বুদ্ধ ও বুদ্ধের দেশনা

বুদ্ধ ও বুদ্ধের দেশনা "সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্ত"অর্থাৎ, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকউস্সদ নিরয়ঃঅঙ্গারকাসু উস্সদ নিরয়ঃ​৪। অঙ্গারকাসু উস্সদ নিরয় :​যারা ‘বিহার করব; সেতু দান করব; ধর্ম পূজ...
08/04/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
উস্সদ নিরয়ঃ
অঙ্গারকাসু উস্সদ নিরয়ঃ
​৪। অঙ্গারকাসু উস্সদ নিরয় :
​যারা ‘বিহার করব; সেতু দান করব; ধর্ম পূজা করব’ এই প্রকার বিবিধ ছলনা করে চাঁদা সংগ্রহপূর্বক আত্মসাৎ করে— তারা এই নিরয়ে পতিত হয়। যেমন গোপালকগণ গোয়ালে অপ্রবিষ্ট গরুকে ঘিরে ধরে গোয়ালে প্রবেশ করায়, তেমনি নিরয়পালগণ পাপীদেরকে পরিবেষ্টন করে প্রজ্জ্বলিত অস্ত্র দ্বারা কুটিতে কুটিতে লাল অঙ্গার গর্তে ফেলে দেয়। যখন সেই লাল অঙ্গারে কোমর পর্যন্ত প্রবেশ করে, তখন পাপীদের মাথায় বৃহৎ অঙ্গারপূর্ণ লৌহপাত্র ঢালতে আরম্ভ করে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....

#সহায়কগ্রন্থ👉শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)

👉পরবর্তী পোস্টঃ লোহকুম্ভী উস্সদ নিরয়।

___________________________

👉ত্রিপিটকের প্রতিদিন পোস্ট পেতে ফলো👍 করে সঙ্গে থাকুন।

পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে অন্যকে ধর্মদান করুন।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকউস্সদ নিরয়ঃ৩। সজোতি উস্সদ নিরয়ঃএটিও সঞ্জীব মহানিরয়ের ১৬ টি উস্সদ নিরয়ের একটি। ​শীলাচারসম্পন্ন নিরপরা...
01/04/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
উস্সদ নিরয়ঃ
৩। সজোতি উস্সদ নিরয়ঃ
এটিও সঞ্জীব মহানিরয়ের ১৬ টি উস্সদ নিরয়ের একটি।
​শীলাচারসম্পন্ন নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে যারা বাক্যবাণে পীড়া প্রদান করে অর্থাৎ নির্দোষীদেরকে অন্যায় মতে বড় কথা বলে, দণ্ড দ্বারা আঘাত করে, বধ-বন্ধন করে, তারা এই নিরয়ে পতিত হয়। এই নিরয় অবিরাম ধু-ধু করে জ্বলতে থাকে। এই নরকে পতিত নারকীগণ নিরয়পালদের তীব্র তাড়নায় ঐ প্রজ্জ্বলিত ভূমির উপর দিয়ে ইতস্তত চলাফেরা করতে হয়। এদিকে নিরয় পালগণ পশ্চাৎ অনুধাবন করে তালবৃক্ষ প্রমাণ প্রজ্জ্বলিত লৌহমুদ্গর দ্বারা তাদের পায়ের থোড়ে প্রহার করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং লৌহমুদ্গর দ্বারা পিটাতে থাকে। সেই প্রহারে পাপীরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। আবার সেই শরীর প্রাদুর্ভূত হয়, আবার সেই উৎপীড়ন। মৃত্যু নাই, পাপ কর্মের বিপাক অনুসারে দুঃখ ভোগ করতে থাকে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....

👉পরবর্তী পোস্টঃ অঙ্গারকাসু উস্সদ নিরয়।
#সহায়কগ্রন্থ👉শীল কী ও তার মাহাত্ম্য(শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)
___________________________

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍 ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে অন্যকে ধর্ম দানের হেতু উৎপন্ন করুন।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏
সহায়ক

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকউস্সদ নিরয় বা উপনরকঃ২। পচ্চনসুনখ উস্সদ নিরয়ঃএটি সঞ্জীব মহানিরয়ের একটি  উস্সদ নিরয়।​এ জগতে যারা শ্রম...
01/04/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
উস্সদ নিরয় বা উপনরকঃ
২। পচ্চনসুনখ উস্সদ নিরয়ঃ
এটি সঞ্জীব মহানিরয়ের একটি উস্সদ নিরয়।
​এ জগতে যারা শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, সাধু-সজ্জনকে আক্রোশ করে, গালাগালি করে; কৃপণ ও দান নিবারক— তারা এই নিরয়ে পতিত হয়। সেখানে পঞ্চবর্ণ মহাহস্তী প্রমাণ বৃহৎ এক জাতীয় প্রচণ্ড কুকুর আছে, শকট প্রমাণ বৃহৎ শকুন ও কাক আছে— তাহারা নারকীদেরকে ধরে ধরে খেতে থাকে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে....

