Adv Shovendu Datta

Adv Shovendu Datta Legal Consulting। Criminal Law। Family Law। Labor & Employment Law। Divorce Law । Consumer Law।

27/08/2026

Business Partner-এর সঙ্গে ঝামেলা হলে আদালতে যাওয়ার আগে কী করবেন?

ব্যবসা শুরু করার সময় অনেকেই ভাবেন, “আমরা তো বন্ধু/আত্মীয়/বিশ্বাসের মানুষ, চুক্তির আবার কী দরকার?”

কিন্তু ব্যবসায় সবচেয়ে বড় ভুল অনেক সময় এখানেই হয়।

Business Partner এর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে সরাসরি মামলা করার আগে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত।

১. প্রথমেই Partnership Deed/Agreement দেখুনঃ

কার কত টাকা বিনিয়োগ, কার কত শতাংশ অংশ, লাভ-লোকসান কীভাবে ভাগ হবে, কে ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা কার, কেউ ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে কী হবে, বিরোধ হলে কীভাবে সমাধান হবে, এসব বিষয়ে কী চুক্তি আছে তা আগে দেখতে হবে।

Partnership Act, 1932 অনুযায়ী partners-এর পারস্পরিক rights and duties অনেকাংশেই তাদের চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।

২. মৌখিক কথার ওপর নির্ভর না করে প্রমাণ সংগ্রহ করুনঃ

ব্যবসার Bank Statement, হিসাবের খাতা, invoice, voucher, cheque, agreement, email, WhatsApp/Messenger communication, Board/Partner meeting-এর minutes এবং অন্যান্য financial documents সংরক্ষণ করুন।

কারণ আদালতে শুধু “সে আমার টাকা নিয়েছে” বললেই হবে না, অভিযোগের পক্ষে documentary evidence অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. কোম্পানি নাকি Partnership Firm, সেটি আগে নির্ধারণ করুনঃ

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার ব্যবসা যদি registered company হয়, তাহলে Companies Act ও company-এর Memorandum, Articles, shareholders’ agreements এবং Board resolutions গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে partnership firm হলে Partnership Act, 1932-এর বিধান প্রযোজ্য হবে। একজন partner সাধারণভাবে firm-এর business-এর ক্ষেত্রে firm-এর agent হিসেবে কাজ করতে পারেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তার কাজ partnership firm-কে bind করতে পারে।

৪. হিসাব চেয়ে লিখিতভাবে দাবি করুনঃ

Partner ব্যবসার টাকা কোথায় খরচ করেছেন, কত টাকা উত্তোলন করেছেন, কী সম্পদ রয়েছে, কত লাভ হয়েছে, কার কাছে কত টাকা পাওনা, এসব বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব না দিলে প্রথমেই লিখিতভাবে accounts ও relevant documents চাওয়া যেতে পারে।

আইন অনুযায়ী partners একে অপরের প্রতি just and faithful থাকতে এবং firm-এর বিষয় সম্পর্কে true accounts ও full information দিতে বাধ্য।

৫. Partner যদি ব্যবসার টাকা বা সম্পদ আত্মসাৎ করেন, বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন নাঃ

কোনো partner fraud বা misappropriation করেছেন কি না, তার কাজটি partnership agreement-এর বিরুদ্ধে কি না এবং এর ফলে firm বা অন্য partner-এর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা জরুরি।

প্রয়োজনে পরিস্থিতি অনুযায়ী civil remedy-এর পাশাপাশি criminal liability-এর বিষয়টিও আইনজীবীর মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে।

৬. মামলা করার আগে Legal Notice অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণঃ

একটি properly drafted legal notice-এর মাধ্যমে__

* হিসাব প্রদানের দাবি
* আত্মসাৎকৃত টাকা/সম্পদ ফেরতের দাবি
* বেআইনি কার্যক্রম বন্ধের দাবি
* প্রয়োজনীয় documents প্রদানের দাবি
* partnership Deed এর শর্ত মেনে চলার দাবি

জানানো যেতে পারে।

অনেক বিরোধ মামলা পর্যন্ত না গিয়েও এই পর্যায়ে সমাধান করা সম্ভব হয়।

৭. সম্পর্ক একেবারে নষ্ট হয়ে গেলে Dissolution-এর বিষয়টি বিবেচনা করুন

Partner-দের মধ্যে সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছালে যে একসঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা আর সম্ভব নয়, তখন partnership dissolution-এর প্রশ্ন আসতে পারে।

Partnership Act, 1932-এর Section 44 অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত firm dissolve করতে পারে, যেমন partner-এর গুরুতর misconduct, management agreement-এর wilful বা persistent breach অথবা এমন পরিস্থিতি যেখানে partners-এর সঙ্গে একসঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া reasonably practicable নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো:

Business Partner-এর সঙ্গে বিরোধ হলে আবেগের বশে সঙ্গে সঙ্গে মামলা করা উচিত নয়।

প্রথমে Agreement >Accounts >Documents >Legal Notice >Appropriate Legal Remedy এই ধারাবাহিকতায় এগোনো অনেক বেশি কার্যকর।

