10/04/2024
ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটিত সাইবার অপরাধ (Cyber Crime) দমন ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ রদ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেন।
সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংজ্ঞানুসারে, “সাইবার নিরাপত্তা” অর্থ দ্বারা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম এর নিরাপত্তাকে বোঝানো হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ২১ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিদ্বেষ, বিভ্রান্তি ও কুৎসামূলক প্রচারণা চালান, তাহলে তিনি ৫ বৎসর কারাদণ্ডে, বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এই আইনের ২৫ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা, তবে তিনি ২ বৎসর কারাদণ্ডে, বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করা, বা বিভ্রান্তি ছড়ানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আইনের ২৫ ধারায় আরও বলা আছে, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করার, বা বিভ্রান্তি ছড়াবার, বা তদুদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তবে তিনি ২ বৎসর কারাদণ্ডে, বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদিতে বে-আইনি প্রবেশ করা কিংবা বে-আইনি প্রবেশের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন করা ইত্যাদি এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই আইনের (২২-২৪) ধারার বিধান অনুসারে, ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জালিয়াতি করা, প্রতারণা করা ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই আইনের ২৬ ধারায় অনুমতি ব্যতীত পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ কিংবা ব্যবহার করার শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, "যদি কোনো ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, দখল, সরবরাহ বা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।"
এই আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, প্রচার বা সম্প্রচার করেন তবে তিনি অনধিক ২ বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে কারো বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির সংজ্ঞা দেওয়া আছে। উক্ত সংজ্ঞানুসারে, জেনে বুঝে যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন কথা বলে বা কোন লেখা, চিহ্ন প্রকাশ করে যা অন্য কোন ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে তা হলে উক্ত ব্যক্তি মানহানি করেছে বলে গণ্য হবে। সাইবার আইনে মানহানি অপরাধের শাস্তি হচ্ছে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা।
সাইবার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মতো হ্যাকিংও একটি শাস্তিযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য ধারার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অত্র আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, "কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।"
২০২৩ সালে প্রণীত নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানের পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের কোনো ধারার অধীন মিথ্যা মামলা দায়েরের জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
#সাইবার_নিরাপত্তা_আইন_2023 .