BD Law Centre

BD Law Centre Legal Service

BD Law Centre পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানকারী 'ল' ফার্ম। আমাদের প্রাকটিস সমূহ: রীট, কোম্পানী, সিভিল, ক্রিমিনাল, ব্যবসা-বাণিজ্য বিরোধ, আরবিট্রেশন, মেডিয়েশন, জমি, চেক, অর্থঋণ।
কর্পোরেট সেবা: কোম্পানী, ব্যবসা, ট্যাক্স, ভ্যাট, ট্রেডমার্ক, প্যাটেন্ট, কপিরাইট, শিপিং

অর্থজারী মামলা সংক্রান্তে হাইকোর্টে রীট (পর্ব- ০৮): ৩৩(৯) ডিক্রী জারী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকে চ্যালেঞ্জঅর্থ ঋণ আদালত ...
08/06/2026

অর্থজারী মামলা সংক্রান্তে হাইকোর্টে রীট (পর্ব- ০৮): ৩৩(৯) ডিক্রী জারী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকে চ্যালেঞ্জ

অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(৯) ধারা ডিক্রিজারী মামলার (Ex*****on Case) একেবারে শেষ ধাপ। এই ধারায় বলা হয়েছে—উপ-ধারা (৫) এর অধীনে সম্পত্তির দখল ও ভোগের অধিকার অথবা উপ-ধারা (৭) এর অধীনে সম্পত্তির স্বত্ব ডিক্রীদারের অনুকূলে ন্যস্ত হলে, ধারা ২৮ এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত ডিক্রী জারী মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি (Final Disposal) হবে।

আপাতদৃষ্টিতে এটি মামলার সমাপ্তি মনে হলেও, যদি এই নিষ্পত্তির আদেশের পেছনে কোনো বেআইনি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তবে একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে এই চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

নিচে ৩৩(৯) ধারার ডিক্রিজারী মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি আদেশ চ্যালেঞ্জ করার প্রধান গ্রাউন্ডসমূহ, উদাহরণ ও নজির আলোচনা করা হলো:

৩৩(৯) ধারায় নিষ্পত্তি চ্যালেঞ্জ করার গ্রাউন্ডসমূহ

ভিত্তিমূলের অবৈধতা (Illegality of the Foundation):
আইনের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো— "Sublato fundamento cadit opus" (ভিত্তি যখন ধসে পড়ে, তার ওপর নির্মিত ইমারতও ধসে পড়ে)।

গ্রাউন্ড: ৩৩(৯) ধারার নিষ্পত্তি পুরোপুরি নির্ভর করে ৩৩(৫) বা ৩৩(৭) ধারার সনদের ওপর। যদি প্রথম বা দ্বিতীয় নিলাম (৩৩-১ বা ৩৩-৪) যথাযথভাবে না ডাকার কারণে ৩৩(৫) বা ৩৩(৭) সনদটি অবৈধ হয়, তবে সেই অবৈধ সনদের ওপর ভিত্তি করে ৩৩(৯) ধারায় জারী মামলা নিষ্পত্তি করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা সরাসরি বাতিলযোগ্য।

বেআইনি দখল ও উচ্ছেদ (Illegal Physical Possession):
৩৩(৯) ধারায় মামলা নিষ্পত্তির আগে আদালতযোগে সম্পত্তির ভৌত দখল (Physical Possession) ডিক্রীদারকে বুঝিয়ে দিতে হয়।

গ্রাউন্ড: যদি আদালত বা ব্যাংক আইনি প্রক্রিয়া (যেমন- ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, আদালতের বেইলিপের মাধ্যমে দখল হস্তান্তর নোটিশ) অনুসরণ না করে গায়ের জোরে বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে দায়িককে উচ্ছেদ করে এবং আদালতে মিথ্যা কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিয়ে ৩৩(৯) ধারায় মামলা নিষ্পত্তি করে, তবে তা রিট করার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রাউন্ড।

২৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে' শর্তের লঙ্ঘন (Violation of Section 28):
২৮ ধারার বিধান সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলে ৩৩(৯) ধারার জারী মামলার নিস্পত্তি আদেশেকে চ্যালেঞ্জ করার এটি খুবই কৌশলগত গ্রাউন্ড (Violation of Section 28 - The Most Crucial Ground)। ৩৩(৯) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে— নিষ্পত্তিটি হবে "ধারা ২৮ এর বিধান সাপেক্ষে" (Subject to the provisions of Section 28)।

২৮ ধারার নিয়ম: এই ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংক যে সম্পত্তি গ্রহণ করছে তার মূল্য যদি ব্যাংকের পাওনা (ডিক্রিকৃত অর্থ) থেকে বেশি হয়, তবে ব্যাংককে সেই বাড়তি বা অতিরিক্ত অর্থ দায়িককে (Judgment Debtor) ফেরত দিতে হবে। যদি ফেরত না দিয়ে বা সমন্বয় না করে জারী মামলা পূর্ণ সন্তুষ্টিতে নিস্পত্তি করে দেন তাহলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট দায়ের করার মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারেন।

গ্রাউন্ড: ২৮(৩) ধারা অনুযায়ী যদি ব্যাংক ও দায়িকের মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা (Solenama) হয়ে থাকে এবং দায়িক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে থাকেন, এমতাবস্থায় ব্যাংক যদি জালিয়াতি করে বা তথ্য গোপন করে ৩৩(৭) সনদ নিয়ে মামলাটি ৩৩(৯) ধারায় নিষ্পত্তি করে দেয়, তবে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।

রিটের বাস্তব গ্রাউন্ড/উদাহরণ: যদি দেখা যায় যে, ১০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিকানা ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে যেখানে ব্যাংকের পাওনা ছিল মাত্র ২ কোটি টাকা, এবং আদালত ২৮ ধারার অধীনে এই অতিরিক্ত ৮ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় বা দায়িককে ফেরত দেওয়ার আদেশ না দিয়েই ৩৩(৯) ধারায় জারী মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দেয়, তবে সেটি আইনের চোখে একটি চরম ভুল (Error of law on the face of record)। এই গ্রাউন্ডে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

