11/05/2025
দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করে তাতে যুগান্তকারী কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সহজ ভাষায় দেওয়ানি কার্যবিধির সেসকল নতুন বিধান এই পোস্টে তুলে ধরা হলোঃ
১। বাদী-বিবাদীকে আদালতে দাঁড়িয়ে আরজি/জবাব মুখস্ত করে মৌখিক জবানবন্দি দিতে হবে না। এখন থেকে এফিডেভিট আকারে লিখিত জবানবন্দি জমা দিতে হবে হবে। আগে এই জবানবন্দি নিতে বাদীর প্রায় ২-৩ টি এবং বিবাদীর আরও ২-৩ টি তারিখ প্রয়োজন হতো এবং যার জন্য গড়ে প্রায় ২ বছর সময় লাগতো এখন সেটা কমে আসবে।
২। দেওয়ানি আদালত রায় ও আদেশ কার্যকর করতে পুলিশসহ যেকোনো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারবে। এতে মামলার রায় বা আদেশের কার্যকারিতা বাড়বে এবং রায়/আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
৩। দেওয়ানি মামলায় বিবাদীর জেল (দেওয়ানি আটকাদেশ) হলে তার জেলে থাকার খরচ সরকার বহন করবে। আগে বাদীকে উক্ত খরচ বাবদ সরকারকে অর্থ প্রদন করতে হতো। এতে মলার রায় পাওয়া বাদীর এখন থেকে আর অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবেনা, সরকারই এই ব্যয়ভার বহন করবে।
৪। রায় পাওয়ার পর পৃথক জারি মামলা করতে হবে না, মূল মামলার অধীনেই দরখাস্ত করে জারি কার্যক্রম করা যাবে। এতে নতুন জারি মামলার খরচ ও সময় বাচবে।
৫। টাকা আদায়ের মামলায় (মানি স্যুট) বিশেষ জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে দেওয়ানি আদালত টাকা আদায়ের মামলায় ডিক্রিপ্রাপ্ত বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে বিবাদীকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেল (দেওয়ানি আটকাদেশ) প্রদান করতে পারবে।
৬। মামলা বিলম্বিত করতে সময়ের আবেদন করার সুযোগ কমছে। আগে একেকটি মামলায় ছয়বার পর্যন্ত সময় চাওয়া যেত। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী এখন চারবারের বেশি সময় চাওয়া যাবে না। এতে মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুততা আসবে।
৭। এখন থেকে মোবাইল ফোন, এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এর মাধ্যমে সমন পাঠানো যাবে। মামলার আবেদন করার সময় প্রতিপক্ষের মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ইমেইল (যদি থাকে) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে সমন জারি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং মামলা বিচারের জন্য দ্রুত প্রস্তুত হবে।
৮। একজন বিবাদী এখন আর একবারের বেশি একতরফা রায়-ডিক্রি বাতিলের আবেদন করতে পারবে না। এতে ডিক্রি হয়ে যাওয়ার পরে সেটা বাতিলের সুযোগ আগের চেয়ে কমে আসবে।
৯। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমান বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা করা হয়েছে যা আগে বিশ হাজার টাকা ছিল। এতে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়েরকারীকে এখন আরও বেশি জরিমানা করা যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিবাদিকে মামলার খরচের পাশাপাশি আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।
১০। আপিল দায়েরের পরে আপিলকারী বা অপরপক্ষ শুনানির তারিখে কোর্টে উপস্থিত না থাকলে কোর্ট তাৎক্ষনিক বা একটি তারিখ ধার্য করে রায় দিয়ে দিতে পারবে। এতে করে আপিলে গিয়ে মামলা বিলম্বিত করার সুযোগ থাকবে না।
১১। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়ে থাকলে আপিল আদালত মামলাটি রিমান্ডে প্রেরনের পরিবর্তে আবশ্যিকভাবে চুড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে।
নতুন এই বিধানের ফলে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি আগেরচেয়ে দ্রুততর হবে। তবে এর পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে পর্যাপ্ত পরিমান বিচারক নিয়োগ করতে হবে। আশা করি সরকার প্রয়োজনীয় বিচারকের পদ সৃষ্টি করে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দ্রুত বিচার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করবে।