10/05/2025
২০২৫ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনেছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি, হয়রানিমূলক মামলার সংখ্যা হ্রাস এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। নিচে সংশোধনের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. সমন জারি পদ্ধতিতে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার
• সমন জারি এখন থেকে টেলিফোন, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ইত্যাদি ডিজিটাল মাধ্যমে করা যাবে।
• এর ফলে সমন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে।
২. সাক্ষ্যগ্রহণে এফিডেভিটের ব্যবহার
• বাদী ও বিবাদীর মৌখিক জবানবন্দির পরিবর্তে এফিডেভিটের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হবে।
• এই লিখিত বক্তব্যের ওপরই জেরা সম্পন্ন হবে, যা সময় ও খরচ কমাবে।
৩. সময় চাওয়ার সীমা নির্ধারণ
• মামলায় পক্ষগণ সর্বোচ্চ ৪ বার সময় চাইতে পারবে।
• এর ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমবে।
৪. হয়রানিমূলক মামলায় জরিমানা বৃদ্ধি
• ভুয়া বা হয়রানিমূলক মামলায় জরিমানা ২০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে।
• এর মাধ্যমে মিথ্যা মামলার প্রবণতা কমবে।
৫. রায় বাস্তবায়নে জারি মামলার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস
• রায়ের সঙ্গে সঙ্গেই তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকবে, ফলে আলাদা জারি মামলা করার প্রয়োজন হবে না।
৬. মামলার তালিকা ও শুনানি প্রক্রিয়া নির্ধারণ
• প্রতিদিনের শুনানির জন্য কতটি মামলা নেওয়া যাবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিচারক ও আইনজীবীদের কাজের চাপ সুষম হয়।
৭. বাদী ও বিবাদীর তথ্যের বাধ্যতামূলক প্রদান
• মামলা দায়েরের সময় বাদীকে নিজের এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য প্রদান করতে হবে।
সংশোধনের উদ্দেশ্য
• বিচার প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা।
• মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি কমানো।
• ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে প্রক্রিয়া সহজ করা।
• বিচারপ্রার্থীদের সময় ও খরচ কমানো।