Law and jurists

Law and jurists LAW AND JURISTS is a leading commercial litigation and corporate law firm in Dhaka. We provide leg
(1)

৪৬টি ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক:১. করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে;২. সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের পূর্ববর্...
06/09/2026

৪৬টি ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক:

১. করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে;

২. সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের পূর্ববর্তী তিন বছরের যে কোনো বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে;

৩. নিবাসী করদাতা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী হলে;

৪. ফার্ম, ফার্মের অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘ হলে;

৫. কোনো ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হলে;

৬. গণকর্মচারী হলে;

৭. কোন অনিবাসী যার বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা আছে;

৮. কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয় থাকলে;

৯. ধারা ২৬১ অনুসারে করদাতা হিসেবে নিবন্ধনযোগ্য কোনো ব্যক্তি;

১০. করারোপযোগ্য আয় না থাকা সাপেক্ষে, ২০ (বিশ) লক্ষাধিক টাকার ঋণ গ্রহণে;

১১. আমদানি নিবন্ধন সনদ বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তিতে ও নবায়ন করতে;

১২. সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য;

১৩. সাধারণ বিমার তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার লাইসেন্স নবায়ন করতে;

১৪. সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয় বা লিজ বা হস্তান্তর বা বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন করতে;

১৫. চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, আইনজীবী ও কর আইনজীবী, একচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ার হিসাবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসাবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ নবায়ন করতে;

১৬. Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর অধীন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪০ নং আইন) এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক ও Special Marriage Act, 1872 (Act No. III of 1872) এর অধীন রেজিস্ট্রার হিসাবে লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে;

১৭. ট্রেডবডি বা কোনো বাণিজ্যিক সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;

১৮. স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসাবে লাইসেন্স নবায়নে;

১৯. ড্রাগ লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স, বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্স, কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্স, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং লাইসেন্স ও বায়িং হাউজ নিবন্ধন প্রাপ্তি ও নবায়নে;

২০. যেকোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তিতে;

২১. সিটি কর্পোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তিতে;

২২. লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরার ট্রলার, কার্গো, কোস্টার ও ডাম্ব বার্জসহ যেকোনো প্রকারের ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;

২৩. পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ইট উৎপাদনের অনুমতি প্রাপ্তি ও নবায়নে;

২৪. সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর বা পৌরসভায় অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু বা পোষ্য ভর্তিতে;

২৫. কোম্পানির এজেন্সী বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;

২৬. আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও বহাল রাখতে;

২৭. আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলায়;

২৮. ১০ (দশ) লক্ষাধিক টাকার মেয়াদী আমানত খোলায় ও বহাল রাখতে;

২৯. ১০ (দশ) লক্ষাধিক টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে;

৩০. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে;

৩১. ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক বা উৎপাদন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানকারী পদমর্যাদায় কর্মরত ব্যক্তির বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তিতে;

৩২. স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যতীত অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং মোবাইল ফোনের হিসাব রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য কোনো অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে;

৩৩. অ্যাডভাইজরি বা কনসাল্টেন্সি সার্ভিস, ক্যাটারিং সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, জনবল সরবরাহ, নিরাপত্তা সেবা সরবরাহ বাবদ নিবাসী কর্তৃক কোনো কোম্পানি হতে কোনো অর্থ প্রাপ্তিতে;

৩৪. বিমা কোম্পানির এজেন্সি সার্টিফিকেট নিবন্ধন বা নবায়নে;

৩৫. দ্বি-চক্র বা ত্রি-চক্র মোটরযান ব্যতীত অন্যান্য মোটরযানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে;

৩৬. এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত এনজিও বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি হতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার অনুকূলে বিদেশি অনুদানের অর্থ ছাড় করতে;

৩৭. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ই-কমার্স ব্যবসার ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং অথরিটির কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়নে;

৩৮. কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এবং Societies Registration Act, 1860 (Act No. XXI of 1860) এর অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ লাভ ও নবায়ন এর ক্ষেত্রে;

৩৯. পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিবাসী কর্তৃক টেন্ডার ডকুমেন্টস দাখিলকালে;

৪০. পণ্য আমদানি বা রপ্তানির উদ্দেশ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিলকালে;

৪১. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা, সময় সময়, সরকার কর্তৃক গঠিত অনুরূপ কর্তৃপক্ষ অথবা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের নিমিত্ত ভবন নির্মাণের নকশা দাখিলকালে;

৪২. কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাড়ি ভাড়া বা লিজ গ্রহণকালে বাড়ির মালিকের;

৪৩. কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য বা সেবা সরবরাহ গ্রহণকালে সরবরাহকারীর বা সেবা প্রদানকারীর;

৪৪. হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নকালে;

৪৫. সামাজিক অনুষ্ঠান, কর্পোরেট প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণসহ সমজাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান হতে ভাড়া বা অন্য সেবা গ্রহণকালে সেবা গ্রহনকারীর,

৪৬. রিটার্ন দাখিলে বাধ্যবাধকতা রয়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নবায়নকালে।

কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ অর্থাৎ ধারা ২৭২ এর জরিমানা আরোপের যেই বিধান রয়েছে, ফাঁকি কৃত করের উপর ১০% হারে ...
05/09/2026

কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ অর্থাৎ ধারা ২৭২ এর জরিমানা আরোপের যেই বিধান রয়েছে, ফাঁকি কৃত করের উপর ১০% হারে যত বছর ফাঁকি হয়েছে তত বছরের জরিমানা এবং এই বিধানটি প্রয়োগ যেন ডকুমেন্টেশন ভিত্তিক হয়।
অর্থাৎ:
জরিমানার পরিমান=ফাঁকি দেওয়া অংক×১০%× যত বছর ফাঁকি দেয়া হয়েছে।
এই বিধানটা প্রয়োগ করতে Assessing Authority কে সতর্কভাবে, যথাযথ দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদেশ দিয়েছেন।

হঠাৎ এই আদেশটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি কর বান্ধব মানবিক আদেশ, যাতে করদাতারা হয়রানির শিকার না হয়।

cheque dishonour হয়েছে বলেই মামলা সফল হবে?১০ লাখ টাকা জরিমানা: ভিত্তিহীন Cheque Dishonour মামলায় কঠোর বার্তা:ধারা ১৩৮ এর...
02/09/2026

cheque dishonour হয়েছে বলেই মামলা সফল হবে?

১০ লাখ টাকা জরিমানা: ভিত্তিহীন Cheque Dishonour মামলায় কঠোর বার্তা:
ধারা ১৩৮ এর অধীনে শুধু একটি cheque dishonour হয়েছে বলেই মামলা সফল হবে, এমন নয়। cheque টি কেন দেওয়া হয়েছিল, এর পেছনে কোনো বৈধ consideration ছিল কি না, cheque দেওয়ার সময় প্রকৃত কোনো debt বা liability ছিল কি না এবং cheque টি আদৌ Negotiable Instrument হিসেবে আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য কি না, এসব প্রশ্ন আগে নির্ধারণ করতে হবে।

ধারা ১৩৮ এর মামলা মূলত একটি dishonoured cheque কে কেন্দ্র করে হলেও এর ভিত্তি হলো একটি আইনগতভাবে স্বীকৃত দায়। অর্থাৎ, cheque এর পেছনে প্রকৃত লেনদেন বা consideration থাকতে হবে। শুধু একটি cheque হাতে থাকা এবং সেটি ব্যাংকে উপস্থাপনের পর dishonour হওয়াই যথেষ্ট নয়।

Cheque থাকলেই কি Debt প্রমাণ হয়?

এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Ratio এখানেই।

Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ৪৩ সরাসরি বলে যে, consideration ছাড়া তৈরি, draw, accept, endorse বা transfer করা কোনো negotiable instrument সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে payment এর obligation সৃষ্টি করে না। আদালত এই বিধানকে ধারা ১৩৮ এর সঙ্গে পড়েছেন এবং বলেছেন, consideration ছাড়া দেওয়া cheque এর ভিত্তিতে ধারা ১৩৮ এর মামলা করা যায় না।

এখানে consideration বলতে শুধু হাতে হাতে নগদ টাকা দেওয়া বোঝায় না। আদালতের আলোচনায় ঋণ, ধার, ব্যবসার জন্য ঋণ প্রদান, advance, debt এবং ব্যবসায় বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের কথা এসেছে। কিন্তু মূল বিষয় হলো, cheque দেওয়ার সঙ্গে একটি বাস্তব ও আইনগতভাবে স্বীকৃত consideration বা liability থাকতে হবে।

সুতরাং, কেউ যদি বলেন, “আমার কাছে তাঁর ২৪ লাখ টাকার cheque আছে, তাই তিনি অবশ্যই আমার কাছে ২৪ লাখ টাকা দেনা”, তাহলে সেটি একাই চূড়ান্ত উত্তর নয়। আদালত প্রয়োজন হলে cheque এর পেছনের transaction কী ছিল, টাকা আদৌ দেওয়া হয়েছিল কি না, কেন cheque দেওয়া হয়েছিল এবং cheque দেওয়ার সময় কোনো liability বিদ্যমান ছিল কি না, এসব বিষয় পরীক্ষা করতে পারেন।

Security Cheque হলেই কি ধারা ১৩৮ প্রযোজ্য?

এই মামলার reasoning থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো cheque যদি প্রকৃত debt বা consideration এর পরিবর্তে কেবল security হিসেবে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তার আইনগত প্রকৃতি আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

আদালত উল্লেখ করেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বকেয়া বা অনাদায়ী অংশের security হিসেবে নেওয়া cheque সম্পর্কে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, এমন cheque কে consideration এর বিনিময়ে দেওয়া negotiable instrument হিসেবে গণ্য করা যায় না এবং সেই ভিত্তিতে cheque dishonour এর মামলা করার আইনগত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, “security cheque” শব্দটি বললেই প্রতিটি ১৩৮ এর মামলা শেষ হয়ে যাবে। এই রায়ের মূল গুরুত্ব হলো, cheque এর প্রকৃত purpose এবং underlying transaction পরীক্ষা করা প্রয়োজন। cheque টি কোন দায়ের security হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, সেই দায় আদৌ সৃষ্টি হয়েছিল কি না এবং consideration ছিল কি না, facts ও evidence এর ভিত্তিতে তা নির্ধারণ করতে হবে।

একজন litigant এর জন্য এর বাস্তব অর্থ কী?

