তাহকীক বেহেস্তি জেওর -Tahqik Behesti Zewor

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • তাহকীক বেহেস্তি জেওর -Tahqik Behesti Zewor

তাহকীক বেহেস্তি জেওর -Tahqik Behesti Zewor আল্লাহর পথে দাওয়াত।।ওয়াজ মাহফিল ,সহি আকিদা ,

28/01/2023

যেসব মেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের বেপর্দা ছবি-ভিডিও আপলোড করেছে তারা কীভাবে তওবা করবে? এ অবস্থায় মারা গেলে কি তাদের কবরে আজাব হবে?

প্রশ্ন: যদি কোন মেয়ে দীনের পথে আসার পূর্বে ফেসবুকে নিজের বেপর্দা ছবি বা ভিডিও আপলোড করে থাকে তাহলে তা থেকে বাঁচার উপায় কী? মৃত্যুর পর যদি সোশ্যাল মিডিয়া বা পর পুরুষের কাছে তার কোনো ছবি-ভিডিও থেকে যায় তাহলে এ কারণে কি কবরে তার আজাব হতে থাকবে?
উত্তর:
নিঃসন্দেহে সোশ্যাল মিডিয়ায় হারাম কোন কিছু আপলোড করার ভয়াবহতা অনেক বেশি। কেননা বিভিন্নভাবে তা নেট জগতে ছড়িয়ে যায় এবং অব্যাহতভাবে তা ছড়াতেই থাকে। এ কারণে যত মানুষ গুনাহগার হবে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি তা পোস্ট করেছিল তার আমলনামায় প্রত্যেকের সমপরিমাণ গুনাহ লিপিবদ্ধ হতেই থাকবে। এমনকি মৃত্যুর পরেও। [সহীহ মুসলিম] ফলে তাদেরকে আখিরাতে নিজের পাপের বোঝার সাথে অন্যদের পাপের বোঝাও বহন করতে হবে। যেমন: আল্লাহ বলেন,
وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ
"তারা নিজেদের পাপের বোঝা এবং তার সাথে আরও কিছু পাপের বোঝা বহন করবে।" [ সূরা আনকাবুত: ১৩]

সুতরাং কোন নারী যদি দীনের পথে আসার পূর্বে তার বেপর্দা ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাবলিশ করে থাকে তাহলে তার জন্য আবশ্যক হল, তার সকল ছবি-ভিডিও ডিলেট করা এবং অতীত কর্মের জন্য অনুতপ্ত হ্নদয়ে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা। অনুরূপভাবে নিজস্ব অ্যালবামে সংরক্ষিত ছবিগুলোও নষ্ট করে দিতে হবে। তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُوْلَئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ
"অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন যারা ভুল বশতঃ মন্দকাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হলো সে সব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।" [সূরা নিসা: ১৭]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
‘‘আল্লাহ্ তাআলা বান্দার তাওবা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করেন, যতক্ষণ না তার মৃত্যুর গড়গড়ানি শুরু হয়।"
[তিরমিযী, অধ্যায়: কিতাবুত তাওবা। ইমাম তিরমিযি বলেন, হাসান গরীব। হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে হাদিহটি বর্ণনা করে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। দেখুন: মুস্তাদরাকুল হাকিম, ৪/২৫৭]

আর যদি তার বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের কাছে সেগুলো সংরক্ষিত থাকে তাহলে সেগুলো ডিলিট করে দেওয়ার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করতে হবে। তারা যদি অনুরোধ রক্ষা করে তাহলে তো ভালো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু অনুরোধ সত্বেও যদি তারা সেগুলো নষ্ট না করে তাহলে এর জন্য আল্লাহ তাকে দায়ী করবেন না। কারণ সে ইতিমধ্যে তওবা করে সেগুলো নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যারা সেগুলো সংরক্ষণ করেছে এবং অনুরোধ সত্বেও নষ্ট করেনি তারা গুনাহগার হবে।

যাহোক, এভাবে তওবা করার পরে যদি কেউ মারা যায় তাহলে ইনশাআল্লাহ দয়াময় আল্লাহ তাকে শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন, যদিও তার কিছু ছবি/ভিডিও তার আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের নিকট অবশিষ্ট থেকে গেছে। অথবা তওবা করার পরও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করার সময় পায়নি কিংবা চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো কারণে তা ডিলিট করতে সক্ষম হয়নি।
কিন্তু তওবা করার পূর্বে যদি মারা যায় তাহলে তা দয়াময় আল্লাহর ক্ষমার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ যদি তাকে তার কোন সৎকর্মের প্রতি খুশি হয়ে ক্ষমা করেন তাহলে তো সে সৌভাগ্যবান। আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। অন্যথায় কবর থেকে শুরু করে আখিরাতে কঠিন শাস্তি তার জন্য অপেক্ষা করছে। (আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমিন)
তবে এমনও হতে পারে, জীবিত ব্যক্তিগণ যদি তার জন্য দয়াময় আল্লাহর কাছে দুআ ও ইস্তিগফার করে তাহলে হয়তো তিনি তার গুনাহ মোচন করে কবর ও আখিরাতের শাস্তি থেকে তাকে রক্ষা করবেন।