কারণ ভুল আদালতে, ভুল আইনি ভিত্তিতে বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া মামলা করলে সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

02/08/2026

মুসলিম আইনে ভাইয়েরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি বোনদের না দিলে আইনি করণীয়:

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী (ফরায়েজ অনুযায়ী), বাবা বা মায়ের মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে শরীয়াহ অনুযায়ী বণ্টিত হয়।
এখানে ছেলের অংশ হয় মেয়ের দ্বিগুণ। অর্থাৎ, যদি এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকে, সম্পত্তি তিন ভাগে ভাগ হবে। ছেলে পাবেন দুই ভাগ, মেয়ে পাবেন এক ভাগ। একাধিক সন্তান থাকলে প্রতি ছেলের জন্য দুই অংশ ও প্রতি মেয়ের জন্য এক অংশ করে বিবেচনায় সম্পত্তি ভাগ হয়।

ভাই কি চাইলে বোনকে তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে বাদ দিতে পারেন?

না, ভাই চাইলেই বোনকে সম্পত্তি থেকে বাদ দিতে পারেন না। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ভিত্তিতে বণ্টিত হয় না। বরং এটি শরীয়ত নির্ধারিত নিয়মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। ভাই যদি জোরপূর্বক বোনকে তার অংশ না দেন, তাহলে সেটি ধর্মীয়ভাবে ও আইনের চোখে সম্পূর্ণ অবৈধ। এমন আচরণ ইসলাম ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভাই যদি বোনকে সম্পত্তি দিতে না চান তাহলে বোনের করণীয় কী?
বোন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

এক্ষেত্রে তার করণীয়

১. লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো: প্রথমে ভাইকে আইনি নোটিশ দিয়ে তার প্রাপ্য অংশ দাবি করা উচিত।

২. সিভিল কোর্টে 'ভাগ-বণ্টনের মামলা' করা: ভাই ভাগ না দিলে, সংশ্লিষ্ট জেলায় সিভিল আদালতে সম্পত্তির হিস্যা নির্ধারণ চেয়ে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা।

৩. ইনজাংশন নেওয়া: মামলা চলাকালে ভাই যেনো বোনের অংশ বিক্রি বা হস্তান্তর না করতে পারেন, সেজন্য কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা আদেশ (injunction) নিতে হবে।

৪. জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যদি ভাই জাল দলিল করে বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন, তবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।

৫. ভূমি রেকর্ড সংশোধনের আবেদন: ভুল বা প্রতারণামূলকভাবে করা খতিয়ান, নামজারি, রেকর্ড সংশোধনের জন্য ভূমি অফিসে (AC Land) আবেদন করা যায়। সেখানে সমাধান না হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

ভাই যদি বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে জাল দলিল তৈরি করেন, তাহলে কী করা যায়?

যদি ভাই জাল কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন বা বোনের নামে কোনো মাফনামা বা দাননামা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করেন, তাহলে বোন ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। এ ধরনের প্রতারণার জন্য ফৌজদারি আইন অনুযায়ী (দণ্ডবিধি, ১৮৬০) প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও জাল দলিল ব্যবহার এর অপরাধের বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। পাশাপাশি বোন চাইলে ভূমি অফিসে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করতে পারেন এবং সিভিল কোর্টে রেকর্ড বাতিল চেয়ে পৃথক মামলা দায়ের করতেও পারেন।

বোন যদি অনেক দিন বিদেশে থাকেন এবং ফিরে এসে সম্পত্তির দাবি করেন, তাহলে কি তিনি অধিকার হারান?

বিদেশে অবস্থান বা দীর্ঘদিন সম্পত্তির দাবি না করা কোনো নারীকে তার উত্তরাধিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। যত দিন না তিনি স্বেচ্ছায় সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দেন ততদিন পর্যন্ত তিনি তার অংশ দাবি করতে পারবেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সম্পত্তি দাবি করলে দলিল ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে যথাযথ প্রমাণসহ আদালতে মামলা করা উচিত, যাতে প্রতিপক্ষের পক্ষে 'সময়সীমা' বা 'হস্তান্তরের অনুমান' তুলে ধরার সুযোগ না থাকে। প্রয়োজনে Limitation Act অনুযায়ী মামলা দায়েরের সময় গণনার বিষয়ে আইনি যুক্তিও তুলে ধরা যেতে পারে।

বিয়ের সময় প্রাপ্য উপহার কি সম্পত্তি থেকে বাদ যাবে?

বিয়ের সময় গয়না, আসবাব বা নগদ অর্থ পেলেও তা উত্তরাধিকার সম্পত্তির বিকল্প নয়। বিয়ের সময় যা দেওয়া হয় তা হচ্ছে উপহার। এটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাবা-মার মৃত্যুর পর তারা যে সম্পত্তি রেখে যান, তা শরীয়াহ মোতাবেক ছেলে-মেয়ে সবার মধ্যে নির্দিষ্ট হারে বণ্টন করতে হবে।

বোন যদি ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে না চান তবে কি বিকল্প কোনো সমাধান আছে?

সম্পত্তির জন্য বোন যদি ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে না চান সেক্ষেত্রে মামলা না করেও বিকল্পভাবে সমাধানের পথ আছে। বোন চাইলে প্রথমে পারিবারিক আলোচনা করতে পারেন। এছাড়াও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (lternative Dispute Resolution - ADR) পদ্ধতি ব্যবহার করে উভয় পক্ষ মিলেমিশে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন করতে পারেন।

14/07/2026

লিমিটেড কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন: আইনি কাঠামো, প্রক্রিয়া ও করণীয়:

বাংলাদেশে কোম্পানি নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (Companies Act, 1994) অনুযায়ী একটি কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয়। নিবন্ধনের পর কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনি সত্তা (Separate Legal Entity) লাভ করে এবং নিজ নামে সম্পদ অর্জন, চুক্তি সম্পাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

লিমিটেড কোম্পানি কী?

লিমিটেড কোম্পানি হলো এমন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের দায় তাদের বিনিয়োগকৃত শেয়ারের পরিমাণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে কোম্পানির ব্যবসায়িক দায় বা ক্ষতির কারণে সাধারণত মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে না। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে লিমিটেড কোম্পানি একটি জনপ্রিয় কাঠামো।

বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে: ১. প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি (Private Limited Company): নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অধিক উপযোগী ও বহুল ব্যবহৃত। ২. পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public Limited Company)

কেন লিমিটেড কোম্পানি করবেন?
স্বতন্ত্র আইনি সত্তা: কোম্পানি মালিকদের থেকে পৃথক একটি আইনি পরিচয় লাভ করে এবং নিজ নামে মামলা ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।

সীমিত দায়ের সুবিধা: শেয়ারহোল্ডারদের দায় সাধারণত তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

ব্যবসার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি: নিবন্ধিত কোম্পানির প্রতি ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা তুলনামূলক বেশি থাকে।

বিনিয়োগ সংগ্রহে সুবিধা: নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সহজেই দেবদূত বিনিয়োগকারী (Angel Investors) বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল যুক্ত করা যায়।

ব্যবসার ধারাবাহিকতা: পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তন বা মৃত্যুবরণ করলেও কোম্পানির কার্যক্রম ও অস্তিত্ব অব্যাহত থাকে।

কোম্পানি নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্য ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়:

পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট

পাসপোর্ট সাইজ ছবি

ই-টিআইএন (e-TIN) সনদ

নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানা (Registered Office Address)

অনুমোদিত মূলধন (Authorised Capital) ও পরিশোধিত মূলধনের (Paid-up Capital) তথ্য

Memorandum of Association (MOA) ও Articles of Association (AOA)

সক্রিয় ই-মেইল ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর।

কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের প্রধান ধাপসমূহ
ধাপ ১- নামের ছাড়পত্র (Name Clearance) : RJSC-এর অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কোম্পানির জন্য একটি অনন্য ও প্রস্তাবিত নামের অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়। নাম অনুমোদিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
ধাপ ২- MOA ও AOA প্রস্তুতকরণ : MOA (Memorandum of Association): এতে কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি ও ব্যবসার ধরন উল্লেখ করা হয়। AOA (Articles of Association): এতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা, শেয়ার হস্তান্তর, বোর্ড সভা পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিধান নির্ধারণ করা হয়।
ধাপ ৩- অনলাইন আবেদন ও ফি প্রদান : RJSC-এর নির্ধারিত পোর্টালে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও ডকুমেন্ট আপলোড করে মূলধন অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধের মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হয়।
ধাপ ৪ – যাচাই ও নিবন্ধন সনদ লাভ: RJSC কর্তৃপক্ষ দাখিলকৃত কাগজপত্র ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে Certificate of Incorporation (নিবন্ধন সনদ) ইস্যু করে। এর মাধ্যমে কোম্পানি আইনগতভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
নিবন্ধনের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করণীয়
কোম্পানি ইনকর্পোরেশন হওয়ার পরপরই ব্যবসা শুরু করার জন্য নিচের ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে:

ট্রেড লাইসেন্স: সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোম্পানির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

টিআইএন (TIN) ও বিআইএন (BIN) নিবন্ধন: কোম্পানির নিজস্ব নামে ই-টিআইএন গ্রহণ করতে হবে এবং ভ্যাট (VAT) প্রযোজ্য হলে বিআইএন (BIN) নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ব্যাংক হিসাব: কোম্পানির নামে একটি পৃথক ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খুলে সকল আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা উচিত।

হিসাবরক্ষণ ও অডিট: কোম্পানি আইন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সঠিক হিসাব বই সংরক্ষণ ও প্রতি বছর লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা অডিট সম্পন্ন করতে হবে।

বার্ষিক রিটার্ন দাখিল: প্রতি বছর নিয়মিতভাবে RJSC-তে Annual Return (Schedule X), Shareholding সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য রিটার্ন ও নোটিশ দাখিল করতে হয়।

উদ্যোক্তাদের সাধারণ কিছু ভুল ও কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি
সতর্কতা: অনেক উদ্যোক্তা মনে করেন কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। বাস্তবে কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মিত আইনি বাধ্যবাধকতা বা কমপ্লায়েন্স (Compliance) বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত Annual Return দাখিল না করা, Tax ও VAT সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা অবহেলা করা, শেয়ার হস্তান্তরের নিয়ম অনুসরণ না করা কিংবা ভুল Object Clause ব্যবহার করার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা বা জরিমানা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে Financial Service, Microcredit, Investment, Fintech, Insurance, Education, Healthcare বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য RJSC নিবন্ধনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ লাইসেন্স বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার (যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ইত্যাদি) অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

22/06/2026

প্রতিবেশী চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিলে কী করবেন?

