18/07/2026
স্রেফ একটি কাগজের অভাবে যখন কোটি টাকার আইডিয়া চুরি হয়ে যায়! (স্টার্টআপ স্টোরি)
ধরে নিই স্টার্টআপটির নাম 'টেক-নোভাস' (গোপনীয়তা রক্ষার্থে নাম পরিবর্তিত)। দুজন তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মিলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের (RMG) সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের জন্য দারুণ একটি এআই-বেইজড (AI-based) সফটওয়্যার তৈরি করলেন।
দীর্ঘ ৬ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রোটোটাইপ রেডি। তারা দেশের অন্যতম বড় একটি গার্মেন্টস গ্রুপের সাথে মিটিং ফিক্স করলেন।
মিটিংয়ে ইনভেস্টর এবং ওই গ্রুপের ডিরেক্টররা উপস্থিত ছিলেন। তরুণ দুই ফাউন্ডার আবেগের বশে তাদের সফটওয়্যারের কোর অ্যালগরিদম, ক্লায়েন্ট ডেটা ফ্লো এবং ফিউচার বিজনেস মডেল, সবকিছু প্রেজেন্টেশনে উন্মুক্ত করে দিলেন। ইনভেস্টররা খুব প্রশংসা করলেন এবং জানালেন, "দারুণ আইডিয়া! আমরা বোর্ডে আলোচনা করে আপনাদের জানাব।"
অপেক্ষা করতে করতে পার হলো দুই মাস। কিন্তু ওই গ্রুপ থেকে আর কোনো রেসপন্স এলো না।
হঠাৎ একদিন পত্রিকায় খবর দেখে ওই দুই ফাউন্ডারের মাথায় হাত! সেই বড় গার্মেন্টস গ্রুপটি ঠিক একই ফিচারের একটি সফটওয়্যার বাজারে লঞ্চ করেছে, যা তাদের নিজেদের ইন-হাউস আইটি টিম দিয়ে ডেভেলপ করা।
রাগে, ক্ষোভে ওই দুই তরুণ ফাউন্ডার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনজীবীর কাছে ছুটলেন। কিন্তু আইনজীবী সব শুনে প্রথম যে প্রশ্নটি করলেন: "আপনারা কি মিটিংয়ের আগে তাদের সাথে কোনো NDA বা Non-Disclosure Agreement সাইন করেছিলেন?"
ফাউন্ডাররা একে অপরের মুখের দিকে তাকালেন। তারা তো NDA কী জিনিস, সেটাই জানেন না!
আইনি বাস্তবতা কী ছিল?
যেহেতু কোর আইডিয়া এবং বিজনেস মডেল শেয়ার করার আগে কোনো 'গোপনীয়তা চুক্তি' বা NDA (Non-Disclosure Agreement) সই করা হয়নি, তাই কোর্টে এটি প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় যে ওই আইডিয়াটি চুরি করা হয়েছে। বড় কোম্পানিটি খুব সহজেই দাবি করতে পারে যে, এটি তাদের নিজস্ব গবেষণার ফসল বা তারা শুধু 'ইন্সপায়ার্ড' হয়েছে।
একটি সিম্পল লিগ্যাল ডকুমেন্টের অভাবে তরুণ ফাউন্ডাররা তাদের স্বপ্নের প্রজেক্ট এবং সম্ভাব্য কোটি টাকার ডিল, দুটোই হারালেন।
উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডারদের জন্য শিক্ষণীয়:
১. আবেগ নয়, প্রফেশনালিজম: ইনভেস্টর বা বড় ক্লায়েন্টের সামনে নিজের আইডিয়া বা প্রোটোটাইপ শো-অফ করার আগে অবশ্যই একটি NDA (Non-Disclosure Agreement) ড্রাফট করে দুপক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে নিন।
২. NCND ক্লজ: চুক্তিতে Non-Circumvention ক্লজ রাখুন, যাতে তারা আপনার আইডিয়া দেখে আপনাকে পাশ কাটিয়ে নিজেরাই সেটি বানিয়ে ফেলতে না পারে।
৩. লিগ্যাল হাইজিন: স্টার্টআপের জন্য ট্রেড লাইসেন্স বা লোগো বানানোর চেয়েও বেশি জরুরি হলো লিগ্যাল হাইজিন (Legal Hygiene) মেইনটেইন করা।
বড় কোম্পানিগুলোর নিজস্ব লিগ্যাল টিম থাকে, কিন্তু ছোট স্টার্টআপগুলোর থাকে শুধু একটি স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে রক্ষা করতে লিগ্যাল প্রটেকশনের কোনো বিকল্প নেই।
আপনার পরিচিত স্টার্টআপ ফাউন্ডার বা উদ্যোক্তাদের সতর্ক করতে এই শিক্ষণীয় স্টোরিটি শেয়ার করতে পারেন।
Sarker & Sarker | The Appropriate Legal Solution