24/02/2026
পারিবারিক সম্পত্তি বন্টন ও রেজিস্ট্রি: বিবাদ এড়ানোর সঠিক আইনি পথ -
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাদ একটি সাধারণ চিত্র। অথচ একটি যথাযথ 'আপোশ বন্টননামা দলিল' এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন এবং রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী এটি এখন কেবল প্রয়োজনীয়ই নয়, বরং বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Checklist):
* মূল মালিকের মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ: (পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত)।
* সম্পত্তির মালিকানা দলিল ও হালনাগাদ খতিয়ান: (CS, SA, RS/BS)।
* ওয়ারিশদের এনআইডি কার্ড: (শনাক্তকরণের জন্য)।
* সম্পত্তির নকশা ও চৌহদ্দি: (বন্টনের স্পষ্ট মানচিত্রসহ)।
রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ও ধাপসমূহ:
১. খসড়া (Drafting): একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ারিশের অংশ এবং দাগ-খতিয়ান স্পষ্ট করে একটি দলিলের খসড়া তৈরি করুন।
২. স্ট্যাম্পিং ও স্বাক্ষর: উপযুক্ত মূল্যের স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করে সকল ওয়ারিশের (বা তাদের আমমোক্তারনামা প্রাপ্ত প্রতিনিধি) উপস্থিতি ও স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে হবে।
৩. রেজিস্ট্রেশন: ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী, বন্টননামা দলিল অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করতে হবে।
৪. ফি প্রদান: রেজিস্ট্রেশন ফি, ই-ফি এবং এন-ফি সোনালী ব্যাংকে 'এ-চালান' বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
আইনজীবী হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
* ট্যাক্স সুবিধা: 'উৎস কর বিধিমালা ২০২৪' অনুযায়ী, ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে কোনো উৎস কর (Source Tax) প্রযোজ্য নয়। এটি একটি বড় আর্থিক সাশ্রয়।
* নামজারি (Mutation): ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩(খ) ধারা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রি করা বন্টননামা ছাড়া বর্তমানে নামজারি করা বেশ কঠিন। তাই ভবিষ্যতে বিক্রয় বা ঋণ গ্রহণের জন্য এটি অপরিহার্য।
* ভুল এড়াতে: মৌখিক বন্টনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাই পরবর্তীতে জটিলতা এড়াতে আপোশ বন্টননামা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আইনি পরামর্শের জন্য সাথে থাকুন।
#বন্টননামা #সম্পত্তি_বন্টন
#উত্তরাধিকার #ওয়ারিশ
#দলিল_রেজিস্ট্রি
#নামজারি #আইনি_পরামর্শ #অ্যাডভোকেট
#বাংলাদেশ_আইন