অনেক সময় দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তা হঠাৎ করে প্রতিবেশী বাঁশ, টিন, দেয়াল বা অন্য কোনো স্থাপনা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়ে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, চলাচলের বৈধ পথ বন্ধ করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কী করবেন?

✅ প্রথমে জমির দলিল, খতিয়ান, নকশা (মৌজা ম্যাপ), পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং রাস্তা ব্যবহারের প্রমাণ সংগ্রহ করুন।

✅ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিন।

✅ বিষয়টি সমাধান না হলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করে রাস্তা পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারেন।

কোন আইনে প্রতিকার পাবেন?

১. Easements Act, 1882 (ইজমেন্ট আইন, ১৮৮২)

ধারা ১৫ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ২০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে একটি রাস্তা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তিনি ওই পথ ব্যবহারের আইনগত অধিকার (Right of Way) অর্জন করতে পারেন।

২. Specific Relief Act, 1877

ধারা ৫৪ ও ৫৫ অনুযায়ী, আদালত প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) প্রদান করে রাস্তা বন্ধের কাজ বন্ধ করতে বা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিতে পারেন।

৩. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code)

ধারা ৩৩৯ — বেআইনিভাবে কারো চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত করা Wrongful Restraint হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ধারা ৩৪১ — Wrongful Restraint-এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

৪. ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)

ধারা ১৩৩ অনুযায়ী, জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন বাধা অপসারণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

রাস্তা আপনার নামে রেকর্ড না থাকলেও, যদি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবহার করে থাকেন এবং অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকে, তাহলে আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে আপনার চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

20/06/2026

মুসলিম আইন অনুযায়ী ভাইয়েরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি বোনদের না দিলে কী আইনি ব্যবস্থা নেবেন:

প্রথমে জেনে নিন, মুসলিম আইনে বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে মেয়ের অংশ কতটা এবং একাধিক ছেলে-মেয়ে থাকলে সেই সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী (ফরায়েজ অনুযায়ী), বাবা বা মায়ের মৃত্যুর পর তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে শরীয়াহ অনুযায়ী বণ্টিত হয়। এখানে ছেলের অংশ হয় মেয়ের দ্বিগুণ। অর্থাৎ, যদি এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকে, সম্পত্তি তিন ভাগে ভাগ হবে। ছেলে পাবেন দুই ভাগ, মেয়ে পাবেন এক ভাগ। একাধিক সন্তান থাকলে প্রতি ছেলের জন্য দুই অংশ ও প্রতি মেয়ের জন্য এক অংশ করে বিবেচনায় সম্পত্তি ভাগ হয়।

ভাই কি চাইলে বোনকে তার বাবা-মায়ের সম্পত্তি থেকে বাদ দিতে পারেন?

না, ভাই চাইলেই বোনকে সম্পত্তি থেকে বাদ দিতে পারেন না। মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সম্পত্তি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ভিত্তিতে বণ্টিত হয় না। বরং এটি শরীয়ত নির্ধারিত নিয়মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়। ভাই যদি জোরপূর্বক বোনকে তার অংশ না দেন, তাহলে সেটি ধর্মীয়ভাবে ও আইনের চোখে সম্পূর্ণ অবৈধ। এমন আচরণ ইসলাম ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভাই যদি বোনকে সম্পত্তি দিতে না চান তাহলে বোনের করণীয় কী?

বোন সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলে অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

১. লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো: প্রথমে ভাইকে আইনি নোটিশ দিয়ে তার প্রাপ্য অংশ দাবি করা উচিত।

২. সিভিল কোর্টে 'ভাগ-বণ্টনের মামলা' করা: ভাই ভাগ না দিলে, সংশ্লিষ্ট জেলায় সিভিল আদালতে সম্পত্তির হিস্যা নির্ধারণ চেয়ে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা।

৩. ইনজাংশন নেওয়া: মামলা চলাকালে ভাই যেনো বোনের অংশ বিক্রি বা হস্তান্তর না করতে পারেন, সেজন্য কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা আদেশ (injunction) নিতে হবে।

৪. জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যদি ভাই জাল দলিল করে বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন, তবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।

৫. ভূমি রেকর্ড সংশোধনের আবেদন: ভুল বা প্রতারণামূলকভাবে করা খতিয়ান, নামজারি, রেকর্ড সংশোধনের জন্য ভূমি অফিসে (AC Land) আবেদন করা যায়। সেখানে সমাধান না হলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

বিনামূল্যে আইনি সহায়তা: আর্থিক অস্বচ্ছল নারী জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বিনামূল্যে আইনজীবী, মামলা পরিচালনা ও কোর্ট ফিস ছাড় সংক্রান্ত সহায়তা পেতে পারেন।

ভাই যদি বোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে জাল দলিল তৈরি করেন, তাহলে কী করা যায়?

