10/08/2026
বার কাউন্সিলের রিটেন পরীক্ষার্থীরা অনেকে সাজেশন চান। আসলে রিটেনের কোন সাজেশন হয় না। নিজের থেকে টপিকস বুঝে লিখার এবিলিটি থাকতে হবে। আর প্রশ্ন যতই কঠিন হোক মোট তেরটি প্রশ্ন থেকে সাতটি প্রশ্ন লিখতে হয়। আল্লাহ সহায় থাকলে চারটি প্রশ্ন কমপক্ষে চল্লিশ ( প্রবলেমেটিক পাাচ করে বাদ) মার্কস যে টপিকসগুলো আদালতে প্রায় প্রাক্টিস হয় কমন পাবেন। চল্লিশ মার্কস যদি শুরুতে ঘোচানো ( মূল আইন + আদালতে ব্যবহৃত ভাষায়) লিখতে পারেন ইনশাআল্লাহ ২৬ থেকে ২৮ পাবেন। সাথে যদি দশ মার্কস প্রোবলেমেটিক সলভ করতে পারেন ইনশাআল্লাহ ৮/৯ পাবেন। দুশ্চিন্তা না করে শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো রিভাইস রিভিশন করুন।
প্রথমে
নিষেধাজ্ঞা পড়ুন।
● ১. ভূমিকা
আইনের একটি সুপরিচিত নীতি হলো—"যেখানে অধিকার আছে, সেখানে প্রতিকারও আছে" (Ubi jus ibi remedium)। দেওয়ানি মামলায় কোনো ব্যক্তির জমিতে বা অধিকারে অন্যের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করার জন্য আদালত যে আদেশ দেন, তাকে নিষেধাজ্ঞা বলে। এটি মূলত একটি সাম্যভিত্তিক বা জমূলক প্রতিকার (Equitable Relief)। বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act, 1877) এবং দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure, 1908) এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়।
● ক. নিষেধাজ্ঞা বলতে কী বোঝায়?
সাধারণ অর্থে, নিষেধাজ্ঞা হলো আদালতের একটি আদেশ, যার মাধ্যমে কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখা হয় অথবা কোনো বিশেষ কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইনবিদ হ্যালসবুরির মতে, "নিষেধাজ্ঞা হলো এমন একটি বিচার বিভাগীয় কার্যধারা, যার দ্বারা কোনো পক্ষকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত থাকার বা কোনো কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।"
● খ. নিষেধাজ্ঞা কত প্রকার ও কী কী?
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রধানত ২ প্রকার:
○ ১. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction): মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে।
○ ২. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual/Permanent Injunction): মামলার গুণাগুণ বিচার করে চূড়ান্ত ডিক্রির মাধ্যমে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যা বিবাদীকে আজীবনের জন্য কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখে।
উদ্দেশ্য বা প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞা আরও দুই ভাগে বিভক্ত:
নিষেধাত্মক নিষেধাজ্ঞা (Prohibitory Injunction): কোনো বেআইনি কাজ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ।
আজ্ঞামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction): কোনো ইতিবাচক কাজ করার বা পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনার আদেশ (ধারা ৫৫)।
● গ. আদালত কোন কোন ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন?
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
বিবাদী যখন বাদীর সম্পত্তির জিম্মাদার বা ট্রাস্টি (Trustee) হন।
যখন অধিকার লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট প্রকৃত ক্ষতি পরিমাপ করার কোনো মানদণ্ড থাকে না।
যখন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার পাওয়া সম্ভব নয়।
যখন কোনো চুক্তি ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে, যার আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করা যায় না।
বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের বহুত্ব বা একাধিক মামলা (Multiplicity of judicial proceedings) রোধ করার জন্য।
● ঘ. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময় আদালত কী কী বিষয় বিবেচনায় নিবেন?
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদালতের একটি ইচ্ছাধীন বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। এটি মঞ্জুর করার সময় আদালত প্রধানত ৩টি নীতি বা বিষয় বিবেচনা করেন:
বাদীর আইনগত অধিকার (Prima Facie Case): বাদী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে তার নিরঙ্কুশ ও বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না।
অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable Loss): নিষেধাজ্ঞা না দিলে বাদীর এমন ক্ষতি হবে কি না, যা টাকা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
সুবিধার ভারসাম্য (Balance of Convenience/Inconvenience): নিষেধাজ্ঞা দিলে বা না দিলে উভয় পক্ষের কার বেশি ক্ষতি বা অসুবিধা হবে, তা তুলনা করা।
● ঙ. কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যায় না?