#সহায়কগ্রন্থ👉 শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)

👉পরবর্তী পোস্টঃ সজোতি উস্সদ নিরয়।

___________________________

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

👉পোস্ট শেয়ার করে অন্যকে ধর্মদানের হেতু উৎপন্ন করুন।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকউস্সদ নিরয়ঃসঞ্জীব মহনিরয়ের উস্সদ নিরয়সমূহঃ১। বৈতরণী উস্সদ নিরয়ঃ​এই ‘বৈতরণী’ নদী প্রাকৃতিক, প্রাণীগণে...
31/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
উস্সদ নিরয়ঃ
সঞ্জীব মহনিরয়ের উস্সদ নিরয়সমূহঃ

১। বৈতরণী উস্সদ নিরয়ঃ

​এই ‘বৈতরণী’ নদী প্রাকৃতিক, প্রাণীগণের পাপ কর্ম প্রভাবে নিরয়সমূহ গঠিত হয়ে থাকে। এই জগতে যারা গায়ের জোর দেখায়, বাক্যের গরিমা দেখায়, যে বলবান ব্যক্তি দুর্বল ব্যক্তিকে হিংসা করে, রোষ করে, প্রাণীদেরকে বধ-বন্ধন করে, পরদ্রব্য চুরি ডাকাতি করে, সেই পাপীরাই বৈতরণী নদীতে উৎপন্ন হয়। সেখানে নিরয়পালগণ প্রজ্জ্বলিত অসি শেল প্রভৃতি অস্ত্র দ্বারা পাপীদেরকে বিদ্ধ করে ও পীড়া প্রদান করে, তারা দুঃখ সহ্য করতে না পেরে কন্টকাচ্ছন্ন নদীতে পতিত হয়, সেখানে বহু শত সহস্র প্রজ্জ্বলিত তীক্ষ্ণ ক্ষুরধারায় পড়ে খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়, পুনঃ নদীতলে তালবৃক্ষ প্রমাণ যে লৌহশূল আছে, তাতে মৎস্যের ন্যায় বিদ্ধ হয়ে দুঃখ ভোগ করতে থাকে। সেই প্রজ্জ্বলিত শূলের সঙ্গে নারকীয়রা জ্বলতে থাকে। পুনঃ সেই শূল হতে গলে সুতীক্ষ্ণ লৌহপদ্ম পত্রে পতিত হয়ে বহুকাল ছেদন-ভেদন জনিত দুঃখ ভোগ করতে থাকে। সেখান হতে তপ্ত ক্ষার জলে পড়ে জলসহ জ্বলতে থাকে ও ধুম বের হতে থাকে। আবার নদীর নিম্নতলে সুতীক্ষ্ণ ক্ষুরধারায় পড়ে মহানাদে চীৎকার করতে থাকে, এই
প্রকারে একবার জোয়ারে, একবার ভাঁটায় ভেসে ভেসে চিরদিন অনন্ত দুঃখ ভোগ করে থাকে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....

#সহায়কগ্রন্থ👉 শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)
___________________________
👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

👉পরবর্তী পোস্টে "পঞ্চনসুনখ উস্সদ নিরয়" বর্ণনা করা হবে।

সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু
🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক✍️উস্সদ নিরয় বর্ণনা :ত্রিপিটক অনুসারে, প্রতিটি মহানিরয়ে ১৬টি করে ‘উস্সদ নিরয়’ (উপ-নরক) আছে।​বৌদ্ধ বি...
30/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
✍️উস্সদ নিরয় বর্ণনা :
ত্রিপিটক অনুসারে, প্রতিটি মহানিরয়ে ১৬টি করে ‘উস্সদ নিরয়’ (উপ-নরক) আছে।
​বৌদ্ধ বিশ্বতত্ত্ব এবং ত্রিপিটকের বর্ণনা (বিশেষ করে মঝ্ঝিম নিকায়ের ‘দেবদূত সূত্র’ এবং অন্যান্য অভিধর্ম গ্রন্থে) অনুযায়ী এর নিখুঁত বিন্যাসটি নিচে তুলে ধরা হলো:
✍️​মহানিরয়ের সংখ্যা: মোট মহানিরয় (প্রধান নরক) আছে ৮টি। (যেমন: সঞ্জীব, কালসূত্র, সঙ্ঘাত, রৌরুব, মহারৌরুব, তাপন, মহাতাপন এবং অবীচি)।
👉​দ্বার বা প্রবেশপথ:
প্রতিটি মহানিরয়ের চারদিকে ৪টি দ্বার বা দরজা রয়েছে।
👉​উস্সদ নিরয়ের অবস্থান:
প্রতিটি দ্বারের ঠিক বাইরে ৪টি করে উস্সদ নিরয় বা উপ-নরক অবস্থিত। সাধারণত এগুলো হলো— গূথ (বিষ্ঠা নরক), কুক্কুল (তুষানল নরক), অসিপত্রবন (তলোয়ারের মতো তীক্ষ্ণ পাতাযুক্ত বন) এবং বৈতরণী (তপ্ত ক্ষারজলের নদী)।
📟 ​হিসাব:
প্রতিটি মহানিরয়ের ৪টি দ্বার × প্রতিটি দ্বারে ৪টি উস্সদ নিরয় = ১৬টি।
​যেহেতু মোট মহানিরয় ৮টি, তাই ৮টি মহানিরয়ের প্রতিটিতে ১৬টি করে সর্বমোট (৮ × ১৬) =১২৮টি উস্সদ নিরয় রয়েছে।
​‘উস্সদ’ নিরয়ের দীর্ঘ প্রস্থের কোন প্রমাণ নাই। এখানে প্রথম মহানিরয় ‘সঞ্জীব’ নিরয়ের চারপার্শ্বে যে ১৬টি ‘উস্সদ’ নিরয় আছে, তার বর্ণনা করা হলো। অবশিষ্ট সপ্ত মহানিরয় বেষ্টিত ১১২টি ‘উস্সদ’ নিরয়ে পাপের তারতম্য অনুসারে পাপীদের সেখানে জন্ম হয়ে থাকে। যার পাপ যতই গুরুতর, তাকে ততই নিম্নতর নিরয়ে গমন করতে হয়।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....

