24/09/2026
কোর্ট ম্যারেজ এর সুবিধা/ অসুবিধা ও কি লাগে, খরচ, বয়স, কি ভাবে, কোথায় করবেন ???
@ কোর্ট ম্যারেজ কি?
@ কোথায় করব?
@ কিভাবে করব?
@ নূন্যতম বয়স কত লাগেবে?
@ কত টাকা খরচ হবে?
@ কি কি কাগজপত্র লাগবে?
@ হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের জন্য বিধান কি?
@ সুবিধা / অসুবিধা
কোর্ট ম্যারেজ/court marriage নিয়ে বিস্তারি আলোচনা।
কোর্ট ম্যারেজ জানার আগে আমরা জানব হলফনামা বা অঙ্গীকারপত্র সম্পর্কে
কোন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক-যুবতি স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একত্রে বসবাস করার জন্য, আইনজীবীর মাধ্যমে শনাক্ত করা এবং নোটারি পাবলিক বা প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়ন করা, হলফনামায় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়াকে প্রচলিত ভাষায় কোর্ট ম্যারেজ বলে। মনে রাখতে হবে বিবাহ রেজিষ্ট্রী করা বাদ্ধ্যতামুলক।
এবার চলুন দেখে নিই court marriage/ হলফনামা/ এফিডেভিট কি ভাবে করতে হয়।
দুইশত টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে (court) কিংবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয়ে (court-এ) গিয়ে হলফনামা করতে হয়।
কোথায় গিয়ে court marriage করবেন?
অনেকে এ বিষয়ে না জানায় বুঝেই উঠতে পারেন না, কোথায় গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করবেন। যেহেতু একজন আইনজিবী, নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয় এর ব্যাপার আছে সুতারাং আপনি কোর্টে গেলে সব একই জাগায় পেয়ে যাবেন।
কোর্ট ম্যারেজে খরচ?
২০০৯-এর ২১ বিধি অনুযায়ী,
কাবিন নামায় ৪ লাক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতি হাজারে ১২.৫০ টাকা (লাখে ১২৫০ টাকা), এবং পরবর্তি প্রতি লাখ বা তার অংশ বিষেশের জন্য ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
সাথে কাজি সাহেব রেজিঃ ফি +যাতায়াত খরচ+কমিশন+শরা পরানো বাবদ টাকা চাইতে পারেন। এবার আপনি ভাবুন আপনি কত টাকা কাবিন করবেন আর আপনার খরচ কত হবে?
মনে করেন আপনি কাবিন করবেন ৬ লক্ষ টাকা, তাহলে আপনার কাবিন খরচ হবে, প্রথম চার লক্ষ টাকায় (১২৫০*৪) ৫০০০ টাকা, এবং পর বর্তি দুই লাখে (১০০*২) ২০০ টাকা। মোট কাবিন খরচ (৫০০০+২০০) ৫২০০ টাকা। তাহলে আপনার কাজি অফিসের কাজ শেষ (৫০০০+২০০) ৫২০০ টাকায়।
এবার আসুন কোর্ট ম্যারেজ ফি অনুমানিক ৬০০০ টাকা (উকিল, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ফি, স্টাম্প সহ) তবে অনেক সময় এটা কিছু কম বেশি হয়ে থাকে।
তাহলে আপনার ৬ লক্ষ টাকা কাবিন নামা এবং কোর্ট ম্যারেজ করতে মোট খরচ হবে (৫২০০+৬০০০) অনুমানিক ১১২০০ টাকা।
কোর্ট ম্যারেজে কি লাগে?
১। দুই জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষি।
২। দুই কপি ছবি। (ছেলে মেয়ে উভয়ের)
৩। এন আই ডি/ এস এস সি, এইচ এস সি সনদ/ জন্ম সনদ। (ছেলে মেয়ের উভয়ের)
কোর্ট ম্যারেজ করতে বয়স কত লাগে?
বয়স অবশ্যই আঠারো (মেয়ে) ও একুশ (ছেলে) হতে হবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বয়সের শিথিলতা রয়েছে।
সতর্কতাঃ
অনেক সময় court-এর বাইরে কোথাও কাজ করলে, ভুয়া কাজী/ উকিলের সিল/সই ব্যবহার করা হয় ফলে পরবর্তী সময়ে বিয়ে প্রমান করতে ব্যর্থ হয়।
হিন্দুরা কোর্ট ম্যারেজ করতে পারবে?
হ্যা হিন্দুরা করতে পারবে, এর পর অবশ্যই হিন্দু আইনের প্রথা মেনেই বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কেননা, হিন্দু বিয়েতে এখন পর্যন্ত বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
ভিন্ন ধর্মের ছেলে মেয়েদের মধ্যে কোর্ট ম্যারেজ করা যায়?
আমাদের দেশের আইন অনুযায়ীই এক জন মুসলিম ভিন্ন ধর্মের কোনো ছেলে মেয়েকে বিবাহ করতে পারে।
অবশ্যই ভিন্ন ধর্মের ছেলে মেয়েকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ধর্মান্তর হওয়ার জন্য একটা এবং বিবাহের জন্য একটা হলফনামা করতে হয়।
কোর্ট ম্যারেজের সুবিধাঃ
কোন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক-যুবতি ছেলে-মেয়ে তাদের ভালবাসাকে বাস্তবে রুপ দিতে বাবা মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে একে অপরকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক-যুবতি এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এটা তাদের আইনগত অধিকার।
কিন্তু কিছু সময় দেখা যায় বিয়ের পর মেয়ের বাবা ক্ষেপে গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে। এসময় কোর্ট ম্যারেজ/court marriage আইনি ঝামেলার রক্ষা কবজ হিসাবে কাজ করে, (ছেলে বা মেয়ে পক্ষের মিথ্যা মামলা থেকে রক্ষা, সম্পর্ক টিকায় রাখা ইত্যাদি) তবে মনে রাখতে হবে বিবাহ রেজিষ্ট্রী করা বাদ্ধ্যতামুলক।
তাছারা আমাদের সমাজে court marriage বললেই এর উপর কেউ আঙ্গুল তুলতে ভয় পায়। তাই মেয়ের বাবা প্রথম ধাপেই হয়ত ভয় পেয়ে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কোর্ট ম্যারেজের অসুবিধাঃ
আপনার ভালবাসাকে বাস্তবে রুপ দিতে বাবা মায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের সিদ্ধান্তে
বিবাহ করতেছেন। কিন্তু আপনি কি একবার ভাবছেন যে বাবা-মা আপনাকে আদর যত্নে এত বড় করেছে তাদের ভালোবাসা কি এতই তুচ্ছ? তাদের মতের কোন মুল্য নেই আপনার কাছে? মনে রাখবেন কোন বাবা মা তাদের সন্তানের খারাপ চান না।