20/05/2026
ভাষ্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ ( সিলেট)
অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের স্থপতি
-------------------------------------
অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ্ খালিদের জন্ম পহেলা সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সালে সিলেটের কাজী ইলিয়াস মহল্লার সৈয়দ বাড়িতে। পিতা সৈয়দ আহমেদ মুজতবা ছিলেন বিদ্যানুরাগী, জ্ঞাপপিপাসু, সংস্কৃতিমনা। আবদুল্লাহ খালিদের চারুকলায় পড়ার ব্যাপারে পরিবারের আর সবার মত না থাকলেও, ছিলো পিতার উৎসাহ।
তিনি ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে চিত্রাংকন বিষয়ে স্নাতক এবং পরে ১৯৭৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্রাংকন ও ভাস্কর্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আবদুল্লাহ খালিদ তার কর্মজীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন আর্টসের প্রফেসর ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে প্রথম হয়ে ১৯৭৪ সালে এই বিভাগেই শুরু করেছিলেন কর্মজীবন, নিভৃতচারী এ শিল্পী অবসরেও গিয়েছিলেন এ বিভাগ থেকেই।
১৯৭২ সালে সেখানকার লেকচারার থাকাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর উদ্যোগে কলা ভবনের সামনে নির্মিতব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক অপরাজেয় বাংলার নির্মাণের দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৭৩ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং ১৯৭৯ সালে ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ করার পর এটির উদ্বোধন করা হয়।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্রের সামনে অবস্থিত ম্যুরাল ‘আবহমান বাংলা’ ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান দপ্তরের সামনে টেরাকোটার ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে ‘অঙ্কুর’, ‘অঙ্গীকার’, ‘ডলফিন’, ‘মা ও শিশু’ ইত্যাদি।
বাংলাদেশের ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলতে গেলেই আসে অপরাজেয় বাংলার নাম। যুগ যুগ ধরে সংগ্রামী জনতাকে প্রেরণা দেয়া এ শিল্প সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদকে করেছে অমর। শুধুমাত্র অপরাজেয় বাংলা নয়, তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে আরো, অপরাজেয় বাংলার কারণে যেসব পড়ে গেছে আড়ালে।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের রামপুরা কেন্দ্রের ভেতরে একটি যৌথ (গ্রুপ ওয়ার্ক) টেরাকোটা রিলিফ ম্যুরাল ‘আবহমান বাংলা’ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ্ খালিদ তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে। ৪৪৭ বর্গফুটের এরকম বিশাল টেরাকোটা বাংলাদেশে খুব বেশি নেই আর। টঙ্গীর স্কুইব ফার্মাসিউটিক্যালস এর কমিশনওয়ার্ক হিসেবে করেছেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদ স্মরণে ভাস্কর্য ‘অঙ্কুর’ (The Bud)। ১৪×৩৫× ৪৬ ফুটের এ ভাস্কর্যকেও সমালোচকরা খুব ভালো ভাস্কর্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, দৈনিক ইত্তেফাক ভবনে বিধ্বস্ত বাংলা, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির ডলফিন, গুলশানের বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ বিল্ডিং এ ‘ইটারনাল বেঙ্গল’, বাংলাদেশ ব্যাংক সদরদপ্তরে ৬×২৪ ফুটের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বাংলাদেশের ভাস্কর্য চর্চার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।
শিল্পকলা ও ভাস্কর্যে গৌরবজনক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে শিল্পকলা পদক এবং ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
২০১৭ সালের ২০ মে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খ্যাতিমান ভাষ্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদের মৃত্যু হয়।
(ভয়েস অব কাজল
তাঁরা আমাদেরও)