__________________________
👉পরবর্তী পোস্টঃ কিছু উস্সদ নিরয়ের বর্ণনা।

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে অন্যকে ধর্ম দানের হেতু উৎপন্ন করুন।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক👉তিন কল্পঃ একটি মহাকল্পের অন্তর্গত অবরোহী অন্তরকল্পের একেবারে শেষ পর্যায়ে মানুষের আয়ু যখন কমতে কমতে ...
29/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
👉তিন কল্পঃ
একটি মহাকল্পের অন্তর্গত অবরোহী অন্তরকল্পের একেবারে শেষ পর্যায়ে মানুষের আয়ু যখন কমতে কমতে মাত্র ১০ বছরে এসে পৌঁছায়, তখন মানবজাতির চরম নৈতিক অবক্ষয় ঘটে।
​বৌদ্ধ দর্শন অনুযায়ী, মানুষের প্রধান তিনটি অকুশল মূল বা খারাপ প্রবৃত্তির (লোভ, দ্বেষ ও মোহ) আধিক্যের ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের ভয়ানক দুর্যোগের মাধ্যমে মানবজাতির ব্যাপক ক্ষয় বা বিনাশ ঘটে।
ত্রিপিটকের আলোকে এই তিন অন্তরকল্পের নির্ভুল বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
✍️​১. শস্ত্রান্তরকল্প (Satthantarakappa - অস্ত্রের মাধ্যমে বিনাশ):

👉​মূল কারণ: মানুষের মধ্যে যখন 'দ্বেষ' (ক্রোধ, হিংসা বা আক্রোশ)-এর চরম আধিক্য ঘটে।

🔴​বিবরণ:
ত্রিপিটকের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সময়ে মানুষের মনে একে অপরের প্রতি 'মৃগসংজ্ঞা' (পশুর মতো দেখার দৃষ্টিভঙ্গি) উৎপন্ন হয়। তাদের মধ্যে কোনো দয়া বা সম্পর্কবোধ থাকে না। মানুষ একে অপরকে বন্য প্রাণী মনে করে। হাতে যা কিছু ওঠে (এমনকি ঘাস, খড় বা লাঠি), তা-ই তীক্ষ্ণ অস্ত্রে পরিণত হয় এবং তারা একে অপরকে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে।

⏰​স্থায়িত্ব: এই ধ্বংসলীলা টানা ৭ দিন ধরে চলে।

✍️​২. রোগান্তরকল্প (Rogantarakappa - ব্যাধি বা মহামারীর মাধ্যমে বিনাশ)ঃ

👉​মূল কারণ:
মানুষের মধ্যে যখন 'মোহ' (অজ্ঞানতা বা অন্ধবিশ্বাস)-এর আধিক্য ঘটে।

🔴​বিবরণ:
মানুষের অকুশল কর্ম এবং প্রকৃতির প্রতি বিরূপ আচরণের কারণে এই সময়ে পৃথিবীতে ভয়ানক সব সংক্রামক ব্যাধি, অজানা রোগ ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটে। মানুষ শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসার অভাবে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

⏰​স্থায়িত্ব:
এই মহামারী সাধারণত ৭ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

✍️​৩. দুর্ভিক্ষান্তরকল্প (Dubbhikkhantarakappa - দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে বিনাশ)ঃ