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৬ ধারা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ১১টি ক্ষেত্রে আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন না:
আইন প্রণয়নকারী সংস্থার (সংসদ) কাজে হস্তক্ষেপ করার জন্য।
সরকারের কোনো সরকারি কাজে বা সার্বভৌম কাজে বাধা দেওয়ার জন্য।
কোনো ফৌজদারি কার্যক্রম বা মামলা দায়ের বন্ধ করার জন্য।
এমন কোনো চুক্তি ভঙ্গ রোধ করার জন্য, যা সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়।
বাদী নিজে যদি দূষিত হাত নিয়ে আদালতে আসেন (He who comes to equity must come with clean hands)।
যেখানে বাদীর সমপরিমাণ কার্যকর অন্য কোনো বিকল্প প্রতিকার বিদ্যমান থাকে।
কোনো দেওয়ানি মামলা দায়ের বা পরিচালনা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বিরত রাখার জন্য (যদি না বিচার বহুত্ব রোধের প্রয়োজন হয়)।
ঊর্ধ্বতন আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির জন্য অধস্তন আদালত কর্তৃক।
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু তে, বাদীর স্বত্ব না থাকলে।
বিবাদীর কার্যকলাপে বাদী ইতিপূর্বে সম্মতি প্রদান করলে।
● চ. স্থিতাবস্থা (Status Quo) বলতে কী বোঝায়?
স্থিতাবস্থা বা 'Status Quo' শব্দের অর্থ হলো "বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা"। মামলার বিষয়বস্তু বা সম্পত্তি যেভাবে আছে, ঠিক সেই অবস্থায় রাখার জন্য আদালত যে আদেশ দেন, তাকে স্থিতাবস্থা বলে।
মামলা চলাকালীন বিবাদী যাতে সম্পত্তির রূপ পরিবর্তন করতে না পারে, যেমন—গাছ কাটা, ঘর তোলা বা জমি বিক্রি করা, তা রোধ করতে আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এটি মূলত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞারই একটি বিশেষ রূপ।
● ছ. অস্থায়ী ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্যসমূহ
পার্থক্যের বিষয়অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction)চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction)আইনগত ধারাদেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশ এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারা।সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৩ ও ৫৪ ধারা।সময়কালমামলার চূড়ান্ত রায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সাময়িক সময়ের জন্য দেওয়া হয়।মামলার চূড়ান্ত ডিক্রির মাধ্যমে আজীবনের জন্য দেওয়া হয়।প্রদানের পর্যায়মামলার যেকোনো পর্যায়ে (শুনানি ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে) দেওয়া যায়।মামলার গুণাগুণ বিচার করে শুধু চূড়ান্ত রায়ের সময় দেওয়া হয়।আদেশের প্রকৃতিএটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (Interlocutory Order)।এটি মামলার চূড়ান্ত ডিক্রি (Decree)।শুনানির আবশ্যকতাবিস্তারিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া, প্রাথমিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া যায়।উভয় পক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা শেষে দেওয়া হয়।
● ৩. আমার পর্যবেক্ষণ (Observation)
নিষেধাজ্ঞা হলো আদালতের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সাম্যভিত্তিক ক্ষমতা। এটি কোনো অধিকার বা স্বত্ব (Title) ঘোষণা করে না, বরং বিদ্যমান অধিকারকে রক্ষা করে। বাস্তব বিচারিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক সময় পক্ষগণ প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থার অপব্যবহার করে। তাই আদালতের উচিত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে "অপূরণীয় ক্ষতি" এবং "সুবিধার ভারসাম্য" নীতি দুটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তবেই নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা।
● ৪. উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, দেওয়ানি বিরোধে সম্পত্তির সুরক্ষা এবং অপূরণীয় ক্ষতি থেকে বাদীকে রক্ষা করার জন্য নিষেধাজ্ঞা একটি অমোঘ হাতিয়ার। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা যেখানে মামলার চূড়ান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে, সেখানে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা মামলা চলাকালীন সম্পত্তির সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আইনের ধারা ও মূলনীতি মেনে এর সঠিক প্রয়োগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
● ৫. তথ্যসূত্র (References)
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬)
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (আদেশ ৩৯, বিধি ১, ২, ৫ক)
হস্তান্তর, ধ্বংস পরিবর্তন পাওনাদারকে প্রতারিত
৭দিন
৬মাস ও ক্রোক
ক্রোক আদেশ ১ বছর
তামাদি অনু ১২০ ৬ বছর
৩৯(৭) স্থানীয় পরিদর্শন
পয়েন্টস গুলো মনে রাখুন এবং বার বার লিখুন।