27/12/2025
খুব আশ্চর্যজনক একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম গত কয়েকদিনে। দেশে হঠাৎ করে পশুপ্রেমী স্পেসিফিক ভাবে বললে বলতে হয় বিড়ালপ্রেমীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সবাই বিড়ালপ্রেমে মগ্ন, সেটাও ঠিক হলো না, সবাই জাইমা রহমানের বিড়াল জেবুর প্রেমে মগ্ন। আমার ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকেই জেবুকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দিচ্ছে। অথচ আমি জানি এদের অনেকেই বিড়াল ২চোখে দেখতে পারেনা, একজন তো আমার বাসায় বেড়াতে এসে ডিরেক্ট বলেছিলো "বিড়াল পালে যারা তাদের হাতের খাবার খেতে রুচি হয়না"। আমিও পরের ২দিন আর তার জন্য রান্না করিনি, বলেছি হোটেলে গিয়ে খান আর এরপর আমার বাসাতেও আর আসার দরকার নাই। আরেকজন নিজের দরকারেই আমার বাসায় এসে বলেছিলো "বিড়াল পালি দেখে নাকি আমার বাসায় ফেরেস্তা ঢুকে না, চারদিকে শ*য়তা*ন ঘুরে, নামাজ হয়না"। এরপর কয়েকবার ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় এসে আমার বাসায় উঠতে চাইলেও আমি মানা করেছি। বলেছিলাম শ*য়তা*নের বাসায় আসার কি দরকার, ভালো কারো বাসায় গিয়ে থাকেন। অথচ এখন কত আদিখ্যেতা তাদের জেবু কে নিয়ে...
হাসি পায় এসব দেখে। যদি সত্যিই কিছু করতে চান, এই প্রচন্ড শীতে আপনার বাড়ির বারান্দায় বা দোকানের শেডে কোন কুকুর বিড়াল আশ্রয় নিয়ে তাড়িয়ে দিয়েন না, খাবার দিতে না পারেন, ২০টাকা দিয়ে একটা বস্তা কিনে গায়ে দিয়েন। না পারলে তাও করার দরকার নাই, তাড়ানোর জন্য গায়ে পানি দিয়েন না।
ভালোবাসলে অসহায় রাস্তার কুকুর-বিড়াল গুলোকে বাসেন, এদের প্রতি মানবিক হন, প্রতিবেশির পালা কুকুর-বিড়াল দেখলে ক্ষতি না করে বাসায় ফিরিয়ে দিয়েন। জেবুর আসলে আমাদের এই মায়া বা আদিখ্যেতা কোনটার ই দরকার নাই, তার জন্য অনেক কেয়ারিং এবং রিচ একটা ফ্যামিলি আছে। সে আমাদের ধরা ছোয়ার ও অনেক বাইরে, তার যে সিকিউরিটি সেটা আমাদের ই নাই। তাই ফেসবুকে জেবু জেবু না করে বাড়ির পাশের নাম না জানা জেবুদের দিকে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেন...