24/11/2019
***বিবাহ পূর্ব সচেতনতা***
অপবিত্রতা ও ব্যভিচার হতে মানুষকে রক্ষা করা, তথা জৈবিক চাহিদা সর্বোপরি প্রজন্মকে এগিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই আবহমানকাল হতে জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে এই বিবাহের প্রচলন। এই বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য বেশ কিছু উপাদান অপরিহার্য যেমন সৌন্দর্য্য, বয়স, আর্থিক স্বচ্ছলতা, ধর্ম শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা, শিষ্টাচার যোগ্যতা, মানসিক প্রশান্তি,শারীরিক সুস্থতা আরো অনেক কিছু।
যদি কোনো বিয়েতে এ সকল উপাদান পাত্রপাত্রীর মাঝে বর্তমান থাকে তাহলে তো কোন সমস্যাই নেই। আর যদি এই সকল উপাদানের মধ্যে যতটুকু না হলেই নয় ততটুকু পেলেই বা কম কিসে? আর যদি দেখা যায় সকল উপাদান শুধুমাত্র সস্তা পণ্যের বিজ্ঞাপনের মতো বলা হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোন উপাদান নেই বরং তার উল্টো, বিপত্তি শুরু হয় তখনই। আর এই সকল বিপত্তির ফলাফল এতটাই প্রকট যা বলা বাহুল্য। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় শুধু বিচ্ছেদ, তালাক বা দূরত্ব বজায় রাখাই যথেষ্ট নয় বরং পরকীয়া, আত্মহত্যা, এসিড নিক্ষেপ, শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ করেই ক্ষান্ত হন না বরং আর্থিকভাবে ক্ষতিকর নানাবিধ মানহানিকর উক্তি, সর্বোপরি হয়রানিমূলক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা মোকদ্দমার সূত্রপাত ঘটে যা চলে অনাদিকাল পর্যন্ত। এতেই কি শেষ? যদি সন্তান থাকে তাহলে তো সেই নিষ্পাপ শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যায় অযত্নে-অবহেলায়। নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ফলে সমাজে আরো কিছু হিংস্র ভবিষ্যৎ মানব নামের দানবের উৎপত্তি হয়। তাই বিবাহপূর্বক কিছু সচেতনতার দিকে আলোকপাত করছি।
*** পাত্র পাত্রী নির্বাচন***
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিবাহের পাত্র পাত্রী নির্বাচন। হতে পারে নিজেদের পছন্দ অথবা পরিবারের অভিভাবকদের নির্বাচিত। পাত্র পাত্রী নির্বাচন করলে ভবিষ্যত পরিণতি বর্তমানে আর কাউকেই ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর প্রয়োজন পড়ে না। তাই পাত্র পাত্রী নির্বাচনের শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলো আলোচনা করছি।
প্রথমত, যাকেই পাত্র পাত্রী নির্বাচন করা হোক না কেন ভবিষ্যৎ শিশুর জন্য আদর্শ মা/বাবা হবেন এমন পাত্র পাত্রী নির্বাচন করা।
দ্বিতীয়ত, যৌবন বয়সে কর্তব্য পরায়ন হবেন এমন কাউকে নির্বাচন করা।
তৃতীয়ত, বৃদ্ধ বয়সে নিরাপদ অবসরকালীন জীবন হবে এমন কাউকে নির্বাচন করা।
