09/04/2026
সরকার আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে পুনরায় সম্পদ কর চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কর ব্যবস্থার বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলো দূর হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আয়কর আইন-২০২৩ এবং অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী তিন ধরনের সারচার্জ কার্যকর রয়েছে—সম্পদ সারচার্জ, পরিবেশ সারচার্জ এবং বিশেষ সারচার্জ। তবে বাস্তব প্রয়োগে এসব ব্যবস্থায় নানা অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কেউ পৈতৃক সূত্রে গুলশানে ৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হতে পারেন, কিন্তু যদি তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি টাকার নিচে থাকে, তাহলে তাকে সারচার্জ দিতে হয় না। ফলে কর ব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।
এই অসঙ্গতিগুলো দূর করার লক্ষ্যে সারচার্জ প্রত্যাহার করে পুনরায় সম্পদ কর চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কর ব্যবস্থার মূল নীতি হলো—যাদের আয় ও সম্পদ বেশি, তাদের সমাজে বেশি অবদান রাখা উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক ধনী ব্যক্তি কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই সারচার্জ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কাগজে-কলমে সম্পদের মূল্য বেশি থাকলেও বাস্তবে তা কমে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন এবং পরে তার মূল্য কমে ১০ লাখ টাকায় নেমে আসে, তবুও পূর্বের উচ্চমূল্যের ভিত্তিতে সারচার্জ দিতে হয়। এতে করদাতারা অনেক সময় অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়েন।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মোট সম্পদ ৪ কোটি টাকার বেশি হলে তাকে আয়করের ওপর নির্দিষ্ট হারে সারচার্জ দিতে হয়। সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী এ হার ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।
৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে হলে আয়করের ওপর ১০% সারচার্জ, ১০ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ২০%, ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ৩০% সারচার্জ আরোপ করা হয়। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে, বা একাধিক মোটরযান কিংবা ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের আবাসিক সম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ প্রযোজ্য হয়।
একাধিক মোটরযানের ক্ষেত্রে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হয়। সর্বনিম্ন করযোগ্য যানটি বাদে প্রতিটি অতিরিক্ত যানের জন্য এই সারচার্জ প্রযোজ্য, যা ইঞ্জিন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
বর্তমানে ১৫০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য ২৫,০০০ টাকা, ২০০০ সিসি পর্যন্ত ৫০,০০০ টাকা এবং ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত ৭৫,০০০ টাকা পরিবেশ সারচার্জ দিতে হয়।
২৫০০ থেকে ৩০০০ সিসি পর্যন্ত যানের জন্য এই হার ১.৫০ লাখ টাকা, ৩০০০ থেকে ৩৫০০ সিসি পর্যন্ত ২ লাখ টাকা এবং ৩৫০০ সিসির বেশি ক্ষমতার যানের জন্য ৩.৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ২০২৭ অর্থবছর থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হবে না।