23/03/2025
কিছু প্রশ্ন থাক না - না জানাই ভালো।
সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের একটি ভিডিও চোখে পড়ল—এক নারী ঈদের কেনাকাটায় এসেছেন, সেই সময় এক রিপোর্টার মাইক্রোফোন হাতে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার শপিংয়ের বাজেট কত?”
মেয়েটি উত্তর দিলেন, “৫০০০ টাকা।”
এরপর আরও একটি প্রশ্ন—“এই টাকা দিয়ে কি পুরো পরিবারের কেনাকাটা করবেন?”
তিনি বললেন, “কি আর করা! যা আছে, সেটুকুই তো ভাগ করে নিতে হবে।”
এইখানেই থেমে যাওয়াটাই ছিলো মানবিক। কিন্তু প্রশ্ন থামল না।
রিপোর্টার জিজ্ঞেস করলেন, “কেউ লাখ টাকা খরচ করছে, আপনি পাঁচ হাজার—আপনার কী মনে হয় এই বৈষম্য দেখে?”
এই প্রশ্নেই যেন ছন্দপতন ঘটল মুহূর্তের মধ্যে। কাঁদতে শুরু করলেন সেই নারী।
কেউ চোখের সামনে কান্না শুরু করে এমন নয়—আমরা বুঝি না, ভিতরের লড়াইটা কতটা নিঃশব্দে হয়।
হয়তো আগের প্রশ্নেই তার ভেতরের জমে থাকা কষ্টটা ভেঙে পড়েছিল।
এই ঘটনা কেবল একজন মানুষের নয়—এটা আমাদের সাংবাদিকতার এক অনুপযুক্ত দিকের প্রতিফলন।
প্রতিদিন আমরা কত জনকে প্রশ্ন করি, কত অপ্রস্তুত করে তুলি—এই বুঝে না ওঠার অভ্যাসটাই আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে।
সময় হয়েছে ভাবার—সব প্রশ্নের উত্তর জানতেই হবে এমন তো নয়।
সব মুহূর্তে ক্যামেরা তাক করাটাই দায়িত্ববোধ নয়।
মানুষের আত্মসম্মান যেখানে জড়িয়ে আছে, সেখানেই থেমে যাওয়ার শিক্ষাটাই বড়ো প্রয়োজন।
২০২৫ সালেও যদি এই সংবেদনশীলতা তৈরি না হয়, তবে আমরা ঠিক কী বদলাতে পারলাম?