*** অলীক বিষয়বস্তুু প্রত্যাশা থেকে বিরত থাকা***
আজকাল ফেসবুক / শুধুমাত্র মোবাইল ফোনে কথা বলে / শহরে একই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় / বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে সেই থেকে বন্ধুত্ব বা জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী হিসেবে বাছাই করা এবং তাকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একে অপরকে স্বপ্নের দেবতা/দেবীর প্রত্যাশা না করা। কারণ প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের কাছে নিজেদের দোষ-ত্রুটি প্রতিযোগিতা করে কমায়/ লুকায়। বিয়ের পর যখন একে একে সব জানতে পারে তখন শুরু হয় ঝগড়া /খোঁচা দেওয়া /বিচ্ছেদ, পরিশেষে তালাক। অনেকেই নিজের বংশমর্যাদা, ধনসম্পত্তি, পারিবারিক অবস্থান, আর্থিক বিবরণ, শিক্ষাগত অবস্থান, চাকরি নিয়ে বিভ্রান্তি, উচ্চমাত্রায় স্বপ্ন দেখানো বা মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য, কল্পনায় রাজা বা রাজকন্যাসহ রাজত্ব হাতের নাগালে পাওয়ার মরীচিকার স্বপ্নে বুদ হয়ে থাকেন। যখন বাস্তবে হুশ ফেরে হয়তো তখন আর ফিরে আসার রাস্তা খুঁজে পায়না।
*** বিবাহের পূর্বেই পাত্র পাত্রীর মুদ্রাদোষ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা***
বিবাহের পূর্বে পাত্র পাত্রীর খোঁজ খবর সবকিছু ভালোমতো নেওয়ার পরও বহু দাম্পত্য জীবনের অপ্রত্যাশিত অবসান ঘটে শুধুমাত্র মুদ্রাদোষ /সামান্য অবহেলা / ছোট ছোট অভ্যাসজনিত কারণে। বিয়ের পূর্বে জানা থাকলে হাজারো দোষ মাফ হয়ে যায়, পক্ষান্তরে বিয়ের পরে সামান্য মুদ্রাদোষও হতে পারে সংসার ধর্ম চির অবসানের মূল কারণ। যেমন অনেক পাত্রীকে বিয়ের পরে অভিযোগ করতে শোনা যায় এবং এই ত্রুটিগুলো এই বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক স্ত্রীর অভিযোগ তার স্বামী....
* জামা কাপড় সব কিছু এলোমেলো করে রাখে
*বিছানায় ভিজা তাওয়াল রাখে
*নাক ডাকে
*ঘুম থেকে উঠেই গান শোনে আল্লাহর নাম নেয় না (অথচ স্ত্রী সন্ধ্যা থেকে গভীররাত পর্যন্ত টিভি সিরিয়াল দেখেন)
*খালি পায়ে ওয়াশরুমে যায়
*গোসলের পানি কখনো নিজে গরম করে না
*আমার বাবা-মার কোন খোঁজ-খবর নেয় না
*ঘুম থেকে উঠা মাত্র গোসল করে না
*বিছানায় থাকাকালীন বেড টি খায়
*হাজব্যান্ড কোনদিন বিছানা করে না
*মশারি টানায় না
আসলে সংসার ভাঙ্গার মত উপরোক্ত কোন কারনই জোড়ালো নয়। কিন্তুু যখন ঝগড়ার সূত্রপাত হয় এইসব বিষয়কে কেন্দ্র করে। তখন গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত চাওয়া/অধিকার গুলো আর আলোচনায় সমাধান পাওয়ার অপেক্ষা রাখে না, তখন শুধু ঝগড়া দাম্পত্য কলহ, বিচার-সালিশ, পরিশেষে সম্পর্কের তিক্ততা এবং বিবাহ বিচ্ছেদ।
পক্ষান্তরে এতদিনে স্বামীও শুরু করে দেয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা। হয়তবা স্বামী এগুলো করতেন না। শুধুমাত্র কেন ঝগড়া করছেন এগুলোর পেছনে যুক্তি প্রদর্শনের জন্য তিনি অভিযোগ করা শুরু করেন, যে আমার স্ত্রী কেন?
*আমার জন্য রুটি বানায় না
*যত্নসহকারে পরিবেশন করে না
*টিভি সিরিয়াল দেখে
*স্বামীর সামনেই তার বাবা-মাকে অসম্মানজনক উক্তি করে
*শুধুমাত্র স্বামীকে অপমান করার জন্য তুলনা করে
*শুধু নাই নাই করে
*স্বামীর বাড়ির প্রদেয় উপহারসামগ্রীকে তুচ্ছ জ্ঞান করে
*মুঠোফোনে না পাওয়ার পেছনে হাজারো প্রশ্ন
*ফেইসবুক/মোবাইলের পাসওয়ার্ড কেন দেয় না
*সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ করে
*সর্বোপরি স্বামীকে সন্দেহ করে
তবে তখনও পারস্পরিক অভিযোগ সবাই মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল যদি মুদ্রাদোষ গুলো বিবাহের পূর্বে জানা থাকতো। কাজেই কোনো প্রত্যাশা করা হতো না দুঃখও পাওয়া লাগত না।
আর যেহেতু তিক্ততা চলে আসায় আলোচনা করে সমাধান এর মত মন মানসিকতা সৃষ্টি হয় না। কাজেই জটিলতা দিন দিন বাড়তেই থাকে। বিবাহপূর্ব সচেতনতাই পারে সকল অভ্যাসগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা, যা একটি দম্পতির পূর্ব মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জানা থাকতো।
*** উভয় পরিবারের অভিভাবকদের প্রস্তুতি***
দাম্পত্য কলহের জন্য শুধু স্বামী স্ত্রীর সমস্যা গুলো প্রকট আকার ধারণ করে তা নয়। এখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকগণ বহুলাংশে দায়ী। আবহমানকাল হতে আমাদের সমাজে তার নানা উদাহরণ রয়েছে। শুধু এই চালচিত্র সমাজের মধ্যেই সীমিত নয় বরং এর অনেক প্রমান আমাদের সাহিত্যেও রয়েছে। যেমন কবিগুরুর বিখ্যাত ছোটগল্প হৈমন্তীতে একটি উক্তি রয়েছে, রাশ উপলক্ষে হৈমন্তীর শ্বশুর বাড়ির এক আত্মীয়া হৈমন্তীকে খোঁচা দিয়ে টিপ্পণী কেটে বলেন, "নাত বউ যে আমাকেও বয়সে হার মানিয়েছে"। অর্থাৎ বরের বয়সের কোনো হিসাব নেই অথচ কনেকে হতে হবে নাবালিকা। এই সকল প্রচলিত ধ্যান ধারণাই বাল্যবিবাহের জন্ম দিয়েছিল। প্রতিটি বাবা-মা তার সন্তানকে অনেক শ্রম ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে লালন-পালন করে সুস্থ সবল, শিক্ষিত, যোগ্য করে যার যার অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী বড় করে গড়ে তোলেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ শারীরিক সুস্থতা মানসিক প্রশান্তি আর্থিক স্বচ্ছলতা সামাজিক অবস্থান মর্যাদা সবকিছুতেই সন্তানকে নিজের চেয়ে বড় করে গড়ে তোলার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। এতকিছুর পর অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করা যায় এই বাবা-মা/অভিভাবক হয়তবা নিজের অজান্তে / কথিত সামাজিক প্রথা / অবিদ্যার কারণে সন্তানকে বিয়ে করানোর পর, আচোরনে মনে হয় উভয় পরিবার তাদের সন্তানকে অর্থাৎ পাত্র-পাত্রী ষাড়ের লড়াই এর জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। যার ফল চূড়ান্ত হয় বিয়ে নামক লড়াইয়ের মাধ্যমে। কথাগুলো অবাক হওয়ার মতো শোনালেও বাস্তবে আমরা যা দেখি সেটাকে ষাড়ের লড়াই / মোরগের লড়াই/ স্বামী স্ত্রীর লড়াই কোনটা বলা সমীচীন হবে তা না হয় বিজ্ঞ জনেরাই ঠিক করবেন।
*** বিয়ের পর অভিভাবকগণ কি করেন???
* বর বা কনের বাড়ি হতে রেওয়াজ / প্রথা অনুযায়ী উপঢৌকন / স্থানীয়ভাবে যাকে ডালা বলা যায় তা প্রত্যাশা করা /চেয়ে বসে এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের সাথে তুলনা করে যেমন;
* উপঢৌকন প্রত্যাশী
