08/09/2025
আইন বিষয়ের ক্যারিয়ার সম্ভবনা
আইন পড়লে কি কি হওয়া যায় ।
আইন বিষয়ের ক্যারিয়ার সম্ভবনা ।
কেন পড়বো আইন?
এইচ. এস. সি পরীক্ষার পর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন নিবেন অথবা সাবজেক্ট পরিবর্তন করার কথা ভাবছেন, কিংবা সন্তান কে ভার্সিটিতে ভর্তি করাতে সাবজেক্ট চয়েজ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় আছেন, আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য। আইন বিষয়ে পড়ার ভবিষ্যৎ সম্ভবনা, আইন বিষয়ে পড়ে কোন কোন ফিল্ডে ক্যারিয়ার গড়া যায়, কি কি চাকরীর সুযোগ রয়েছে এবং টেকনিক্যাল সাবজেক্ট হিসাবে কেন আইন সব বিষয়ের চেয়ে আলাদা। এ সব বিষয়ে ধারনা পাবেন এই লেখা থেকে। সর্ম্পূণ লেখাটি পড়ে আপনি অবাক হবেন, বাংলাদেশের ক্যারিয়ারে আইন বিষয়ের দাপুটে কর্মক্ষেত্র দেখে।
আইন পড়লে কি কি হওয়া যায় ?
কেউ এই প্রশ্ন করলে উত্তরের বদলে পাল্টা প্রশ্ন হবে- ‘আইন পড়ে কী হওয়া যাবে না? বাংলাদেশে আইনের শিক্ষার্থীদেরকে পরিবারে ও সমাজে অবধারিতভাবে যে অনিবার্য প্রশ্নটির সম্মুখীন হতে হয় তা হচ্ছে- ‘Law পড়বি কি Liar হওয়ার জন্য?’
অর্থাৎ বেশিরভাগ মানুষ ধরেই নেয়- ‘ল’ পড়ে ‘লইয়ার’ বা তাঁদের ভাষায় লাইয়ার (মিথ্যাবাদি) হওয়া ছাড়া আর বুঝি কোন গত্যন্তর নাই। কিন্তু তাঁরা আসলে জানে না আইন পড়া একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার পরিধি কতোটা বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় !
আইন পাশ করে আইন সংশ্লিষ্ট বা আইন বহির্ভূত সব কিছুই আপনি হতে পারবেন। আইন পড়ে কেউ আইনজীবী হতে না চাইলেও তাঁর জন্য সরকারি- বেসরকারি চাকুরির দুনিয়া খোলা। আইন পড়ার আরেকটি মজার বিষয় হল- আপনি স্বাস্থ্য, প্রোকৌশল, আইটি সহ সকল সেক্টরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। ছোট-বড় সব ধরনের কোম্পানীতেই লিগ্যাল সেক্টরে চাকুরী বা পরামর্শক হিসাবে আইনের ছাত্ররা ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
১/ বিজেএস ক্যাডার (জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট)
বিজেএস পরিক্ষা বিসিএস এর মতোই। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ায় বর্তমানে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হয় বিজেএস বা ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন’ এর মাধ্যমে। বিসিএস ক্যাডারের তুলনায় বিজেএস ক্যাডারদের বেতন, ক্ষমতা ও অন্যন সুবিধা প্রায় ৩০% বেশী। এই পদে নিয়োগ লাভের সুযোগ শুধুই আইনের গ্রাজুয়েটদের জন্য সংরক্ষিত।
২/ বিসিএস ক্যাডার
আইন থেকে পাশ করে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতোই আপনারা বিসিএস এর সমস্ত ক্যাডার যেমন- ফরেন সার্ভিস, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টম, আনসার ইত্যাদি সব নন- ট্যাকনিক্যাল ক্যাডারে একজন র্ফাস্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। আইন থেকে পাশ করে বিসিএস এর বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ লাভের উদাহরণ ভুরিভুরি। এক মাত্র আইন পড়লেই বিসিএস ও বিজেএস দুটি ক্যাডার পরীক্ষায় একত্রে অংশ নেয়া সম্ভব!
৩/ শিক্ষকতা
ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকলে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আইনের শিক্ষক হিসেবে উচ্চ বেতনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পায়। আইনের ভালো ফলধারীর জন্য বিকল্প অজস্র ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কারনে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে উপযুক্ত শিক্ষক সংকট লেগেই থাকে। এই সেক্টরে চাহিদা এমনই বেশি যে অনার্সে ভালো ফল থাকলে মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার আগেই অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আইনের যোগ্য প্রার্থীকে ‘অগ্রীম এপয়েন্টমেন্ট লেটার’ দিয়ে বুকড করে রাখে!
৫/ সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী
একজন আইনের শিক্ষার্থী সামরিক বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট, সাব লেফটেন্যান্ট, ফ্লাইং অফিসার হয়ে কমিশন্ড অফিসারের পদমর্যাদায় সেনা, নৌ কিংবা বিমানবাহিনীতে ‘জাজ- এডভোকেট জেনারেল’ (JAG Core) কোরে যোগ দিতে পারেন। সামরিক আইন-আদালত ও সামরিক বিচার নিয়ে এদের কাজ কর্ম। এই সুযোগটাও শুধু আইনের শিক্ষার্থীদের !
৬/ ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ের মতো আইন থেকে পাশ করেও যে কেউ ব্যাংক, বীমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দিতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন ব্যাংক, বীমা, কোম্পানি, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে ‘লিগ্যাল ডিভিশান’ নাই। ব্যাংকিং, কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে সাধারণ অফিসার হিসেবে আবেদনের পাশাপাশি আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভের এক্সট্রা সুযোগ শুধু আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্যই সংরক্ষিত !
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল সাইড)’ পদে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে আবেদনের পাশাপাশি আইনের ডিগ্রিধারীরা ‘সহকারী পরিচালক (লিগ্যাল সাইড) পদে নিয়োগ লাভের আলাদা সুযোগ পায়। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান আবার অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্র্যাকটিসিং লইয়ারদের কে ‘প্যানেল আইনজীবী’ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও দিয়ে থাকে। এটি আইনজীবীদের জন্য আরেকটি বাড়তি সুযোগ। বেশীর ভাগ আইনজীবীই ঢাকা মূখী হওয়ার অন্যতম একটি বড় কারন বিভিন্ন কোম্পানীতে রিটেনার বা প্যানেল আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকা।