Triple A CLP

Triple A CLP ⚖️ Corporate Law Chamber
🏢 Corporate & financial matters
👨‍👩‍👧‍👦 Family matters
💰 Tax, VAT Customs
📜 Licensing & Compliance
⚡ Litigation
🌍 Immigration

 #পোস্ট_১ এক ইংরেজ বিচারকের ৩০০ বছর বয়সী ‘আইডিয়া’ যে এখনো বাংলাদেশে বউয়ের উপরে স্বামীর ‘অধিকার’ বলে চালছেসিরিজ: বৈবাহিক ...
23/04/2026

#পোস্ট_১

এক ইংরেজ বিচারকের ৩০০ বছর বয়সী ‘আইডিয়া’ যে এখনো বাংলাদেশে বউয়ের উপরে স্বামীর ‘অধিকার’ বলে চালছে

সিরিজ: বৈবাহিক ধর্ষণ আইন: স্যার ম্যাথু হেল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত এক হাস্যকর যাত্রা

---

কল্পনা করুন, একটা আইন যেখানে বলা আছে – স্বামী নিজের বউকে ধর্ষণ করলে সেটা ধর্ষণই না। শুনতে অবাস্তব লাগছে? কিন্তু এটা আসল। আর এই ‘আইডিয়া’ বানিয়েছিলেন ৩০০ বছর আগে এক ইংরেজ বুড়ো, যার নাম উচ্চারণও করতে পারেন অনেকে।

---

১৭৩৬ সাল। ইংল্যান্ডের এক বিচারক স্যার ম্যাথু হেল বসে লিখে ফেললেন – স্বামী তার বউকে ধর্ষণ করতে পারে না। কেন? কারণ বিয়ে মানেই চিরস্থায়ী ‘কনসেন্ট’। বউ রাজি আছে বলে ধরে নেওয়া হবে। সব সময়। চিৎকার করলেও, কাঁদলেও, রক্ত পড়লেও – না। সে রাজি ছিল। একবার রাজি হয়ে গেছে, আজীবন রাজি।

তার ভাষায়:

“স্বামী তার নিজের আইনগত স্ত্রীর ওপর ধর্ষণের অপরাধ করতে পারে না, কারণ বিবাহের চুক্তিতে স্ত্রী নিজেকে স্বামীর কাছে সেইভাবে সমর্পণ করেছে যা সে প্রত্যাহার করতে পারে না।”

অর্থাৎ, বউয়ের ‘না’ মানে ‘হ্যাঁ’ – যদি না সেই ‘না’ বিছানার বাইরে কোনো আদালতে বলা হয়।

এটার নাম বৈবাহিক ধর্ষণ অব্যাহতি।

কে ছিলেন এই ম্যাথু হেল সাহেব? আর কেন আমরা আজও তার বাতুলতা নিয়ে ভুগছি?

---

স্যার ম্যাথু হেল: এক ব্রিটিশ ‘ভিলেন’ যার বই আজও বাজারে পাওয়া যায়

হেল ছিলেন ইংল্যান্ডের লর্ড চিফ জাস্টিস (১৬৭১-১৭৭৬)। অর্থাৎ, দেশের সবচেয়ে বড় বিচারক। তার লেখাকে আইনের খতিয়ে বলা হতো।

মারা যাওয়ার পর ১৭৩৬ সালে তার বই বের হয় – History of the Pleas of the Crown। সেই বইতে তিনি এই ‘মাস্টারপিস’ আইডিয়া দেন। কোনো আগের আইন বা নজির ছাড়াই। নিজের মাথা থেকে বানিয়ে ফেলেন। যেন বলেছেন, “আমি বড় বিচারক, যা বলি তাই সত্যি।”

আর সেই ‘সত্যি’ ২৫০ বছর ধরে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান – যেখানে ব্রিটিশ পা দিয়েছে, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে।

কী করে একজনের মস্তিষ্কপ্রসূত বাজে চিন্তা আইন হয়ে যায়? উত্তরটা আছে দুইটা ‘ফিকশন’-এ।