বাস্তব উদাহরণ-১: নিলাম প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া (৩৩(৭) এর ক্ষেত্রে):
'ক' ব্যাংকের কাছে ১ কোটি টাকা ঋণের দায়ে 'খ'-এর একটি জমি বন্ধক আছে। আদালত ডিক্রি দেওয়ার পর ব্যাংক জারি মামলা করে। আইন অনুযায়ী, প্রথম নিলামে বিক্রি না হলে দ্বিতীয় নিলাম ডাকতে হবে। কিন্তু ব্যাংক ও আদালত যোগসাজশে বা ভুলে দ্বিতীয় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই সরাসরি ৩৩(৭) ধারায় ব্যাংককে সম্পত্তির মালিকানার সনদ দিয়ে দেয়। 'খ' হাইকোর্টে রিট করে প্রমাণ করেন যে ৩৩(৩) ধারার বিধান মানা হয়নি। হাইকোর্ট সনদপত্রটি বাতিল করে দেবেন।

বন্ধক বহির্ভূত সম্পত্তি ন্যস্তকরণ:
যদি এমন কোনো সম্পত্তির ওপর ৩৩(৯) ধারায় নিষ্পত্তি টানা হয় যা দায়িক কখনোই বন্ধক দেননি (ভুল দাগ বা খতিয়ানের কারণে), তবে উক্ত নিষ্পত্তি আদেশ এখতিয়ার বহির্ভূত (Without Jurisdiction)।

এক্সপোর্ট বিল বা লিয়েনকৃত অর্থ সমন্বয় না করা:
যদি ব্যাংকের কাছে দায়িকের নগদ টাকা, এফডিআর (FDR) বা এক্সপোর্ট বিল জমা থাকে, তবে তা সমন্বয় (Adjust) না করে সরাসরি সম্পত্তি দখল নিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া 'অন্যায্য ব্যাংকিং প্র্যাকটিস' এবং রিটযোগ্য।

অকাল নিষ্পত্তি (Premature Disposal):
দায়িক যদি আদালতে ডিক্রির টাকা কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধের জন্য কোনো আবেদন করে থাকেন এবং আদালত সেই আবেদনের শুনানি না করেই তড়িঘড়ি করে ৩৩(৯) ধারায় মামলা নিষ্পত্তি করে দেয়, তবে তা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন হিসেবে রিটযোগ্য হবে।

বাস্তব উদাহরণ-১ (২৮ ধারার সমন্বয় না করে ৩৩(৯) এ নিষ্পত্তি):
ব্যাংকের পাওনা ২ কোটি টাকা। নিলামে বিক্রি না হওয়ায় আদালত ৩৩(৭) ধারায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের মালিকানা ব্যাংককে দেয়, যার সরকারি মৌজা মূল্য বা বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। এরপর আদালত ৩৩(৯) ধারায় জারী মামলাটি "চূড়ান্ত নিষ্পত্তি" বলে আদেশ দেয়। কিন্তু ২৮ ধারা অনুযায়ী দায়িকের যে ৩ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার কথা, আদালত সে বিষয়ে নীরব থাকে। দায়িক এই আদেশের বিরুদ্ধে রিট করলে হাইকোর্ট ৩৩(৯) এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আদেশটি বেআইনি ঘোষণা করে স্থগিত করবেন এবং ২৮ ধারার বিধান পরিপালনের নির্দেশ দেবেন।

বাস্তব উদাহরণ-২ (কাগজে-কলমে দখল ও নিষ্পত্তি):
ব্যাংক জারি মামলায় ৩৩(৭) ধারায় মালিকানা সনদ পেল। কিন্তু বাস্তবিকভাবে ঋণগ্রহীতা এখনো সেই ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন চালাচ্ছেন এবং কোনো উচ্ছেদ নোটিশ পাননি। ব্যাংক আদালতের লোকজনের সাথে যোগসাজশ করে একটি 'কাগজে-কলমে' (Paper Transaction) দখল হস্তান্তরের রিপোর্ট জমা দিল এবং আদালত ৩৩(৯) ধারায় জারী মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দিলেন।

প্রতিকার: ঋণগ্রহীতা হাইকোর্টে রিট করে প্রমাণ করতে পারেন যে আইনি প্রক্রিয়ায় ভৌত দখল হস্তান্তর হয়নি। হাইকোর্ট উক্ত ৩৩(৯) এর আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।

বাস্তব উদাহরণ-৩ (ত্রুটিপূর্ণ নিলামের ওপর ভিত্তি করে নিষ্পত্তি):
ব্যাংক কোনো জাতীয় দৈনিকে নিলামের বিজ্ঞাপন না দিয়েই ৩৩(৫) এর সার্টিফিকেট নিল এবং এরপর ৩৩(৯) ধারায় মামলা নিষ্পত্তি করাল।

প্রতিকার: যেহেতু মূল নিলাম প্রক্রিয়াই (৩৩-১) ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তাই হাইকোর্ট ৩৩(৯) ধারার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আদেশকে "Void ab initio" (শুরু থেকেই বাতিল) ঘোষণা করতে পারেন।

উপসংহার:
৩৩(৯) ধারায় জারী মামলার "চূড়ান্ত নিষ্পত্তি" মানেই আইনি লড়াইয়ের শেষ নয়। যদি ব্যাংক বা আদালত এই নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় পৌঁছানোর জন্য কোনো বেআইনি পথ অবলম্বন করে বা দায়িকের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তবে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ার (Writ Jurisdiction) ব্যবহার করে সেই 'চূড়ান্ত নিষ্পত্তি'কেও পুনরায় উন্মুক্ত (Re-open) এবং বাতিল করা সম্পূর্ণ আইনসম্মত। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩(৭) এবং ৩৩(৯) ধারা দুটি একে অপরের পরিপূরক। ৩৩(৭) ধারার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর হয় এবং ৩৩(৯) ধারার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার যবনিকা টানা হয়। এই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা একটি অত্যন্ত কার্যকরী আইনি প্রতিকার, বিশেষ করে যখন আদালত ২৮ ধারার বিধান (সম্পত্তির অতিরিক্ত মূল্য ফেরত) সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে দায়িককে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়। তবে রিট দায়ের করার সময় অবশ্যই আদেশের মধ্যে দৃশ্যমান চরম বেআইনি কার্যকলাপ (Gross Illegality) প্রমাণ করতে হবে।

মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এবং
মৌলিক অধিকার কর্মী।
ফোন: +৮৮ ০১৭১১ ৯৯ ৩৬ ৩৯
ইমেইল: [email protected]


https://bdlawcentre.com/article/196/%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%9F-%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC--%E0%A7%A6%E0%A7%AE%29-%E0%A7%A9%E0%A7%A9%28%E0%A7%AF%29-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%82%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C-

#অর্থঋণ, #মামলা, #হাইকোর্ট, #রীট, #রিট_পিটিশন, #ব্যাংক, #প্রতিকার, #মৌলিক_অধিকার, #কামরুজ্জামান, #অ্যাডভোকেট, #বাংলাদেশ_সুপ্রিম_কোর্ট,

08/06/2026

বাণিজ্যিক আদালতে ব্যবসায়িকদের অধিকার: বাণিজ্যিক ডকুমেন্টস নিয়ে বাণিজ্যিক বিরোধ, মামলা ও প্রতিকার

বাণিজ্যিক দলিলসমূহের তালিকা:
নিম্নে বহুল ব্যবহৃত কিছু বাণিজ্যিক দলিলের নাম দেওয়া হলো:
১. লেটার অব ক্রেডিট বা ঋণপত্র (Letter of Credit - L/C)
২. ব্যাংক গ্যারান্টি (Bank Guarantee)
৩. বিল অব ল্যাডিং বা বহনপত্র (Bill of Lading)
৪. বিনিময় বিল (Bill of Exchange)
৫. অঙ্গীকারপত্র (Promissory Note)
৬. বাণিজ্যিক ইনভয়েস বা চালান (Commercial Invoice)
৭. প্রস্তাবপত্র (Offer Letter)
৮. সম্মতিপত্র (Acceptance)
৯. ওয়ার্ক অর্ডার (Work Order)
১০. ক্রয় আদেশ (Purchase Order)
১১. বিল (Bill)
১২. ডেলিভারি অর্ডার (Delivery Order)
১৩. গুদামজাতকরণ রসিদ বা ডক ওয়ারেন্ট (Warehouse Receipt / Dock Warrant)
১৪. গুদাম-রক্ষকের প্রত্যয়নপত্র (warehouse-keeper's certificate)
১৫. রেলওয়ে রশিদ (railway receipt)
১৬. পরিবহন রশিদ (transportation receipt)
১৭. পণ্য অর্পণের আদেশপত্র (warrant or order for the delivery of goods)
১৮. ঘাট-রক্ষকের প্রত্যয়নপত্র বা জেটি-রক্ষকের সনদ (whar-fingers' certificate)
১৯. ব্যবসায়ের সাধারণ বা স্বাভাবিক কার্যক্রমে পণ্যের ক্রয়, বিক্রয়, মালিকানা, দখল বা নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত অন্য যেকোনো দলিল, অথবা এমন কোনো দলিল যা পৃষ্ঠাংকন (endorsement) বা অর্পণের (delivery) মাধ্যমে উক্ত দলিলের অধিকারীকে দলিলে উল্লিখিত পণ্য হস্তান্তর বা গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রদান করে বা ক্ষমতা প্রদান করে বলে প্রতীয়মান হয় (any document used in the ordinary course of course of business as proof of the possession or control of goods, or authorizing or purporting to authorize, either by endorsement or by delivery, the possessor of the document to transfer or receive goods thereby represented.)

Corporate Law Chamber:
H- 35 (Suit-B3), Road- 14, Sector- 13, Uttara, Dhaka
Cell Number: +8801771599577
WhatsApp: +8801970599577
Email: [email protected]
https://www.facebook.com/BangladeshLawCentre

#বাণিজ্যিকআদাল #বাণিজ্যিকবিরোধ #বাণিজ্যিকডকুমেন্টস #লেটারঅবক্রেডিট #ব্যাংকগ্যারান্টি #বিলঅবল্যাডিংবাবহনপত্র #বিনিময়বিল #অঙ্গীকারপত্র #বাণিজ্যিকইনভয়েস #প্রস্তাবপত্র #সম্মতিপত্র #ওয়ার্কঅর্ডার #ক্রয়আদেশ #বিল #ডেলিভারিঅর্ডার #গুদামজাতকরণ_রসিদ # #গুদাম_রক্ষকেরপ্রত্যয়নপত্র #রেলওয়েরশিদ #পরিবহনরশিদ #পণ্যঅর্পণেরআদেশপত্র #প্রত্যয়নপত্র #ব্যবসায়েরকার্যক্রম

বাণিজ্যিক আদালতে মামলা (পর্ব-০৮): ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি (Franchising agreements) সংক্রান্তে বাণিজ্যিক বিরোধবর্তমান যুগে ব্...
08/06/2026

বাণিজ্যিক আদালতে মামলা (পর্ব-০৮): ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি (Franchising agreements) সংক্রান্তে বাণিজ্যিক বিরোধ

বর্তমান যুগে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্যতম জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম হলো 'ফ্র্যাঞ্চাইজিং' (Franchising)। বিখ্যাত দেশীয় বা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো তাদের নাম, ট্রেডমার্ক এবং ব্যবসায়িক মডেল ব্যবহারের অধিকার অন্য ব্যবসায়ীদের (ফ্র্যাঞ্চাইজি) দিয়ে থাকে, যার বিনিময়ে তারা ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি এবং রয়্যালটি পায়।

যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তিতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ, ব্র্যান্ডের সুনাম এবং মেধা সম্পদের (Intellectual Property) বিষয় জড়িত থাকে, তাই এর বিরোধগুলো অত্যন্ত জটিল হয়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ধারা ২(ঘ)(৭)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, "ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি (Franchising agreements)" থেকে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ 'বাণিজ্যিক বিরোধ' হিসেবে গণ্য হবে এবং বাণিজ্যিক আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

বাংলাদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজিং কোনো নির্দিষ্ট একক আইনের অধীনে পরিচালিত হতো না। এটি মূলত ১৮৭২ সালের চুক্তি আইন (Contract Act, 1872), ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইন এবং ২০১২ সালের প্রতিযোগিতা আইনের একটি সম্মিলিত প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল ছিল । তবে বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ আসার ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিং এখন একটি সুনির্দিষ্ট বিচারিক কাঠামোর অধীনে এসেছে।

এই ধারার অধীনে মামলা দায়ের করার প্রধান গ্রাউন্ড বা ক্ষেত্রগুলো এবং সেগুলোর একাধিক বাস্তব উদাহরণ নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হলো:

১. রয়্যালটি (Royalty) এবং ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধ:
ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে (যিনি ব্র্যান্ড নিয়েছেন) নির্দিষ্ট সময় পরপর মোট বিক্রির একটি অংশ 'রয়্যালটি' হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজরকে (মূল মালিক) দিতে হয়। এই ফি পরিশোধ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরোধ হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজ সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধ হলো রয়্যালটি বা লাইসেন্স ফি প্রদান। চুক্তিতে সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তার মোট বিক্রির (Gross Sales) একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রতি মাসে বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজরকে প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিতে হয় । বিরোধ তখনই তৈরি হয় যখন ‘মোট বিক্রি’ বা ‘গ্রস সেলস’-এর সংজ্ঞা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিমত সৃষ্টি হয়।এই ধরণের বিরোধের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি তার প্রকৃত আয় গোপন করছে বা ভ্যাট, ডিসকাউন্ট এবং হোম ডেলিভারি চার্জ বাদ দিয়ে রয়্যালটি গণনা করছে । আবার অনেক ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজর কর্তৃক অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত ফি বা লুকায়িত চার্জ আরোপ করার অভিযোগ ওঠে।

বাস্তব উদাহরণ ১ (বিক্রির তথ্য গোপন করে রয়্যালটি ফাঁকি):
প্রেক্ষাপট: 'ক' নামক একটি বিখ্যাত কফি ব্র্যান্ড তাদের একটি শাখার ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয় 'খ' এন্টারপ্রাইজকে। চুক্তি অনুযায়ী 'খ' প্রতি মাসের মোট বিক্রির ৫% রয়্যালটি দেবে। কিন্তু 'খ' তাদের নিজস্ব একটি পয়েন্ট অব সেলস (POS) সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিক্রির অর্ধেক হিসাব গোপন করে এবং কম রয়্যালটি প্রদান করে। অডিট করার পর 'ক' ব্র্যান্ড বিষয়টি ধরতে পারে।

মামলার কারণ: চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন এবং রয়্যালটি ফাঁকি। 'ক' ব্র্যান্ড বকেয়া রয়্যালটি আদায় এবং চুক্তি বাতিলের জন্য বাণিজ্যিক আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ২ (বার্ষিক নবায়ন ফি প্রদানে অস্বীকৃতি):
প্রেক্ষাপট: একটি আন্তর্জাতিক চেইন সুপারশপ তাদের বাংলাদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ১০ লক্ষ টাকা রিনিউয়াল ফি (Renewal Fee) দিতে বলে। কিন্তু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে—এই অজুহাত দেখিয়ে ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, অথচ তারা ব্র্যান্ডের নাম ঠিকই ব্যবহার করতে থাকে।

মামলার কারণ: ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি প্রদানে ব্যর্থতা। মূল ব্র্যান্ড তাদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এই ধারায় মামলা করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ৩:
একটি আন্তর্জাতিক ফাস্ট-ফুড চেইন বাংলাদেশে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে প্রতি মাসে ৬% রয়্যালটি প্রদানের শর্তে নিয়োগ দেয়। তিন বছর পর ফ্র্যাঞ্চাইজর লক্ষ্য করে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত অর্ডারের আয়কে মোট বিক্রির অন্তর্ভুক্ত করছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজির দাবি ছিল যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কমিশন দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে তাই রয়্যালটির জন্য বিবেচ্য। কিন্তু চুক্তির ভাষা অনুযায়ী ‘মোট বিক্রি’ বলতে কোনো কাটছাঁট ছাড়াই সরাসরি বিক্রয়মূল্যকে বোঝায়। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৭) ধারার অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজর বকেয়া রয়্যালটি আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

বাস্তব উদাহরণ ৪: একটি পোশাক ব্র্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি অভিযোগ করে যে, তাদের কাছ থেকে বার্ষিক ২% মার্কেটিং ফি নেওয়া হচ্ছে কিন্তু ব্র্যান্ডটি গত দুই বছরে বাংলাদেশে কোনো প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই গ্রাউন্ডে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজর তার চুক্তিবদ্ধ পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে, যা রয়্যালটি প্রদানের আবশ্যকতাকে প্রভাবিত করে ।

ব্র্যান্ডের মান, সিক্রেট রেসিপি ও নির্দেশিকা (SOP) লঙ্ঘন:
ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো সব শাখায় একই মান ও স্বাদ (Quality and Taste) বজায় রাখা। ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি মূল কোম্পানির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) না মানে, তবে ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট হয়।

