30/06/2026
বিখ্যাত মামলার ইতিহাস: পর্ব-০২
সাক্ষ্য আইনের (Evidence Act) ৩২(১) ধারা অর্থাৎ "ডাইং ডিক্লারেশন" (Dying Declaration) বা মৃত্যুকালীন ঘোষণার ক্ষেত্রে এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং যুগান্তকারী মামলা। সার্কামস্টেনশিয়াল এভিডেন্স বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের এটি একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
মামলার রেফারেন্স: Pakala Narayana Swami v. King-Emperor (Privy Council, 1939)
সময়কাল: ১৯৩৯
স্থান: বেরহামপুর, উড়িষ্যা (অবিভক্ত ভারত)।
পাকালা নারায়ণা স্বামী নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩,০০০ টাকা পেতেন কুর্তেভা রাও। একদিন রাও একটি চিঠি পান, যেখানে তাকে টাকা নেওয়ার জন্য বেরহামপুরে যেতে বলা হয়। রাও তার স্ত্রীকে বলেন যে, তিনি পাকালার কাছ থেকে টাকা আনতে বেরহামপুর যাচ্ছেন। এরপর রাও নিখোঁজ হন। কিছুদিন পর পুরি রেলওয়ে স্টেশনে একটি থার্ড-ক্লাস কম্পার্টমেন্টে পড়ে থাকা একটি স্টিলের ট্রাংক থেকে রাওয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যা ৭ টুকরো করা ছিল।
পাকালাকে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ডিরেক্ট এভিডেন্স (প্রত্যক্ষদর্শী) ছিল না। প্রসিকিউশনের মূল প্রমাণ ছিল রাওয়ের তার স্ত্রীর কাছে বলে যাওয়া সেই কথাটি-- "আমি পাকালার কাছে যাচ্ছি"।
ডিফেন্সের যুক্তি ছিল, রাও যখন কথাটি বলেছিলেন, তখন তিনি মৃত্যুর মুখে ছিলেন না বা তার মