17/02/2021
জমি জমার সাথে জড়িত কিছু শব্দ এবং তার অর্থ
::::::::::::::::::::::::::::::;;;;;;::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাজস্ব : সংস্কৃত ‘রাজ’+‘স্ব’ বা ‘স্বত্ব’ যোগে নিষ্পন্ন; অর্থ রাজাকে দেয় কর বা খাজনা। বাংলাদেশে বর্তমানে এর প্রতিশব্দ ভূমি উন্নয়ন কর।
কালেক্টর: জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জেলা প্রশাসক) এবং বিশেষভাবে কালেক্টর বা জেলা প্রশাসকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝাবে। (সার্ভে আইন ১৮৭৫)
সার্কিট হাউস: ভূমির খাজনা আদায় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রেভিনিউ কালেক্টরের কাজ তদারক করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট রেভিনিউ কাউন্সিল গঠন করা হয়। এ কাউন্সিলের অধীনে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অব সার্কিট গঠন করা হয়। সার্কিট কমিটিরি সদস্যগণ বিভিন্ন জেলা সদরে যে স্থানে তাবু স্থাপন করে অবস্থান করে অূমি রাজস্ব তদারক করতেন তা পরবর্তীকালে সার্কিট হাউস নামে পরিচিত হয়।
তৌজি: জিিমদারি এস্টেটের তফসিল তথা ভৌগলিক পরিচয়কে তৌাজ বলা হতো।
এস্টেট: কালেক্টরের ভূমি রাজস্ব নিবন্ধনের সাধারণ রেজিস্টারভুক্ত এককভাবে খাজনা ধার্যকৃত ইউনিট বা খাজনামুক্ত ইউনিট এলাকা বা খাসমহল এলাকাকে এস্টেট বলে।
মৌজা: এস্টেট বা পরগণার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিচিতিমূলক ভৌগলিক ইউনিটগুলোকে মৌজা বলে। মহল্লা, গ্রাম, পল্লী ইত্যাদি মৌজাভুক্ত এলাকা। মৌজা ভূমি ব্যবস্থাপনার নিম্নতম ইউনিট। জরিপের মাধ্যমে মৌজাভিত্তিক নকশা প্রস্তুত করা হয়।
পরগণা: জমিদারদের একাধিক মহাল থাকতো। এক বা একাধিক মৌজা নিয়ে মহাল হতো। কয়েকটি মহালের সমষ্টিকে পরগণা বলা হতো। জমিদারি ব্যবস্থাপনার বৃহৎ ইউনিট পরগণা। কতগুলো পরগণার সমন্বয়ে জেলা হতো। যেমন ২৪ পরগণা জেলা।
মধ্যসত্বভোগী (Intermediate Interest): জমির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সর্ম্পকহীন অথচ উৎপাদনের সুফল ভোগকারী সুবিধাবাদী শ্রেণীর লোককে মধ্যসত্বভোগী বলা হতো।
চক (Chalk): জমিদারির অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি বৃহৎ এলাকা বা গ্রামকে চক বলা হতো।
তামাদি (Limitation): তিন বছরের মধ্যে খাজনা আদায় না হলে এবং দাবি তিন বছরে অতিক্রান্ত হলে তামাদি হয়ে যাবে।
ছুট দাগ (Omitted ordropped plot): নকশায় সংখ্যায়নের মাধমে ভূমির পরিচিতি নম্বর দেয়ার সময় যদি ভুলক্রমে কোন সংখ্যা বাদ পরে যায় অথবা কোন কারণে পরবর্তী সময় কোন সংখ্যা নকসায় বাদ দিতে হয় তাহল নকশায় প্রকৃত অনুপস্থিত ঐ নম্বরকে ছুট দাগ বলে। ছুট দাগ নম্বর সীটের পার্শ্বে নোট করতে হয়।