যদি ভাই জাল কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন বা বোনের নামে কোনো মাফনামা বা দাননামা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করেন, তাহলে বোন ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। এ ধরনের প্রতারণার জন্য ফৌজদারি আইন অনুযায়ী (দণ্ডবিধি, ১৮৬০) প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও জাল দলিল ব্যবহার এর অপরাধের বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করা যায়। পাশাপাশি বোন চাইলে ভূমি অফিসে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করতে পারেন এবং সিভিল কোর্টে রেকর্ড বাতিল চেয়ে পৃথক মামলা দায়ের করতেও পারেন।

বোন যদি অনেক দিন বিদেশে থাকেন এবং ফিরে এসে সম্পত্তির দাবি করেন, তাহলে কি তিনি অধিকার হারান?

বিদেশে অবস্থান বা দীর্ঘদিন সম্পত্তির দাবি না করা কোনো নারীকে তার উত্তরাধিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। যত দিন না তিনি স্বেচ্ছায় সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দেন ততদিন পর্যন্ত তিনি তার অংশ দাবি করতে পারবেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সম্পত্তি দাবি করলে দলিল ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে যথাযথ প্রমাণসহ আদালতে মামলা করা উচিত, যাতে প্রতিপক্ষের পক্ষে 'সময়সীমা' বা 'হস্তান্তরের অনুমান' তুলে ধরার সুযোগ না থাকে। প্রয়োজনে Limitation Act অনুযায়ী মামলা দায়েরের সময় গণনার বিষয়ে আইনি যুক্তিও তুলে ধরা যেতে পারে।

বিয়ের সময় প্রাপ্য উপহার কি সম্পত্তি থেকে বাদ যাবে?

বিয়ের সময় গয়না, আসবাব বা নগদ অর্থ পেলেও তা উত্তরাধিকার সম্পত্তির বিকল্প নয়। বিয়ের সময় যা দেওয়া হয় তা হচ্ছে উপহার। এটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বাবা-মার মৃত্যুর পর তারা যে সম্পত্তি রেখে যান, তা শরীয়াহ মোতাবেক ছেলে-মেয়ে সবার মধ্যে নির্দিষ্ট হারে বণ্টন করতে হবে।

বোন যদি ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে না চান তবে কি বিকল্প কোনো সমাধান আছে?
সম্পত্তির জন্য বোন যদি ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে না চান সেক্ষেত্রে মামলা না করেও বিকল্পভাবে সমাধানের পথ আছে। বোন চাইলে প্রথমে পারিবারিক আলোচনা করতে পারেন। এছাড়াও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (lternative Dispute Resolution - ADR) পদ্ধতি ব্যবহার করে উভয় পক্ষ মিলেমিশে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন করতে পারেন।

02/06/2026

ঘটনার বিবরণ:

মৃত সুবোধ চন্দ্র রায় কোনো স্ত্রী, পুত্র, কন্যা বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারী রেখে যাননি। তিনি মৃত্যুকালে নিম্নোক্ত আত্মীয়দের রেখে গেছেন—

মৃত ভাই শান্তি কুমার রায়ের ২ পুত্র: নিগমানন্দ রায় ও মহানন্দ রায়

মৃত ভাই বিমল চন্দ্র রায়ের ১ পুত্র: সাগর চন্দ্র রায়

মৃত ভাই অমল চন্দ্র রায়ের ১ পুত্র: অক রায়

প্রযোজ্য আইন:

বাংলাদেশে হিন্দুদের উত্তরাধিকার বিষয়ক আইন প্রধানত দায়াভাগ (Dayabhaga) হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। দায়াভাগ মতে, কোনো ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উত্তরাধিকারী ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়গণ উত্তরাধিকারী হন।
যদি কোনো ভাই মৃত থাকে, তবে তার পুত্রগণ তাদের পিতার স্থলাভিষিক্ত (representative) হিসেবে উত্তরাধিকার লাভ করে।

আইনগত বিশ্লেষণ:

সুবোধ চন্দ্র রায়ের তিন ভাই থাকলে প্রত্যেকে সমান অংশের অধিকারী হতেন। অতএব সম্পত্তি প্রথমে তিনটি সমান অংশে বিভক্ত হবে।

শান্তি কুমার রায়ের = ১/৩ অংশ
বিমল চন্দ্র রায়ের = ১/৩ অংশ
অমল চন্দ্র রায়ের = ১/৩ অংশ

পরবর্তীতে শান্তি কুমার রায়ের ১/৩ অংশ তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

চূড়ান্ত অংশ নির্ধারণ:

উত্তরাধিকারীর নাম অংশ
নিগমানন্দ রায়। ১/৬
মহানন্দ রায়। ১/৬
সাগর চন্দ্র রায় ১/৩
অক রায় ‌‌ ‌‌ ‌‌ ১/৩

শতকরা হিসাব:

