12/10/2020
ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, আলহামদুলিল্লাহ্। এটা আরও আগেই দরকার ছিল। তবে..
এই প্রেক্ষিতে এখনই নারী-পুরুষ সংক্রান্ত কিছু আইনের দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্ক প্রেমিক প্রেমিকা স্বেচ্ছায় বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তাদের বিয়ে না হলে প্রেমিকা "বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ" সংক্রান্ত মামলা করে বসে আমাদের দেশে।
কথা হচ্ছে, মেনে নিলাম প্রেমিক ফ্রড ছিলো কিন্তু একটা প্রাপ্তবয়স্কা নারী কেন বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর মতো পথ অবলম্বন করবে? প্রেম তো পবিত্র জিনিস, তবে কেন উক্ত নারী অনৈতিকতায় জড়ালো বা সাড়া দিলো? শারীরিক সম্পর্ক বোঝে অথচ বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের ফল কী হতে পারে সেটা সে বোঝেনা? এখানে দোষী দুজনই। সুতরাং সাজা হলে উভয়েরই হতে হবে এবং যেহেতু ঘটনা ঘটেছিলো স্বেচ্ছায় সুতরাং একে "ধর্ষণ" বলার কোন সুযোগ থাকতে পারেনা।
এবার আসি পরকীয়ায়। বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা ঘরে স্বামী বা স্ত্রী রেখে আরেক পুরুষ / মহিলার সাথে গোপনে শারীরিক সম্পর্ক করলো। প্রচলিত আইনে এখানে দোষী হয় পুরুষ এবং নারী নির্দোষ, কেননা সে নারী বিধায় অবলা এবং অবলা বিধায় তাকে ফুসলিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে। যারা জানেননা তারা জেনে নিন, এই ধরনের মামলার এজাহারে অবলা নারীকে ফুসলানোর কথাই লেখা হয়।
আমার প্রশ্ন, যেই নারী শারীরিক সম্পর্ক বোঝে, যেই নারী এটা জানে যে সে যার সাথে এই কাজ করছে সে অন্যের স্বামী বা এই মহিলা নিজেই অন্যের বিবাহিতা স্ত্রী, সেই নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে ধরা পড়লে সে নির্দোষ অবলা আর পুরুষ ধর্ষকামী আসামী, কেন?
গোটা ব্যাপারটাই তো ঘটেছে উভয়ের সম্মতিতে। ন্যায় বিচারটা উভয়ের হোক।
এবার দেখা যাক দেনমোহরের বিষয়। ইসলামে দেনমোহরকে নারীর সম্মানজনক হক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর দেনমোহরের কোন পরিমাণ উল্লেখ করা না থাকলেও বিবাহকে সহজ করতে বলা হয়েছে এবং দেনমোহর ধার্যের নিয়ম স্বামীর আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী। এমনকি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করে শোনানোও দেনমোহর হতে পারে। অথচ, আমাদের দেশে এখন কেরানীর মেয়ে ও সদ্য প্রাইভেট চাকুরিতে প্রবেশ করা ছাপোষা স্ট্রাগলিং যুবকের বিয়ের দেনমোহর হয় ৫ লাখ, ১০ লাখ বা আরও বেশি! এটা একদিকে যেমন ইসলামী আদেশের অপব্যবহার অপরদিকে অনৈতিক। ফলে একটা চক্রই গড়ে উঠেছে যারা বিভিন্ন পুরুষদের বিয়ে করে নানান উছিলা তৈরী করে ডিভোর্স দিয়েই দেনমোহর ও ইদ্যতকালীন ভরনপোষণের মামলা করে। এরকম চক্রের কথা বিজ্ঞ আইনজীবীরা যেমন জানেন তেমন সাংবাদিকরাও জানেন। এটা মূলত এখন কিছু দুষ্টচক্রের অভিনব প্রতারণামূলক বিবাহ-বাণিজ্য। এটি রুখতে একলাখ টাকার উর্ধ্বে কাবিনের উপর টিডিএস বা নগদ কর্তন ট্যাক্স বসানো উচিত।
পরিবর্তনের সময় এসেছে। পরিবর্তন হোন, পরিবর্তন করুন। নয়তো এই দেশের অবস্থা একদিন আফগানিস্তানের মতো হবে। ওই দেশের মেয়েরা বরের থেকে উচ্চ পণ নেয় এবং বিয়ে হয় আদিকালের রাজকীয় প্রথায়। কিন্তু এত টাকা আজ আর তাদের নেই। ফলে বুড়ো-বুড়িরা হাপিত্যেশ করে বসে থাকে পণ আর প্রথার অহম নিয়ে, বিয়েটা আর হয়না। যখন হয় তখন বুড়োরা বিয়ে করে নাতীর ঘড়ের পুতির বয়সী কাউকে আর বুড়িরা আসমানের দিকে তাকিয়ে থাকে।
এই দেশেও একদিন একপেশে নারীবাদী আইনের প্রভাবে পুরুষেরা প্রেম, বিয়ে, সবই বন্ধ করে ছুটবে ভীনদেশে যেখানে বিয়ে সহজ, আইনও সকলের জন্য সমান। আর এখানের মেয়েরা একপেশে আইনের অহম নিয়ে বসে থাকতে থাকতে দেখবে বেলা শেষে দাদা নানাও পাওয়া যাচ্ছেনা। ইনফ্যাক্ট নিজের সিকিউরিটি পাগলেও বোঝে।
আমার এই লেখা কোনভাবেই ধর্ষকদের সহানুভূতিতে নয়। বরং ক্ষমতা আমার হাতে থাকলে তাদের সাজার ব্যবস্থা করতাম জনসম্মুখে এবং আদিম নৃশংস কায়দায়। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য এটাই যে নারী পুরুষের অধিকার ও শারীরিক-সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনগুলো সময়ের প্রেক্ষিতে নতুন করে সাজানো উচিত৷ যেভাবে আদালতপাড়ায় এসব আইনের বিচার নিয়ে দুষ্টচক্রের অপব্যবহার ও হয়রানি চলছে তা একটি সভ্য রাষ্ট্র ও ন্যায়পরায়ণ বিচার ব্যবস্থায় চলতে পারেনা।
ধন্যবাদান্তে
মসনদ বিন তৈফুর (নিলয় ভূঁইয়া)
সদস্যঃ
ঢাকা ট্যাকসেস্ বার এসোসিয়েশন
বাংলাদেশ কোম্পানি ল' প্র্যাক্টিশনার'স সোসাইটি
এসোসিয়েটঃ
সারোয়ার এন্ড এসোসিয়েটস, ঢাকা জজকোর্ট।