সুতরাং যে সকল মেয়েরা তাদের বেপর্দা ছবি ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছে তাদের কর্তব্য হল, তার কাছে মৃত্যু দূত উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই অনতিবিলম্বে আল্লাহর কাছে তওবা করে সেগুলো ডিলিট করা। নিজের কাছে থাকলে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা আর অন্যদের কাছে থাকলে সেগুলো নষ্ট করে ফেলার জন্য অনুরোধ করা। অন্যথায় এমনও হতে পারে যে, এই সকল পাপের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার পূর্বেই এবং আল্লাহর কাছে তওবা করার পূর্বেই সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবে। ফলে তার মৃত্যু পরবর্তী জীবন হবে অনেক সংকটাপন্ন এবং ভয়াবহ।
🔸যে সমস্ত মেয়েরা ফেসবুকে ছবি আপলোড করে তাদের জন্য সতর্কবার্তা:
গবেষকগণ বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের ছবি-ভিডিও আপলোড করার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। কেননা কিছু অপরাধী ও অসাধু চক্র ফটোশপের মাধ্যমে মেয়েদের ছবির মুখাবয়ব ঠিক রেখে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করে বিভিন্ন পর্নো বা কল গার্ল জাতীয় ওয়েবসাইটে আপলোড করে বা ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে।‌ ফলে তাদেরকে ভয়ানক মান-সম্মানহানি ও কেলেঙ্কারি শিকার হতে হয়। তখন কেলেঙ্কারি ও লোক লজ্জা থেকে বাঁচতে তাদের অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ বিষয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। (যেমন: ভারতে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সকল সদস্য আত্মহত্যা করেছে বলে খবর প্রচারিত হয়েছিল)।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান ও বুঝ দান করুন এবং সময় থাকতে তওবা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

11/10/2022

১০০ কবিরা গুনাহ-১ম পর্ব

মূল: ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ সাইয়্যাহ
অনুবাদে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইড্ন্স সেন্টার, সৌদি আরব

এতে আছে:

◍ ক. কবিরা গুনাহের পরিচয়
◍ খ. কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা
◍ গ. কুফরি পর্যায়ের কবিরা গুনাহ সমূহ
◍ ঘ. সব চেয়ে বড় গুনাহ
◍ ঙ. সাতটি ধ্বংসাত্মক গুনাহ
◍ চ. যে সমস্ত পাপরাশী জান্নাতের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে
◍ ছ. এ ছাড়া অন্যান্য পাপরাশী

❑ কবিরা গুনাহ (বড় পাপ) কী?

الكبائر هي كل ذنب أطلق عليه في الكتاب أو السنة أو الإجماع أنه: كبيرة ، أو عظيم ، أو أخبر فيه بشدة العقاب ، أو علق عليه الحد ، أو لعن فاعله ، أو حرم من الجنة

“কবিরা গুনাহ হল সেই সব পাপ, যেগুলোকে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমায় (সর্বসম্মতভাবে) বড় বা মহাপাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে অথবা যে পাপের ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে অথবা যে অপরাধের ব্যাপারে ফৌজদারি দণ্ড নির্ধারিত রয়েছে অথবা যে পাপ করলে পাপীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে অথবা জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

❑ কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদা:

◆ ১. মহান আল্লাহ বলেন,

إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا

"যে সব বিষয়ে সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার তবে আমি তোমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।" [সূরা নিসা: ৩১]

তিনি আরও বলেন,

الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ

"যারা বড় বড় গুনাহ ও অশ্লীল কার্যাবলী থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাটো অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত।" [সূরা নাজম: ৩২]

◆ ২. রসুলুল্লাহ (সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ

"কবিরা গুনাহ (বড় পাপ) থেকে বিরত থাকলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা, এক রমজান থেকে আরেক রমজানের মধ্যে সংঘটিত সমস্ত পাপ রাশী মোচন হয়ে যায়।" [মুসলিম]

