02/08/2024
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণহত্যার বিচার পক্রিয়া কি The International Crimes (Tribunals) Act, 1973 এর আলোকে করা সম্ভব কিনা? জানতে চায় আমার অবুজ মন!
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৭৩ এর ৩ ধারার ১ উপ ধারায় এই সংক্রান্ত বিষয়ে কি বলা হয়েছে একটু দেখা যেতে পারে।
A Tribunal shall have the power to try and punish any individual or group of individuals, 2[or organisation,] or any member of any armed, defence or auxiliary forces, irrespective of his nationality(এই ট্রাইব্যুনাল কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের গোষ্ঠী, 2 [বা সংস্থা,] বা কোনো সশস্ত্র, প্রতিরক্ষা বা সহায়ক বাহিনীর কোনো সদস্যকে, তার জাতীয়তা নির্বিশেষে বিচার করার এবং শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে) who commits or has committed, ( যাঁরা অপরাধ করছে বা করেছেন) in the territory of Bangladesh, whether before or after the commencement of this Act,(বাংলাদেশের ভূখণ্ড, এই আইন প্রবর্তনের আগে হোক বা পরে) any of the crimes mentioned in sub-section (2)(উপ-ধারায় ২ এ উল্লিখিত অপরাধগুলির যে কোনো).
এই ধারা পর্যলোচনা দেখা যায় ২০২৪ সালের জুলাই মাস হতে অদ্য পর্যন্ত এবং ইতোপূর্বে সংগঠিত সকল মানবতা বিরোধী অপরাধের অপরাধীদের বিচার এই আইন অনুসারে করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয় হলো কিভাবে ঘটে যাওয়া অপরাধের বিচার এই ট্রাইবুনাল করতে পারে? এই সংক্রান্ত বিষয় ২ এর (এ) এবং (এফ) উপ-ধারায় স্পষ্ট করা হয়েছে - সেখানে বলা হয়েছে যে,
(a) Crimes against Humanity: namely, murder, extermination, enslavement, deportation, imprisonment, abduction, confinement, torture, r**e or other inhumane acts committed against any civilian population or persecutions on political, racial, ethnic or religious grounds, whether or not in violation of the domestic law of the country where perpetrated; ((ক) মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ: যথা, হত্যা, নির্মূল, দাসত্ব, নির্বাসন, কারাবরণ, অপহরণ, বন্দীকরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ বা অন্য কোনো বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অমানবিক কাজ বা রাজনৈতিক, জাতিগত, জাতিগত বা ধর্মীয় ভিত্তিতে নিপীড়ন, হোক বা না হোক। দেশের অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করে যেখানে অপরাধ করা হয়েছে;)
(f) any other crimes under international law; ((চ) আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অন্য কোন অপরাধ;)
পক্ষান্তরে এই আইনের ৪ ধারায় অপরাধের দায় কিভাবে বর্তাবে সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায় যে,
(1) When any crime as specified in section 3 is committed by several persons, each of such person is liable for that crime in the same manner as if it were done by him alone. ((1) ধারা 3-এ উল্লেখিত কোনো অপরাধ যখন একাধিক ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি সেই অপরাধের জন্য একইভাবে দায়বদ্ধ হয় যেন এটি একা তার দ্বারা করা হয়েছে।)
(2) Any commander or superior officer who orders, permits, acquiesces or participates in the commission of any of the crimes specified in section 3 or is connected with any plans and activities involving the commission of such crimes or who fails or omits to discharge his duty to maintain discipline, or to control or supervise the actions of the persons under his command or his subordinates, whereby such persons or subordinates or any of them commit any such crimes, or who fails to take necessary measures to prevent the commission of such crimes, is guilty of such crimes. ((২) যে কোন কমান্ডার বা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি ধারা 3-এ উল্লিখিত যেকোন অপরাধের আদেশ দেন, অনুমতি দেন, স্বীকার করেন বা অংশগ্রহণ করেন বা এই ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাথে জড়িত কোন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকেন বা যিনি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা বাদ দেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বা তার অধীনস্থ ব্যক্তিদের বা তার অধীনস্থদের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব, যেখানে এই ধরনের ব্যক্তি বা অধস্তন বা তাদের মধ্যে কেউ এই ধরনের অপরাধ করে, বা যারা এই ধরনের অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। , এই ধরনের অপরাধের জন্য দোষী।)
সুতরাং যাঁরা এই জঘন্য গণহত্যার সাথে জড়িত এবং উস্কানী দাতা, এমনকি যাঁদের নির্দেশে বাংলাদেশে স্মরণ কালের ঘটে যাওয়া গণহত্যা সংঘগটিত হয়েছে, যাতে তাঁদের বিচার এই আইন অনুসারে হয়। সেই দাবীও রইলো।