04/08/2026
ডিভোর্সের কতদিন পর স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন?
প্রিয় পাঠক,
আইন ও ধর্মীয় বিধানে এই ‘ইদ্দত’ বা অপেক্ষার সময় রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো- গর্ভে পূর্বের স্বামীর কোনো সন্তান রয়েছে কি না (পিতৃত্বের বিশুদ্ধতা) তা নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি বা পিতৃপরিচয়ের জটিলতা এড়ানো।
১. আইন অনুযায়ী ইদ্দত গণনা কখন থেকে শুরু হয়?
আমাদের সমাজে বড় একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, "ডিভোর্স পেপার বা নোটিশ পাঠালেই বুঝি ইদ্দতের সময় গণনা শুরু হয়ে গেল।" আইনের চোখে এটি সম্পূর্ণ ভুল।
• আইনি হিসাব: ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেয়র কার্যালয়ে তালাকের নোটিশ পৌঁছানোর পর ৯০ দিন পর্যন্ত তালাক স্থগিত থাকে। এই ৯০ দিন পার হওয়ার পর যখন চেয়ারম্যান কার্যালয় থেকে বিচ্ছেদ কার্যকরকরণের চূড়ান্ত সনদ ইস্যু করা হয়, সেদিন থেকে আইনত বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
• দ্বিতীয় বিয়ের উপযুক্ত সময়: আইনগতভাবে এই ৯০ দিন পার হওয়ার পর এবং স্ত্রীর ইদ্দতকাল পূর্ণ হলেই তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্তভাবে অন্য কোথাও দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পারেন।
২. শারীরিক অবস্থা ভেদে ইদ্দতের সময়কাল
ডিভোর্স চূড়ান্ত হওয়ার পর নারীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সময়সীমা ৩টি ভিন্ন ক্ষেত্রে ভাগ হয়:
• সাধারণ অবস্থা (গর্ভবতী নন): স্ত্রী যদি গর্ভবতী না হন, তবে তার ইদ্দতকাল হবে নিয়মিত ৩টি ঋতুচক্র (Menstrual Cycles) বা আনুমানিক ৩ মাস (৯০ দিন)।
• গর্ভবতী অবস্থা: স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ডিভোর্স যখনই কার্যকর হোক না কেন, ইদ্দতকাল হবে সন্তান ভূমিষ্ঠ বা প্রসব (Delivery) হওয়া পর্যন্ত। সন্তান প্রসব হওয়া মাত্রই ইদ্দত শেষ হয়ে যাবে, তা বিচ্ছেদের পর ১ দিন সময় লাগুক কিংবা ৮ মাস।
• শারীরিক সম্পর্ক না হলে (Unconsummated Marriage): বিয়ের পর যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো প্রকার শারীরিক মেলামেশা বা নির্জন বাস না হয়ে থাকে এবং ডিভোর্স হয়, তবে আইনের দৃষ্টিতে স্ত্রীকে কোনো ইদ্দত পালন করতে হয় না। বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়া মাত্রই তিনি সাথে সাথে অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন।
আইনজীবীর ২টি জরুরি আইনি সতর্কতা:
১. ইদ্দতকালীন খোরপোশ স্ত্রীর অধিকার: ডিভোর্সের পর এই ইদ্দত পালনকালে (৩ মাস বা সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত) স্ত্রীর যাবতীয় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার সমস্ত খরচ প্রদান করতে সাবেক স্বামী আইনত বাধ্য।
২. ইদ্দত না মেনে দ্রুত বিয়ের আইনি ঝুঁকি: ইদ্দতকাল পার হওয়ার আগেই যদি কোনো নারী গোপনে বা তড়িঘড়ি করে দ্বিতীয় বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন, তবে আইনে সেই দ্বিতীয় বিয়েটি ‘ফাসিদ’ বা অনিয়মিত (Irregular Marriage) হিসেবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া সাবেক স্বামী বা প্রতিবেশীরা পিতৃপরিচয় ও জালিয়াতির অভিযোগে আইনি জটিলতা তৈরি করার সুযোগ পান।
সহজ কথায়, ডিভোর্সের নোটিশ দেওয়ার ৯০ দিন পর আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হলে, স্ত্রীর ৩ মাসের ইদ্দতকাল (অথবা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের সময়) পার হলেই তিনি আইনগত ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে পুনরায় নতুন জীবন শুরু বা দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন।
আইন জানুন, আইনি নিয়ম মেনেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করুন।
পোস্টটি শেয়ার করুন, তাতে আপনার কাছের মানুষজন সচেতন হবেন, উপকৃত হবেন। এ ছাড়া, এ ধরণের পোস্ট শেয়ারের মাধ্যেমে আপনি আপনার অবস্থানকেও শক্তিশালী করতে পারবেন।
পারিবারিক আইনসহ দাম্পত্য, পরকীয়া, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাকত্ব ও হেফাজত, নারীর অধিকার এবং অন্যান্য আইনসংক্রান্ত নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে আমাদের পেজটি Follow করুন।
আপনার কোন প্রশ্ন থাকে হোয়াটসঅ্যাপে +8801715747777 এই নম্বরে অথবা ইনবক্সে মেসেজ লিখুন। আপনার নাম পরিচয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কপিরাইট সংক্রান্ত তথ্য: লেখাগুলো আমার প্রকাশিতব্য আইন সচেতনতার বই, “ #যখনসম্পর্কবদলেযায়: আইন, অধিকার ও সিদ্ধান্ত“ থেকে নেয়া। সেই ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু অংশ প্রকাশিত হচ্ছে। কপি-পেস্ট করলে লেখকের নাম, পরিচয় ও বইয়ের নামসহ করবেন।
অ্যাডভোকেট মমিনুল আলম রাসেল
এলএলএম, এমবিএ, এমএ, ডিসিএপি
আইনজীবী, লেখক, ফ্যামিলি কনসালটেন্ট
সাবেক আইন ও কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ [রবি আজিয়াটা পিএলসি]
সাবেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট [বেক্সিমকো গ্রুপ]
01715747777, 01641000008
#ডিভোর্স #ইদ্দত