10/04/2025
Pubali Bank Limited Vs. Chowdhury Shamim Hamid and another
Criminal Petition for Leave to Appeal Nos. 1059-1061 of 2024
(হাইকোর্ট বিভাগের ৩০.০৫.২০২৪ তারিখের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মামলার সারসংক্ষেপ:
ঘটনার পটভূমি:
পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, সিলেট এর দর্জাগেট শাখা হতে চৌধুরী শামীম হামিদ মোট ১৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এই ঋণের পরিশোধ বাবদ তিনটি চেক ইস্যু করেন, যার প্রতিটির পরিমাণ ৳৬০,৪৮,২৩১। যথাক্রমে ১৯.০৭.২০২১, ২০.০৭.২০২১ ও ২০.০৩.২০২১ তারিখে এই চেকসমূহ ব্যাংকে জমা দিলে যথাক্রমে অনুপযুক্ত অর্থ (insufficient fund) থাকার কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
চেক ডিজঅনার হওয়ায়, ব্যাংক থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ১৩৮ অনুসারে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। বিচারিক আদালত (Joint Metropolitan Sessions Judge, Sylhet) বিবাদী অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করে ০৩.০৪.২০২৪ তারিখে প্রতিটি মামলায় ১ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রতিটি চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেন।
বিবাদী ২৫.০৫.২০২৪ তারিখে গ্রেফতার হন এবং পরদিন জামিনের আবেদন করেন। ট্রায়াল কোর্ট জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন দায়ের করেন (Criminal Revision Nos. 3178, 3180 & 3179 of 2024)। হাইকোর্ট বিভাগ ৩০.০৫.২০২৪ তারিখে এক মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে—যাতে তিনি আপিলের পূর্বে ৫০% অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পান।
আইনগত বিশ্লেষণ:
ধারা ১৩৮এ (Negotiable Instruments Act):
এই ধারা অনুসারে, “যদি কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে চায়, তবে তাকে তার চেক ডিজঅনারকৃত অর্থের অন্তত ৫০% আদালতে জমা দিতে হবে।” এই ধারা অন্য কোন আইনের উপর অগ্রাধিকার পায় (non-obstante clause), অর্থাৎ CrPC এর ধারা ৪২৬(২A) এর পূর্বেও এই ধারা প্রযোজ্য।
ধারা ৪২৬(২A) (CrPC):
এই ধারা আদালতকে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অস্থায়ী জামিনে মুক্তি দিয়ে আপিলের সুযোগ দিতে বলে। কিন্তু আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছেন—এই ধারা প্রযোজ্য হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন ধারা ১৩৮এ-এর শর্ত পূরণ করে ৫০% অর্থ আদালতে জমা দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগের এক মাসের জামিন আদেশ আইনগত ভুল।
১৩৮এ ধারা অনুসারে ৫০% অর্থ জমা ছাড়া কোনও আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল না করে, হাইকোর্ট বিভাগ জামিন দিয়ে ভুল করেছে।
হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করা হলো।
তবে, যদি বিবাদী ৫০% অর্থ জমা দেন, তাহলে তিনি আপিল করতে পারবেন এবং বিচারিক আদালত চাইলে জামিন দিতে পারবে।