11/08/2026
💔 ডিভোর্সের আগে যদি আপনার সন্তান থাকে, এই পোস্টটা একবার পড়ুন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। দুজন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা শেষ হয়ে যেতে পারে, একসাথে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু যখন সেই সংসারে একটি সন্তান থাকে, তখন সিদ্ধান্তটা শুধু দুজন মানুষের থাকে না—একটি শিশুর জীবনও এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
ডিভোর্সের সবচেয়ে বড় কষ্ট অনেক সময় সন্তানকে নীরবে সহ্য করতে হয়।
একজন সন্তান হয়তো মুখে কিছু বলবে না, কিন্তু তার মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—
“আমার বাবা-মা আলাদা হয়ে গেল কেন?”
“আমি কি কোনো ভুল করেছি?”
“বাবা কি আমাকে আর আগের মতো ভালোবাসবে?”
“মা কি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?”
অনেক শিশুর মধ্যে ডিভোর্সের পর ভয়, একাকীত্ব, রাগ, দুঃখ, অপরাধবোধ এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যেতে পারে, আচরণ পরিবর্তন হতে পারে, মানুষের ওপর বিশ্বাস কমে যেতে পারে। কেউ আবার নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে সবকিছু নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখে।
আর সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—
বাবা-মায়ের ঝগড়ার মধ্যে সন্তানকে বিচারক বানানো।
“তোমার বাবা এমন করেছে।”
“তোমার মা তোমাকে দেখতে চায় না।”
“তুমি কার সঙ্গে থাকবে?”
এই কথাগুলো একটি শিশুর কোমল মনে কতটা চাপ তৈরি করে, সেটা আমরা বড়রা অনেক সময় বুঝতেই পারি না।
তাই যদি বিচ্ছেদ করতেই হয়, সন্তানকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন না।
সন্তানকে বুঝিয়ে দিন—
“তোমার বাবা-মা আলাদা থাকছে, কিন্তু তোমাকে দুজনেই ভালোবাসে।”
কারণ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হতে পারে, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পর্ক শেষ হওয়া উচিত নয়।
আর একটা কথা মনে রাখবেন—
প্রতিটি ডিভোর্সে সন্তান একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। অনেক সময় প্রতিদিনের ঝগড়া, অশান্তি ও বিষাক্ত পরিবেশের চেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা থাকা সন্তানের জন্য ভালো হতে পারে। আসল বিষয় হলো—ডিভোর্সের পর বাবা-মা সন্তানকে কীভাবে সামলাচ্ছেন।
তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু ভাববেন না—
“আমাদের সম্পর্কটা থাকবে কি থাকবে না?”
একবার এটাও ভাবুন—
“আমাদের সন্তানের আগামী দিনগুলো কেমন হবে?” ❤️
একটি শিশুর শৈশব দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না।
Multicon Law chamber & Law Firm