30/08/2026
কিছু আইনজীবী ভাই-বোনের কর্মকান্ডে সত্যিই ভীষণ লজ্জাবোধ করি। অযথা অহেতুক বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করে একটু আলোচনায় আসার লোভ অনেকেই সামলাতে পারেন না। তারা নিজেরাও জানেন ফালতু বিষয়ে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ এর কোন আইনগত ভিত্তি নাই এবং কোনদিন কোনও কাজেও আসবে না। কিন্তু পাশাপাশি এটাও জানেন যে, তারা দশজনের আলোচনার খোরাক ঠিকই হতে পারবেন। এতে হয়তো, দুইটি মক্কেল সংখ্যাও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসা প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কিত সিনেমার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশটাও তেমনই একটি উদাহরণ।
আরেকটা ঘটনা বলি। পরিচিত এক বড়ভাই কিছুদিন আগে পরামর্শ চেয়ে যোগাযোগ করলেন। তার বাড়িওয়ালার সাথে বাড়িভাড়া চুক্তি বিষয়ক একটা ঝামেলা চলছিল। সেটাকে কেন্দ্র করে তিলকে তাল বানিয়ে বাড়িওয়ালা আইনজীবী মারফত লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। সমস্যা সেখানে না। বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে বাড়িভাড়ার চুক্তি সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আইনজীবী তার ক্লায়েন্ট থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে, ক্লায়েন্টের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ অবশ্যই প্রেরণ করতে পারেন। কিন্তু লিগ্যাল নোটিশ একবার পাঠানোর পরেও যখন আইনজীবী আমার সেই বড়ভাইয়ের স্ত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে হুমকি প্রদান করেন, তাদের বাড়িওয়ালার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন এবং ভয় দেখান দেন, যোগাযোগ না করলে বড়ভাইয়ের স্ত্রী যেখানে চাকরি করেন, সেখানেও লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করবেন, তখন সত্যিই দুঃখ লাগে। লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা সেই আইনজীবীর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ভদ্রলোক হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করার অনুমতি প্রাপ্ত আইনজীবী এবং তিনি আবার ব্যারিস্টার!!!
ক্লায়েন্টের প্রতিপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরে তাকে বা তার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে হুমকি প্রদান করাটা আইনজীবী হিসেবে কতটা পেশাদারসূচক আচরণ? ভদ্রলোক আবার হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। আমার পরিচিত সেই বড় ভাইয়ের স্ত্রীর অফিসের বসের কাছেও বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পর্কিত লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। 🤣 আবার আমার পরিচিত সেই ভাইয়া-আপুকে ভাড়াটিয়া হিসেবে উচ্ছেদের জন্য পুলিশও নিজের সাথে নিয়ে গেছেন! 🤣🤣🤣
একজন আইনজীবীর প্রধাণ কাজ থাকবে আদালতে, চেম্বারে। বিশেষ প্রয়োজনে থানায় যেতে হতে পারে। এছাড়াও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস / AC Land Office, ভূমি রেকর্ড অফিস, রাজস্ব বা ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস, মধ্যস্থতা বা সালিশের জায়গায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বা যেকোন প্রশাসনিক অফিসেও একজন আইনজীবী মামলা সংক্রান্ত কাজে যেতে পারেন।
কিন্তু ভাড়াটিয়া উচ্ছেদে পুলিশের সাথে কেন যেতে হবে ভাই? আইনজীবী হিসেবে তার এই এখতিয়ারটা কোথায়? এটা পুরোপুরি প্রফেশনাল মিসকন্ডাক্ট! ছিঃ! লজ্জা!
[ চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার পেতে হলে দেওয়ানী আদালতের স্মরণাপন্ন হতে হয়। আদালতের আদেশ ছাড়া পুলিশের এখতিয়ার নাই ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ করার। তবে, ভাড়াটিয়া যদি কোন আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ করে, সেক্ষেত্রে পুলিশ ভাড়াটিয়াকে গ্রেফতারও করতে পারে। ]
পুনশ্চ: যাইহোক, ফলাফল যেটা হলো, তা হচ্ছে- আমার সেই ভাইয়া-আপুকে ব্যারিস্টার সাহেব নিজ উদ্যোগে পুলিশ এনে, একটু ক্ষমতার ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে গেলেন আর বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মোটা অংকের সম্মানী আদায় করলেন। সাথে ক্লায়েন্টের প্রতিপক্ষকে সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি এবং পুলিশকে সাথে নিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টার মাধ্যমে যেটা করলেন, সেটার নাম প্রফেশনাল মিসকন্ডাক্ট !!!