বাস্তব উদাহরণ ২.১ (নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার):
প্রেক্ষাপট: একটি জনপ্রিয় দেশীয় 'কাচ্চি বিরিয়ানি' ব্র্যান্ড সিলেটে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয়। চুক্তিতে স্পষ্ট বলা ছিল যে, মাংস ও বিশেষ মসলা প্রধান শাখা থেকে নিতে হবে। কিন্তু সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি বেশি লাভের আশায় স্থানীয় বাজার থেকে নিম্নমানের মাংস ও সাধারণ মসলা ব্যবহার শুরু করে, যার ফলে ক্রেতারা বাজে রিভিও দেওয়া শুরু করে এবং ব্র্যান্ডের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

মামলার কারণ: ব্র্যান্ড ভ্যালু নষ্ট করা এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোল (Quality Control) শর্তের লঙ্ঘন। মূল কোম্পানি ক্ষতিপূরণ এবং ওই শাখা বন্ধের নির্দেশ চেয়ে বাণিজ্যিক আদালতে মামলা করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ২.২ (অনুমোদনহীন ইন্টেরিয়র বা লোগো পরিবর্তন):
প্রেক্ষাপট: একটি গ্লোবাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড তাদের শোরুমের একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন (Global Design Standard) ঠিক করে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক মূল কোম্পানির কোনো অনুমোদন না নিয়েই শোরুমের কালার থিম এবং লোগোর স্টাইল পরিবর্তন করে ফেলে।

মামলার কারণ: ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি এবং ডেকোরেশন গাইডলাইন লঙ্ঘন। মূল কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ব্র্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিরোধ (Quality Control):
ফ্র্যাঞ্চাইজিং ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো ব্র্যান্ডের একরূপতা এবং গুণগত মান। ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি দোকানের সাজসজ্জা, কর্মীদের পোশাক, বা খাবারের মানের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজরের দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ না করে, তবে তা ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ফ্র্যাঞ্চাইজর প্রায়ই এই গ্রাউন্ডে চুক্তি বাতিল বা জরিমানা আরোপ করে থাকে।অন্যদিকে, ফ্র্যাঞ্চাইজি অনেক সময় অভিযোগ করে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজর তাকে এমন সব ব্যয়বহুল সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করছে যা অপ্রয়োজনীয় বা অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ।

বাস্তব উদাহরণ:
বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় আইসক্রিম পার্লারের ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, শুধুমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজরের অনুমোদিত কারখানা থেকে দুধ ও ফ্লেভার সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু খরচ কমাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্থানীয় বাজার থেকে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার শুরু করে, যা গ্রাহকদের অভিযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফ্র্যাঞ্চাইজর পরিদর্শন করে এই অভিযোগ সত্য প্রমাণ করে। এখন ফ্র্যাঞ্চাইজর বাণিজ্যিক আদালতে এই গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির মৌলিক শর্ত (Material Breach) লঙ্ঘন করে ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে ।

আঞ্চলিক এখতিয়ার, এলাকাভিত্তিক অধিকার ও সীমানা লঙ্ঘন (Territorial Disputes/Encroachment):
সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার (যেমন- ধানমন্ডি বা গুলশান) জন্য একজনকে এক্সক্লুসিভ অধিকার দেওয়া হয়, যেন একই ব্র্যান্ডের অন্য কোনো শাখা ওই এলাকায় ব্যবসা নষ্ট করতে না পারে।

অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার (Territory) জন্য একচেটিয়া বা সংরক্ষিত অধিকার প্রদান করা হয়। বিরোধের সৃষ্টি হয় যখন ফ্র্যাঞ্চাইজর নিজেই সেই এলাকায় পণ্য বিক্রি শুরু করে অথবা খুব কাছাকাছি অন্য কাউকে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রদান করে। একে ব্যবসায়িক পরিভাষায় ‘এনক্রোচমেন্ট’বা সীমানা লঙ্ঘন বলা হয় ।

বিশেষ করে বর্তমানে ই-কমার্স বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারের ফলে ভৌগোলিক সীমানার ধারণা কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকার গুলশান এলাকায় এক্সক্লুসিভ রাইটস পায়, এবং ফ্র্যাঞ্চাইজর যদি তার কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট থেকে গুলশান এলাকার ক্রেতাদের কাছে সরাসরি পণ্য ডেলিভারি দেয়, তবে তা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বাণিজ্যিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে ।

বাস্তব উদাহরণ ১ (মূল কোম্পানি কর্তৃক এক্সক্লুসিভিটি লঙ্ঘন):
প্রেক্ষাপট: 'গ' ট্রেডার্স একটি পিজ্জা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে 'উত্তরা মডেল টাউন' এলাকার এক্সক্লুসিভ ফ্র্যাঞ্চাইজি নেয়। কিন্তু এক বছর পর মূল পিজ্জা কোম্পানি বেশি টাকার লোভে উত্তরাতে অন্য একজনকে আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে দেয়, যার ফলে 'গ' ট্রেডার্সের বিক্রি অর্ধেকে নেমে আসে।

মামলার কারণ: এক্সক্লুসিভ টেরিটরি (Territorial Exclusivity) শর্তের লঙ্ঘন। 'গ' ট্রেডার্স নতুন শাখাটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির জন্য মূল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ২ (ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃক অন্য এলাকায় পণ্য বিক্রি):
প্রেক্ষাপট: একটি ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড 'ঘ' কোম্পানিকে শুধু 'চট্টগ্রাম বিভাগের' জন্য ডিস্ট্রিবিউশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজ অধিকার দেয়। কিন্তু 'ঘ' কোম্পানি গোপনে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ডিলারের কাছে পাইকারি দামে পণ্য বিক্রি শুরু করে, যা ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবসায়িক ক্ষতি করে।

মামলার কারণ: নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা (Cross-border selling)।

