19/01/2024
পরামর্শ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে যারা বেকার অবস্থায় আছেন পরামর্শ তাদের জন্য --
প্রথম আপনি যদি দুবাই অবস্থান করেন।
আল কুজ একটি বাঙালী বাজার আছে এবং সেখানে দৈনিক ৩৫ দিরহাম ভাড়ায় দোকান নিতে পারবেন।
দোকান নিয়ে কি করবেন?
আপনি যদি ঝালমুড়ি বানাতে পারেন তাহলে মুড়ি ও আনুষঙ্গিক উপকরণ কিনেন এবং ঝালমুড়ি বিক্রি করা শুরু করুন। এতে পুঁজি লাগবে আনুমানিক ২০০/২৫০ দিরহাম। প্রতিদিন বিকেলে থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিক্রি করলে এবং ১৫০ থেকে ২০০ জনের কাছে ১ দিরহাম করে ঝালমুড়ি বিক্রি করলেন। ধরেন ১০০ জনের কাছে বিক্রি করলেন ১০০ দিরহাম। চালান যাবে আনুমানিক ৩০ দিরহাম, দৈনিক ভাড়া ৩৫ দিরহাম ও মোট ৬৫ দিরহাম। দৈনিক লাভ থাকবে ৩৫ দিরহাম। মাসে ১০৫০ দিরহাম। প্রতিদিন অসংখ্য বাঙালী আল কুজ এই বাজার থেকে সদাই কিনে থাকে। নিজে সারভাইভ করতে পারবেন এবং সামান্য কিছু হলেও দেশে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারবেন। এটি একটি উদাহরণ দিলাম ঝালমুড়ি দিয়ে। এছাড়া আপনি অন্য কিছু নিয়ে বিজনেস শুরু করতে পারেন যেমন, আবির পাইকারী বাজার থেকে সবজি কিনে সবজি বেচতে পারেন, দেইরা থেকে পাইকারি মোবাইল এক্সেসরিস কিনে সেগুলো বেচতে পারেন, কসমেটিকস বেচতে পারেন, একটি চায়ের ফ্লাক্স কিনে চা, পান, বিড়ি, সিগারেট বেচতে পারেন। যেটা আপনার কাছে সহজ মনে হয়। কিন্তু অবশ্য যদি আপনার এই কাজ করার মানসিকতা থাকে। যারা সোনাপুর এর আশেপাশে থাকেন, সোনাপুরেও এমন বাঙালী বাজার আছে, সেখানে করতে পারেন।
যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তারা দৈনিক ৩০/৪০ দিরহাম ভাড়ায় গাড়ি নিতে পারেন। গাড়ি কোথায় পাবেন? ফেসবুকে বাংলাদেশীদের গ্রুপে চেক করুন অনেকেই গাড়ি ভাড়া দেয়। ভাড়া মারবেন কোথায়? প্রথম - সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ মিশন দুটি একটি দুবাই ও অন্যটি আবু ধাবি। আবুধাবির লেকদের দুবাইয়ে আসার প্রয়োজন হয়না। দুবাই, শারজাহ, আজমান, আল আইন, ফুজাইরাহ, রাস আল খাইমাহ ও উম আল কুইন থেকে অসংখ্য বাঙালী প্রতিদিন এমবাসি রিলেটেড কাজে দুবাই আবু হেইল এ অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে আসে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এমবাসিতে বাসে করে আসা সময় সাপেক্ষ ও যার যার লোকেশন থেকে বাস এভেইলেবল থাকেনা। এবং অনেকেই কাজ ফেলে আসে তাই তারা কিছু টাকা খরচ হলেও দ্রুত সার্ভিস খোঁজে। যেমন দুবাই থেকে যদি ১ জন পেসেন্জার শারজায় নিয়ে যান তাহলে ৪০/৪৫ দিরহাম ভাড়া। গাড়িতে সামনে ও পিছনে মিলে ৪ জন নিতে পারবেন। তেল একই খরচ হবে। আনুমানিক ২০ দিরহাম এর তেল খরচ হবে। না বুঝলে একদিন বাংলাদেশ মিশনের গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকে বাইরে বের হলেই বুঝতে পারবেন। কতজন ডাকবে আপনাকে শারজাহ, আজমান বলে। আরও রুট আছে যেমন বার দুবাই থেকে আবু ধাবি, আল আইন। ঘুবাইবা থেকে আবু ধাবি, আল আইন, শারজাহ, আজমান। তবে এতে সমস্যা হলো এটি বেআইনি এদেশে। কিন্তু অসংখ্য লোক করতেছে এই কাজ। চোখ কান খোলা রেখে করতে হয়।
বাইক লাইসেন্স থাকলে ৩০ দিরহাম করে দুবাই থেকে শারজাহ ও আজমান ভাড়া মারতে পারবেন। নতুন নয়, সেকেন্ড হ্যান্ড একটি বাইক ৪০০/৫০০ দিরহাম দিয়ে কিনতে পারবেন। কোথায় পাবেন বাইক? দুবিজল এপে সার্চ দিলে অসংখ্য বাইক পাবেন। আপনার বাজেট অনুযায়ী কিনে নিন।
অসংখ্য কাজ আছে করার মত শুধু করার মত মন মানসিকতা থাকতে হবে।
দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসগুলো কিনে লেবার ক্যাম্প গুলোতে ঘুরেন। কিছু না কিছু বিক্রি হবে। যেমন পারফিউম, নেল কাটার, লাইটার, বেল্ট, মোবাইল এক্সেসরিস, জায়নামাজ, তালা চাবি, ওয়ালেট আরও কত কিছু আছে।
শুধু পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে।