ধরুন, আপনি কাউকে ২৪ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করে একটি cheque দিয়েছেন বা পেয়েছেন। পরে cheque dishonour হলো। অপর পক্ষ সঙ্গে সঙ্গে ধারা ১৩৮ এর মামলা করলেন।

এখন শুধু cheque এর amount দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় যে মামলা অবশ্যই টিকে যাবে বা অবশ্যই ব্যর্থ হবে।

প্রথম প্রশ্ন হবে, ২৪ লাখ টাকা কোথা থেকে এলো?

টাকাটি কি সত্যিই দেওয়া হয়েছিল?

কোন তারিখে দেওয়া হয়েছিল?

কী কারণে দেওয়া হয়েছিল?

কোনো লিখিত agreement ছিল কি?

ব্যাংক account থেকে টাকা উত্তোলন বা transfer এর record আছে কি?

কোনো receipt, document বা independent witness আছে কি?

Cheque টি debt পরিশোধের জন্য দেওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে?

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, cheque দেওয়ার সময় সেই debt বা liability আদৌ বিদ্যমান ছিল কি না।

এই মামলায় আদালত লক্ষ্য করেন যে ২৪ লাখ টাকা দেওয়ার দাবির পক্ষে যথেষ্ট documentary ও oral evidence উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি কথিত ২৪ লাখ টাকা কোথা থেকে দেওয়া হয়েছিল, কোন bank account থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট transaction এর supporting evidence কী, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর সঙ্গে complainant এর বক্তব্যের মধ্যেও অসঙ্গতি ছিল। একদিকে complaint এ বলা হয়েছিল, accused তাঁর স্বামীর বাবার debt পরিশোধের জন্য তাঁর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। আবার deposition এ বলা হয়, accused তাঁর নিজের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য ২৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। আদালত এই contradiction কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন।

এখান থেকেই বোঝা যায়, ১৩৮ এর মামলা শুধু cheque centred proceeding নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুরো underlying transaction পরীক্ষা করাই মামলার ফল নির্ধারণ করতে পারে।

মিথ্যা বা ভিত্তিহীন ১৩৮ মামলা হলে কী হতে পারে?

এই মামলায় আদালত শুধু accused কে দায়মুক্ত করেননি। বরং আদালত দেখেছেন যে complainant এমন একটি transaction এর ভিত্তিতে মামলা করেছেন যার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং মামলার কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে। আদালতের মতে, মামলাটি মিথ্যা, বেআইনি এবং আদালতের process এর অপব্যবহারের পর্যায়ে পড়েছে।

ফলে আদালত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ দেন। complainant কে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী trial court এর conviction এবং sentence বাতিল করা হয়। আদালতে জমা দেওয়া cheque এর amount এর ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় এবং জরিমানার অর্থও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। প্রতিটি ব্যর্থ ১৩৮ এর মামলা বা প্রমাণের ঘাটতি থাকা মামলাতেই ১০ লাখ টাকা জরিমানা হবে, এমন কোনো proposition এই রায় দেয় না। এই মামলায় আদালত complainant এর conduct এবং proceeding এর অপব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করেই এমন consequential order দিয়েছেন।

মূল বিষয় হলো

এই রায় ১৩৮ এর মামলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে দেখতে শেখায়। Cheque হলো মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ document, কিন্তু cheque নিজেই underlying debt এর বিকল্প নয়।

কেউ cheque দিয়েছেন কি না, cheque dishonour হয়েছে কি না, notice দেওয়া হয়েছে কি না, এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর পাশাপাশি দেখতে হবে cheque দেওয়ার পেছনে প্রকৃত consideration ছিল কি না এবং সেই consideration থেকে কোনো আইনগত debt বা liability সৃষ্টি হয়েছিল কি না।

তাই ১৩৮ এর মামলায় শুধু cheque, dishonour slip এবং legal notice দেখলেই পুরো বিষয় শেষ হয়ে যায় না। cheque এর পেছনের transaction, payment এর source, documentary evidence, parties এর বক্তব্য এবং transaction এর বাস্তবতা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়।

এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হলো Sadiya Afreen vs. The State and another, Criminal Appeal No. 4159 of 2020, judgment dated 15.06.2023, যেখানে Hon’ble High Court Division ধারা ১৩৮ এর conviction ও sentence বাতিল করে complainant এর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
Legal Takeaway

“Cheque আছে” মানেই “Debt আছে” নয়। ১৩৮ এর মামলার প্রকৃত প্রশ্ন হলো, dishonoured cheque এর পেছনে বাস্তব consideration এবং আইনগতভাবে বিদ্যমান debt বা liability ছিল কি না।

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন আদালত Order XL অনুযায়ী ...
29/08/2026

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন

যৌথ সম্পত্তিতে কোনো অংশীদার যদি যৌথ সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য অংশীদারকে তার বৈধ অংশের দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন, বিশেষ করে ভাড়াযোগ্য সম্পত্তির সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে আদায় করে অন্য শরিকের প্রাপ্য অংশ না দেন, তাহলে আদালত Order XL অনুযায়ী Receiver নিয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তি নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে—এমন প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগ ন্যায়সঙ্গত হতে পারে।

অর্থাৎ, Receiver নিয়োগের প্রশ্নে শুধু সম্পত্তি রক্ষা নয়, শরিকের সম্পত্তিগত অধিকার ও সেই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য সুবিধা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