বাস্তব উদাহরণ ৩:
একটি কফি চেইন ব্র্যান্ড চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় একজন ব্যবসায়ীকে এক্সক্লুসিভ ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রদান করে। কিন্তু এক বছর পর ফ্র্যাঞ্চাইজর নাসিরাবাদের ৫০০ মিটারের মধ্যেই একটি কর্পোরেট শোরুম চালু করে। ফ্র্যাঞ্চাইজি দাবি করে যে, এই নতুন শোরুমের ফলে তার দোকানের বিক্রি ৩০% কমে গেছে। এক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ২(ঘ)(৭) ধারার অধীনে ওই নতুন শোরুম বন্ধ করার জন্য ‘ইনজাংশন’বা নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করতে পারে ।

৪. অবৈধভাবে চুক্তি বাতিল এবং ট্রেডমার্কের অপব্যবহার (Termination and IP Misuse):
অনেক সময় ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা চুক্তি বাতিল হওয়ার পরও ফ্র্যাঞ্চাইজি মূল কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার করতে থাকে, যা সরাসরি মেধা সম্পদের (IP) লঙ্ঘন।

বাস্তব উদাহরণ ৪.১ (চুক্তি শেষেও ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার):
প্রেক্ষাপট: একটি বেসরকারি স্কুলের ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তির মেয়াদ ৫ বছর পর শেষ হয়ে যায় এবং দুই পক্ষ চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সাইনবোর্ড থেকে ওই বিখ্যাত স্কুলের নাম ও লোগো সরায় না এবং আগের নামেই নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে থাকে।

মামলার কারণ: মেধা সম্পদ (Intellectual Property) বা ট্রেডমার্কের অননুমোদিত ব্যবহার ও জালিয়াতি। মূল স্কুল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) চেয়ে মামলা করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ৪.২ (নোটিশ ছাড়াই আকস্মিক চুক্তি বাতিল):
প্রেক্ষাপট: 'ঙ' ফ্যাশন হাউস একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সাথে ১০ বছরের ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি করে এবং শোরুম সাজাতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। ২ বছর পর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডটি কোনো যৌক্তিক কারণ এবং পূর্ব নোটিশ ছাড়াই (Wrongful Termination) ই-মেইলের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল ঘোষণা করে।

মামলার কারণ: চুক্তির অন্যায্য ও বেআইনি বাতিলকরণ। 'ঙ' ফ্যাশন হাউস তাদের বিশাল বিনিয়োগের ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাণিজ্যিক আদালতে যেতে পারবে।

৫. প্রতিশ্রুত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে ব্যর্থতা (Failure to Provide Support):
ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজর বাধ্য থাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সফটওয়্যার, মার্কেটিং সাপোর্ট এবং স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য।

বাস্তব উদাহরণ ৫.১ (প্রশিক্ষণ ও সফটওয়্যার না দেওয়া):
প্রেক্ষাপট: একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার চেইন তাদের এক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা প্যাথলজিস্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং সেন্ট্রাল রিপোর্টিং সফটওয়্যার দেবে। কিন্তু শাখা উদ্বোধনের ৬ মাস পরও মূল কোম্পানি কোনো সফটওয়্যার বা প্রশিক্ষণ দেয়নি, ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি রোগী হারাতে থাকে।

মামলার কারণ: প্রতিশ্রুত ব্যবসায়িক সহায়তা (Business Support) প্রদানে ব্যর্থতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবে।

বাস্তব উদাহরণ ৫.২ (সাপ্লাই চেইন বা কাঁচামাল সরবরাহে ব্যর্থতা):
প্রেক্ষাপট: একটি ফ্রায়েড চিকেন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে চুক্তির শর্ত ছিল যে মূল কোম্পানি প্রতিদিন সকালের মধ্যে ফ্রেশ চিকেন সাপ্লাই দেবে। কিন্তু মূল কোম্পানির লজিস্টিক সমস্যার কারণে সপ্তাহে তিন দিনই চিকেন পৌঁছায় না, ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজির অপারেশন বন্ধ রাখতে হয়।

মামলার কারণ: সাপ্লাই চেইন পরিচালনায় চুক্তির বরখেলাপ।

ভুল তথ্য প্রদান ও প্ররোচনা (Misrepresentation and Fraud):
ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায় আসার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজর অনেক সময় অত্যন্ত উজ্জ্বল আর্থিক চিত্র তুলে ধরে। যদি দেখা যায় যে, ফ্র্যাঞ্চাইজর জেনেশুনে ভুল ডাটা, অবাস্তব প্রজেকশন বা গোপনীয় তথ্য লুকিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়েছে, তবে তাকে ‘ফ্রড ইন দ্য ইনডুসমেন্ট’ (Fraud in the inducement) বলা হয়।

বাস্তব উদাহরণ:
একটি নতুন ফিটনেস চেইন দাবি করল যে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলে মাসে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা নিট মুনাফা হবে। কিন্তু ব্যবসা শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেখল যে এলাকার জনতাত্ত্বিক কাঠামো অনুযায়ী ৫ লক্ষ টাকা লাভ করাও কঠিন। ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি প্রমাণ করতে পারে যে ফ্র্যাঞ্চাইজর জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করেছে, তবে সে বাণিজ্যিক আদালতে চুক্তি বাতিল এবং পূর্ণ বিনিয়োগ ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারে ।

চুক্তি সমাপ্তি ও নবায়ন সংক্রান্ত বিরোধ (Termination and Renewal):
এটি সম্ভবত ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের সবচেয়ে জটিল বিরোধের ক্ষেত্র। ফ্র্যাঞ্চাইজি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশা করে। যদি ফ্র্যাঞ্চাইজর যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চুক্তি বাতিল করে বা মেয়াদ শেষে নবায়নে অস্বীকার করে, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজির বিশাল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর অধীনে এই ধরণের মামলায় সাধারণত ‘অন্যায্য সমাপ্তি’ (Wrongful Termination) এবং ‘গুড ফেথ’ বা সৎ বিশ্বাসের অভাবের গ্রাউন্ডে মামলা করা হয় ।