বাটা দাগ (Reduced/Divided plot): নকশা প্রসতুতের সময় প্রত্যেক খন্ড ভূমিকে চিহ্নিত করার জন্য দাগ নম্বর দেয়া হয়। নকসা প্রস্তুতকালে আলাদাভাবে দাগ নম্বর দেয়ার পরবর্তীকালে কোন দাগ বাস্তব প্রয়োজনে বিভ’ক্ত করা আবশ্যক হতে পারে। যদি কোন দাগকে বিভক্ত করে আলাদাভাবে নতুনদাগ সৃষ্টি করে নম্বর দিতে হয় তাহলে বিশেষ পদ্ধতিতে দাগ নম্বর দিতে হয়। পরবর্তী সময় এর নতুন সৃষ্ট নম্বরকে বাটা দাগ নম্বর বলে। এ নতুন সৃষ্ট দাগে বাটা দাগ নম্বর দেয়ার সময় বিভক্ত দাগের মুল নম্বর এর নীচে (বাই নম্বর) সীটের শেষ নম্বরে পরের নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। বাটা দাগ নম্বরে সীটের পার্শ্বে নোট করে প্রর্দশন করতে হয়।
চিটা/চর্চা: ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন এলাকার আলাদাভাবে প্রস্তুত নকশা।
চালা (Highland): আবাদী উঁচু জমি যেখানে সাধারনত শাকসবব্জির চাষ করা হয় তাকে চালা বলা হয়। কোন কোন এলাকায় চালা শ্রেনীর জমিকে ভিটিও বলা হয়।
চটান: বাড়ী সন্নিকটস্থ উচুঁ পতিত জমি।
আসলি: চর ব্যতীত নীর তীরের মূল জমি।
চিটা: যে কাগজে ভ’মির পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকে।
ভিটি (Highland):অনেক উঁচু জমি আছে যেখানে বাড়ীঘর নেই। তাই সেখানে চাষাবাদ করা হয়। বাড়ীঘর করার যোগ্য এমন উঁচু ভূমিকে ভিটি বলা হয়।
টিলা: সাধারণত প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট এলাকা বা পাহাড়।
ছড়া (Downward strip land): পাহাড় বা টিলার যে সকল এলাকা সমতল ভূমির দিকে ঢালু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ছড়া বা ছড়ি বলা হয়।
নয়নজুলি (Roadside Drain): রাস্তা নির্মানের সময় দুধার থেকে মাটি তোলার কারণে নালা সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুধারে সৃষ্ট এমন নালাকে নযনজুলি বলা হয়।
বাওড়: প্রাকৃতিক বা অন্য কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে পুর্ব গতিপথের স্রোত প্রাকৃতিক কারণে বন্ধ হয়ে যে বিস্তীর্ণ জলাভূমি সৃষ্টি করে তাকে বাওড় বলে। বাওড় সায়রাত মহলভূক্ত খাস জমি।
হাওড়: প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট বিস্তীর্ণ জলমগ্ন নিম্ন জলাভূমি হাওড় নামে পরিচিত। হাওড় এলাকা বিলের চেয়ে বড়। হাওড় সায়রাত মহলভূক্ত খাস জমি।
বিল: বিস্তীর্ণ আবদ্ধ স্বাদু পানির জলাশয়, নিম্নভূমি যেখানে অতিরিক্ত পানি এসে জমা হয়।
ঝিল: লম্বাকৃতি জলাশয়, ছোট বিল
হালট: গ্রামের কোন কোন স্থান দিয়ে হাল নিয়ে যাতায়াত করার জন্য কর্দমাক্ত পথ সৃষ্টি হয়। গরু-মহিষাদি চলাচলের এমন চওড়া কাঁচা মেঠো পথকে হালট বলা হয়।
আইল: প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা করার জন্য চিহ্নিতকরা হয়। জমির সীমানানির্দেশক এমন উঁচু ধরনের চিহ্নকে আইল বলা হয়। তাছাড়া ছোট ছোট খুঁটি দ্বারা সীমানা চিহ্নকেও আইল বলা হয়। জমিতে পানি আটকােেনার জন্য নির্মিত অনুচ্চ বাঁধকেও আইল বলা হয়।
গোপথ: সাধারনত গবাদি পশু যাতাযয়াতের জন্য নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে। গরু মহিষ চলাচলের মাধ্যম মৌজায় যে মেঠোপথ সৃষ্টি হয় তাকে গোপথ বলে।