একজন শরিক ভাড়া তুলছেন, অন্য শরিক কিছুই পাচ্ছেন না—তাহলে?
ধরুন, একটি যৌথ সম্পত্তিতে কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং সেগুলো থেকে নিয়মিত ভাড়া আসে। এক শরিক সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সব ভাড়া তিনিই নিচ্ছেন। অন্য শরিকেরও আইনগত অংশ রয়েছে, কিন্তু তিনি সম্পত্তির দখলে নেই এবং তার অংশের ভাড়াও পাচ্ছেন না।

এখানে প্রশ্ন শুধু “সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে কি না?”—এতটুকু নয়।
প্রশ্ন হলো, একজন শরিক কি অন্য শরিকের বৈধ অংশের সুবিধা একাই ভোগ করতে পারেন?
এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালত দেখতে পারেন যে একজন শরিক একচ্ছত্রভাবে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ ও আয় ভোগ করছেন এবং অন্য শরিককে তার বৈধ অংশ থেকে বঞ্চিত করছেন কি না। যদি তা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আলাদা প্রমাণ না থাকলেও Receiver নিয়োগের ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

এই নীতিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন বঞ্চিত শরিক একজন নারী। আলোচিত মামলায় বাদী ছিলেন মৃত শরিকের বিধবা ও কন্যা। উত্তরাধিকার আইনের অধীনে তারা মৃতের অংশ থেকে ৫/৮ অংশের অধিকারী ছিলেন, আর বিবাদী ছিলেন মৃতের ভাই এবং ৩/৮ অংশের অধিকারী। অথচ বিবাদী সম্পত্তির ভাড়া একাই আদায় করছিলেন এবং বাদীরা তাদের বৈধ অংশের ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার—উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ পাওয়া আর সেই অংশের বাস্তব সুবিধা পাওয়া এক জিনিস নয়।
কাগজে আপনার অংশ আছে, কিন্তু যৌথ সম্পত্তির ভাড়া অন্য একজন শরিক একাই নিয়ে যাচ্ছেন এবং আপনাকে আপনার অংশ দিচ্ছেন না—তাহলে শুধু “আপনার অংশ তো কাগজে আছে” বলে বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিগত সুবিধা থেকেও আপনি বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
Receiver কি তাহলে যেকোনো পারিবারিক সম্পত্তিতে নিয়োগ করা যাবে?
না।

রায়ে Appellate Division-এর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের নীতিও বিবেচনা করা হয়েছে—শুধু শরিকদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলেই Receiver নিয়োগের কারণ তৈরি হয় না। বিশেষ করে পারিবারিক জমিজমার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পক্ষদের সম্মতি এবং মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। কিন্তু যখন একজন শরিক অন্য শরিককে দখল ও সম্পত্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে নিজেই যৌথ সম্পত্তির আয় একচেটিয়াভাবে ভোগ করেন, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

সুতরাং, কোনো মামলায় Receiver চাওয়া হলে শুধু “আমাদের মধ্যে বিরোধ আছে” বললেই যথেষ্ট নয়। আদালতের সামনে দেখাতে হবে—কে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন, কে ভাড়া আদায় করছেন, অন্য শরিকের কী বৈধ অংশ রয়েছে, সেই অংশের সুবিধা তিনি পাচ্ছেন কি না এবং কেন আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আলোচিত মামলায় বাদীরা দাবি করেছিলেন যে তাদের অংশের মাসিক ভাড়া ২,৬২,৫০০ টাকা। বিবাদী প্রথমে কিছু টাকা দিলেও পরবর্তীতে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেন এবং সম্পূর্ণ ভাড়া নিজে গ্রহণ করতে থাকেন—এমন অভিযোগ ছিল। এই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত দেখেছেন যে বাদীরা তাদের বৈধ অংশের সম্পত্তিগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এখানেই মামলার practical গুরুত্ব।

কোনো যৌথ সম্পত্তি নিয়ে মামলা হলে শুধু মূল মালিকানা বা অংশের দলিল দেখলেই সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। সম্পত্তি বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে, ভাড়াটিয়া কার কাছে ভাড়া দিচ্ছে, ভাড়ার পরিমাণ কত, কে কত টাকা পেয়েছেন, অন্য শরিককে কী দেওয়া হয়েছে—এসব বাস্তব তথ্য ও নথিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আর যদি প্রশ্ন হয়—“আমার অংশ আছে, কিন্তু অন্য শরিক আমাকে সম্পত্তিতে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং পুরো ভাড়া নিজে নিচ্ছেন; মামলা চলাকালীন আমি কীভাবে আমার স্বার্থ রক্ষা করব?”—তখন মূল মামলার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার হিসেবে Receiver নিয়োগের বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে সেটি স্বয়ংক্রিয় কোনো অধিকার নয়; আদালত মামলার প্রকৃত তথ্য, নথি ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে Order XL-এর অধীনে তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
এই মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ শেষ পর্যন্ত দেখতে পান যে বাদীদের দখল থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল এবং তারা সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য ভাড়ার সুবিধাও পাচ্ছিলেন না, অন্যদিকে বিবাদী সম্পত্তির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও ভোগদখলে ছিলেন। ফলে নিম্ন আদালতের Receiver নিয়োগের আদেশে কোনো বেআইনি বা অনিয়ম পাওয়া যায়নি।

এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হলো Md. Harisur Rahman (Masum) vs. Fahima Rahman and another, First Miscellaneous Appeal No. 75 of 2026, judgment dated 10 June 2026, High Court Division, Supreme Court of Bangladesh.

