06/04/2025
দূর্ভাগা গাজাবাসী ও এলমে আখেরুজ্জামান:
-------------------------------------------------------------
১৯৪৭-৪৮ সালে ঈসরাঈল রাষ্ট্রের জম্ম হওয়ার পর থেকেই তারা থার্ড টেম্পল নির্মানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং লাল বাছুরের অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকে। কারন,১০ম এবং শেষ লাল বাছুরের কোরবানীর পরই তাদের কাংখিত থার্ড টেম্পলে দাজ্জাল আসবে এবং দুনিয়াতে রাজত্ব করবে।তাই লাল বাছুরটি এতই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু কি এই থার্ড টেম্পল ? এটা বুঝতে হলে আল আক্বসা মসজিদের ইতিহাস জানতে হবে।
হিব্রু বাইবেল অনুসারে জেরুজালেমে প্রথম ইহুদী উপাসনালয় (টেম্পল) নির্মান করেন হযরত সুলাইমান (আঃ)।
প্রায় সাড়ে চারশ বছর পর ৫৮৭ খ্রিষ্টপূর্বে নব্য ব্যবিলনের এর রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজ্জার প্রথম টেম্পল বা সুলাইমানের টেম্পল ধ্বংস করে।
এরপর ৩৪৯ খ্রিষ্টপূর্বে ইহুদি নেতা ইজরা (Ezra)এবং নেহেমিয়াহর(Nehemiah)নেতৃত্বে দ্বিতীয় টেম্পল নির্মিত হয় যা টিকে ছিল ৪২০ বছর। ৭০ খ্রিষ্টপূর্বে রোমানরা(খ্রিষ্টানরা)দ্বিতীয় টেম্পল ধ্বংস করে।এরপর এটা খৃষ্টান আর মুসলমানদের মাঝে হাত বদল হতে থাকে । ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জেরুজালেম কখনো ইসরাঈলের হাতে আসেনি। টেম্পল নির্মানের তো প্রশ্নই উঠেনা। গত বছরই যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ঈসরাঈলের রাজধানী ঘোষণা করে থার্ড টেম্পল নির্মানের পথকে আরো প্রশস্ত করে দেয়।
এদিকে জেরুজালেমের একটি গরুর খামারে লাল বাছুর জম্ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ।
তা হলে জেরুজালেমে ইহুদীদের থার্ড টেম্পল নির্মানে আর দেরি কেন?লাল বাছুরও তৈরি! সমস্যা হচ্ছে থার্ড-টেম্পল নির্মান করতে হবে প্রথম এবং দ্বিতীয় টেম্পলের যায়গায়, যার উপর এখন দাঁড়িয়ে আছে বায়তুল মুকদ্দাস । বিষয়টা নিশ্চয় টের পেয়েছেন?আল-আক্বসা মসজীদ ভাংতে হবে!ধারণা করা হচ্ছে ইহুদীরা আল-আক্বসা মসজীদের নিচে মাটির অনেক গভীরে খুড়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের ভিত্তি দূর্বল করে ফেলেছে।ইহুদীরা সরাসরি আক্রমণে আল-আকসা মসজীদ ভাংতে যাবেনা।বলা হচ্ছে ঐ এলাকায় কৃত্তিম ভুমিকম্প ঘটিয়ে আল-আকসা মসজীদ ধ্বসে দেয়া হবে। ঠিক কোন ফন্দি তারা আঁটছে বলা মুশকিল। তবে এ নিয়ে তারা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে। নির্দেশেনা অনুযায়ী "থার্ড-টেম্পলের" যাবতীয় আসবাব, তৈজস-পত্র, রাবাঈ (ইমাম) এর গাউন, এমন কি খুবই বিরল ধুপ পর্যন্ত তৈরি করে রেখেছে। টেম্পল মাউন্ট ইনস্টিটিউটের মতে নির্মান কাজ শুরু হবার ৬ মাসের মধ্যেই টেম্পল-মাউন্ট অফারিং (কোরবানীর) জন্য তৈরি হয়ে যাবে।
এরপর কি? এরপরই আসল ঘটনা শুরু। টেম্পল মাউন্ট তৈরীকে ঘিরে ঐ হাদিসে বর্ণিত মালহামা (মহাযুদ্ধ , তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ) শুরু হতে পারে মুসলমান এবং খৃষ্টানদের একাংশের(রাশিয়া?)সাথে ইহুদী এবং খৃষ্টানদের অন্য অংশের (যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ) ।
ঈসরাঈল বাদে আশে-পাশের গোটা এলাকা অলরেডী যুদ্ধে পূড়ছে।বিশ্বের পরাশক্তিগুলো সিরিয়ায় ঘাঁটি গেড়েছে মূলত ঐ মহাযুদ্ধকে ঘিরেই।যুদ্ধের শেষ দিকেই আগমন ঘটবে ইমাম মাহদীর যাকে ইহুদীরা এবং খৃষ্টানরা মনে করবে তাদের জানের শত্রু এবং অপেক্ষা করবে দাজ্জালের।এর কয়েক বছর পরই আসবে দাজ্জাল।অতপর ইসা(আঃ)।সময় খুবই কম।হতে হবে প্রস্তুত,ঈমানী শক্তিতে।