03/09/2026
সম্পত্তি দানে যুগান্তকারী আইন: লিখে দিলেও আজীবন ভোগের অধিকার থাকছে দাতার
:
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি সন্তান বা নিকটাত্মীয়কে দান করে দিলেও, আমৃত্যু সেই সম্পত্তি ভোগদখল করার অধিকার তার নিজের কাছেই রাখতে পারবেন। গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘Transfer of Property (Amendment) Act, 2026’ বিল উত্থাপিত হয়েছে এবং তা অতিরিক্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতা তাদের শেষ সম্বলটুকু সন্তানদের নামে লিখে দেওয়ার পর আশ্রয়হীন বা চরম অবহেলার শিকার হন। এই মানবিক ও সামাজিক সংকট নিরসনে দাতার ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার’ (Lifetime usufruct) সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আইনি সুরক্ষা দিতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলের নতুন ১২২ক (122A) ধারা অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও দাতা আজীবন ওই সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। তবে এ ধরনের দান কেবল নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। পিতামাতা, দাদাদাদি বা নানানানি তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে এই দান করতে পারবেন। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর অধীনে একটি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে। এই আইনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার (যাকে দান করা হয়েছে) মৃত্যু হলেও সম্পত্তির ওপর দাতার ভোগাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
আইনটিতে দান প্রত্যাহারের বিষয়েও সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। নতুন ১২২খ (122B) ধারা অনুযায়ী, একবার রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে এই দান সাধারণত বাতিল বা প্রত্যাহার করা যাবে না। তবে জরুরি আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা বা পারিবারিক প্রয়োজনে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে একটি নতুন রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে এই দানের শর্ত পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা যাবে।
যদি কোনো এক পক্ষের নাবালকত্ব, নিখোঁজ হওয়া, মানসিক ভারসাম্যহীনতা বা অন্য কোনো আইনি অক্ষমতার কারণে সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হয়, তবে অপর পক্ষ সরাসরি জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন। জেলা জজ সংশ্লিষ্ট সকলকে নোটিশ প্রদান ও প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আবেদনটির যৌক্তিকতা সাপেক্ষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ দিতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত এই বিলটি আইনে পরিণত হলে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে পারিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সৃষ্ট অনেক দেওয়ানি বিরোধও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।