17/10/2024
আমেরিকার ইমিগ্রেশন প্রসেস খুব আজব, অন্য কোন দেশের ইমিগ্রেশন প্রসেসের সাথে কোন মিল নাই! এখানে পয়েন্ট সিস্টেম, প্রভিনশিয়াল নমিনেশন, এইসব কিছু নাই। ওয়ার্ক পারমিটও নাই। চাকরি পেলে ৩ ক্যাটাগরির ৮ সাব-ক্যাটাগরিতে সরাসরি ইমিগ্রান্ট ভিসা দিয়ে দেয়। তবে কেউ এন্ট্রেপ্রিনিওর হিসাবে ব্যবসা করতে চাইলে তাকে E-2 নামে এক বিশেষ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেয়, অবশ্য শুধু ৭০ এর মতো দেশের, যাদের সাথে আমেরিকার ইকোনমিক ট্রিটি আছে, তাদের নাগরিকদেরই। এর আবার বিশেষ কিছু নিয়ম আছে। প্রথমত, "উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে"। কত করতে হবে বলা নাই, খালি বলা আছে 'উল্লেখযোগ্য পরিমাণ'। তবে এখন এই ভিসা পেতে রুলস অফ থাম্ব হলো, নূন্যতম ১ লাখ থেকে ২ লাখ ডলার ইনভেস্ট করতে হয়। যত বেশি ইনভেস্ট করা যায়, ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যায়, তবে অবশ্যই ১ লাখ ডলারের কম না। এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো টাকার উৎস। টাকা অবশ্যই যাকে বলে 'হোয়াইট মানি' হতে হবে। সেটা ট্যাক্স পেইড সেভিংস হতে পারে, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হতে পারে, কোন সম্পদ বিক্রি থেকে হতে পারে, ব্যাংক বা অন্য কারও কাছ থেকে ঋণ হতে পারে, গিফট হতে পারে। মোদ্দা কথা, কোন ভাবেই কালো টাকা হওয়া যাবে না!
দ্বিতীয়ত হলো, লতায়-পাতায় হলেও যে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন, সেই ব্যবসা নিয়ে আপনার পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা থাকলে আরও ভালো হয়। এখন কথা হলো, কি ব্যবসা করা যাবে? আসলে যে কোন কিছু! ব্যবসার ধরন নিয়ে আইনে কিছু বলা নাই। আপনি চাইলে নতুন কোন ব্যবসা শুরু করতে পারেন, চালু কোন ব্যবসা কিনে নিতে পারেন (বা অংশীদার হতে পারেন), অথবা কোন ফ্রানচাইজ কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনার নূন্যতম ৫১% শেয়ার থাকতে হবে।
তৃতীয়ত হলো, দেখাতে হবে যে ওই ব্যবসা থেকে আপনার যে লাভ হবে তাতে করে আপনি পরিবার নিয়ে আমেরিকায় স্বচ্ছলভাবে বসবাস করতে পারবেন। এই স্বচ্ছলতার মানদন্ড অবশ্য স্টেট হিসাবে ভিন্ন হয়। এই ভিসা ২ বছরের জন্য দেওয়া হয়। প্রতি ২ বছর পরপর আপনাকে ভিসা নবায়ন করতে হবে। নবায়ন করার সময় আপনাকে এই আয়ের হিসাব দেখাতে হবে, নবায়নের সময় এটাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন কথা হলো, এই ভিসা কতবার রিনিউ করা যাবে? এর সহজ উত্তর হলো, আজীবন! মানে যতদিন আপনার ব্যবসা চলবে, ততদিন। এই বিষয়েও আইনে কোন বাধ্যবাধকতা নাই। ব্যবসা ভালো ভাবে চললে আপনি ব্যবসা বাড়াতে পারবেন, বাড়ি কিনতে পারবেন, নতুন কোথাও ইনভেস্ট করতে পারবেন, মানে মোটামুটি সবই করতে পারবেন। ও হ্যাঁ, আপনার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের নীচের যে কোন সন্তানও কিন্তু আপনার সাথে এই ভিসা পাবে এবং থাকতে পারবে। আপনি নিজে পারবেন না, কিন্তু আপনার স্বামী বা স্ত্রী অন্য যে কোন জায়গায় কাজ করতে পারবেন এবং আপনার সন্তানরা যে কোন স্কুল বা কলেজে পড়াশোনাও করতে পারবে।
ভিসাটার সবই ভালো, শুধু ২ টা ইস্যু আছে। প্রথমত, আপনাকে ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে ভিসা পাওয়ার আগেই। মানে দেখাতে হবে আপনি একটা লাভজনক ব্যবসায় ইনভেস্টমেন্ট করেছেন যেটা পরিচালনার জন্য আপনাকে আমেরিকায় গিয়ে থাকতে হবে। অবশ্য আমাদের ল'ইয়ার ইনভেস্টমেন্ট না করিয়েও টাকা এস্ক্রো একাউন্টে রেখে ফাঞ্চাইজার, ল্যান্ডলর্ড, এদের সাথে এগ্রিমেন্ট করেন যেন বাইচান্স আপনি ভিসা না পেলেও টাকা যেন আপনার হাতছাড়া নাহয়।
দ্বিতীয়ত, ভিসাটা নন-ইমিগ্রান্ট ধরনের। মানে E-2 ভিসা থেকে সরাসরি গ্রীনকার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়ার কোন রাস্তা নাই। কিছুটা ভিন্নভাবে করতে হয়। তবে E-2 ভিসা খুব অল্প সময়, মানে ১ বছরের মধ্যেই পাওয়া যায়।
সবকথা আসলে লিখে বর্ণনা করা সম্ভব না। যদি কেউ E-2 ভিসা করতে বা এ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী হন তাহলে আমাদেরকে কল বা হোয়াটসঅ্যাপ করতে পারেন!
+8801890 30 81 81
+1 (917) 334 5348