27/04/2026
হজ ২০২৬: মক্কা-মদিনায় সাইট ভিজিট ও জিয়ারতে সৌদি সরকারের নতুন বিধিনিষেধ এবং সর্বশেষ আপডেট
২০২৬ সালের হজের জন্য সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।
সম্মানিত হজ গাইড ও গ্রুপ লিডারবৃন্দ,
আপনার হজযাত্রীদের সচেতনতায় ও সুবিধার্থে সর্বশেষ আপডেট তথ্যগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. মক্কা ও মদিনার পবিত্র মসজিদে ছবি ও ভিডিও তোলায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
২০২৬ সালের হজের জন্য সবচেয়ে আলোচিত এবং কঠোর নিয়ম হলো মসজিদ আল-হারাম (মক্কা) এবং মসজিদ আন-নববী (মদিনা) এর ভেতরে সব ধরনের ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি নিষিদ্ধ।
সেলফি ও সোশ্যাল মিডিয়া: কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলা, ভিডিও করা বা লাইভ স্ট্রিমিং করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সরঞ্জাম জব্দ: মোবাইল ফোন বা প্রফেশনাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলে ডিভাইস জব্দসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এটি ইবাদতের পরিবেশ ও হজযাত্রীদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য করা হয়েছে।
২. ইসলামিক ঐতিহাসিক স্থান (জিয়ারত) ভ্রমণে নতুন নির্দেশিকা
মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থান যেমন- জাবালে নূর (হেরা গুহা), জাবালে সওর, এবং মসজিদে কুবা ভ্রমণে নতুন কিছু নিয়ম কার্যকর হয়েছে:
গ্রুপ মুভমেন্ট: ব্যক্তিগতভাবে সাইট ভিজিটের চেয়ে অনুমোদিত হজ এজেন্সির অধীনে গ্রুপভিত্তিক যাতায়াতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ করে জাবালে নূর এবং জাবালে সওরে আরোহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং বয়সের সীমাবদ্ধতা (শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী) যাচাই করা হতে পারে।
শ্লোগান ও ব্যানার নিষিদ্ধ: যেকোনো ঐতিহাসিক স্থানে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক শ্লোগান দেওয়া, ব্যানার প্রদর্শন বা লিফলেট বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. 'নুসুক কার্ড' (Nusuk Card) বাধ্যতামূলক
২০২৬ সালের হজে প্রতিটি হজযাত্রীর জন্য ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল নুসুক কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ: মক্কা, মদিনা এবং মাশায়ের (মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা) এর মধ্যে চলাচলের সময় এই কার্ডটিই হবে আপনার প্রধান পরিচয়পত্র। এই কার্ড ছাড়া কোনো চেকপোস্ট পার হওয়া সম্ভব হবে না।
জিয়ারত পারমিট: মদিনার রওজা শরীফে জিয়ারতের জন্য নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকে স্লট বুকিং করা বাধ্যতামূলক। পারমিট ছাড়া রওজা শরীফে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
৪. ভিজিট ভিসা ও হজ পারমিট নিয়ে কড়াকড়ি
মক্কায় প্রবেশে বাধা: গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (১ জিলকদ ১৪৪৭) থেকে আগামী ১৫ জিলহজ (১ জুন ২০২৬) পর্যন্ত ভিজিট ভিসাধারীদের জন্য মক্কায় প্রবেশ এবং অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জরিমানা ও শাস্তি: হজ পারমিট ছাড়া হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের চেষ্টা করলে ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, কারাদণ্ড এবং দেশ ত্যাগের (ডিপোর্টেশন) বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি অননুমোদিত ব্যক্তিকে সহায়তা করলে ট্রান্সপোর্ট বা আবাসন মালিকদেরও বিশাল অংকের জরিমানা করা হচ্ছে।
৫. স্বাস্থ্যবিধি ও আবহাওয়া সতর্কতা
তীব্র গরমের সতর্কতা: ২০২৬ সালের হজে তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তাই দিনের বেলা (সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা) খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বা পায়ে হেঁটে সাইট ভিজিট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টিকা সনদ: হজ ভিসায় আসার আগে মেনিনজাইটিস এবং ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ নির্ধারিত সব টিকার ডিজিটাল সনদ সাথে রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য সূত্র (Sources of Information):
১। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় (Ministry of Hajj and Umrah - MoHU): অফিসিয়াল পোর্টাল এবং নুসুক (Nusuk) প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ সার্কুলার।
২। সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ (Saudi Public Security): মক্কায় প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি (এপ্রিল-মে ২০২৬)।
৩। সৌদি গেজেট ও আল-আরাবিয়া: সৌদি সরকারের রাজকীয় ফরমান এবং হজ নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বশেষ নিউজ আপডেট।
৪। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Interior - MoI): হজের নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য ঘোষিত জরিমানার তালিকা এবং প্রবেশাধিকার নীতি।