22/11/2025
দুইজন দু’দলের মানুষ—যারা একসময় একে অন্যকে হারাতে মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, ব্যক্তিগত ইমেজ দাগিয়ে আক্রমণ করেছে, নির্বাচনে একে অন্যকে নামিয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে—তারাই আজ মুখোমুখি বসে দেশের স্বার্থে কাজের কথা বলছে। দুই মেরুর দুইজন মানুষ, তবু একই টেবিলে বসে নিউইয়র্কের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেউ কাউকে অপমান করেননি, কটু কথা বলেননি। বরং দেখিয়েছেন, রাজনীতি যতই তীব্র হোক, দেশের স্বার্থে ego নামিয়ে রাখা যায়।
নভেম্বর ২১, ২০২৫-এর সেই বৈঠকে অনেকে আগুন দেখতে চাইলেও দেখা গেলো সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। ট্রাম্প ও জোহরান মামদানি—দুজনেই অতীতের বাকযুদ্ধ সরিয়ে রেখে সম্মান, সৌজন্য আর দায়িত্ববোধ দেখালেন। উচ্চমূল্যের বাজার, ভাড়ার চাপ, শিশু যত্নের খরচ, নিরাপত্তা—মানুষের দৈনন্দিন বাঁচার সমস্যাগুলো নিয়েই আলোচনা চলল। দুজনই বুঝলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সমাধান খুঁজতে হলে একসাথে কাজ করতেই হবে।
মিটিংয়ের পুরো পরিবেশটাই ছিল আশাব্যঞ্জক। ট্রাম্প মামদানির বিজয়কে প্রশংসা করেছেন, ইসলামফোবিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। মামদানি বললেন, নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ, ন্যায়বিচার, অভিবাসীদের নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে কোনো আপস নেই। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, নিউইয়র্ক কারও ব্যক্তিগত ক্ষমতার খেলার মাঠ নয়। এই শহর বৈচিত্র্যের প্রতীক, একতার প্রতীক।
মামদানি বৈঠক শেষে বললেন, মতের অমিল রেখেই তারা উন্নয়ন, অর্থনীতি আর শহরের সেবাগুলো আরও শক্তিশালী করার পথ খুঁজছেন। নিউইয়র্ক ন্যায় ও সমতার শহর—আরও উজ্জ্বল হবে, আরও সবার হবে।
এই দৃশ্যটাই আমাদের শেখায়—দেশের জন্য কাজ করতে চাইলে দল, মত, রঙ সবকিছু পিছনের সিটে চলে যায়। এশিয়ার অনেক দেশ এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। দল নয়, দেশ আগে—এটাই আসল পথ। বাংলাদেশ এ পথে এগিয়ে যাবে।