◈ কুফরি পর্যায়ের বড় পাপ সমূহ ◈ সবচেয়ে বড় পাপ ◈ ধ্বংসাত্মক পাপ সমূহ

❂ ১. আল্লাহর সাথে শিরক (অংশী স্থাপন) করা:

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

أَلا أُنَبِّئُكُمْ بأَكْبَرِ الكَبائِرِ قُلْنا: بَلَى يا رَسولَ اللَّهِ، قالَ: الإشْراكُ باللَّهِ

“সব চেয়ে বড় পাপ কোনটি তা কি তোমাদেরকে জানাবো না? তা হল, আল্লাহর সাথে শিরক (অংশী স্থাপন) করা।” [বুখারি- মুসলিম]

❂ ২. নামাজ পরিত্যাগ করা:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ليسَ بينَ الكفرِ والإيمانِ إلَّا تركُ الصَّلاة
“মুসলিম এবং কাফের-মুশরিকের মাঝে নামাজ পরিত্যাগ ব্যতিরেকে অন্য কোন পার্থক্য নেই।” [সহিহ মুসলিম]

❂ ৩-৫. মানুষ হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া:

রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম বলেন, সব চেয়ে বড় পাপ কোন টি তা কি তোমাদেরকে বলব না? তা হল:
الإشْرَاكُ باللَّهِ، وعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ، وقَتْلُ النَّفْسِ، وشَهَادَةُ الزُّورِ
“আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।” [সহিহ মুসলিম]

❂ ৬. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা:

রসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম) বলেন,
إنَّ مِن أكبَرِ الكَبائِرِ أنْ يَلعَنَ الرجُلُ والِدَيه قالوا يا رسولَ اللهِ وكيفَ يَلعَنُ الرجُلُ أبَوَيه ؟ قال: يَسُبُّ الرجُلُ الرجُلَ فيَسُبُّ أباه ويَسُبُّ الرجُلُ أُمَّه فيَسُبُّ أُمَّه
“অন্যতম বড় পাপ হল, পিতা মাতাকে অভিসম্পাত করা। জিজ্ঞেস করা হল, মানুষ আবার কিভাবে পিতা মাতাকে অভিসম্পাত করে? তিনি বললেন, “একজন মানুষ যখন অন্যের পিতা মাতাকে গালি দেয় তখন সেও প্রতিউত্তরে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়।” [বুখারি ও মুসলিম]

❂ ৭-১১. সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধ:

রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

اجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ قالوا: يا رَسُولَ اللَّهِ، وَما هُنَّ؟ قالَ: الشِّرْكُ باللَّهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بالحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ اليَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَومَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ المُحْصَنَاتِ المُؤْمِنَاتِ الغَافِلَاتِ

“তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধ থেকে দূরে থাক। (১) আল্লাহর সাথে শিরক, (২) জাদু-টোনা, (৩) মানুষ হত্যা যা আল্লাহ নিষেধ করেছে ইসলামের হক ছাড়া (অর্থাৎ ইসলামি আইনগত হত্যার বিধান ভিন্ন) (৪) সুদ খাওয়া (৫) এতিমের সম্পদ ভক্ষণ (৬) যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়ন এবং (৭) সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর প্রতি (জিনার) অপবাদ।” [বুখারি ও মুসলিম]

❑ যে সব গুনাহ জান্নাতে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে:

❂ ১২. ঈমান না আনা:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا مُؤْمِنٌ
“ইমানদার ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [বুখারি ও মুসলিম]

তিনি আরও বলেছেন,
لا تَدْخُلُوا نَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا
“তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না।” [সহিহ মুসলিম, হা/৫৪]

❂ ১৩. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
“যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [সহিহ মুসলিম, হা/৪৬]

❂ ১৪. অহংকার করা:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [মুসলিম, হা/৯১]

❂ ১৫. চোগলখোরি ও পরনিন্দা করা:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامٌ
“চুগলখোর বা পর নিন্দা কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [সহিহ মুসলিম, হা/১০৫]
تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ
“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে খারাপ লোকদের দলভুক্ত হিসেবে ঐ ব্যক্তিকে পাবে যে, যে ছিল দু মুখো- যে এক জনের কাছে এক চেহারা এবং আরেক জনের কাছে আরেক চেহারা নিয়ে হাজির হত।” [সহিহ মুসলিম, হা/২৫২৬]

❂ ১৬. আত্মহত্যা করা:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَهْوَ فِى نَارِ جَهَنَّمَ ، يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ تَحَسَّى سَمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ ، فَسَمُّهُ فِى يَدِهِ ، يَتَحَسَّاهُ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا ، وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ ، فَحَدِيدَتُهُ فِى يَدِهِ ، يَجَأُ بِهَا فِى بَطْنِهِ فِى نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا

“যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে এবং সেখানে সর্বদা উপর থেকে নিচে নিক্ষিপ্ত হতেই থাকবে অনন্তকাল। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনে বিষ হাতে নিয়ে সদা-সর্বদা তা ঢকঢক করে পান করতেই থাকবে ধরে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে সে জাহান্নামের আগুনে ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের পেট ওফাড়-ওফাড় করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে।” [সহিহ বুখারি, হা/৫৪৪২ ও সহিহ মুসলিম, হা/১০৯]

❂ ১৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:

রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [সহিহ মুসলিম, হা/২৫৫৬]

❂ ১৮. হারাম খাওয়া:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ

“হারাম অর্থের মাধ্যমে (যে শরীরে) মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম অর্থ ও অবৈধ উপার্জন দ্বারা দেহ গঠন করেছে জাহান্নামের আগুনই তার প্রাপ্য।)” [আহমদ, ইবনে হিব্বান। তাখরীজ। সহিহ-মিশকাতুল মাসাবিহ, আলবানি, হা/২৭০৩]

❂ ১৯-২৩. উপকার করে খোটা দানকারী, মাদকাসক্ত (নেশাগ্রস্থ), জাদুর বৈধতায় বিশ্বাসকারী, গণক ও তকদির (ভাগ্যের লিখন) অস্বীকারকারী:

রসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ خَمْسٌ ، مُدْمِنُ خَمْرٍ ، وَلا مُؤْمِنٌ بِسِحْرٍ ، وَلا قَاطِعُ رَحِمٍ ، وَلا مَنَّانٌ ، وَلا كَاهِنٌ
“পাঁচ শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না: মাদকাসক্ত, জাদুর বৈধতায় বিশ্বাসী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, উপকার করে খোটা দানকারী এবং গণক।” [মুসনাদে আহমদ, হাসান-আলবানি]

অন্য বর্ণনায় আছে,
لا يدخل الجنة : المنان ولا مدمن خمر ولا مؤمن بسحر و لا مكذب بقدر ولا كاهن
“তকদির (ভাগ্যের লিখন) অস্বীকারকারী।” [মুসনাদে আহমদ]

❂ ২৪. ঋণ পরিশোধ না করা:

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট কোন ঋণগ্রস্ত মৃতের লাশ (জানাজার জন্য) নিয়ে আসা হলে জিজ্ঞেস করতেন, “সে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে কি না?”
যদি বলা হত করেছে, তবে জানাজা পড়তেন। অন্যথায় (সাহাবিদেরকে) বলতেন,
صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ
“তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ে নাও।” (কিন্তু তিনি নিজে তাতে অংশ গ্রহণ করতেন না)। [সহিহ মুসলিম, হা/১৬১৯]

অন্য হাদিসে রয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
“শহিদের ঋণ ছাড়া সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” [সহিহ মুসলিম, হা/১৮৮৬]

চলবে ইনশাআল্লাহ....

যারা আরব দেশে আসতে চান তাদের  আঞ্চলিক আরবি ভাষা শিখা খুবই জরুরি। তাই আঞ্চলিক আরবি ভাষা শিখতে আমার সাথেই থাকুন। এখানে ক্ল...
25/10/2021

যারা আরব দেশে আসতে চান তাদের আঞ্চলিক আরবি ভাষা শিখা খুবই জরুরি। তাই আঞ্চলিক আরবি ভাষা শিখতে আমার সাথেই থাকুন। এখানে ক্লিক করুন

Arbi vasha,আরবি ভাষা, আমার চ্যানেলের নাম। আমি মোঃ রফিকুল ইসলাম। আমি কুয়েত বসবাস করি।আমার চ্যানেলে আমি আরবি ভাষা শিক্ষার ...

যারা আরব দেশে আসতে চাচ্ছেন তাদের আরবি ভাষা শিখতে হবে, তাই আরবি ভাষা শেখার জন্য আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকু...
01/10/2021

যারা আরব দেশে আসতে চাচ্ছেন তাদের আরবি ভাষা শিখতে হবে, তাই আরবি ভাষা শেখার জন্য আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন।

l translated and explanation in English, Bangla and Arabia. I explain.,online Arabic course, learn Arabic bd online. Kuwait arabic in Bangla. arabic course...

22/07/2021

সাধারণভাবে ঈদুল আযহা এবং ‌এর পরের তিন দিন (আইয়ামে তাশরিকে) রোযা রাখা হারাম। কিন্তু বিশেষ তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য জায়েয। আসুন জেনে নি, তারা কারা?
----------------------------------
প্রশ্ন: কাদের জন্য কুরবানীর পরের আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন রোযা রাখা জায়েয?

উত্তর:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল আযহার দিন ও তার পরে আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন (জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ- মোট চার দিন) সব ধরণের রোযা রাখা নিষেধ করেছেন। চাই তা কাযা হোক, মানত হোক অথবা নফল হোক। তবে তিন শ্রেণীর মানুষের জন্য আইয়ামে তাশরীকের তিন দিনও রোযা রাখা জায়েয। এর সবগুলোই হজ্জের সাথে সম্পৃক্ত। নিম্নে এ ব্যাপারে আলোচনা করা হল:

❐ ১) তামাত্তু অথবা কিরান হজ্জকারী ব্যক্তি যদি হাদী (কুরবানী) দিতে না পারে তাহলে সে দশটি রোযা থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ
“আর যে ব্যক্তি হজ্জ ও ওমরা একত্রে একই সাথে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জ্বের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোযা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না।” (সূরা বাকারা: ১৯৬ নং আয়াত)

উল্লেখ্য যে, মক্কার তিনটি রোযা হয় ইহরাম এর পর থেকে শুরু করে আরাফা দিবসের (কারও মতে ইয়ামুন নহর বা কুরবানীর দিনের) পূর্বেই শেষ করবে অথবা আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন রাখবে।

❐ ২) কেউ যদি ইহারামের নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে কোন একটি করে তাহলে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে।

আর ফিদিয়া হল:

❖ একটি দম তথা একটি ছাগল/দুম্বা জবাই করে হারামের সীমানার মধ্যে গরিব লোকদের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে। সেখান থেকে কিছুই নিজে খাওয়া যাবে না। কিন্তু কেউ যদি আর্থিক অসচ্ছলতা বা কোন কারণে দম দিতে না পারে তাহলে
❖ তিনটি রোযা থাকবে (এ তিনটি রোযা আইয়ামে তাশরীকের তিন দিনও রাখা জায়েয)
❖ অথবা ছয়জন গরিব-অসহায় মানুষকে খাদ্য দান করবে। প্রতিজনকে আধা সা তথা প্রায় সোয়া কিলো পরিমান খাদ্যদ্রব্য।
এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ
“যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা সদকা করবে অথবা কুরবানী করবে।” (সূরা বাকারা: ১৯৬)

এ ব্যাপার হাদীস:
عن كعب بن عجرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر به زمن الحديبية فقال: «قد آذاك هوام رأسك» قال: نعم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «احلق، ثم اذبح شاة نسكا، أو صم ثلاثة أيام، أو أطعم ثلاثة آصع من تمر على ستة مساكين» رواه البخاري، ومسلم

কাব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্রব করছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিন দিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে তিন সা খেজুর খেতে দাও।” (সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিম- সহীহ মুসলিম এর হাদিস নম্বর 2753-(ইফাঃ) ]

❐ ৩) কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে তাহলে তাকে একটি দম দিতে হবে।
তবে দম দিতে না পারলে দশটি রোযা থাকবে। তিনটি মক্কায় আর সাতটি বাড়ি ফিরে আসার পর [অর্থাৎ তামাত্তু বা কিরান হজ্জকারী যদি হাদী (কুরবানী) দিতে না পারে তাহলে রোযা রাখার ক্ষেত্রে তার জন্যও একই হুকুম।]
এটি জুমহুর এর অভিমত। শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায ও অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন।
তবে কোন কোন আলেম বলেন, ওয়াজিব তরক কারী দম দিতে না পারলে তার জন্য রোযা রাখা বা অন্য কিছু করণীয় নাই আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া ছাড়া। কেননা, এ মর্মে দলিল পাওয়া যায় না। যেমনটি বলেছেন আল্লামা উসাইমীন রাহ.।
আল্লাহু আলাম।
-------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব

যারা আরব দেশের নতুন এসেছেন অথবা আরব দেশে আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই ভিডিওটি
15/07/2021

যারা আরব দেশের নতুন এসেছেন অথবা আরব দেশে আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই ভিডিওটি

ছোট ছোট শব্দের মাধ্যমে আরবি ভাষা শিক্ষা | Short Arabic dialog with Bangla words by Islamic Video. In this video about How to learn . Such as Ara...

Address

Dhaka
12012

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তাহকীক বেহেস্তি জেওর -Tahqik Behesti Zewor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category