👉​মূল কারণ:
মানুষের মধ্যে যখন চরম 'লোভ' বা লালসার আধিক্য ঘটে।

🔴​বিবরণ:
প্রবল লোভ ও অধর্মের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম বিঘ্নিত হয় এবং বৃষ্টিপাত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ভয়াবহ খরা ও অনাবৃষ্টির ফলে পৃথিবীতে কোনো ফসল বা শস্য উৎপাদিত হয় না। চরম খাদ্যাভাবে মানুষ কঙ্কালসার হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়।

⏰​স্থায়িত্ব:
এই দুর্ভিক্ষ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা টানা ৭ বছর, ৭ মাস এবং ৭ দিন চলতে থাকে।

✍️​অবশিষ্ট মানুষের পুনরুত্থান:
চক্কবত্তী সীহনাদ সুত্ত অনুযায়ী, এই মহাবিনাশের সময় হাতেগোনা কিছু মানুষ যারা একে অপরকে হত্যা করতে চায় না, তারা গভীর জঙ্গলে, গুহায় বা পাহাড়ে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করে এবং বন্য ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকে। ৭ দিনের শস্ত্রান্তরকল্প শেষ হলে তারা গুহা থেকে বেরিয়ে আসে। তখন একে অপরকে জীবিত দেখে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হয় এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করে। তারা উপলব্ধি করে যে অকুশল কর্মের জন্যই তাদের এই দশা হয়েছে। এরপর তারা পুনরায় কুশল কর্ম (যেমন: প্রাণ হত্যা থেকে বিরত থাকা) শুরু করে এবং ধীরে ধীরে মানুষের আয়ু ও পৃথিবীর অবস্থা আবার উন্নত হতে থাকে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....
____________________________

👉পরবর্তী পোস্ট "উসসদ নিরয়"।

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍 ফলো করে সঙ্গে থাকুন ।

পোস্ট শেয়ার করে অন্যকে ধর্ম দান করে মহান পূণ্যের অংশীদার হোন।

সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক মহানিরয়ঃ৮.অবীচি মহানিরয়ঃ​মহাতাপন নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে শিলা পৃথিবীতে এই মহানিরয় 'অবীচি...
28/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
মহানিরয়ঃ

৮.অবীচি মহানিরয়ঃ
​মহাতাপন নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে শিলা পৃথিবীতে এই মহানিরয় 'অবীচি' প্রতিষ্ঠিত। এটাই শেষ নিরয়। অবিরামভাবে পাপীদের দুঃখ ভোগ করতে হয় বলে এর নাম অবীচি। এই নিরয়ই সর্বাপেক্ষা কষ্টদায়ক। পাপীরা অগ্নিতাপ সহ্য করতে না পেরে যখন এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে তখন শত শত শেল চারদিক ও ঊর্ধ্ব-অধঃদিক হতে সজোরে এসে শরীর ভেদ করে ফেলে। এতে পাপীরা অশেষ যন্ত্রণা পেয়ে থাকে। অন্যান্য নিরয়ের মধ্যে যত প্রকার ভীষণ যন্ত্রণা আছে, সমস্তই এই নিরয়ে ভুগতে হয়।

👉​এই নিরয়ের আয়ু প্রমাণঃ
অষ্টম মহানিরয় "অবীচি" নিরয়বাসীর আয়ু এক অন্তর কল্প পরিমাণ।

📌(আগের পোস্টে অন্তরকল্পের পরিবর্তে কল্পের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। কল্প অন্তরকল্প থেকে অনেক দীর্ঘ এবং বড়। এক অন্তরকল্প সমান কত সময় তা নিচে নোটে দেখুন।)

