18/01/2024
🥋🦮মানুষ ও কুকুরের কৃতজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য!
পারিবারিক কিংবা সমাজ জীবন তো বটেই, রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ধরনের অকৃজ্ঞ বা কৃতঘ্ন ব্যক্তির সন্ধান হামেশাই মেলে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা চলচ্চিত্রে অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের একটি ডায়ালগ অনেকেরই মনে থাকার কথা। মীরজাফরের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘জনাব জাফর আলী খাঁ, আপনি শুধু সিপাহ্সালার নন, আপনি আমার আত্মীয়। বিপদের দিনে মেরুদন্ড সোজা করে, শির উঁচিয়ে যে পাশে এসে দাঁড়ায়, সে-ই না পরম আত্মীয়।’ কিন্তু নবাব সিরাজের সেই ‘পরম আত্মীয়’ই তাঁর সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। শুধু কি তাই? নবাবের বুকে মোহাম্মদী বেগ নামে যে যুবক ছোরা বসিয়েছিল, সে ছিল নবাবের নানা নবাব আলীবর্দী খাঁর পালিত পুত্র। মহীশুরের রাজা টিপু সুলতানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাঁর চাচাশ্বশুর মীর সাদিক। খন্দকার মোশতাক ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশ্বাসভাজন সহকর্মী। কিন্তু সেই মোশতাকই রাষ্ট্রক্ষমতার লোভে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে; যে ষড়যন্ত্রে নিহত হন তিনি।
বস্তুত কুকুরের সঙ্গে কিছু কিছু মানুষের পার্থক্য এখানেই। কুকুর তার প্রভু বা উপকারী বন্ধুর বিপদের দিনে চুপচাপ বসে থাকে না, বরং বিপদ থেকে বাঁচাতে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর অকৃতজ্ঞ মানুষ করে উল্টোটা। স্বার্থের জন্য উপকারী ব্যক্তিটির বুকে চাকু বসাতেও দ্বিধা করে না। আমার জীবনে এমন অনেক অকৃতজ্ঞ মানুষের দেখা পেয়েছি, যারা একসময়ের উপকারী ব্যক্তিটির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে কুণ্ঠিত হয় না। এমনও দেখেছি, যার অনুগ্রহে একসময় তার সংসার চলেছে, জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে নিজের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় অতীতের সবকিছু ভুলে গেছে। এমনকি একসময় যে তার দুঃসময় ছিল, সে যে অন্যের অনুগ্রহ প্রার্থী ছিল তা-ও বেমালুম অস্বীকার করার প্রয়াস পায়! এর অবশ্য একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে বলে আমার মনে হয়। তা হলো, একসময়ের কপর্দকহীন ওই ব্যক্তি অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে ওঠার ফলে তার কিছু মোসাহেব জুটে যায়। সেই মোসাহেবদের সামনে তার অতীতের দারিদ্র্যের কথা স্বীকার করতে সে হীনমন্যতায় ভোগে। অবশ্য প্রভু কিংবা উপকারী ব্যক্তিকে রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ লড়াই, এমনকি জীবনদানের ঘটনার নজির মানুষের মধ্যে নেই এটা বলা যাবে না। মহান আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব আমরা। আমাদের বলা হয় ‘আশরাফুল মাখলুকাত’। সেই আমাদেরই মধ্য থেকে কিছু মানুষ যখন সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীবের চেয়েও জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়, তখন নিজে নিজেই লজ্জা পেতে হয়। ভাগ্যিস পশুপাখি কথা বলতে পারে না বা আমরা ওদের ভাষা বুঝি না। তা না হলে যেসব ঘটনা কতিপয় মানুষ সমাজে ঘটায়, তাতে পশু-পাখিও আমাদের নিন্দাবাদ দিত, উপহাস করত। হয়তো খারাপ উদাহরণের ক্ষেত্রে ‘মানুষ’ শব্দটি ব্যবহার করত!
লেখক
মো: মিল্লাত মিয়া
এডভোকেট,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।