বাস্তব উদাহরণ:
একটি ডেন্টাল ক্লিনিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ৫ বছরের জন্য চুক্তি করেছিল। ৪ বছর পর ফ্র্যাঞ্চাইজর কোনো নোটিশ ছাড়াই চুক্তি বাতিল করে দেয়, কারণ তারা ওই এলাকায় নিজস্ব কর্পোরেট শাখা খুলতে চায়। চুক্তিতে শর্ত ছিল যে, গুরুতর অপরাধ ছাড়া অন্তত ৯০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাণিজ্যিক আদালতে এই গ্রাউন্ডে মামলা করতে পারে যে, চুক্তি বাতিলের পদ্ধতি বেআইনি ছিল এবং তাকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করা হয়েছে ।

উপসংহার:
বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এর ধারা ২(ঘ)(৭) ফ্র্যাঞ্চাইজ ব্যবসা খাতের জন্য একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এর ফলে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দিতে আরও বেশি নিরাপদ বোধ করবে, কারণ তারা জানে যে তাদের ট্রেডমার্ক বা রয়্যালটি নিয়ে কোনো বিরোধ হলে বাণিজ্যিক আদালতের মাধ্যমে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। একইভাবে, স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও মূল কোম্পানির কোনো অন্যায্য চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পাবে।

মোঃ কামরুজ্জামান
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
ফোন: +8801771599577
ইমেইল: [email protected]

https://bdlawcentre.com/article/173/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A7%A6%E0%A7%AE%29-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9C-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%28franchising-agreements%29-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7

, , #বাণিজ্যিক_বিরোধ, #গাইডেন্স_প্রোগ্রাম, #ব্যবসা, #বাণিজ্য, #বিরোধ, #বাণিজ্যিক_আদালত, #ব্যবসায়ী, #উদ্যোক্তা, #অংশিদার, #কোম্পানী_মালিক, #এমডি, , , , , #কোম্পানী_সেক্রেটারি, , #ব্যবসায়_চুক্তি, , #বাণিজ্য_চুক্তি, , #ব্যবসা_বাণিজ্য_বিরোধ, , #বাণিজ্য_চুক্তি, #ব্যবসায়ে_লেনদেন, ,

হাইকোর্টে আপনার অধিকার ও প্রতিকার (পর্ব- ০৮): অনুচ্ছেদ ২৮- ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ, জন্মস্থান ইত্যাদির কারণে বৈষম্য আপনি...
08/06/2026

হাইকোর্টে আপনার অধিকার ও প্রতিকার (পর্ব- ০৮): অনুচ্ছেদ ২৮- ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ, জন্মস্থান ইত্যাদির কারণে বৈষম্য

আপনি কি জানেন যে সংবিধানের ২৮ নং অনুচ্ছেদের আলোকে আপনার মৌলিক অধিকারগুলো কী কী? আপনি কি জানেন যে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্র, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হলে আপনার করনীয় কী কী? ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে অথবা নারী হওয়ার কারণে এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপনি কী করতে পারেন সে সম্পর্কে কি আপনার ধারণা আছে? কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো অক্ষমতা, দায়বদ্ধতা, সীমাবদ্ধতা বা শর্তের শিকার হলে আপনার প্রতিকার পাওয়ার উপায় কী? যদি জানা না থাকে, তবে চলুন আপনার অধিকারগুলো সম্পর্কে জেনে নিই। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র বা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ যদি ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে অথবা নারী হওয়ার কারণে কোনো বৈষম্য করে, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা যেতে পারে।

আপনার ধর্মের কারণে বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে, গোত্রের কারণে, বংশের কারণে, জেন্ডার ভিত্তিতে অর্থাৎ পুরুষ বা মহিলা হওয়ার কারণে এবং জন্ম স্থানের কারণে আপনাকে সরকারী-আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরিতে নিয়োগ দেয়া না হয়, পদন্নোতি দেয়া না হয়, অপসারণ করা হয় বা অবসরে পাঠানো হয় কিংবা ধর্ম-গোত্র-জেন্ডারের কারণে যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি না নেয়, তাহলে আপনি ধর্ম-গোত্র-জেন্ডারের কারণে যেই বৈষম্যের শিকার হলেন, এক্ষেত্রে এর প্রতিকার পেতে চাইলে আপনি কোথায় যাবেন? আপনি মহামান্য হাইকোর্টে আসবেন, রিট পিটিশন দায়ের করবেন। হাইকোর্টের কাছে যদি প্রতিয়মান হয় যে, আপনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, আপনার এই মৌলিক অধিকারটি ক্ষুন্ন হয়েছে, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ জারী করে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন।

নিচে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ও ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো যেখানে রিট দায়ের করা যেতে পারে, যা বিভিন্ন উদাহরণ এবং বিচারিক নজিরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:

উদারহরণ-১: কোন প্রতিষ্ঠান যদি নারীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৪৫ বছর এবং পুরুষদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬৫ করে অর্থাৎ ডেন্ডারের ভিত্তিতে যদি চাকুরী হতে অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করে তবে তা হবে লিঙ্গ বৈষম্য যা অসাংবিধানিক। এক্ষেত্রে ওই চাকুরীর কোন নারী সদস্য যদি এই বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার পেতে চায় তাহলে তাকে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে হবে। হাইকোর্টে কাছে যদি এটি প্রতিয়মান হয় যে, লিঙ্গ বৈষম্য হচ্ছে তাহলে ওই বৈষম্যকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক হিসাবে আখ্যা দিয়ে আদেশ জারী করবেন।

উদারহরণ-২: কোন সরকারী-অধাসরকারী প্রতিষ্ঠান যদি বয়োজেষ্ঠ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদন্নোতি না দিয়ে বয়:কণিষ্ঠ, অধস্তন বা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদন্নোতি প্রদান করেন, তাহলে ওই বয়োজেষ্ঠ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈষম্যের শিকার হলেন এবং এজন্য তিনি তাঁর এই মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। হাইকোর্টের কাছে যদি প্রতিয়মান হয় যে, আপনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, আপনার এই মৌলিক অধিকারটি ক্ষুন্ন হয়েছে, তাহলে হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ জারী করে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন।

সংবিধানের ২৮নং অনুচ্ছেদ:

Discrimination on grounds of religion, etc.

