11/03/2026
মানসিকতা কতটা দেউলিয়া হলে পবিত্র রোজার মাসে মানুষ এমন একটি ব্যানার টানাতে পারে—তাও আবার নিজেদেরকে “বিজ্ঞ আইনজীবী” বলে পরিচয় দেওয়া "কিছু" মানুষদের দ্বারা!
ধিক্কার জানাই সেইসব সংকীর্ণ ও নীচ মানসিকতার আইনজীবীদের, যাদের কাছে শিক্ষানবিশরা যেন কেবল কাজ করানোর মানুষ—সম্মান দেওয়ার নয়। স্বাভাবিকভাবেই তারা তো এখনো আপনাদের ভোটব্যাংক হয়ে ওঠেনি!
মাঝেমধ্যে আপনারাও ভুলে যান—এক সময় আপনারাও শিক্ষানবিশ ছিলেন। আজ যাদের অবজ্ঞা করছেন, কাল তারাই এই পেশায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সময়ের চাকা ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগে না।
মুখে নীতি, আদর্শ আর পেশার মর্যাদার বড় বড় কথা—কিন্তু বাস্তবে শিক্ষানবিশদের সম্মানী দিতে গেলেই শোনা যায় সেই পুরোনো গল্প: “আমাদের সময় সিনিয়ররা সপ্তাহে ৫০ টাকা দিত, তাই তোমাদের দৈনিক ৫০/১০০ টাকা দিলেই অনেক!”
আর রোজার দিনে সারাদিন কাজ করিয়ে ইফতারের সময় বলবেন—“বাপু, তুমি এবার যাও, ইফতার তোমার জন্য নয়।”
আফসোস! আইনের পাহাড়সম জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সামান্য নৈতিকতা ও মানবিকতার জায়গাটা কতটা শূন্য হতে পারে—এমন ঘটনাই তার প্রমাণ।
তবে এটাও সত্য—এই পেশায় এখনও অনেক বিজ্ঞ ও মহৎ আইনজীবী আছেন, যারা সত্যিই আইডল হওয়ার যোগ্য। তাদের প্রতি রইলো অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা।
মনে রাখবেন, আজ যারা শিক্ষানবিশ—একদিন তারাই এই পেশার ভবিষ্যৎ। হয়তো আগামী দিনে তারা আপনাদের সন্তানদেরও সিনিয়র হবেন। তাই সময় থাকতে মানসিকতা বদলান। শিক্ষানবিশদের চাকর হিসেবে নয়, বরং সন্তানতুল্য ভেবে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করতে শিখুন। তবেই পেশার প্রকৃত সম্মান সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাবে।
বিঃদ্রঃ ছবিটি নরসিংদী আইনজীবী সমিতির বলে আজ টাইমলাইনে দেখতে পেলাম। পোস্টটি সবার জন্য নয়—শুধু তাদের জন্য, যাদের মানসিকতা এতটা সংকীর্ণ ও নগণ্য।