30/12/2025
“অন্যায়ের সঙ্গে আপস করলে একদিন ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না…”
আজ বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...
বেগম জিয়ার জীবনের প্রথম অধ্যায় স্বস্তির হলেও বাকি জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ।
বাংলাদেশে তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাকর্মকর্তার ওয়াইফ হিসেবে শেষ সময়টা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর পরিবার, সন্তান আর নাতিনাতনির সঙ্গে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল, কিন্তু কাটলো বন্দিদশা আর একাকীত্বে। ক্ষমতা, পরিচিতি, সম্মান ও মানুষের ভালোবাসা থাকলেও ছিলো না স্বস্তি ও শান্তি। স্বামী ও সন্তান হারানো বেদনার জীবন, অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘ সময় লড়েছেন তিনি - দলের জন্য, দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। তবুও শেষাবধি একটি স্বস্তির জীবন পেতে পারেননি—এটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভারী বাস্তবতা।
জীবনের সেই নির্মম সত্য আবারও প্রমাণিত হলো যে, জীবন কাউকে সময়ের নিশ্চয়তা দেয় না। সব দায়িত্ব শেষ করে, সব কষ্ট পার করে, শেষে গিয়ে বাঁচবো—এই ভাবনাটা অনেক সময়ই বাস্তবে মিথ্যে প্রমাণ হয়। তাই জীবনের আনন্দ, স্বপ্ন এবং প্রধান কাজগুলো সময় থাকতেই করে ফেলা উচিত। একই সঙ্গে বর্তমান ও অতীতের ক্ষমতালোভী, অন্যায়কারী, লোভগ্রস্ত মানুষদেরও এই কথাটা মনে রাখা প্রয়োজন—দিনশেষে আমাদের সকলেরই শেষ পরিণতি "কবর" । মৃত্যুই যেখানে এই ভুবনের শেষ পরিণতি। সেখানে শুধু একটাই প্রশ্ন, দিনশেষে আমরা কেমন মৃত্যু চাই?
সম্মান ও মানুষের দোয়ায় ভরা মৃত্যু?
নাকি ঘৃণা ও লাঞ্ছনায় ভরা একটি বিদায়?
এই ক্ষমতা, এই সম্পদ, এই প্রভাব - কিছুই কবরে যাবে না। সঙ্গে যাবে কেবল দোয়া, রহমত আর সওয়াব। তাই বেঁচে থাকতেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াই শ্রেয়—ভালোবাসা দিয়ে, আস্থা দিয়ে—"ঘৃণা দিয়ে নয়।" আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন।
মহান আল্লাহ বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, একইসাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্য ধরার তৌফিক দিন। আমিন।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