আপিলটি খারিজ করা হয়, কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি এবং নিম্ন আদালতকে আইন অনুযায়ী মূল মামলা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।

  ক্ষেত্রে  AGM এ বিলম্ব মার্জনা: প্রতিকার যেন দায়মুক্তি না হয়? সুশাসন (Good Governance) শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দিয়েই...
26/08/2026

ক্ষেত্রে AGM এ বিলম্ব মার্জনা: প্রতিকার যেন দায়মুক্তি না হয়?

সুশাসন (Good Governance) শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ নয়;

একটি কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব সমান। করপোরেট সু শাসনের (Corporate Governance) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)। এই সভায় কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও পরিচালনার সামগ্রিক চিত্র শেয়ারহোল্ডারদের সামনে তুলে ধরা হয় এবং পরিচালকদের কাজ জবাবদিহির আওতায় আসে। শেয়ারহোল্ডাররা প্রশ্ন করতে পারেন, মতামত দিতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। তাই AGM নিছক কোনো আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি কোম্পানির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আর এ কারণেই কোম্পানি আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে AGM অনুষ্ঠানকে একটি বাধ্যতামূলক আইনি দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশে পাবলিক কোম্পানি এবং প্রাইভেট কোম্পানি – উভয়ের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে এজিএম (AGM) অনুষ্ঠিত না হওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৮১ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে এজিএমের সময় বাড়ানোর সীমিত ক্ষমতা Registrar of Joint Stock Companies and Firms (RJSC)-এর রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি যখন সেই সীমা অতিক্রম করে, তখন কোম্পানিগুলো বা কোম্পানির যেকোনো সদস্য ধারা ৮১(২), ধারা ৮৫(৩) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারা ৩৯৬-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি বেঞ্চে আবেদন করে।

এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত একটি উদার (liberal) ও প্রতিকারমূলক (curative) দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। বিলম্বের সন্তোষজনক কারণ দেখানো হলে আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া (delayed) এজিএম করার অনুমতি দেন। অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের যথাযথ কারণ না দেখালেও আদালত উদার নীতি গ্রহণ করেন। এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে। একটি কোম্পানিকে অনির্দিষ্টকাল আইনি ব্যত্যয়ের মধ্যে রেখে দেওয়া কোম্পানি বা তার শেয়ারহোল্ডার—কারও স্বার্থেই প্রত্যাশিত নয়। বরং এজিএম অনুষ্ঠানের সুযোগ দিয়ে কোম্পানির কার্যক্রমকে আবার আইনের ধারায় ফিরিয়ে আনাই অধিকতর কার্যকর।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই উদারতা কত দূর পর্যন্ত যাওয়া উচিত?

এজিএমে বিলম্ব মার্জনার আবেদনে সাধারণত বলা হয়, বিলম্বটি ইচ্ছাকৃত ছিল না অথবা নির্ধারিত সময়ে সভা করতে না পারার যথেষ্ট কারণ ছিল। এমন বক্তব্য যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও দলিল দিয়ে সমর্থিত হয় এবং দেখা যায় যে পরিস্থিতি সত্যিই কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল, তাহলে বিলম্ব মার্জনার যথেষ্ট যুক্তি থাকতে পারে।

কিন্তু শুধু বললেই কি যথেষ্ট যে—‘বিলম্বটি ইচ্ছাকৃত ছিল না’?

প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন একই কোম্পানি বছরের পর বছর এজিএম করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম বছরের বিলম্বের পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ থাকতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছরেও ঘটলে আদালতের অনুসন্ধান স্বাভাবিকভাবেই আরও গভীর হওয়া উচিত। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর পরিচালকেরা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? একই ব্যত্যয় যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? আইন মেনে চলার জন্য তাঁরা কি যথাযথ সতর্কতা ও যত্ন দেখিয়েছিলেন?

কারণ, ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ না করা আর আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া – এক বিষয় নয়। কোম্পানির পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানা এবং তা পালনের জন্য যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যাশিত। ফলে শুধু অসৎ উদ্দেশ্য (ill motive) বা অবহেলা (negligence) ছিল না—এটুকু বলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেখতে হবে, তাঁরা সততা ও যুক্তিসংগত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছেন কি না এবং সময়মতো আইন পালনের জন্য বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এখানেই ধারা ৩৯৬ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এজিএম করতে দেওয়া এবং এজিএম করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী পরিচালক বা কর্মকর্তাকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া—দুটি এক বিষয় নয়।

ধারা ৮১ ও ৮৫-এর অধীনে আদালত বকেয়া (delayed) এজিএম করার সুযোগ দিতে পারেন। এর উদ্দেশ্য কোম্পানিকে আবার আইনসম্মত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু একই আবেদনে ধারা ৩৯৬-এর অধীনে পরিচালক বা কর্মকর্তাদের দায় থেকে অব্যাহতি চাওয়া হলে ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে আসে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সততা ও যুক্তিসংগতভাবে কাজ করেছেন কি না এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তাঁকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া ন্যায়সংগত হবে কি না—সে প্রশ্নটিও স্বতন্ত্র বিবেচনার দাবি রাখে।