👉​এই নিরয়ে উৎপন্ন হওয়ার কারণঃ
যারা মাতা-পিতা হত্যা করে, বুদ্ধের চরণে আঘাত করে রক্তপাত করে, সঙ্ঘভেদ করে, বোধিবৃক্ষ ধ্বংস করে, বুদ্ধ মূর্তি নষ্ট করে, সাধু সজ্জনের অপবাদ করে, নিয়ত মিথ্যাদৃষ্টি রূপে অবস্থান করে তারাই এই মহানিরয়ে ভীষণ দুঃখ ভোগ করে থাকে। দেবদত্ত বুদ্ধের পায়ের আঙ্গুল হতে রক্তপাত করাতে অবিচলভাবে অদ্যাবধি এই নিরয়ে দগ্ধ হচ্ছে। দেবদত্ত যখন অবীচি মহানরকে পতিত হয়, তখন তার জানু পর্যন্ত প্রজ্জ্বলিত লৌহময় ভূমিতে নিমগ্ন হয়েছিল। হস্তদ্বয়ের কনুই পর্যন্ত উভয় পার্শ্বের অগ্নিময় প্রাচীরে প্রবিষ্ট হয়েছিল এবং চোখের উপরিভাগস্থ মস্তক প্রজ্জ্বলিত লৌহ-ছাদে প্রবিষ্ট হয়েছিল। ভূমিতল হতে তালবৃক্ষ প্রমাণ এক জ্বলন্ত লৌহশূল উত্থিত হয়ে গুহ্যদেশে প্রবেশান্তর মস্তক ভেদ করে উপরিছাদে প্রবেশ করেছিল। এইরূপ পশ্চিম প্রাচীর হতে লৌহশূল নির্গত হয়ে বক্ষস্থল ভেদ করে পূর্ব প্রাচীরে, উত্তর প্রাচীর হতে লৌহশূল নির্গত হয়ে পার্শ্বদেশ ভেদ করে দক্ষিণ প্রাচীরে প্রবিষ্ট হয়েছিল। "নিশ্চল তথাগত বুদ্ধের" প্রতি অপরাধকারীগণ এরূপ নিশ্চলভাবে নিরন্তর অবীচি মহানিরয়ে দীর্ঘকাল পক্ক হতে থাকে বলে ইহার নাম "অবীচি মহানরক"। দীর্ঘ প্রস্থ শত যোজন বিস্তৃত মহানিরয়ের লৌহময় ভূমিভাগে এমন একটুও খালি স্থান নাই যে-যেখানে নারকীয় প্রাণীগণ দুঃখ ভোগ করছে না। সেই বিস্তীর্ণ ভূমিভাগে নারকীয় প্রাণীতে পরিপূর্ণ। এইজন্যও ইহাকে "অবীচি নরক" বলে।

মহানিরয় পর্ব সমাপ্ত।

📌নোটঃ
এক অন্তরকল্প সমান কত সময়ঃ

মানুষের আয়ু যখন সর্বোচ্চ অসংখ্য বছর (অসংখ্যেয়) থেকে কমতে কমতে ১০ বছরে নেমে আসে এবং পুনরায় ১০ বছর থেকে বাড়তে বাড়তে অসংখ্য বছরে গিয়ে পৌঁছায়, এই সম্পূর্ণ এক চক্র বা কালচক্রকে এক অন্তরকল্প বলা হয়।
​গাণিতিক হিসেবে এটি নির্দিষ্ট কোনো বছরে সীমাবদ্ধ করা কঠিন, কারণ বৌদ্ধ শাস্ত্রে একে উপমার সাহায্যে বোঝানো হয়েছে।
যখন মানুষ পাপ কর্মে লিপ্ত হয় তখন প্রজন্ম হারে দ্বিগুণ আয়ু কমতে থাকে। অর্থাৎ যে প্রজন্মে একজনের আয়ু ৮০ হাজার বৎসর হলে তার ছেলের আয়ু কমে ৪০ হাজার হবে। এবং তার পরের প্রজন্ম ২০ হাজার এবং তার পরের প্রজন্ম ১০ হাজার এভাবে কমতে থাকে। এভাবে কমতে কমতে ১০ বছরে আসবে। তখন ৫ বছরে বিয়ের বয়স হবে। এবং মানুষের আয়ু ১০ বছরে নামলে তখন লবণ,ঘি,মধু ইত্যাদির স্বাদ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হবে। অর্থাৎ তখন আর এসবের কোন স্বাদ থাকবে না।
(বাংলা ত্রিপিটক, সূত্র পিটকের দীর্ঘ নিকায় ৩য় খন্ডে "চক্কবত্তী-সীহনাদ সূত্রান্ত" পৃষ্ঠা নং ৪৭ দ্রষ্টব্য)
এরপর মানুষ তিনটি কল্পের মাধ্যমে ক্ষয় হবে। তখন অল্প সংখ্যক মানুষ বাঁচবে যারা সভ্যতার বাহিরে আত্মগোপণ করে ফলমূল খেয়ে ৭ দিন পরে লোকালয়ে ফিরবে তখন মানুষের মনে মৈত্রী জাগবে। তখন মানুষেরা বলবে তারা কেউ কাউকে মারবে না। চুরি করবে না,ব্যাভিচার করবে না,মিথ্যা বলবে না,বিভেদ সৃষ্টিকারী বাক্য বলবে না ইত্যাদি। তখন তাদের প্রজন্মভেদে আবার দ্বিগুণ করে আয়ু বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ যাদের ১০ বছর আয়ু তাদের ছেলেদের আয়ু ২০ বছর এবং তার পরের প্রজন্মের ছেলেদের আয়ু ৪০ বছর এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের আয়ু ৮০বছর হবে। এভাবে বাড়তে বাড়তে ৮০ থেকে ১৬০; ১৬০ থেকে ৩২০;৩২০ থেকে ৬৪০; এভাবে ১ অসংখ্য বছর আয়ু প্রাপ্ত হবে।
এভাবে একবার ১০ থেকে ১ অসংখ্য আবার ১ অসংখ্য থেকে পুনরায় ১০ বছরে ফিরে আসতে যে সময় তা হল এক অন্তর কল্প।
তবে সহজ কথায়:
​হ্রাসকালঃ অসংখ্য বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত।
​বৃদ্ধি কালঃ ১০ বছর থেকে পুনরায় অসংখ্য বছর পর্যন্ত।
এই দুইয়ের সমষ্টিই হলো এক অন্তরকল্প।
📌নোটঃ
এক অসংখ্য সমান কত?
১ এর সাথে বা পিছনে বা পরে ১৪০ টা শূন্য বসালে যে সংখ্যাটি হবে তাই এক অসংখ্য বলা হয়। ১লিখে ১৪০ টা শূন্য বসালে সংখ্যাটি ১৪১ ডিজিট বা অংক হবে। ১ লিখে সাত শূন্য বসালে ১কোটি হয়। তাহলে ১ লিখে ১৪০ টা শূন্য বসালে গুণতে কষ্ট হবে তাই না? এটাই এক অসংখ্য বলা হয়।