সিকস্তি, পয়স্তি ও স্বস্থানে পয়স্তি (Reformation in Situ): যদি কোন সিকস্তি (নদী ভাঙ্গনে বিলীন) জমি পুনরায় যথাস্থানে পয়স্তি (চর সৃষ্টির মাধ্যমে আবির্ভাব) হয় তাহলে তাকে স্বস্থানে পয়স্তি বলে।
গোপাট, গোচর, গোবাম (Pasture Land): মৌজায় যে পতিত জমিতে গবাদি পশু ঘাস খাওয়ার জন্য চড়ে বেড়ায় ।
গান্টার চেইন (Gunter chain): ভূমির দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য একশত লিংক বিশিষ্ট যে চেইন ব্যবহার করা হয় তাকে গান্টার চেইন বলে। এ চেইনের দৈর্ঘ্য ৬৬’ ফিট এবং চেইনের উদ্ভাবকের নাম অনুসারে এর নাম করণ করা হয়েছে। এ চেইনে ১০ লিংক পর পর যে বিশেষ চিহ্ন দেয়া আছে তাকে ফুলি বলা হয়।
গুনিয়া (Gunia): চেইন লাইনের ডানে এবং বামে এক চেইনের মধ্যে অফসেট দুরত্ব নির্নয় এবং নকসায় চিহ্নিত করে পরিমাপের জন্য সাদা প্লাস্টিকের যে ছোট স্কেল ব্যবহার করা হয় তাকে গুনিয়া বা আইভরি স্কেল বলে।
দাখিলা (Rent Receipt): ভূমি মালিকের নিকট হতে ভূমি কর আদায় করে মালিককে যে নিদিষ্ট ফর্মে (ফরম নম্বর ১০৭৭) ভূমি কর আদায়ের প্রমানপত্র তথা রশিদ দেয়া হয় তাকে দাখিল বলা হয়। দাখিলা ভূমির মালিকানা স্বত্বের অন্যতম প্রমান।
ডি,সি,আর, (Duplicate Carbon Receipt): ভূমি কর ব্যতীত অন্যান্য সরকারী পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে রশিদ দেয়া হয় তাকে ডি,সি,আর বলে। ডি,সি,আর ভূমির মালিকানা স্বত্ব প্রমান করে না। ইহা ভূমি কোন নির্দিষ্ট সময় বা সাময়িক ব্যবহারের প্রমানপত্র।
সায়রত মহল (Sairat Mahal): সায়রত অর্থ ভমি কর ব্যতিত অণ্যান্য বিবিধ করের মাধ্যম সরকারের আয়। যে সমস্ত সাধারণ ব্যবহার্য স্থান সমুহ সাময়িক ব্যবহার করার জন্য সরকার বার্ষিক লিজ দিয়ে অথবা স্বল্প মেযাদি লিজ দিয়ে রাজস্ব প্রাপ্ত হন তাকে সায়রত মহল বলে। এ লীজ দ্বারা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরিত হয় না।
চান্দিনা (Parmanent shop in Bazar): হাট-বাজারে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট আছে। অস্থায়ী দোকান হাটের দিন বসে। হাট-বাজারের স্থায়ী দোকান পাটকে চান্দিনা ভিটি বলে।
পেরিফেরী: হাট-বাজারের সীমানাকে পেরিফেরী বলে।
কোর্ট অব ওয়ার্ডস (Court of Wards): চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরবর্তী কালে কোন জমিদার নি:সন্তান অথবা নাবালক সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করলে উক্ত জমিদারি সরকার কর্তৃক তত্ববধান করার জন্য ১৮৭৯ সনে কোর্ট অব ওয়ার্ডস আইন করা হয়। এ আইন মোতাবেক বিভাগীয় কমিশনারের তত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কালেক্টর একজন ম্যানেজার নিয়োগের মাধ্যমে সংশ্ষ্টি জমিদারী তত্বাবধান করতেন।
ভেস্টেড প্রপার্টি (Vested Property): ১৯৬৫ সনে পাক ভারত যুদ্ধের সময় পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আনি মোতাবেক ৬-৯-৬৫ ইং তারিখ থেকে ১৬-০২-৬৯ ইং তারিখের মধ্যে যে সমস্ত নাগরিক তদানীন্তন পুর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে গমন ও অবস্থান অথবা তৎপুর্বে যে কোন সময় ভারতে গমন করে যুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থান করে তাদের সম্পত্বিত এবং ১৯৫০ সনের বাস্তুতাগী সম্পত্তি আইনের আওতায় সমস্ত সম্পত্তি ভেস্টেড বা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য। এ সম্পত্তি অনিবাসী সম্পত্তি হিসেবেও গন্য করা হয়।