ঈদের পূর্বে কাঁচাবাজার, চান রাতের প্রসাধন সামগ্রী, ঈদের দামি পোশাক, ঈদের পূরবী/সালামি, ফলের মৌসুমে আম-কাঁঠাল, শীতের মৌসুমে পিঠা-পুলি, রমজানে ইফতার সামগ্রীর বিশাল সমাহার, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি-মিষ্টান্ন-আতশবাজি, কোরবানির সময় গরুর পেছনের বড় রান, ভরা বর্ষায় ইলিশ মাছ, ভাদ্র মাসের শীতল পাটি তালের পিঠা অর্থাৎ বারো মাসে তেরো পার্বণ এই রকমারি আবদার। তার সাথে যোগ হয়েছে আরো কত দিবসের কত উপহার নেওয়ার বায়না। এতো গেল মৌসুমী ডালা কুলার প্রথা। এবার আসা যাক শুচিবাই। অনেক পরিবারে দেখা যায় যে শাশুড়ি তাঁর সংসারে নিজে খুব একটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, নিজেকে পরিপাটি রাখা বা খুব একটা গোছানো ছিলেন না, কিন্তুু পুত্রবধূ আসামাত্র তার শুচিবাইয়ের কোন শেষ নেই। "তিনি জীবনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য বহু পদক পেয়েছিলেন" ভাবখানা এমন। উঠতে-বসতে পুত্রবধূকে বুঝিয়ে দিতে চান তোমাকে এই সংসারে আনা হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসাবে/ দেখো শ্বাশুড়ির আধিপত্য।
***পাত্র পাত্রীর বয়স***
অভাব বা ভবিষ্যতে আর্থিক নিশ্চয়তার কথা ভেবে অনেক কন্যার অভিভাবক দ্বিগুণ-তিনগুণ বয়স্ক পাত্রের সাথে নিজের কন্যা/বোন/ভাগ্নী/ভাতিজী / নিকটাত্মীয়াকে বিবাহ দেন। পক্ষান্তরে পুত্রকে মহাযোগ্য করে গড়ে তুলতে গিয়ে বয়স ৪৫ বছর করে ফেললেও ১৫ বছরের বেশি বয়সের কন্যাকে আইবুড়ি' ভেবে প্রত্যাখ্যান করেন বরের পিতা-মাতা/ অভিভাবকগণ।
*** পাত্র পাত্রীর মানসিক সুস্থতা***
পাত্র-পাত্রী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত /পাগল/ উন্মাদ সেটা সম্পূর্ণভাবে জানা সত্ত্বেও পিতা-মাতা বিষয়টিকে গোপন করে বিয়ে দেন। এভাবে বহু ছেলে মেয়ের জীবন নষ্ট হয়েছে যার হাজারটা প্রমাণ রয়েছে। আবার কনের পিতা-মাতা/ অভিভাবক জেনেশুনে শুধুমাত্র বিত্তবৈভব দেখেও বহু কন্যার জীবন নষ্ট করেছেন।
*** নিকটাত্মীয়দের মাঝে বিবাহ বর্জন***
নিকটাত্মীয়দের মাঝে বিবাহ বর্জন করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা চিকিৎসা বিজ্ঞান বহুবার প্রমাণ দেয়া সত্ত্বেও অনেক অভিভাবক শুধুমাত্র তার সম্পত্তি দ্বিগুণ তিনগুণ করা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখা /পুত্রবধূকে শোষণ করা/ জামাতাকে ঘরজামাই রাখা /অপরিচিত পরিবারের সাথে সম্পর্ক করার ভয় এসকল নানাবিধ কারণে নিকটাত্মীয়ের মাঝে বিবাহ হয়। যার ফলশ্রুতিতে অনেক ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হয় যেমন মেন্টাল হ্যান্ডিক্যাপ, এজমা, মেন্টাল ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি। শিশুর জন্মগত ত্রুটি/ জন্মগত অসুখ যেমন কর্নিয়ার অসুখ, অতিরিক্ত আঙ্গুল, ঠোঁটকাটা-তালুকাটা, মৃগী নিয়ে অসুস্থ শিশু জন্মায় জা কিনা নিকটাত্মীয়দের মাঝে বিয়ের কারণে ঘটে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অসুস্থ শিশু জন্মের কারনে পুত্রবধূকে বলা হয়েছে অপয়া, অলক্ষী, নিশ্চয়ই কোন পাপ করেছিল তার ফল। অনেক কর্মজীবী নারী অসুস্থ শিশুকে রেখে কর্মস্থলে যায় না ফলশ্রুতিতে ইস্তফা দিয়েছেন চাকরি / সংসার/ ক্যারিয়ার । কারণ শ্বশুর-শাশুড়ি/ স্বামীর অসহযোগিতার ফলে হারায় চাকরি /সংসার। আবার কেউ কেউ সহ্য করতে না পেরে দুনিয়াই ছেড়েছেন।
