27/03/2026
পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
মহানিরয়ঃ
৭.মহাতাপন মহানিরয়ঃ
তাপন নিরয় হতে পনের যোজন নিম্নে মহাতাপন নিরয়। তাপন নিরয়ের উত্তাপ হতে এই নিরয়ের উত্তাপ অতিশয় প্রখর বিধায় মহাতাপন নামে বর্ণিত হয়েছে। এই নিরয়ের প্রজ্জ্বলমান লৌহময় পর্বত-শ্রেণী হতে পাপীগণ অধঃশিরে নিম্নদিকে পড়তে থাকে। পর্বতের পাদদেশে উত্তপ্ত সুতীক্ষ্ণ বক্রমুখ লৌহশলা পোতা আছে। পাপীরা সেখানে পড়ে বিদ্ধ হতে থাকে। তৎপর লৌহ কন্টকপূর্ণ একটা জঙ্গলময় স্থানে পাপীদেরকে তাড়িয়ে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে প্রবিষ্ট পাপীরা এমনভাবে কন্টকবিদ্ধ হয় যে কারো আঁতুড়ি, কারো চক্ষু বের হয়ে যায়। সেখান হতে এনে প্রজ্জ্বলিত পর্বতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানকার বিষাক্ত বাতাসে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
👉এই নিরয়ের আয়ু প্রমাণঃ
সপ্তম মহানিরয় “তাপন” নিরয়বাসীর আয়ু এক অন্তর কল্পের অর্দ্ধভাগ।
📌(এক কল্প সমান কত সময় তা নিচে উল্লেখিত নোটে দেখুন)
👉এই নিরয়ে উৎপন্ন হওয়ার কারণঃ
যারা ত্রিরত্নের প্রতি অভক্তি প্রদর্শন করে, মিথ্যাদৃষ্টি পূজা করে, পরকাল, পুনর্জন্ম বিশ্বাস করেনা, উচ্ছেদবাদী, স্বর্গ-নরক আছে বলে বিশ্বাস করে না, কর্ম-কর্মফলকে প্রত্যয় করে না ও নিজের পাপদৃষ্টি অবলম্বন করার নিমিত্ত অপরকে উৎসাহিত করে, তারা এই নিরয়ে ভীষণ দুর্গতি ভোগ করে থাকে।
বর্ণনা অনুসারে উপযুক্ত একটি ছবি বানাও। ছবিতে কোন লেখা যেন না থাকে।
📌নোটঃ
এক কল্প সমান কত সময়ঃ
আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে সংযুক্ত নিকায়ের ২য় খন্ডের "অনমতগ্গ সংযুক্ত" অংশের প্রথম বর্গের "সর্ষপ" সূত্রের বাংলা অনুবাদ দেয়া হলো।
(তথ্যসূত্রঃ সংযুক্ত নিকায় ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ৩৪২ "সর্ষপ সূত্র" দ্রষ্টব্য)
৬. সর্ষপ সূত্র
শ্রাবস্তী-
জনৈক ভিক্ষু- ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে অভিবাদন করে জিজ্ঞেস করলেন- ভদন্ত, কল্প কত দীর্ঘ?
ভগবান- হে ভিক্ষু, কল্প কত দীর্ঘ তা এক বৎসর, এত শত বৎসর, এত শত সহস্র বৎসর বলে গণনা করা সহজ নয়।
ভিক্ষু- ভদন্ত, উপমা দেওয়া সম্ভব কি?
ভগবান- হ্যাঁ, সম্ভব। ধর, দৈর্ঘ্যে এক যোজন প্রস্থে এক যোজন উচ্চতায় এক যোজন একটি সর্ষপপূর্ণ লৌহনগর, তা থেকে যদি কোন ব্যক্তি শত বর্ষান্তর একটি সর্ষ তুলে নেয়, তাহলে সে সর্ষপরাশি এতে শীঘ্রতর ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু কল্প ফুরাবে না- কল্প এত দীর্ঘ। এমন দীর্ঘ কল্প সমূহের এক কল্প সংসরণ করা হয়নি, একশত কল্প সংসরণ করা হয়নি, এক সহস্র কল্প সংসরণ করা হয়নি, একশত সহস্র কল্প সংসরণ করা হয়নি (অর্থাৎ অনন্ত কল্প সংসরণ করা হয়েছে।) তার কারণ, এ সংসারের আদি জানা যায় না। অবিদ্যাচ্ছন্ন তৃষ্ণা পাশবদ্ধ ধাবমান সংসরণ সত্ত্বগণের পূর্বান্ত দেখা যায় না। এভাবে সুদীর্ঘকাল তীব্র দুঃখ ও ঘোর ধ্বংসলীলা তোমরা অনুভব করেছ এবং শ্মশান বর্ধিত করেছ। তাই সর্বসংস্কারের প্রতি সৃষ্টির প্রতি নির্বিন্ন হওয়া উচিত বীতস্পৃহ হওয়া উচিত এবং বিমুক্ত হওয়া উচিত।
📌এক যোজন সমান ৮ মাইল।
আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে কিছু নোট ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যা এমন ব্যাখ্যা ত্রিপিটক না পড়লে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
সম্পূর্ণ নির্ভুল ও বিশুদ্ধ ধর্মপ্রচারের জন্য ত্রিপিটকের বাংলা খন্ডগুলোর সহায়তা নেয়া হয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে চলবে.......
#সহায়ক গ্রন্থ 👉১। শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)
২। সংযুক্ত নিকায় (১ম খন্ড ও ২য় খন্ড)
অনুবাদক-শীলানন্দ ব্রহ্মচারী
(ধর্মধার বৌদ্ধ গ্রন্থ প্রকাশনী।। কলিকাতা।।
____________________________
👉পর্ববর্তী পোস্ট "অবীচি মহানিরয়"।
ভগবান বলেছেন -" ৮৪ হাজার চৈত্য নির্মাণ করে যে পূণ্যের ফল পাওয়া যায় তা একবার কঠিন চীবর দান করলে তার ১৬ ভাগের ১ ভাগ পূণ্য হয় না। অন্যদিকে জীবন দান এর চেয়ে কম নয়। কিন্তু ধর্মদান সকল দানকে অতিক্রম করে।
ভগবান মায়ের মাত্র সাত দিন দুধ পান করার পর মাতা মহামায়া পরলোক গমন করলে তাবতিংস স্বর্গে উৎপন্ন হলে তথায় ভগবান বুদ্ধ অর্থাৎ তাবতিংস স্বর্গে গিয়ে ধর্মদেশনা করে তাঁর মাকে(মহামায়াদেবী) স্রোতাপত্তি ফলে উন্নীত করে মায়ের সাত দিনের দুধ পানের ঋণ পরিশোধ করেন।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন ধর্মদান কেমন মহান।
👍প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।
পোস্ট শেয়ার করে অন্যকে ধর্মদানের অশেষ পূণ্য অর্জন করুন।
_____________________________
সকলের ধর্মজ্ঞান সমৃদ্ধি হোক
সকল প্রাণী সুখী হোক
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