উত্তরাধিকারীর নাম শতকরা
নিগমানন্দ রায় ১৬.৬৭%
মহানন্দ রায়। ১৬.৬৭%
সাগর চন্দ্র রায় ৩৩.৩৩%
অক রায় ৩৩.৩৩%

উপস্থাপিত তথ্য এবং বাংলাদেশে প্রচলিত দায়াভাগ হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত সুবোধ চন্দ্র রায়ের সম্পত্তিতে—
নিগমানন্দ রায় ১/৬ অংশ,
মহানন্দ রায় ১/৬ অংশ,
সাগর চন্দ্র রায় ১/৩ অংশ এবং
অক রায় ১/৩ অংশ
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য হবেন।
তবে এই মতামত এই শর্তে প্রদান করা হচ্ছে যে মৃত সুবোধ চন্দ্র রায়ের কোনো স্ত্রী, মাতা, কন্যা, দত্তক সন্তান, উইল বা অন্য কোনো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উত্তরাধিকারী নেই।

24/05/2026

ফৌজদারি মামলায় নিম্নের ধাপ সমূহ শেষ করেই কেবল আসামির ফাঁসি কার্যকর করা যায়:-

১। ঘটনা
২। সুরতহাল প্রতিবেদন
৩। মামলা দায়ের
৪। আসামী গ্রেপ্তার
৫। আসামীর দোষস্বীকার
৬। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
৭। ডিএনএ প্রতিবেদন
৮। ঘটনাস্থল পরিদর্শন
৯। আলামত
১০। জব্দ-তালিকা
১১। খসড়া মানচিত্র
১২। খসড়া মানচিত্রের সূচি
১৩। খসড়া মানচিত্রের সূচির ব্যাখ্যা
১৪। ১৬১ ধারার জবানবন্দি
১৫। ১৭০ ধারার মুচলেকা
১৬। পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন
==
১৭। আমলে গ্রহণ
১৮। চার্জ গঠন
১৯। সাক্ষীর জবানবন্দি
২০। সাক্ষীর জেরা
২১। যুক্তিতর্ক
২২। সাজার রায়
==
২৩। হাইকোর্টে আপীল
২৪। হাইকোর্টে শুনানি
২৫। হাইকোর্টের রায়ে সাজা বহাল
==
২৬। আপীল বিভাগে আপীল
২৭। আপীল বিভাগে শুনানি
২৮। আপীল বিভাগের রায়ে সাজা বহাল
==
২৯। আপীল বিভাগে রিভিউ
৩০। আপীল বিভাগে রিভিউ'র শুনানি
৩১। আপীল বিভাগে রিভিউ'র রায়ে সাজা বহাল
==
৩২। রাষ্ট্রপতির নিকট সাজা মওকুফের প্রার্থনা
৩৩। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মওকুফের প্রার্থনা নামঞ্জুর
==
৩৪। হ্যাঁ এরপরই কেবল রায় কার্যকর।

বিজ্ঞ আইনজীবীদের পোশাক সংক্রান্ত
08/04/2026

বিজ্ঞ আইনজীবীদের পোশাক সংক্রান্ত

অধস্তন আদালতসমূহের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ:-
07/04/2026

অধস্তন আদালতসমূহের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ:-

11/08/2025

ফৌজদারি কার্যবিধির যুগান্তকারী সংস্কার:

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এই সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যুগান্তকারী কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা তিন লাখ টাকা, অথচ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার এখতিয়ার মাত্র দশ হাজার টাকা। এবারের সংশোধনীতে ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে (ধারা ৩২)।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রক্ষাকবচ
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণসমূহকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ৪৬এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারকারীর নেমপ্লেট থাকতে হবে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। যেক্ষেত্রে আসামিকে তার বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে (যা কোনোভাবেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না) আসামির পরিবার বা নিকটজনকে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা আসামি অসুস্থ হলে অবশ্যই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঘাত বা অসুস্থতা সম্পর্কে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে। আসামি যদি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় এবারের সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ এর প্রবর্তন (ধারা ৪৬এ)। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই বিধান এবং এ-সম্পর্কিত একটি ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই পুলিশকে এখন থেকে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষাসমূহের একটি চেকলিস্ট রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থাপনের সময় এই ফর্মটিও দাখিল করতে হবে। রক্ষাকবচ সম্পর্কিত বিধানসমূহ কতটা প্রতিপালিত হয়েছে, এই ফর্ম দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সেটি তদারকি করতে পারবেন। উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের কিছু জেলায় বর্তমানে এই ফর্ম সফলভাবে চালু আছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সন্নিবেশ করার ফলে এখন থেকে সারা দেশে এই বিধান বাস্তবায়িত হবে।

গ্রেপ্তারের তথ্য সরবরাহে বিশেষ বিধান
গ্রেপ্তারকৃতের তথ্য পেতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ভয়ানক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে কেন বা কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে—এ-সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তি খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নতুন বিধান যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। আবার ৪৬বি এবং ৪৬সি ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রেপ্তারের তথ্য গ্রেপ্তারকারীর অফিসের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যে থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতেও এন্ট্রি করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কেউ থানায় যোগাযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি থানা, জেলা ও মহানগর পুলিশ অফিসে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

