13/03/2026
আমার বাড়ির খুব কাছে কাল একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৩ জন সহ ১৪ জন মারা গেছে। যতবার ভাবছি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছি। দোয়া করছি। ভাবছি, কিছু কি করার নেই?
একটা মানুষের অসাভাবিক মৃত্যু হলেই তার দ্বায় রাষ্ট্রের।তাই তো হত্যা মামলায় সবসময় বাদি হয় রাষ্ট্র।সেই মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্র তার জনশক্তি ও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যায় করে। সেখানে একটি পরিবারের ১৪ টা তরতাজা প্রান রাস্তায় ঝরে গেল একসাথে। শুধু দুর্ঘটনা বলেই শেষ? না, আমি মনে করি এটা ও এক ধরনের খুন। ঐ পরিবারের যে কজন বেচে আছে তাদের তো মৃত্যুর চেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। আসুন আমরা খুজে বের করি কারা এর জন্য দ্বায়ী।
১) বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারনে এই মহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।
২) স্থানীয় সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, যাদের দায়িত্ব ছিল রাস্তা সংস্কার তদারকি করে টেকসই অবকাঠামো নির্মান। যা গত ১৬/১৭ বছর সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়েছে।
৩) সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ার, কন্ট্রাক্টর, যাদের দ্বায়িত্ব ছিল এই রাস্তার টেকসই সংস্কার।
৪) মাইক্রো বাস ড্রাইভার কতো টুকু দায়ি তা এখন নিরুপন করা যাচ্ছে না, কারন সকল যাত্রী নিহত হয়েছে।
৫) আমরা ও প্রত্যেকে দ্বায়ী যার যার জায়গা থেকে। বিশেষ করে চুপ করে সবকিছু মেনে নেয়ার কারনে।
এখন দেখবেন, কিছুদিন আমরা রাজনীতিবিধরা কবর জিয়ারাতে যাবো, ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিবো, আমাদের কর্মীদেরকে দিয়ে শেয়ার করাবো। যার নির্বাচন যত দ্রুত, সে ততো বেশি সরব থাকবো। কিছুদিন পর থেমে যাবো। আবার আরেকটা দুর্ঘটনা ঘটবে। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা এবারের চেয়ে কম বা বেশি হবে। তখন আমরা আবার আজকের এই মৃত্যুর কথা মনে করবো। দুই টি ঘটনা কম্পেয়ার করবো। রাজনীতিবিদরা আবার ছুটে যাবে, ছবি তুলবে আর ভুলে যাবে।
কিন্তু যে বাবা মা তার আদরের মেয়েটা কে সাজিয়ে গুছিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিল। আর রাতে সেই মেয়েটার বেনারশী শাড়ি পরা লাশ বুঝে পেলো। সাথে পেলো আরেকটি কলিজার টুকরো মেয়ে এবং তাদের নানির লাশ । তার বুকের ব্যাথা কি কোন শোক বার্তায় কমবে? না! কবমে না। কমতে পারে না। আমাদের মংলার রাজ্জাক সাহেবের পরিবারের যারা বেচে আছেন। জানিনা তারা কিভাবে সহ্য করছেন। আল্লাহ তায়লা তুমি এই পরিবারদের ধর্য্য দান করো এবং নিহতদের জান্নাত দান করো।