সুতরাং, বিলম্বিত এজিএম করার অনুমতি দেওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট পরিচালক বা কর্মকর্তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়মুক্ত করা নয়। কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে আদালত এজিএম করার অনুমতি দিতে পারেন; একই সঙ্গে বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধারা ৩৯৬-এর শর্তগুলো পূরণ হয়েছে কি না, সেটিও পৃথকভাবে যাচাই করতে পারেন।

এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিলম্ব মার্জনার প্রতিকারমূলক ক্ষমতা যদি কার্যত নিয়মিত দায়মুক্তির (routine amnesty) পথ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আইনে নির্ধারিত AGM অনুষ্ঠান সময়সীমার গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে বছরের পর বছর একই ব্যত্যয় ঘটলেও যদি শুধু ‘অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব’ বা ‘যথেষ্ট কারণ’-এর সাধারণ বক্তব্যে দায়মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয় তাগিদও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

আইনের উদ্দেশ্য কোম্পানিকে অচল করে দেওয়া নয়; আবার আইনের ব্যত্যয়কে স্বাভাবিক করে তোলাও নয়। তাই প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গি। কোম্পানির স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিলম্বিত এজিএম করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেই বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তির দায়মুক্তির প্রশ্নটি বিচার করা উচিত পৃথকভাবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতার সঙ্গে। এতে একদিকে কোম্পানি আবার আইনের ধারায় ফিরে আসবে, অন্যদিকে পরিচালক ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, করপোরেট সুশাসন (Corporate Governance)-এর মূল কথা শুধু ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া নয়, একই ভুল যেন বারবার না ঘটে সেটিও নিশ্চিত করা। আদালতের প্রতিকারমূলক ক্ষমতা কোম্পানিকে আইনের পথে ফিরিয়ে আনার মাধ্যম; সেই ক্ষমতা যেন আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার সহজ পথ হয়ে না ওঠে। এখানেই এজিএমে বিলম্ব মার্জনার ক্ষেত্রে বিচারিক উদারতা ও করপোরেট জবাবদিহির মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের প্রয়োজন।

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আয়ের যেসব কাগজপত্র লাগবেবাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। জা...
22/08/2026

আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আয়ের যেসব কাগজপত্র লাগবে

বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২২ জুলাই থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে।

এবার বছরের বিভিন্ন সময়ে রিটার্ন দাখিলে থাকলেও ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে।

রিটার্ন দেওয়ার সময় শুধু আয়ের অঙ্ক উল্লেখ করলেই হয় না। কোন খাত থেকে কত আয় হয়েছে, তার পক্ষে প্রয়োজনীয় হিসাব, সনদ বা নথি হাতে রাখা জরুরি। আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যক্তির আয় সাতটি প্রধান খাত।

রিটান জমা দিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে আপনার-

১. চাকরি থেকে আয়

চাকরিজীবীদের রিটার্নে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রযোজ্য আয় সঠিকভাবে দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে বেতনসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত রাখা ভালো। যেমন- বেতন বিবরণী বা স্যালারি স্টেটমেন্ট, পে-স্লিপ, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পাওয়া বেতন ও কর কর্তনের সনদ, উৎসে আয়কর কর্তনের প্রমাণপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বোনাস বা অন্যান্য ভাতার বিবরণ। এনবিআরের রিটার্ন ফরমের নির্দেশনাতেও বেতনের আয়ের ক্ষেত্রে স্যালারি স্টেটমেন্ট সংযুক্তির কথা বলা হয়েছে।

২. ভাড়া থেকে আয়

বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় থাকলে সেই আয়ের পক্ষে চুক্তি ও লেনদেনের প্রমাণ রাখা দরকার। যেমন- ভাড়ার চুক্তিপত্র, ভাড়া গ্রহণের রসিদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বা লেনদেনের প্রমাণ, সম্পত্তির মালিকানার দলিল, পৌরকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাড়ির ঋণের সুদ ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয়ের নথি

৩. কৃষি থেকে আয়

কৃষিজমি, ফসল, মাছ বা অন্যান্য কৃষিকাজ থেকে আয় থাকলে সেই আয়ের হিসাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি রাখা উচিত। যেমন-জমির মালিকানা বা লিজের কাগজ, কৃষিপণ্য বিক্রির রসিদ বা চালান, কৃষিকাজে করা ব্যয়ের হিসাব
পণ্য বিক্রির ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ, যদি থাকে।

৪. ব্যবসা থেকে আয়

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন-আয়-ব্যয়ের হিসাব, ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজ, বিক্রয় ও ক্রয়ের হিসাব, ইনভয়েস ও ভাউচার, স্টক বা মজুতের হিসাব

৫. মূলধনি মুনাফা

জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার বা অন্য কোনো মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেটি রিটার্নে দেখাতে হতে পারে। এক্ষেত্রে-সম্পদ কেনার দলিল, বিক্রয় দলিল, নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি, ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন বা অন্যান্য খরচের নথি সংরক্ষণ করা উচিত। এনবিআরের রিটার্ন নির্দেশনাতেও ক্যাপিটাল গেইনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি রাখার কথা উল্লেখ আছে।