গ্রেপ্তারকৃতের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সা, অলঙ্কার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী থাকে। এসব দ্রব্য যদি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে মামলার জব্দতালিকায় সেগুলো উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব মূল্যবান বস্তুর সঙ্গে অপরাধের সংযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এখন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে এমন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তার জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং সম্ভব হলে সেই তালিকায় একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। ওই তালিকার একটি কপি গ্রেপ্তারকৃতের নিকটজনকে দিতে হবে। (ধারা ৫১)।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারে অধিকতর সতর্কতা
অনেকের ধারণা, ৫৪ ধারার গ্রেপ্তার মানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই খামখেয়ালী গ্রেপ্তার। মনে করা হয়, মামলাসূত্রে যেসব গ্রেপ্তার, সেগুলো ৫৪ ধারার অধীন নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, পুলিশ যেসব ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে, ৫৪ ধারায় তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। থানায় দায়েরকৃত এজাহার কিংবা আদালত দায়েরকৃত নালিশি মামলা- তদন্ত যদি পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত হয়, আর পুলিশ যদি আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়, সেক্ষেত্রে আসামিকে ওই মামলাসূত্রে পুলিশের গ্রেপ্তার করার যে ক্ষমতা, সেটিও ৫৪ ধারার বিষয়বস্তু।

এবারের সংশোধনীতে আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত পুলিশের গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে, পুলিশের সামনে ওই ব্যক্তি অপরাধটি ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত কোনো এজাহার বা নালিশি মামলা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন থাকলে এবং পুলিশ ওই মামলা সংক্রান্তে কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে পুলিশকে দেখাতে হবে, অপরাধটি ওই ব্যক্তি করেছেন মর্মে পুলিশের সন্দেহ করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। যেখানে আমলযোগ্য অপরাধটির সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দেখাতে হবে যে, আসামি অধিকতর অপরাধ জড়ানো থেকে প্রতিহত করতে, তার পালিয়ে যাওয়ার ঠেকাতে বা সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করা থেকে তাকে বিরত রাখতে এই গ্রেপ্তার জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা না করা উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিবারণমূলক আটক করার প্রয়োজনে ৫৪ ধারার বিধান প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানের প্রতিপালনে আদালতের দায়িত্ব
গ্রেপ্তার সম্পর্কিত যেসব বিধান আইনে আছে, সেগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতকে। ৬৭এ ধারায় বলা হয়েছে, যে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাজির করা হবে, তার দায়িত্ব হবে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানাবলি প্রতিপালন হয়েছে কিনা দেখা। কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আদালত অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

পুলিশ রিমান্ড ও শ্যোন অ্যারেস্ট
একজন আসামিকে কতদিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে রাখা যায়, সে ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির বিদ্যমান বিধান অস্পষ্ট। এবার ১৬৭ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, এক মামলায় কোনোভাবেই ১৫ দিনের বেশি পুলিশ রিমান্ড নয়। একই সঙ্গে রিমান্ডে প্রেরণের আগে-পরেও আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতন করলে এবং আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আবার ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সম্পর্কিত ১৬৭এ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে, এক মামলার আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চাইলে পুলিশকে আদালতে আসামি ও পুলিশ ডায়েরি উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ
ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথমবারের মতো তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭৩বি ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো মামলার তদন্ত সাধারণভাবে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হলে বিস্তারিত কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে তদন্তকারী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। তার প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হলে তদন্তকারী পুনরায় তার কারণ ব্যাখা করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্তকারীর গাফলতি প্রতীয়মান হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তদন্তকারী পরিবর্তন বা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।

সংক্ষিপ্ত বিচারে বিশেষ বিধান
সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে চুরি, আত্মসাৎ প্রভৃতি মামলার বিষয়বস্তুর মূল্যমান অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা হলে তার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এই মূল্যমান বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচার সংক্রান্ত বিশেষ বিধান ২৬৪এ যুক্ত করে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে একই বৈঠকে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এবং যেকোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা যাবে।

অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা বাধ্যতামূলক নয়
অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা কেবল দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারী এক প্রক্রিয়ার নাম। ৩৩৯বি ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা জারির কোনো আবশ্যকতা আর থাকবে না। ফলে পলাতক আসামির মামলা দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

একইসঙ্গে পলাতক আসামিকে আদালেত উপস্থিত হওয়ার আদেশ দুটি পত্রিকার পরিবর্তে একটি বাংলা পত্রিকায় এবং পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।

আপসযোগ্য মামলা
বেআইনি সমাবেশ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা এতদিন আপসঅযোগ্য ছিল। এবার এই অপরাধকে আপসযোগ্য করা হয়েছে। এতদিন অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি করার পথে এই ধারাটির আপসঅযোগ্যতা বাধা ছিল।

