোধ মূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়। তবে এটা আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা।।

➤ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা-৫৩)

⇨অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হল এমন এক ধরনের আদেশ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এরূপ নিষেধাজ্ঞা মামলার যে কোন পর্যায়ে মঞ্জুর করা যায়। তবে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১,২ নং বিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

➤অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে আদালত নিম্নবর্ণিত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে থাকে।

✔ Prima Facie case( আপাতদৃষ্টিতে মোকাদ্দমা থাকা)

✔ Irreparable loss( অপূরণীয় ক্ষতি)

✔Balance of convenience and inconvenience (সুবিধা ও অসুবিধার ভারসাম্য)

➤স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা - ৫৩)

⇨স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র মামলার শুনানির পর এর গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ডিক্রির মাধ্যমে মঞ্জুর করা হয়। অর্থাৎ যে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিবাদীকে বাদীর অধিকার পরিপন্থী কোনো কাজ করা হতে চিরস্থায়ী ভাবে বিরত রাখা হয় সেই নিষেধাজ্ঞা কে স্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলা হয়।।।

এডভোকেট আরিফ হাওলাদার
জজকোর্ট,মাদারীপুর
মোবাইল-01783-962499

07/03/2026

আজকের আলোচ্য বিষয়:-

☞সুনির্দিষ্ট প্রতিকার কিভাবে প্রদান করা যায়).

➤ধারা ৫ :- সুনিদিষ্ট প্রতিকার কিভাবে প্রদান করা যায় তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা মতে ৫ টি উপায়ে সুনিদিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় সেগুলো নিম্নরূপঃ

ক) আদালত কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে এবং তা তার প্রকৃত দাবিদার কে অর্পণের মাধ্যমে।( ধারা ৮ থেকে ১১)।

খ) চুক্তির সুনিদিষ্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে( ধারা ১২)।

গ) নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে( ধারা ৫২ থেকে ৫৭)।

ঘ) ঘোষণামূলক ডিক্রির মাধ্যমে( ধারা ৪২)..

ঙ) রিসিভার নিয়োগ এর মাধ্যমে( ধারা ৪৪)..

উপরোক্ত পাঁচটি উপায়ে সুনিদিষ্ট প্রতিকার দেওয়া যায়।।।

➤গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় যেগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবেঃ

১) সুনিদিষ্ট প্রতিকার পাঁচটি উপায়ে প্রদান করা যায়।

২) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় না। তবে ১৯ ধারা অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে ও প্রতিকার দেওয়া যায়।

৩) এই ৫ প্রকার প্রতিকার এর মধ্যে গ নং প্রতিকারটি নিষেধাত্নক বা নিরোধ মূলক বা প্রতিরোধমূলক।

৪) এই ৫ প্রকার অধিকারের মধ্যে ৪ কি আদেশাত্নক এবং ১ টি নিষেধাত্নক।

এডভোকেট আরিফ হাওলাদার
জজকোর্ট,মাদারীপুর
মোবাইল-01783-962499

06/03/2026

আজকের আলোচ্যে বিষয়:-

➤ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন,১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877)

➤সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭

⇨সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ সালের ৫৭ টি ধারা সম্বলিত একটি আইন। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার এই কথাটির অর্থ হল সুনির্দিষ্টভাবে কিছু প্রতিকার প্রার্থনা করা যা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇨অর্থাৎ ৫ প্রকার প্রতিকার কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলে যা বাদি দেওয়ানী আদালতে প্রার্থনা করে এবং দেওয়ানী আদালত তা মঞ্জুর করে। এই ধরনের প্রতিকারের ক্ষেত্রে আদালত কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে দাবিদারকে অর্পণ করে অথবা আদালত মোকাদ্দমার কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা না করতে নিষেধ করে, অথবা চুক্তিভুক্ত পক্ষকে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করে। এই আইনটি মূলত একটি তত্ত্বগত আইন(Substantive Law)। অর্থাৎ এই আইনটি শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সমূহকে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই এটা তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন।

⇨কিন্তু এই আইনের প্রতিকার সমূহ প্রার্থনা করা হয় দেওয়ানী আদালতে এবং দেওয়ানী আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করলে আদালত তাহা মঞ্জুর করে। তাই বলাই যায় এই আইনের কোন সুবিধা ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। এই আইনটি ব্যক্তিগত অধিকার সমূহ এবং প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করে।

➤এই আইনের আলোচ্য বিষয় সমূহ নিম্নরূপঃ

১) স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার।( ধারা ৮থেকে ১১)।

২) চুক্তি কার্যকরকরণ( ধারা ১২)

৩) দলিল সংশোধন( ধারা ৩১)

৪) চুক্তি বাতিল( ধারা ৩৫)

৫) দলিল বাতিল( ধারা ৩৯)

৬) ঘোষণামূলক ডিক্রি( ধারা ৪২)

৭) রিসিভার নিয়োগ( ধারা ৪৪)

৮) নিষেধাজ্ঞা( ধারা ৫২ থেকে ৫৭)

উপরোক্ত বিষয় সমূহ এই আইনের আলোচ্য বিষয়।।

এই আইনটিতে ৫৭ ধারা এবং ১০ টি অধ্যায় আছে। এই আইনটি ১৮৭৭ সালের ১নম্বর আইন। এই আইনটি বলবৎ হয় ১৮৭৭ সালের ১ লা মে থেকে। এই আইনটি সর্বশেষ সংশোধিত হয় ২০১৪ সালের ২৭ নং আইন দ্বারা।

এডভোকেট আরিফ হাওলাদার
জজকোর্ট,মাদারীপুর
মোবাইল-01783-962499

Address

Jurdge Court Madaripur
Madaripur
7900

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Vox Law Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share