যারা এডুকেটেড আছেন তারা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে ভিজিটিং কার্ড, স্টেশনারি আইটেমের অর্ডার নিন। এটা একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তবে অনেকেই এটা করে মাসে ২/৩ হাজার দিরহাম ইনকাম করতেছে। তবে শুরুতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ভাবছেন ভিজিটিং কার্ড ও স্টেশনারি কোথায় পাবেন? দুবাই - দেইরা অথবা বার দুবাই অনেক প্রিন্টিং প্রেস আছে তাদের গিয়ে বললেই আপনাকে ফ্রীতে তাদের নাম দিয়ে সেলসম্যান এর কার্ড বানিয়ে দিবে। এবং কোন স্টেশনারি দোকানে গিয়ে বলেন তাদের মাল বেচে দিবেন, তারাও রাজি হবে। তারা যে রেট দিবে সে রেট থেকে ১০/২০ দিরহাম বেশি নেন। এখানে কোন অফিসের এত সময় নেই যে বাইরে বের হয়ে নিজে গিয়ে নিয়ে আসবে। সবাই অনলাইন অর্ডার করে। আপনি সেই সার্ভিসটা দিন। আপনার যদি ১০০ অফিস তৈরি হয়ে যায় ও প্রতি অফিসের কাজ থেকে যদি ২০ দিরহাম করে লাভ হয়, হিসাবটা আপনি করেন।
কত কিছু আছে করার মত শুধু মাথাটা কাজে লাগান।
কাপড়ের হোলসেল মার্কেট পাবেন আজমান। হোলসেল থেকে কাপর কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করুন। ২০০ দিরহাম দিয়ে শুরু করুন।
যেটাই করুন না কেন যেখানেই যাবেন সবার নাম্বার নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলুন। নতুন মাল আসলে গ্রুপে পোস্ট করে দিন। ২০০ জনের গ্রুপ হলে ৫ টা দোকান থেকে অর্ডার পাবেন। তবে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটা আপনাকে তৈরি করে নিতে হবে।
ব্রোকার শব্দটা আমাদের দেশে খারাপ হলেও এখানে ব্রোকারি একটি চমৎকার বিজনেস। ফেসবুকে অসংখ্য গ্রুপ আছে যেমন, রুম রেন্ট ও সেল, রেস্টুরেন্ট রেন্ট ও সেল, সেলুন রেন্ট সেল, বিভিন্ন ধরনের রেন্ট ও সেল গ্রুপ আছে। বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করুন বিস্তারিত জানুন তারপর আপনিও গ্রুপ গুলোতে বিক্রির পোস্ট দিন। কমিশন একটি কমন বিষয় এ দেশে। বিক্রি করে দিয়ে ২/৩ % কমিশন নিন।
আবু ধাবি হলে, আল কুজ ও সোনাপুর এর মত আবু ধাবি মুসাফফাতে এমন বাঙালী বাজার আছে। সেখানে শনিবার ও রবিবার অনেক বড় বাজার বসে। অবাক করা বিষয় লোকাল আরবিরাও সেখানে বাজার করতে যায়। সেখানকার নিয়ম হলো ১০০ দিরহাম দিয়ে ২ দিনের জন্য দোকান নিবেন। ২ দিন দোকানদারি করে আপনার দোকানের জায়গা পরিষ্কার করে ১০০ দিরহাম ফেরত নিয়ে যাবেন। এখানেও আল কুজ বাঙালী বাজার এর মত বিজনেস করতে পারেন।
প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে কষ্টের কাজ হলো রান্না করা। ৮/১০ বা যত জনকে সার্ভিস দিতে পারেন তাদের সাথে কথা বলে তাদের রান্না করে খাওয়ান। জন প্রতি ৬০/৭০ দিরহাম চার্জ হয়।
অনেক মেয়েও বেকার আছেন আরব আমিরাতে।
মেয়েদের জন্য পরামর্শ হলো। যদি আপনি মেহেদী ও নক কাটতে পারেন। বিনা পুঁজিতে বিজনেস আছে। এ দেশের প্রত্যেকটা আবাসিক এলাকায় পাবলিক পার্ক আছে। পার্ক গুলোতে বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্হাও আছে। তাই ছুটির দিন বা অবসরে বা অফিস শেষে পরিবার নিয়ে অনেকেই পার্কে বসে আড্ডা দেয়। আপনার কাজ হলো। ৫ দিরহাম দিয়ে একটি মেহেদীর প্যাক কিনুন। আগেই পাবলিকের কাছে যাবেন না। সাথে পরিচিত কোন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। তাকে বলবেন, পার্কে যত মহিলা বা মেয়ে বসে আছে তাদের সবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করা যে, এই পার্কে একটি মেয়ে মেহেদী লাগিয়ে দেয়, তাকে দেখেছেন? আপনি এক জায়গায় বসে থাকুন। এটি হলো বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের প্রচার নিজে করা। সবাইকে জিজ্ঞেস করা হলে আপনার কাছে চলে আসলে তাকে আপনি মেহেদী লাগিয়ে দিন। সবার নজর তখন আপনার দিকে আসবে। এমনো হতে পারে সেই দিনই ২/৪ জন কাস্টমার পাবেন। সপ্তাহ খানেক এভাবে করুন। প্রতি জনে মাত্র ৫ দিরহাম নিবেন। মাসে ২/৩ হাজার দিরহাম আর্ন করতে পারবেন। বাসায় ডেকে নিয়ে মেহেদী লাগিয়ে নিবে।
এর ওর কাছে ধর্না না দিয়ে, আরও অনেক ক্রিয়েটিভ আইডিয়া আছে। এতকিছু লিখে শেষ করা কঠিন। শুধু মাথা খাটিয়ে পরিশ্রম করুন, কষ্ট লাঘব হবে।
#দুবাই #দুবাইভিসা