📌নোটঃ
মানুষের আয়ু ১০ বছরে পৌঁছালে যে তিন কল্পে মানুষ ক্ষয় হবে। তা হল-
১. সত্থান্তর-কল্প (অস্ত্র-ক্ষয় বা যুদ্ধ)
২. রোগান্তর-কল্প (রোগ-ক্ষয় বা মহামারি)
৩.দুব্ভিক্খান্তর-কল্প (দুর্ভিক্ষ-ক্ষয়)

👉পরবর্তী পোস্টে এ তিনটি কল্পের বর্ণনা থাকবে। এবং উসসদ নিরয় সম্পর্কে বর্ণনা তুলে ধরা হবে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.......
#সহায়ক গ্রন্থ 👉 ১। শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)
২। দীর্ঘ নিকায় তৃতীয় খন্ড (সূত্র পিটক)

____________________________

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।
পোস্ট শেয়ার করে ধর্মদানের মহান পূণ্য অর্জন করুন।
মনে রাখবেন, বুদ্ধের ভাষায়," ধর্মদান সকল দানকে অতিক্রম করে। "

সকলের ধর্মজ্ঞান সমৃদ্ধি হোক।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকমহানিরয়ঃ৭.মহাতাপন মহানিরয়ঃ​তাপন নিরয় হতে পনের যোজন নিম্নে মহাতাপন নিরয়। তাপন নিরয়ের উত্তাপ হতে এই নি...
27/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
মহানিরয়ঃ
৭.মহাতাপন মহানিরয়ঃ

​তাপন নিরয় হতে পনের যোজন নিম্নে মহাতাপন নিরয়। তাপন নিরয়ের উত্তাপ হতে এই নিরয়ের উত্তাপ অতিশয় প্রখর বিধায় মহাতাপন নামে বর্ণিত হয়েছে। এই নিরয়ের প্রজ্জ্বলমান লৌহময় পর্বত-শ্রেণী হতে পাপীগণ অধঃশিরে নিম্নদিকে পড়তে থাকে। পর্বতের পাদদেশে উত্তপ্ত সুতীক্ষ্ণ বক্রমুখ লৌহশলা পোতা আছে। পাপীরা সেখানে পড়ে বিদ্ধ হতে থাকে। তৎপর লৌহ কন্টকপূর্ণ একটা জঙ্গলময় স্থানে পাপীদেরকে তাড়িয়ে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে প্রবিষ্ট পাপীরা এমনভাবে কন্টকবিদ্ধ হয় যে কারো আঁতুড়ি, কারো চক্ষু বের হয়ে যায়। সেখান হতে এনে প্রজ্জ্বলিত পর্বতে তুলে দেওয়া হয়। সেখানকার বিষাক্ত বাতাসে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

👉​এই নিরয়ের আয়ু প্রমাণঃ
সপ্তম মহানিরয় “তাপন” নিরয়বাসীর আয়ু এক অন্তর কল্পের অর্দ্ধভাগ।

📌(এক কল্প সমান কত সময় তা নিচে উল্লেখিত নোটে দেখুন)

👉এই নিরয়ে উৎপন্ন হওয়ার কারণঃ
যারা ত্রিরত্নের প্রতি অভক্তি প্রদর্শন করে, মিথ্যাদৃষ্টি পূজা করে, পরকাল, পুনর্জন্ম বিশ্বাস করেনা, উচ্ছেদবাদী, স্বর্গ-নরক আছে বলে বিশ্বাস করে না, কর্ম-কর্মফলকে প্রত্যয় করে না ও নিজের পাপদৃষ্টি অবলম্বন করার নিমিত্ত অপরকে উৎসাহিত করে, তারা এই নিরয়ে ভীষণ দুর্গতি ভোগ করে থাকে।
বর্ণনা অনুসারে উপযুক্ত একটি ছবি বানাও। ছবিতে কোন লেখা যেন না থাকে।