৬. আর্থিক সম্পদ থেকে আয়

ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ থেকে আয় হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বিবরণী ও সনদ কাজে লাগবে। যেমন- ব্যাংকের সুদ বা মুনাফার সনদ, এফডিআর সনদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার বিবরণী, লভ্যাংশের সনদ বা বিবরণী, শেয়ার বা বিও হিসাবের স্টেটমেন্ট, মিউচুয়াল ফান্ডের বিবরণী

৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়

উপরের খাতগুলোর বাইরে কমিশন, সম্মানী, পরামর্শ ফি, পুরস্কারের অর্থসহ অন্যান্য আয় থাকলে সেই আয়ের উৎস অনুযায়ী প্রমাণপত্র রাখতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট রসিদ, চুক্তিপত্র বা আয় প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

রিটার্নের জন্য আরও যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন

শুধু আয়সংক্রান্ত কাগজপত্র নয়, রিটার্ন পূরণের সময় নিজের ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, দান বা কর রেয়াত-সংক্রান্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে। এনবিআরের রিটার্ন ফরমের নির্দেশনায় বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, জীবনবিমা, ডিপিএস, শেয়ারসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে নথি রাখার কথা বলা হয়েছে।

 #স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় দখলস্বত্বের আইনি সুরক্ষাআব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম সৈয়দ মামুন মোরশেদ (Abdul Latif Milki v. Sye...
22/08/2026

#স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় দখলস্বত্বের আইনি সুরক্ষা

আব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম সৈয়দ মামুন মোরশেদ (Abdul Latif Milki v. Syed Mamun Murshed)।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (সিভিল)।

রায়ের তারিখ এপ্রিল, ২০০২।

পক্ষসমূহ: আবেদনকারী (Petitioner): আব্দুল লতিফ মিল্কি বনাম প্রতিপক্ষ (Respondent): সৈয়দ মামুন মোরশেদ।

মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল দক্ষিণ গুলশান মার্কেটের বি/২ নম্বর দোকানটি, যা মূলত বদরুদ্দিন চৌধুরীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

বদরুদ্দিন চৌধুরী এবং ক্রিস্টোফার সি. গোমেজ একটি অংশীদারি দলিলের মাধ্যমে “জি.সি. ট্রেডার্স” নামে ব্যবসা শুরু করেন।

প্রতিপক্ষের (বাদী) দাবি অনুযায়ী, বদরুদ্দিন ব্যবসা থেকে অবসর নেন এবং তার স্বত্ব গোমেজের কাছে হস্তান্তর করেন। গোমেজ ১৯৮০ সালে দোকানটি বাদীর কাছে বিক্রি করেন এবং সেই থেকে বাদী দখলে আছেন।

অন্যদিকে, আবেদনকারীর (বিবাদী) দাবি ছিল গোমেজ ১৯৭৮ সালে ব্যবসা ছেড়ে দেন এবং বদরুদ্দিন ১৯৮৩ সালে দোকানটি আবেদনকারীর কাছে হস্তান্তর করেন।

বিবাদী বাদীকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে বাদী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেন।

Legal Issue

• মালিকানা সংক্রান্ত জটিল প্রশ্ন জড়িত থাকলে কেবল স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা কি রক্ষণীয়?

• একজন অনুপ্রবেশকারী (trespasser) কি প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কারো বিরুদ্ধে তার দখল রক্ষার জন্য নিষেধাজ্ঞার দাবি করতে পারেন?

• মামলাটি কি পক্ষদোষে (defect of parties) দুষ্ট ছিল?

পক্ষসমূহের যুক্তি (Arguments of the Parties):

প্রতিপক্ষ (বাদী):
তারা দাবি করেন যে তারা একচেটিয়া দখলে আছেন এবং নিষেধাজ্ঞার মামলায় মালিকানা কেবল একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়। এমনকি একজন অনুপ্রবেশকারীও আইনানুগ প্রক্রিয়া ব্যতীত প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা উচ্ছেদের বিরোধিতা করতে পারেন।

আবেদনকারী (বিবাদী):
তাদের যুক্তি ছিল যে অংশীদারি আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী গোমেজের এককভাবে দোকানটি বিক্রির অধিকার ছিল না। যেহেতু এখানে মালিকানার জটিল প্রশ্ন জড়িত, তাই শুধু নিষেধাজ্ঞার মামলা চলতে পারে না।

মোড় পরিবর্তনকারী বিষয়সমূহ (The Turning Points):

দখলের প্রমাণ:
বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগ উভয়ই দেখতে পায় যে বাদী দোকানটির দখলে আছেন।

বিবাদীর স্বীকারোক্তি:
বিবাদী তার লিখিত জবাবের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকার করেছেন যে বাদী দোকানটিতে দখলে আছেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে এটি জোরপূর্বক দখল।

আসল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা নয়:
আদালত লক্ষ্য করেন যে বাদী প্রকৃত মালিক বদরুদ্দিনের বিরুদ্ধে নয়, বরং একজন তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

রায়/সিদ্ধান্ত (Judgment/Decision):

আপিল বিভাগ আবেদনকারীর Leave to Appeal আবেদনটি খারিজ করে দেয়। আদালত হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে, যার মাধ্যমে বাদীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি বজায় থাকে।

যুক্তিতর্ক (Reasoning):
আদালত যুক্তি দেন যে, একটি সাধারণ স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো দখল (possession)।