বিনিময় সম্পত্তি (Exchange property): ১৯৪৭ সনে ভারত বিভক্তির পর তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ হতে ভারতে চলে গিয়ে তথায় নাগরিকত্ব গ্রহনকারীদের সংগে ভারত হতে তদনীন্তন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে আগমনকারী ও নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের ভূসম্পত্তি বিধি মোতাবেক পারস্পারিক হস্তান্তরকে বিনিময় সম্পত্তি বলে।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি (Abandoned Property): ২৬শে মার্চ ১৯৭১ ইং হতে যে সকল নাগরিক আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে সম্পত্তি পরিত্যাগ করে এদেশ ছেড়ে চলে যায় তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি। এটি মূলত বিহারীদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি।
এওয়াজ বদল (Exchange of land): একজন মালিক তার জমির সংগে অন্য একজন মালিকের জমি পারস্পারিক ব্যবহারিক সুবিধার জন্য দখল বদল বা বিনিময় করলে তাকে এওয়াজ বদল বলা হয়। এওয়াজ বদলের ক্ষেত্রে মালিকানা স্বত্ব হস্তান্তর হয় না। শুধুমাত্র দখল পারস্পারিক হস্তান্তর বা বদল হয়।
ওয়াকফ সম্পত্তি (Wakf property): কোন মুসলমান তার সম্পত্তি ধর্মীয় বা সমাজ কল্যাণমুলক কাজের জন্য দান করতে পারে। ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমুলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ(দান) করলে সেই সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি বলে। যিনি সম্পত্তি উৎসর্গ (দান) করেন তাকে ওয়াকিফ বলে। ১৯৬২ সনের ওয়াকফ অধ্যাদেশ দ্বারা ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করা হয়।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি (Escheaats): যে সম্পত্তির বৈধ মালিক নেই তার মালিক রাষ্ট্র। দাবিদারহীন সম্পত্তি রাষ্ট্র কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়।
মোতোওয়াল্লী (Manager): যিনি ওয়াকফফ সম্পত্তি তত্বাবথধান অথবা ব্যবস্থাপনা করেন কাকে মোতোওয়াল্লী বলে।ওয়াকিফ নিজেও মোতোওয়াল্লী হতে পারেন। মোতোৗয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উন্নতি কল্পে ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।
কবুলিয়ত (Acceptance): মালিক প্রদত্ত পাট্টা রায়ত বা প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে যে লিখিত স্বীকৃতপত্র দিতেন তাকে কবুলিয়ত বল্ েঅর্থাৎ পাট্টা কবুল বা গ্রহন করাকে কবুলিয়ত বলে। কবুলিয়ত পত্রে জমি ভোগ দখল করার জন্য জমি ভোগ দখল করার জন্য যাবতীয় শর্তসহ প্রজা কর্তৃক খাজনা দেয়ার প্রতি¤্রুতি থাকতো।