আপসের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সংশোধনী হলো— এখন থেকে আদালত নিজে আপস কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারবে এবং পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আপসের জন্য মামলা প্রেরণ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, আপসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে সেই চুক্তি নথিভুক্ত করে এর শর্ত বাস্তবায়নে আদালত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। অনেক মামলায় দেখা যায়, আপস হলেও আপসের চুক্তি লিপিবদ্ধ করা হয় না এবং আসামি চুক্তি মোতাবেক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধের পর টাকা প্রদান বন্ধ করে দেন। এরকম ক্ষেত্রে এতদিন আপস-প্রক্রিয়া স্থগিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার রায় দিতে হতো। এখন থেকে আপস-চুক্তি থাকলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়েও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবে।

জামিনে শর্তযুক্ত করা
বর্তমানে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামির ওপর নানা শর্ত আরোপ করার সুযোগ রয়েছে। এভাবেই সারা দেশে হাজার হাজার আসামি সংশোধন হচ্ছে। তবে প্রবেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এটি কেবল মামলার শেষে প্রয়োগযোগ্য। মামলা চলাকালে আসামির সদাচরণ সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে আদালত অঙ্গনে দ্বিধা ছিল। অনেক মনে করেন, শর্ত আরোপ করে জামিন প্রদানের সুযোগ নেই। তবে এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রেফারেন্স পাঠ করলে দেখা যায়, কেবল এমন কঠোর শর্ত দেওয়া যাবে না, যা জামিন না দেওয়ারই নামান্তর। যেমন আসামির সামর্থ্যবহির্ভুত বিরাট অঙ্কের টাকা জমাদান সাপেক্ষে জামিন দেয়া হলে সেই শর্ত সঠিক হবে না। এরকম শর্তের বাইরে আসামির সদাচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করার সুযোগ উচ্চ আদালতের বহু সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। এবারের সংশোধনীতে ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, জামিন প্রদানের সময় আদালত যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে। ফলে মামলা চলাকালে আসামিদের ডোপটেস্ট বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত আরোপ করতে পারবে আদালত। যা সংশোধনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য দারুণ সহায়ক হবে।

ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আসামির অব্যাহতি
ফৌজদারি মামলায় ভোগান্তির জন্য আসামি চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয় মূলত তারিখে তারিখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরও নিস্তার নেই এই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে। হাজিরা দিতে একটু ব্যত্যয় ঘটলেই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। এবারের সংশোধনীতে তদন্ত চলাকালে আসামির হাজিরা শিথিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪০এ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে তদন্ত রিপোর্ট শুনানি পর্যন্ত জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। এ-সময় আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। পূর্বে কোনো কোনো আদালত ২০৫ ধারার অধীনে এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতেন, যদিও আইনত ওই ধারা কেবল মামলা আমলে গ্রহণের পর প্রযোজ্য, তার আগে প্রযোজ্য নয়। নতুন আইনে স্পষ্ট বিধান যুক্ত হওয়ায় সারা দেশের লাখ লাখ জামিনপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগত হাজিরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে কোনো আসামি উপস্থিত না থাকলেও এখন থেকে আসামির আইনজীবী আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই সুযোগ নিতে হলে অন্তত একজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকতে হতো।

সাক্ষীর খরচ ও সুরক্ষা
আদালতে আগত সাক্ষীদের অনেকেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সাক্ষ্যদানের পর তারা যাতায়াত ও খোরাকি ভাতা প্রত্যাশা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীর খরচ প্রদানের জন্য বিধান থাকলেও সেটি কার্যকর করার জন্য পৃথক বিধি প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি সহজ করার উদ্দেশ্যে এবার ‘বিধি’-এর পরিবর্তে ‘সরকারি আদেশ’ দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সাক্ষী সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইনে বিধান থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো বিধান ছিল না। এবারের সংশোধনীতে সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সব ধরনের ফৌজদারি মামলায় সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় জামিনঅযোগ্য
দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা এতদিন পর্যন্ত জামিনযোগ্য ছিল। ফলে হাত-পা ভেঙে যাওয়া, চোখ-কানের মতো মূল্যবান অঙ্গহানির ক্ষেত্রেও আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। আসামির জামিনকে কঠিন করার জন্য মামলায় ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মিথ্যা বর্ণনা যুক্ত করা হতো, যাতে মামলাটি দণ্ডবিধির জামিনঅযোগ্য ৩২৬ ধারার আওতায় দেখানো যায়। এতে করে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে জামিন কঠিন হলেও চূড়ান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের প্রমাণ না মিললে আসামি সুবিধা পেত। সবদিক বিবেচনায় এবারের সংশোধনীতে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারাকে জামিনঅযোগ্য করা হয়েছে। ফলে গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে অস্ত্রের প্রয়োগ ছিল কি না, জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর সেটি ধর্তব্য হবে না।

মিথ্যা মামলার সাজা বৃদ্ধি
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বে ঐচ্ছিক ছিল (২৫০ ধারা)। বর্তমানে এটিকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিবিধ
ডিজিটাল মাধ্যমে সমন জারি এবং অনলাইনে বেল বন্ড দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেত্রাঘাতের মতো অবমাননাকর সাজা সম্পর্কিত সকল বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। পূর্বে আপিলঅযোগ্য অর্থদণ্ডের পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ টাকা, এটিকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মারুফ আল্লাম, সিনিয়র সহকারী সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ।

Address

Supreme Court Of Bangladesh
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adv Shovendu Datta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category