(1) The State shall not discriminate against any citizen on grounds only of religion, race, caste, s*x or place of birth.
(2) Women shall have equal rights with men in all spheres of the State and of public life.

(3) No citizen shall, on grounds only of religion, race, caste, s*x or place of birth be subjected to any disability, liability, restriction or condition with regard to access to any place of public entertainment or resort, or admission to any educational institution.

(4) Nothing in this article shall prevent the State from making special provision in favour of women or children or for the advancement of any backward section of citizens.



সরকারি কর্মসংস্থানে লিঙ্গ বৈষম্য (অনুচ্ছেদ ২৮.২):

এটি রিট মামলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। যখন একজন নারীকে চাকরি, পদোন্নতি বা এমন কোনো সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় যা তার পুরুষ সহকর্মীরা পাচ্ছেন, তখন তা সরাসরি ২৮.২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

বিষয়: যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যখন কোনো নারীকে চাকরি, পদোন্নতি বা নির্দিষ্ট পদায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়, অথবা যখন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে "যৌক্তিক শ্রেণিবিভাগ" ছাড়াই কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গকে বাদ দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ বিভিন্ন রায়ে মাধ্যমে বলে আসছে যে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় আদালত এমন সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে যা শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে নারীদের নির্দিষ্ট ক্যাডার বা চাকরিতে যোগদানে বাধা দিয়েছিল।

উদাহরণ-১: সরকারি চাকরিতে "পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর" বা "প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক" পদের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তিতে যদি বলা হয় যে শুধুমাত্র পুরুষরা আবেদনের যোগ্য, অথচ সেই কাজটি নারীদের জন্য শারীরিকভাবে অসম্ভব বলে প্রমাণ করা না যায়।

উদাহরণ-২: কোনো সরকারি দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো যে "নাইট শিফট সুপারভাইজার" পদে শুধু পুরুষরা যোগ্য, এই ধারণা থেকে যে নারীরা রাতে কাজ করতে পারবে না।

বিচারিক নজির: বাংলাদেশ বনাম জাকিয়া আক্তার মামলায় আদালত জোর দিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে। শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে নারীদের কোনো পেশায় বাধা দেয় এমন যেকোনো প্রশাসনিক নিয়ম বাতিল বলে গণ্য হবে।



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য (অনুচ্ছেদ ২৮.৩):

ধর্ম, বর্ণ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে রাষ্ট্র পরিচালিত বা রাষ্ট্রীয় অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল/কলেজে ভর্তি হতে বাধা দেওয়া যাবে না। যখন কোনো রাষ্ট্র পরিচালিত বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ভিত্তিগুলোতে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে অস্বীকার করে, তখন ওই শিক্ষার্থী বৈষম্যমূলক নিয়ম, নোটিশ বা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

উদাহরণ: কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এমন "জেলা কোটা" প্রয়োগ করে যা অত্যন্ত অসম, যেখানে কোনো বৈধ "পিছিয়ে পড়া জনপদ" এর যুক্তি ছাড়াই এক জেলার উচ্চ নম্বরধারী শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য জেলার উল্লেখযোগ্য কম নম্বরধারী শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়।

বিচারিক নজির: আদালত বারবার বলেছে যে ভর্তির মানদণ্ড অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও "নিষিদ্ধ কোনো কারণে" (যেমন: ধর্ম) প্রত্যাখ্যাত হন, তবে প্রতিষ্ঠানকে ভর্তি নিতে বাধ্য করতে 'রিট অফ ম্যানডামাস' (Writ of Mandamus) দায়ের করা যেতে পারে।

বিচারিক নজির: আজিজুল হক বনাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মামলায় আদালত ভর্তির মানদণ্ডের বৈধতা নিয়ে আলোকপাত করেন। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, রাষ্ট্র পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য "বিশেষ বিধান" (অনুচ্ছেদ ২৮.৪) করতে পারলেও, কোনো যৌক্তিক যোগসূত্র ছাড়া শুধুমাত্র "জন্মস্থান" বা "ধর্মের" ভিত্তিতে কোনো বৈষম্যমূলক মানদণ্ড তৈরি করলে তা বাতিলযোগ্য।



বৈষম্যমূলক আইন বা সংবিধিবদ্ধ বিধিমালা:

যদি কোনো আইন, বিধি, প্রবিধান, প্রজ্ঞাপন বা কোনো বিধান নাগরিকদের মধ্যে শুধুমাত্র ২৮ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কারণগুলোর ভিত্তিতে পার্থক্য তৈরি করে, তবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করে সেটিকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।

উদাহরণ-১: এমন একটি আইন যেখানে বলা হয়েছে যে নারী সরকারি কর্মচারীদের ৫৭ বছর বয়সে অবসরে যেতে হবে, যেখানে একই পদের পুরুষ কর্মচারীরা ৫৯ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন।

বাস্তব নজির: একটি মামলায় আদালত এমন একটি নিয়ম বাতিল করে দিয়েছিলেন যেখানে এয়ার হোস্টেসদের প্রথম সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতো। আদালত এটিকে "মাতৃত্বের অবমাননা" এবং সমঅধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।"

মোঃ কামরুজ্জামান

অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
এবং মৌলিক অধিকার কর্মী।
+8801771599577
https://bdlawcentre.com/article/130/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A6-%E0%A7%A8%E0%A7%AE--%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%28%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC--%E0%A7%A6%E0%A7%AE%29
#হাইকোর্ট, #অধিকার, #বৈষম্যে, #রীট, #রিট, #রিট_পিটিশন, #সংবিধান, , , , , , , , ,

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BD Law Centre posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to BD Law Centre:

Share