ওয়াকফ, দান, হেবা, উইল/অছিয়ত ইত্যাদি: জমি ক্রয়ের পুর্বে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক যে, সংশ্লিষ্ট জমি ইতোমধ্যে ওয়াকফ, দান, হেবা বা উইল করা হয়েছিল কিনা? করা হয়ে থাকলে ইহা আইন মোতাবেক রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কিনা। ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য ওয়াকফ আইনের ৩৩ ধারার মোতাবেক ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি আব্যশ্যক। দান, হেবা ও ওয়াকফ কার্যকরী হওযার ক্ষেত্রে ইহা প্রাপক কর্তৃক গ্রহন এবং দখল গ্রহন আবশ্যক। সুতরাং এ সম্পর্কিত মামলা নিস্পত্তির ক্ষেত্রে এ বিষয় যাচাই করতে হবে। উইল হলো ইচ্ছাপত্র দ্বারা দান। মুসলিম আউনে উইলকে অছিয়ত বলে।
হেবা বিল এওয়াজ: কোনো কিছুর বিনিময়ে হেবা করা।
হেবা বা শর্ত-ইল এওয়াজ: বিনিময় প্রদানের শর্তযুক্ত হেবা।
অগ্রক্রয়াধিকার (Pre-emption): অগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্তি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনুনুগভাবে অণ্যান্য ক্রেতার তুলনায় অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান। কোন কৃষি জোত বা কৃষি জমির কোন মালেক বা অংশীদার কোন আগন্তুকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশীদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্যসহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলা হয়। জমিদারী অধিগ্রহন ও প্রজাসস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯৬ ধারা মোতাবেক অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োগ করা য়ায়।
বর্গাক্রয়াধিকার: মালিক বর্গা জমি বিক্রির অভিপ্রায় ব্যক্ত করলে বর্গাদারকে লিখিতভাবে ক্রয় করার প্রস্তাব দিতে হবে।
খায়খালাসী বন্ধক (Usufructuary Mortgage): নির্দিষ্ট মেয়াদে জমি বন্ধক দিয়ে টাকা কর্জ করত: উক্ত জমির ফসলের দারা কর্জ পরিশোধ হয়ে গেলে তাকে খায়খালাসী বলে।
জলকর: উন্মুক্ত জলাশযে মৎষ্য আহরনের জন্য যে কর প্রদান করতে হয় তাকে জলকর বলা হয়।
মহাল: মহাল অর্থ এলাকা। রাজস্বমুক্ত অথবা রাজস্ব আদায়ের জন্যে নির্ধারিত ছোট ছোট ইউনিট এলাকে মহাল বলআ হতো। যেমন খাস মহাল, জলমহাল ইত্যাদি।
জলমহাল: সায়রত মহালভূক্ত বিল, হাওর, বাওর, জলা ও নদ-নদীতে মৎস্য আহরণের এলাকাকে জলমহাল বলা হয়।
ডাঙ্গা: উঁচু শ্রেনীর জমিকে ডাঙ্গা বলা হয়। ইহা ভিটি শ্রেনীর জমি, যা সাধারনত জলমগ্ন হয় না।
কান্দা: উচ্চ ভূমি।
তলববাকী: মৌজার হোল্ডিং ভিত্তিক খাজনা বা ভূমি কর এর হাল ও বকেয়া দাবির বিবরণকে তলববাকী বলে। ভ’মি করের হাল ও বকেয়া বিবরণ ২ নং রেজিস্টার থেকে পাওয়া যাবে। ২ নং রেজিস্টারকে তলব বাকি রেজিস্টার বা প্রজার খাজনা ধার্য ও আদায়ের হিসাব বই (লেজার) বলা হয়।