---

দুইটা ফিকশন যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই আইন

প্রথম ফিকশন – ইম্প্লাইড কনসেন্ট
বিয়ের দিন বউ বুঝি একটা ‘চিরদিনের জন্য সেক্সের পারমিট সই করে দেয়।’ স্বামী যাই করুক, সে আর ‘না’ বলতে পারে না। এমনকি স্বামী যদি বলপ্রয়োগ করে, ভয় দেখায়, মারধর করে – তবুও বউ ‘রাজি’ ছিল বলে গণ্য।

দ্বিতীয় ফিকশন – কভারচার (Coverture)
ব্রিটিশ আইন বলত, বিয়ে মানে স্বামী-স্ত্রী একই ব্যক্তি। আর সেই ‘একই ব্যক্তি’ হলো স্বামী। বউয়ের কোনো আলাদা আইনি অস্তিত্ব নেই। তার সম্পত্তি স্বামীর। তার আয় স্বামীর। তার শরীরও স্বামীর।

যেহেতু ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা ছিল ‘অন্য কারও স্ত্রীকে ধর্ষণ’ – নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ সম্ভবই না। নিজের সম্পত্তি তো নিজে চুরি করতে পারে না।

বুঝলেন? জবরজঙ্গ যুক্তি। তবু আইন।

ভাবছেন, এত বোকামি আর কতদিন টিকে ছিল? উত্তর: ১৯৯১ সাল পর্যন্ত।

---

১৯৯১ সালে ইংল্যান্ড ভাবল – ‘আরে, এটা তো গোলমাল’

২৫০ বছর পর ইংল্যান্ডের হাউস অব লর্ডস এক মামলায় (R v R) বললেন – “দাঁড়ান বাবা, বউয়ের শরীর কি স্বামীর জমি? উনি ‘না’ বললে ‘না’ই।”

কী ঘটনা? এক স্বামী আলাদা থাকা স্ত্রীর বাবার বাড়িতে ঢুকে জোর করে যৌন চেষ্টা করে। আদালত বলে – এটা ধর্ষণ। বিয়ের তালাক হয়ে যায়নি, তবুও ‘না’ মানে ‘না’।

এই রায়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে স্যার ম্যাথু হেলের ভূত তাড়ায়।

কিন্তু সমস্যা: ততদিনে হেলের ভূত চলে গেছে ইংল্যান্ড ছেড়ে ভারতবর্ষে। ১৮৬০ সালে বসে আছে পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারায়।

কীভাবে এলো সেই পেনাল কোড? ব্রিটিশ শাসকদের ‘উপহার’।

---

কলোনিয়াল এক্সপোর্ট: যখন লাঠি, তলোয়ার আর আইন একসঙ্গে এসেছিল

১৮৫৭-এর সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরাসরি ভারত শাসন শুরু করে। তাদের দরকার ছিল একটা ‘মর্ডান’ ফৌজদারি আইন – যাতে দেশীয় প্রথার সঙ্গে ইংরেজ ধ্যানধারণা মিশিয়ে দেশ চালানো যায়।

১৮৬০ সালে তৎকালীন ভারতের গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিল ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ পাস করে। ধারা ৩৭৫ এ ধর্ষণের সংজ্ঞা দেওয়া হয়। আর তার ব্যতিক্রম (Exception 2) এ লেখা হয়:

“স্বামী যদি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে, স্ত্রীর বয়স পনেরো বছরের নিচে না হয়, তবে সেটা ধর্ষণ নয়।”

হুবহু ম্যাথু হেলের বুলি। ইংরেজি থেকে উর্দু, তারপর বাংলা – একই সুর।

পনেরো বছর কেন? কারণ ইংল্যান্ডে তখন বাল্যবিবাহ ঠেকানোর আন্দোলন চলছিল। তাই ‘ছোট বউ’ রক্ষা পেল, বড় বউয়ের তো আর কোনো মূল্যই নাই।

---

বাংলাদেশ পেল এই উত্তরাধিকার ১৯৭১-এ

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পাকিস্তান পেনাল কোড ধরে নেয় – যেটা ছিল ভারতীয় পেনাল কোডেরই কপি। তাই ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রম বাংলাদেশেও চলে আসে।