📌নোটঃ
এক কল্প সমান কত সময়ঃ
আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে সংযুক্ত নিকায়ের ২য় খন্ডের "অনমতগ্গ সংযুক্ত" অংশের প্রথম বর্গের "সর্ষপ" সূত্রের বাংলা অনুবাদ দেয়া হলো।
(তথ্যসূত্রঃ সংযুক্ত নিকায় ২য় খন্ড পৃষ্ঠা নং ৩৪২ "সর্ষপ সূত্র" দ্রষ্টব্য)

৬. সর্ষপ সূত্র
​শ্রাবস্তী-
জনৈক ভিক্ষু- ভগবানের নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে অভিবাদন করে জিজ্ঞেস করলেন- ভদন্ত, কল্প কত দীর্ঘ?
ভগবান- হে ভিক্ষু, কল্প কত দীর্ঘ তা এক বৎসর, এত শত বৎসর, এত শত সহস্র বৎসর বলে গণনা করা সহজ নয়।
ভিক্ষু- ভদন্ত, উপমা দেওয়া সম্ভব কি?
ভগবান- হ্যাঁ, সম্ভব। ধর, দৈর্ঘ্যে এক যোজন প্রস্থে এক যোজন উচ্চতায় এক যোজন একটি সর্ষপপূর্ণ লৌহনগর, তা থেকে যদি কোন ব্যক্তি শত বর্ষান্তর একটি সর্ষ তুলে নেয়, তাহলে সে সর্ষপরাশি এতে শীঘ্রতর ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু কল্প ফুরাবে না- কল্প এত দীর্ঘ। এমন দীর্ঘ কল্প সমূহের এক কল্প সংসরণ করা হয়নি, একশত কল্প সংসরণ করা হয়নি, এক সহস্র কল্প সংসরণ করা হয়নি, একশত সহস্র কল্প সংসরণ করা হয়নি (অর্থাৎ অনন্ত কল্প সংসরণ করা হয়েছে।) তার কারণ, এ সংসারের আদি জানা যায় না। অবিদ্যাচ্ছন্ন তৃষ্ণা পাশবদ্ধ ধাবমান সংসরণ সত্ত্বগণের পূর্বান্ত দেখা যায় না। এভাবে সুদীর্ঘকাল তীব্র দুঃখ ও ঘোর ধ্বংসলীলা তোমরা অনুভব করেছ এবং শ্মশান বর্ধিত করেছ। তাই সর্বসংস্কারের প্রতি সৃষ্টির প্রতি নির্বিন্ন হওয়া উচিত বীতস্পৃহ হওয়া উচিত এবং বিমুক্ত হওয়া উচিত।

📌এক যোজন সমান ৮ মাইল।

আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে কিছু নোট ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যা এমন ব্যাখ্যা ত্রিপিটক না পড়লে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।

সম্পূর্ণ নির্ভুল ও বিশুদ্ধ ধর্মপ্রচারের জন্য ত্রিপিটকের বাংলা খন্ডগুলোর সহায়তা নেয়া হয়েছে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.......

#সহায়ক গ্রন্থ 👉১। শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)
২। সংযুক্ত নিকায় (১ম খন্ড ও ২য় খন্ড)
অনুবাদক-শীলানন্দ ব্রহ্মচারী
(ধর্মধার বৌদ্ধ গ্রন্থ প্রকাশনী।। কলিকাতা।।
____________________________

👉পর্ববর্তী পোস্ট "অবীচি মহানিরয়"।

ভগবান বলেছেন -" ৮৪ হাজার চৈত্য নির্মাণ করে যে পূণ্যের ফল পাওয়া যায় তা একবার কঠিন চীবর দান করলে তার ১৬ ভাগের ১ ভাগ পূণ্য হয় না। অন্যদিকে জীবন দান এর চেয়ে কম নয়। কিন্তু ধর্মদান সকল দানকে অতিক্রম করে।
ভগবান মায়ের মাত্র সাত দিন দুধ পান করার পর মাতা মহামায়া পরলোক গমন করলে তাবতিংস স্বর্গে উৎপন্ন হলে তথায় ভগবান বুদ্ধ অর্থাৎ তাবতিংস স্বর্গে গিয়ে ধর্মদেশনা করে তাঁর মাকে(মহামায়াদেবী) স্রোতাপত্তি ফলে উন্নীত করে মায়ের সাত দিনের দুধ পানের ঋণ পরিশোধ করেন।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন ধর্মদান কেমন মহান।

👍প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।
পোস্ট শেয়ার করে অন্যকে ধর্মদানের অশেষ পূণ্য অর্জন করুন।
_____________________________

সকলের ধর্মজ্ঞান সমৃদ্ধি হোক

সকল প্রাণী সুখী হোক
সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকমহানিরয়ঃ৬. তাপন মহানিরয়ঃ​মহারোরুব নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে তাপন নিরয়। এই নিরয়ের উত্তাপ এত অধি...
27/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক
মহানিরয়ঃ
৬. তাপন মহানিরয়ঃ

