20/03/2021
★কোম্পানি কী?
কোম্পানি হচ্ছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
★কোম্পানি কত প্রকার?
১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ কোম্পানি আইন অনুযায়ী ৩ ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ
→ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি
→ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
→ যৌথ মূলধনী কোম্পানি
★প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলতে সাধারণত শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন।
★প্রাইভেট লিমিটেড ক্ষেত্রে ন্যূনতম শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ কোন সংখ্যা থাকে না কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের সংখ্যা অনির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
★যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলতে সাধারণত যে কোম্পানির অধিক মূলধন সীমিত দায়, যৌথ ব্যবসা এবং আইন সত্ত্বা ও পৃথক অস্তিত্ব বিশিষ্ট্য তাকে যৌথমূলধনী কোম্পানি বলে।
★প্রথমেই দেখে নেই Registrar of Joint stock Companies (RJSC) থেকে অনুমোদন পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র থাকতে হবে?
★ আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি।
★ TIN সার্টিফিকেট।
★ আবেদনকারী সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
★ আবেদনকারীর ঠিকানা।
★ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা।
★ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কি কাজ করবে তার একটি ফ্লো চার্ট প্রদান করতে হবে।
★ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন।
★ কোম্পানির কোন সদস্যদের শেয়ারের সংখ্যা বা পরিশোধিত মুলধন।
★ কোম্পানির কোন সদস্য কোন পদে আছে তা উল্লেখ করতে হবে।(EC Member)
★ ব্যাংক সিগনেটরি লিস্ট (Bank signatory list).
কোম্পানি গঠনের সুবিধা কি?
★ কোম্পানির প্রতি জনগণের আস্থা বেশি থাকা।
★ সহজে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ থাকা।
★ শেয়ার হোল্ডারদের ঝুঁকির পরিমাণ কম থাকা।
★ বৃহদায়তন বা বড় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
★ চিরন্তন অস্তিত্ব থাকা।
★ কৃত্রিম ব্যক্তিসত্ত্বা থাকা।
কোম্পানি গঠনের অসুবিধা কি?
★ প্রতি বছর বাৎসরিক সাধারণ সভা আয়োজন করা বাধ্যতামূলক ।
★ বাৎসরিক অডিট রিপোর্ট জয়েন্টস্টকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ।
★ স্বচ্ছ হিসাব নিকাশ করা।
★ কোম্পানির আয়ের উপর প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বা কোম্পানির নাম নির্বাচন করাঃ
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সর্বপ্রথম কাজ হল, কোম্পানির জন্য একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পছন্দের নামের শেষে অবশ্যই লিমিটেড কথাটি যুক্ত করতে হবে।
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পছন্দের নামটি আরজেএসসি বা জয়েন স্টকের নামের তালিকায় খালি আছে কিনা তা আরজেএসসি ওয়েবসাইট থেকে দেখতে হবে।
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পছন্দের নামটি যদি খালি থাকলে একজন ব্যবসায়িক পরামর্শকের এর মাধ্যমে নিধারিত ফি প্রদান পূর্বক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পছন্দের নামটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে।
আরজেএসসি বা জয়েন্টস্টক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার পর যাচাই বাছাই করে দেখার পর আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নামের ছাড়পত্র প্রদান করবেন।
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নামের ছাড়পত্র পাওয়ার পর কনসালন্টেন্সি ফার্মে বা আইনজীবীর মাধ্যমে কোম্পানির গঠনতন্ত্র হিসাবে পরিচিত কোম্পানির মেমোরেন্ডাম এবং আর্টিকেল অব এ্যাসোসিয়েশন প্রস্তুত করতে হবে।
মেরোরেন্ডাম এবং আটিকেল অফ এ্যাসোসিয়েশন প্রস্তুত করার পর আপনাকে আরজেএসসি থেকে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফরম সংগ্রহ করে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরণ করে জমা দিতে।
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার কাগজপত্র সংগ্রহ করার পর আপনাকে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন চুড়ান্ত ভাবে সম্পাদন করা জন্য আরজেএসসি'র ওয়েবসাইটে আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মেমোরেন্ডাম এবং আটিকেল অব এ্যাসোসিয়েশন সহ সমস্ত প্রকার কাগজপত্র স্ক্যান করে আরজেএসসি র ওয়েবসাইটে সিরিয়াল মত সাবমিট করতে হবে।
আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বা আপনার কোম্পানির অথরাইজড ক্যাপিটাল বা মূলধনের উপর ফি নিধারিত হয় এবং তা ব্যাংক রশিদ এর মাধয়মে প্রদর্শন করতে হবে।
ফি জমা দেওয়ার পর মেমোরেন্ডাম এবং আটিকেল এফ এ্যাসোসিয়েশন ব্যাংকে ফি জমা প্রদানের পর রশিদ এবং আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বা কোম্পানির সমস্ত কাগজপএ গুলো আরজেএসসি অফিসে নিজেই গিয়ে জমা দিবেন।
আরজেএসসি থেকে আপনার প্রদানকৃত কাগজপএ গুলো সবকিছু ঠিকঠাক মত থাকলে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য কোম্পানি লাইসেন্স প্রদান করবেন।
-এস এম রাহাত,
এলএলবি (ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউকে)
এলএলএম (বিইউপি)
সার্টি.এইচ.ই (ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ইউকে)