২০০৩ সালে বয়সটা পনেরো থেকে আঠারো করা হয়। এখন স্বামী ধর্ষণের দায় এড়াতে পারবে যদি বউয়ের বয়স ১৮-এর বেশি হয়। মানে, ছোট মেয়েদের জন্য একটু ভয়, বড়দের জন্য কোনো আইনই নাই।

আজও বাংলাদেশের পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রম ২ বলে:

“স্বামী তার নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করলে, স্ত্রীর বয়স আঠারোর কম না হলে, সেটা ধর্ষণ নয়।”

অর্থাৎ, “বউ রাজি না হলেও চলবে। কান্নাকাটি করলেও চলবে। সে স্বামীর ‘সম্পত্তি’।”

আরে ভাই, এটা কী আইন নাকি প্রেমের চিঠি?

---

তাহলে কি কিছুই হয়নি?

হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ হাইকোর্ট এক রায়ে বলে – এই ব্যতিক্রমটা অসাংবিধানিক। কেননা সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) আর ২৮ নম্বর (নারীর প্রতি বৈষম্য না করা) ভঙ্গ করে।

হাইকোর্ট বলে – সংসদকে আইন বদলাতে হবে। স্বামীকে ধর্ষণের দায় থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

কী হলো তারপর?

সরকার আপিল করে। আপিল বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) ২০২২ সালের নভেম্বরে হাইকোর্টের সেই নির্দেশ স্থগিত (stay) দেয়। মানে, ‘ওপরে থাক, এখনো লাগবে না’।

আজ পর্যন্ত সেই স্থগিত আদেশ বহাল। আর হেল সাহেবের ভূত তখনো বাংলাদেশের আইনের পাতায় হাসছে।

স্যার ম্যাথু হেল ১৭৩৬ সালে কলম চালিয়ে যা লিখেছিলেন, বাংলাদেশের একজন স্বামী ২০২৬ সালে সেটা ব্যবহার করে বউকে বশে রাখতে পারেন। ইন্টারনেট স্পিড বেড়েছে, আইনের গতি বেড়েছে ৩০০ বছরের পুরনো বুলিতে।

---

এই ইতিহাস জানা জরুরি কেন?

কারণ কোনো আইন আকাশ থেকে পড়ে না। এটা কোনো ধর্মীয় গ্রন্থেও নেই। এটা লিখেছে কোনো এক শ্বেতাঙ্গ বুড়ো ইংরেজ, যার স্ত্রীকে সম্ভবত ‘সাহেবের বউ’ বলেই ডাকা হতো। সেই লিখে দিয়েছে – ‘বউয়ের শরীর স্বামীর চিরকালের সম্পত্তি’।

আজ সেই একই বুলি বাংলাদেশে ‘আইন’ সেজে আছে। হাইকোর্ট তা ‘অসাংবিধানিক’ বলেছে, কিন্তু আপিল বিভাগ রায় দেয়নি। সরকার বলছে – ‘সমাজে অস্থিরতা বাড়বে’। বউয়ের অস্থিরতা কি তাহলে কিছু না?

এখন প্রশ্ন – আপনি কী করবেন? বসে হাসবেন? নাকি শেয়ার দেবেন?

---

সিরিজটা মিস করবেন না। ফলো করুন।

---

এই পোস্ট শেয়ার করুন – যদি আপনি মনে করেন ৩০০ বছরের পুরনো এক ইংরেজের বাতিক আজকের বাংলাদেশের আইন হওয়া উচিত না।

কমেন্টে জানান: “আপনার মতে, বউয়ের ‘না’ মানে কি ‘হ্যাঁ’ হওয়া উচিত?”

একজন বন্ধুকে ট্যাগ করুন – যার আইন নিয়ে চিন্তা করা দরকার।

---

#বৈবাহিকধর্ষণ #বাংলাদেশআইন #স্যারম্যাথুহেল #উপনিবেশবাদ_থেকে_মুক্তি #নারীঅধিকার #আইনসংস্কার #স্যাটায়ার

Address

Room 33, Level 4, Rahman Mansion, 21 Court House Street
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Triple A CLP posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share