​মহারোরুব নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে তাপন নিরয়। এই নিরয়ের উত্তাপ এত অধিক যে পাপীরা এপাশ ওপাশ আর ফিরতে পারে না। অগ্নি সন্তাপে স্থিরভাবে দগ্ধ হয়ে থাকে। পাপীদের বক্ষ তালবৃক্ষ প্রমাণ লৌহ শলাকা দ্বারা বিদ্ধ করে ও পদদ্বয় লৌহ ফলকে লাগিয়ে সজোরে প্রহার করতে থাকে।

👉​এই নিরয়ের আয়ু প্রমাণঃ
ষষ্ঠ দেবলোক “পরনির্মিতবসবর্ত্তি” দেবগণের আয়ু মনুষ্য গণনায় ৯ শত ২১ হাজার কোটি ৬০ লক্ষ বৎসর। এই ৯ শত ২১ হাজার কোটি ৬০ লক্ষ বৎসরে ষষ্ঠ মহানিরয় “তাপন” নিরয়ের এক রাত্রি দিন। সেই রাত্রি দিন মাস বৎসরে “তাপন” নিরয়বাসীর ষোল হাজার বৎসর আয়ু।

👉​এই নিরয়ে উৎপন্ন হওয়ার কারণঃ
যারা গরু, ছাগল, শুকর, মুরগী বধ করে; কোঁচ, বন্দুক, জাল, ডুগ, চাই প্রভৃতি বিক্রি করে; স্থলজ জলজ প্রাণীর ব্যবসা করে, বিবিধ অস্ত্র, বিষ প্রভৃতির বাণিজ্য করে; প্রাণীবধের বিবিধ কৌশল উদ্ভাবন করে- তারা এই নিরয়ে কষ্ট ভোগ করে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে......

#সহায়ক গ্রন্থ👉 শীল কী ও তার মাহাত্ম্য(শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)

____________________________

📌পরবর্তী পোস্ট "মহাতাপন মহানিরয়" এর বিশদ বর্ণনা তুলে ধরা হবে।

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍 ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

সকলের ধর্মজ্ঞান সমৃদ্ধি হোক।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোকমহানিরয়ঃ৫. মহারোরুব মহানিরয়ঃরোরুব নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে মহারোরুব নিরয়। রোরুব হতে এই নির...
26/03/2026

পর্বঃ নিরয় বা নরকলোক

মহানিরয়ঃ
৫. মহারোরুব মহানিরয়ঃ

রোরুব নিরয় হতে পনের হাজার যোজন নিম্নে মহারোরুব নিরয়। রোরুব হতে এই নিরয় অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক, এখানে ধূম(ধোঁয়া) নেই। কেবল অগ্নি সন্তাপে পাপীরা পুড়ে পিণ্ডাকৃতি প্রাপ্ত হয়। উঠতে বসতে পারে না। অগ্নিশিখায় সমস্ত নিরয় পরিব্যাপ্ত থাকে।

👉​এই নিরয়ের আয়ু প্রমাণঃ
পঞ্চম দেবলোক “নিৰ্ম্মাণরতি” দেবগণের আয়ু মনুষ্যগণনায় ২৩০ কোটি ৪০ লক্ষ বৎসর। এই ২৩০ কোটি ৪০ লক্ষ বৎসরে পঞ্চম মহানিরয় “মহারোরুব” নিরয়ের এক রাত্রি দিন। সেই রাত্রি দিন মাস বৎসরে “রোরুব” নিরয়বাসীর আট হাজার বৎসর আয়ু।

👉​এই নিরয়ে উৎপন্ন হওয়ার কারণঃ
যারা চুরি করে, জোরপূর্বক সম্পত্তি কেড়ে নেয়, শঠ, প্রবঞ্চক, ঘুষখোর, অন্যায় বিচারক, ওজনে কম বিক্রেতা, মিথ্যাবাদী, গৃহদাহকারী, ভয় প্রদর্শনে সম্পত্তি লুণ্ঠনকারী, ত্রিরত্নের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত সম্পত্তি নষ্টকারী, সাঙ্ঘিকবস্তু ভোগকারী, সুরাপায়ী তারা এই নিরয়ে যন্ত্রণা ভোগ করে।

ধারাবাহিকভাবে চলবে.....

#সহায়ক গ্রন্থ 👉শীল কী ও তার মাহাত্ম্য (শ্রীমৎ উ গুণবন্ধন মহাথের)

____________________________
📌পরবর্তী পোস্ট "তাপন মহানিরয়" এর বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হবে।

👉প্রতিদিন ত্রিপিটকের পোস্ট পেতে পেইজে 👍ফলো করে সঙ্গে থাকুন।

সবার চর্মচক্ষু উৎপন্ন হোক।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏

Address

Khagrachhari

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বুদ্ধ ও বুদ্ধের দেশনা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share