দেবোত্তর, ব্রক্ষ্মোত্তর: হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ও সুসম্পন্ন করার ব্যয় ভার নির্বাহের লক্ষ্যে উতসর্গকৃত ভূমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলা হয়। দেবোত্তর সম্পত্তির তত্ববধায়ককে সেবাইত বলা হয়। সেবাইত দেবোত্তর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না। ব্রাক্ষ্মণকে নিস্কর স্বত্বে প্রদত্ত ভূমিকে ব্রক্ষ্মোত্তর সম্পত্তি বলা হয়।
ভোগোত্তর: ভরণপোষণের জন্য দেওয়া জমি।
পীরোত্তর: ধর্মীয় নেতা তথা পীরকে নিস্কর সত্বে দান করা সম্পত্তি।
নাবালক: ১৮ বছর পূর্ণ না হলে সে নাবালক বলে গণ্য। দলিল সম্পাদন ও রেজি: করতে পারে না। ( রেজি: আইন ৩৫ ধারা)।
বোরা: বিল ও জলা জমিতে শুস্ক মৌসুমে চাষাবাদ করে যে ফসল জন্মে তাকে বোরো ফসল বলা হয়। নিচু জমিতে আবাদি ধান বা সাধারনত চৈত্র মাসে তোলা হয় তাকে বোরা ধান বলে।
নাল/বাইদ: নিচুঁ কৃষি জমি।
কোলা: বসতবাড়ী সংলগ্ন নাল জমি।
ডহর: পথ
পালাম: বসতবাড়ি সংলগ্ন সবজির জন্য উচুঁ ভিটি জমি।
সালামি: কোন হস্তান্তরের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রিমিয়াম বা স্থায়ী ইজারা প্রদানের নিমিত্ত আর্থিক উপটৌকন
জে এল নম্বর (Jurisdiction List No) : থানা বা উপজেলাধীন প্রত্যেকটি মৌজাকে পর্যায়ক্রমে ক্রমিক নং দ্বারা চিিত করা হয়।
বয়নামা: বিক্রয়ের দলিল।
বায়না: কোনো কিছু ক্রয়/বিক্রয় করার লক্ষ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতা মূল্যের আগাম পরিশোধ করার চুক্তি।
মিনাহ (Abatment): মিনাহ অর্থ খাজনা হ্রাস –রণ। জমি সিকস্তি অথবা সরকার কর্তৃক জমি অধিগ্রহন করা হলে অথবা অন্য কারণে মালিকের জমির পি রমান হ্রাস পেলে আবশ্যক ক্ষেত্রে খাজনা হ্রাস করাকে মিনাহ বলা হয়। জমি সিকস্তি হলে কর মিনাহ করতে হয়।
মোহরার, মহুরী: মোহরার অর্থ লেখক বা কারণিক। সাধারনত মামলা সম্পর্কিত আবেদনপত্র লেখক এবং উকিলকে মামলার কাগজপত্র প্রস্তুতে সহায়তাকারীকে মোহরার বা মহুরী বলে। ভূমি জরিপ অফিসে যাঁচ মোহরারর পদবিধারী কর্মচারী আছে।
হালট: গ্রামের গবাদি পশু তথা হাল নিয়ে চলাচলের কাঁচা মেঠো পথকে হালট হলা হয়।
হাসিল: অস্থায়ী বা স্থায়ী নিদিষ্ট সূত্র থেকে আদায়কৃত রাজস্ব আয়কে হাসিল বলা হয়।বর্তমানে গবাদি পশুর হাটে ক্রেতাবা বিক্রোতার নিকট থেকেআদায়কৃত টেলকে হাসিল বরা হয়।
নাল/নালা জমি : চাষাবাদের উপযোগি সমতল কৃষি জমি। এর বিভিন্ন শ্রেণী ছিল, স্থান ভেদে সেগুলির নামেও ছিল বিভিন্নতা।
পেশকার : ফারসি ‘পেশ বা পিশ’ অর্থ দাখিল, উপস্থাপন,এবং ‘কার’ অর্থ প্রতিনিধি। এজেন্ট, ডেপুটি, অধস্তন রাজস্ব আধিকারক। নবাবি ও ইংরেজ যুগের প্রথমদিকে সেরেস্তোদার’-এর অব্যবহিত পরবর্তী নিম্নধাপের কর্মচারী। বিচারকের অন্যতম সাহায্যকারী কর্মচারী যার প্রধান দায়িত্ব বিচার তথা প্রতিকার-প্রার্থীদের দরখাস্ত প্রভৃতি গ্রহণ করে বিচারকের সম্মুখে পেশ বা উপস্থাপন করা।
পরোয়ানা: উপরক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত তলব তথা নির্দেশ। যেমন ক্রোকী পরোয়ানা।
সেরেস্তা, সেরেস্তাদার: সরকারী নথিপত্র রাখার কার্যালয়।
