15/09/2026
সি.আর মামলা কি? সি. আর মামলার বিচার প্রক্রিয়া ধারাসহ আলোচনা করুন।
সি.আর. মামলা কী?
C.R. Case অর্থ Complaint Register Case। বাংলায় একে সাধারণত নালিশী মামলা বলা হয়। কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে থানায় এজাহার না করে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশ/Complaint Petition দাখিল করলে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত কার্যক্রম শুরু করলে তাকে সাধারণভাবে সি.আর. মামলা বলা হয়।
সি.আর. মামলার মূল আইন হলো ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure, 1898)।
সি.আর. মামলার বিচার প্রক্রিয়া ধারাসহ
সি.আর. মামলার বিচার প্রক্রিয়া সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপে সম্পন্ন হয়।
১. আদালতে নালিশ দাখিল — ধারা ১৯০(১)(a)
প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে Complaint Petition দাখিল করেন।
CrPC ধারা ১৯০(১)(a) অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধের cognizance গ্রহণ করতে পারেন।
অর্থাৎ, আদালত অভিযোগটি আইনগতভাবে আমলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
২. অভিযোগকারীর জবানবন্দি — ধারা ২০০
নালিশ গ্রহণের পর CrPC ধারা ২০০ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট—
অভিযোগকারীকে শপথের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন;
অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন;
প্রয়োজন অনুযায়ী উপস্থিত সাক্ষীদেরও পরীক্ষা করতে পারেন।
এই জবানবন্দি লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
৩. অভিযোগ খারিজ — ধারা ২০৩
ধারা ২০০-এর জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান/তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করে যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে আসামির বিরুদ্ধে মামলা চালানোর পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই, তাহলে CrPC ধারা ২০৩ অনুযায়ী অভিযোগ খারিজ করতে পারেন।
তবে অভিযোগ খারিজের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটকে সংক্ষিপ্তভাবে কারণ উল্লেখ করতে হয়।
৪. অনুসন্ধান/তদন্তের নির্দেশ — ধারা ২০২
আদালত যদি মনে করেন যে অভিযোগের বিষয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন, তাহলে CrPC ধারা ২০২ অনুযায়ী তিনি—
নিজে অনুসন্ধান করতে পারেন;
অথবা
কোনো ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারেন।
এর উদ্দেশ্য হলো—আসামির বিরুদ্ধে process জারি করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি আছে কি না তা নির্ধারণ করা।
৫. আসামির বিরুদ্ধে Process জারি — ধারা ২০৪
ধারা ২০০-এর জবানবন্দি এবং ধারা ২০২-এর অনুসন্ধান/তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করে আদালত যদি মনে করেন যে মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি রয়েছে, তাহলে CrPC ধারা ২০৪ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে process জারি করতে পারেন।
Process হতে পারে—
Summons (সমন) অথবা
Warrant (গ্রেফতারি পরোয়ানা)।
সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রথমে সমনের মাধ্যমে আসামিকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়।
৬. আসামির হাজিরা ও জামিন
Process অনুযায়ী আসামি আদালতে হাজির হলে মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি জামিনের আবেদন করতে পারেন।
অপরাধটি—
জামিনযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী জামিনের অধিকার সৃষ্টি হতে পারে;
অজামিনযোগ্য হলে আদালতের বিবেচনায় জামিন দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
আসামি আদালতে হাজির হওয়ার পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
৭. অভিযোগ গঠন/Charge — ধারা ২৪১ ও ২৪২
মামলার ধরন অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের পর্যায় আসে।
CrPC ধারা ২৪১ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে আসামি এমন কোনো অপরাধ করেছেন যার বিচার করার এখতিয়ার তার রয়েছে এবং আসামিকে শাস্তি দেওয়ার পর্যাপ্ত ভিত্তি রয়েছে, তাহলে তিনি charge গঠন করতে পারেন।
ধারা ২৪২ অনুযায়ী, charge আসামিকে পড়ে শোনানো ও ব্যাখ্যা করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি অপরাধ স্বীকার করেন কি না।
আসামি অপরাধ স্বীকার করলে আইন অনুযায়ী আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারেন; আর অস্বীকার করলে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের দিকে অগ্রসর হয়।
আরো বিস্তারিত পরে আলোচনা করা হবে
৮. বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ
আসামি অপরাধ অস্বীকার করলে বাদীপক্ষকে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।
এ পর্যায়ে বাদীপক্ষ—
সাক্ষী হাজির করেন;
সাক্ষীর Examination-in-Chief করেন;
আসামিপক্ষ সাক্ষীকে Cross-examination করেন;
প্রয়োজন হলে Re-examination করা হয়।
Evidence Act, 1872-এর বিধান অনুযায়ী সাক্ষ্য ও দলিল আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
৯. সাক্ষীদের জেরা
সি.আর. মামলায় Cross-examination অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে—
বক্তব্যের অসঙ্গতি;
পূর্বের বক্তব্যের সঙ্গে পার্থক্য;
ঘটনার বিষয়ে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা;
মিথ্যা অভিযোগের কারণ;
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা
ইত্যাদি বিষয় আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন।
১০. আসামির পরীক্ষা — ধারা ৩৪২
বাদীপক্ষের সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর CrPC ধারা ৩৪২ অনুযায়ী আদালত আসামিকে তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেন।
এটি আসামির নিজের বক্তব্য ব্যাখ্যা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।