*** বিবাহের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা ***
বিয়ের পূর্বে বাধ্যতামূলক কিছু রক্ত পরীক্ষা করা উচিত, পরে জটিলতা নিয়ে স্নতানের জন্মের হার হ্রাস পায়। এজন্য প্রয়োজন পাত্র-পাত্রী/ পরিবার/ অভিভাবকদের সচেতনতা। থ্যালাসেমিয়া, হেপাটাইটিস-বি, রক্তের গ্রুপ এ সংক্রান্ত জটিল রন্তবাহিত রোগে বহু সংসার বিনষ্ট হয়েছে। ফলে যারা নিজের প্রিয় সন্তানের সংসারে অশান্তি চান না তাদের উচিত এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিবাহের পূর্বেই উভয় পরিবারের অভিভাবকদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া যে তারা এগুলো থেকে বিরত থাকবেন।
*** স্বভাবগত অপরাধ/মাদকাসক্ত/ যে কোন আসক্তি***
প্রতিটি মানুষের উচিত জীবনের যেকোনো বিষয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আর বিয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধুমাত্র সৌন্দর্য, টাকা-পয়সা, বিলাসিতা, বিত্তবৈভব, ক্ষমতা বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবসম্মত ভদ্র মার্জিত সুশিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবান জীবনসঙ্গিনী নির্বাচিত করা। অনেকেই দেখা যায় জেনে শুনে ক্ষমতাবান, বিত্তশালী, মাদকাসক্ত, স্বভাবগত অপরাধীর সাথে শুধুমাত্র সামাজিক বাহ্যিক চাকচিক্য কে প্রাধান্য দিয়ে টাকাওয়ালা ক্ষমতাবান ব্যক্তির সন্তানের সাথে নিজের সন্তানকে বিবাহ দিয়ে চির অশান্তি ডেকে আনেন, অনেকের মতে "বিয়ের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে"।
*** বিয়ের পর চাকরি / উচ্চশিক্ষা / সন্তান গ্রহন করা /না করার মিথ্যা ওয়াদা/ চাপ প্রয়োগ***
বিবাহ-বিচ্ছেদের বর্তমানে অন্যতম কারণ হচ্ছে বিবাহের পূর্বেই চলমান উচ্চ শিক্ষা/ চাকরিরত থাকা অবস্থায় বিবাহের পরবর্তী সময়ে নারীদের উচ্চশিক্ষা / চাকরি অব্যাহত /চলমান রাখতে বাধা নেই মর্মে মিথ্যা ওয়াদা করার কারনে বিবাহ সম্পন্ন হয়, শুধু মাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে। অথচ এই স্বামী/শ্বশুর / পরিবার বিয়ের পর লেখাপড়া / চাকরির বিসয়টি মেনে নিতে নারাজ। অথচ বিবাহের পূর্বেই এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে চূড়ান্ত না হলেও শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে বিয়ে হয়েছে। আবার এমনও দেখা যায় যে বিয়ের পর পাত্রীকে চাকরির জন্য এতটা চাপ প্রয়োগ করা হয়, যা সংখ্যাও কম নয়।
*** আসক্তি
আজকাল আসক্তির কারণে বহু বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, এই আসক্তি বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ মাদকাসক্তি, কেউ পরকিয়ায় আসক্ত, আবার কেউ গেমিং ডিজঅর্ডার, কেউ গ্যাম্বলিং অ্যাডিকশন, কেউ পর্ন অ্যাডিকশন, সেক্স অ্যাডিকশন, শপিং অ্যাডিকশন, কেউবা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। তাই বিবাহ পূর্বেই পাত্র-পাত্রীর উচিৎ এসকল আসক্তির বিষয়ে যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর নেয়া, প্রয়োজনে খোলামেলা আলোচনা করা। যে নেশায় আসক্ত তার উচিত বিবাহ থেকে বিরত থাকা। আর বিবাহ যদি তার একান্ত ভাবে প্রয়োজন হয় তবে সকল প্রকার নেশা ত্যাগ করে সংসারী হওয়ার মনোভাব নিয়েই বিবাহ করা। কোনো ক্রমেই অভিভাবকদের উচিত নয় নেশাগ্রস্ত বা আসক্ত সন্তানকে "বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে" এই ভাবনায় বিয়ে দিয়ে নেশার তথ্য গোপন রেখে আরেকটি জীবন নষ্ট করার।
Lawyers have their duty as citizens, but they also have special duties as lawyers.
They have a continuing responsibility to uphold the fundamental principles of justice.
S.M.ABUL HASNAT
LL.B, DBA (BCL) UK, PGDRCM (EDUPRO) UK
CPD (City University London)