নায়েব, নায়েবে দেওয়ান: মুসলিম শাসনামলে ভূমি রাজস্ব কর্মকর্তাকে দেওয়ান এবং দেওয়ানের সহকারীকে নায়েব বলা হতো। জমিদারের ভূমি রাজস্ব আদায়ের কর্মচারীকেও নায়েব বলা হত দেওয়ানের সহকারীকে নায়েবে দেওয়ান বলে।
তহশিলদার: সরকার বা জমিদারের অধনস্ত রাজস্ব বা খাজনা আদায়কারী।
মহাল/মহল : আরবি শব্দ, অর্থ স্থান। ভুমি রাজস্ব আদায়ের জন্য নির্ধারিত এলাকা। কখনও কখনও ভুমি রাজস্ব আদায়ার্থ প্রশাসনিক একক।
মুচলেকা : তুর্কি শব্দ, অর্থ অঙ্গিকার বা প্রতিজ্ঞাপত্র, চুক্তি ইত্যাদি।
মুহরি/মুহুরী/মোহরার : তুর্কি শব্দ। উকিলের সাহায্যকারী, দলিল লেখক, করণিক ইত্যাদি।
লায়েক পতিত : আরবি ‘লায়েক’ অর্থ যোগ্য, সমর্থ, উপযুক্ত। লায়েক (ভূল উচ্চারণে ‘নায়েক’) পতিত’ অর্থ আবাদোপযুক্ত পতিত ভূমি।
হাওলা: ‘হাওলা’ ভাষাজাত একটি শব্দ; এর আক্ষরিক অর্থ দায়িত্ব বা জিম্মা।
হারাহারি : পরিমাণের অনুপাতে, গড়পরতা হিসাবে।
হিবা/হেবা : আরবি শব্দ,অর্থ উপহার, দান ইত্যাদি।
কস্য : কস্য শব্দের অর্থ ‘কাহার’। দলিলে এই শব্দের ব্যবহার প্রায়শই দেখা যায়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে অমুকস্য তথা‘ অমুকের’ বা ‘যাহার দলিল তাহার নাম’ এর স্থলে কস্য শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানের দলিলে এইসব শব্দ পরিহার করাই শ্রেয়।
কবুলিয়ত( Counter part of lease ): মালিকের বরাবরে প্রাপ্তির স্বীকারোক্তিমুলক দলিল।
কায়েমী স্বত্ব ( permanent interest): চিরস্থায়ী ভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া ভূমিকে কায়েমী স্বত্ব বলে।
মৌরশী (Heritable): পুরুষানুক্রমে কোন ভূমি ভোগদখল করা।
মুদাফৎ : যার নামে প্রথম কোন জোতের সৃষ্টি হয়।
বায়া (Vender of seller) : বিক্রেতা ।
রায়ত : দখলী স্বত্ব বিশিষ্ট প্রজা ।
পত্তন/ পত্তনী (Settlement lease): যা সাময়িকভাবে বন্দোবস্তীকৃত লীজকে পত্তনী বলে।
পর্চা (Draft copy of Khatian) : জরীপ চলাকালীণ অবস্থায় খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভূমির মালিককে দেয়া হয় তাকে পর্চা বলে ।
কর্চা: জমাবন্দী বা খাজনার তালিকা। খিরাজ : খাজনা কর।
কট কবলা (Mortgage): : মহাজনের দখলে জমি দিয়ে সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ করে যে দলিল দেয়া হয়।
জোত : এক প্রকারের প্রজা স্বত্ব ।
কিত্তা: দাগ বা প্লট।
বিতং : বিস্তারিত ।
বায়া দলিল : বিক্রয় দলিল
কোর্ফা পত্তন (Sub letting ): কোন প্রজাস্বত্বের আধীনে থেকে ইজারা প্রদান। অর্থ্যাৎ অধীনস্থ ইজারাই হলো কোর্ফা পত্তন।
প্রজাবিলি : প্রজার অনুকুলে যথাযথ ভাবে বন্দোবস্তীয়কৃত ভুমি।
মৌয়াজি : মোট ভ’মির পরিমাণ
করারে : অঙ্গীকারে।
কিসমত : মৌজার একটি অংশ।
জমা : রাজস্ব বা খাজনা।
স্থিতিবান : যে রায়তের স্বত্ব স্থায়ী।
মহাল : রাজস্ব আদায়ের জন্য নির্ধারিত এলাকা।
ইজা : চলমান। পূর্বের হিসাব থেকে স্থিত টেনে আনা।
দোং :(দোপ্তরে) পিতা।
জং :(জওজিয়তে) স্বামী।
আং : আহলিয়ে বা স্বামী।
মং : মবলগে।
সাং : সাকিন।
গং : গয়রহ অর্থ্যাৎ সকল।
জ: জমা।
মহ: মহকুমা
মো: মোকাম।