আদালত মালিকানা নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারে কেবল দখলের প্রকৃতি বোঝার জন্য একটি প্রাসঙ্গিক বা incidental বিষয় হিসেবে।

যেহেতু মামলাটি প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধে ছিল না, তাই মালিকানার জটিলতা এই মামলার প্রতিবন্ধক নয়।

মামলার মূলনীতি (Ratio Decidendi):
সম্পত্তির দখলে থাকা কোনো ব্যক্তি, এমনকি তিনি যদি একজন অনুপ্রবেশকারী (trespasser) হন, তিনি প্রকৃত মালিক ব্যতীত অন্য যে কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তার দখল রক্ষা করার জন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার অধিকারী।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বাস্তবে দখলে আছেন, তাকে প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারেন না।

গুরুত্ব (Significance):
এই রায়টি নিশ্চিত করে যে দখলদার ব্যক্তিকে আইনগত পদ্ধতি ছাড়া গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা যাবে না।

স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় মালিকানার চেয়ে দখল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিবাদী নিজে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক নন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে একজন trespasser-এর বিরুদ্ধে প্রকৃত মালিক কোনো প্রতিকার পাবেন না। প্রকৃত মালিক তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করে আইনানুগ পদ্ধতিতে দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে পারেন।

মামলায় ব্যবহৃত রেফারেন্স (Case Citation):
রায়ে 43 DLR (AD) 215 মামলার রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলায় আদালত প্রাসঙ্গিকভাবে মালিকানা যাচাই করতে পারে।

মামলার রিপোর্টেড জার্নাল (Reported Journal):

✅BLR 2002 (AD) 148

✅BLT 12 (AD) 80

#মূল শিক্ষা

“Possession is protected against everyone except the true owner.”

অর্থাৎ, প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো দখলদারকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারেন না। দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আইনানুগ পদ্ধতিতেই প্রতিকার গ্রহণ করতে হবে
সংগৃহীত

#হাইকোর্ট #রায় #আপীল #সুপ্রীম #কোর্ট

ব্যাংকে আমানতের সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনে কঠোর নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের!সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত...
18/08/2026

ব্যাংকে আমানতের সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনে কঠোর নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের!

সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত—সব ক্ষেত্রেই উৎসে কর কর্তনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

#সার্কুলারে কী বলা হয়েছে?

আমানতের সুদ/মুনাফায় উৎসে কর কর্তন বাধ্যতামূলক

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের—

সঞ্চয়ী আমানত
স্থায়ী আমানত (FDR)
মেয়াদি আমানত
অন্যান্য আমানত

এর বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।

অর্থাৎ, ব্যাংকে টাকা রেখে অর্জিত সুদ বা মুনাফার সম্পূর্ণ অর্থ গ্রাহক পাবেন না; আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ প্রদান করা হবে।

২️. PSR না দিলে উৎসে করের হার ৫০% বেশি হতে পারে!

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (Proof of Submission of Return—PSR) উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য উৎসে করের হারের চেয়ে **৫০% বেশি হারে কর কর্তন/সংগ্রহ করতে হবে।

তাই ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে PSR-এর বিষয়টি করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩️. ব্যাংক কর্তন করা কর কখন সরকারি কোষাগারে জমা দেবে?

উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তনকৃত কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুলাই থেকে মে মাসে** কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
কর্তন/সংগ্রহের মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের ১ম থেকে ২০তম দিনের মধ্যে কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
কর্তন/সংগ্রহের দিনের পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

জুন মাসের অন্যান্য দিনে** কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
পরবর্তী দিনেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, কর্তনকৃত উৎসে কর যেন নির্ধারিত সময়ের বেশি General Ledger বা অন্য কোনো হিসাবে আটকে রাখা না হয়।

এছাড়াও ব্যাংকগুলোকে—

✅ নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে কর জমা দিতে হবে
✅ উৎসে কর কর্তনের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে
✅ প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের কপি সংরক্ষণ/দাখিল করতে হবে
✅ আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর প্রযোজ্য বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

---

করদাতাদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকেই মনে করেন—

ব্যাংক আমার সুদ থেকে কর কেটে নিয়েছে, তাই আমার আর কিছু করার নেই।

কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ/মুনাফা এবং কর্তনকৃত উৎসে করের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে যাচাই করুন—

ব্যাংক হিসাবের তথ্য
আমানতের পরিমাণ
সুদ/মুনাফার আয়
কর্তনকৃত উৎসে কর
PSR
রিটার্নে প্রদর্শিত আয় ও সম্পদের তথ্য

এসব তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মনে রাখবেন

ব্যাংক শুধু টাকা রাখার জায়গা নয়; আপনার ব্যাংক হিসাব, আমানত, সুদ/মুনাফা এবং উৎসে করের তথ্যও কর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে অবশ্যই—

ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করুন
সুদ/মুনাফার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
কর্তনকৃত উৎসে করের তথ্য মিলিয়ে নিন
PSR-এর বিষয়টি নিশ্চিত করুন
রিটার্নে আয় ও সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন

আইন মেনে সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করুন—ভবিষ্যতের কর-জটিলতা এড়িয়ে চলুন।

#আয়কর #উৎসেকর #ব্যাংকসুদ #ব্যাংকআমানত #করদাতা #আয়কররিটার্ন

Address

Polton
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law and jurists posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share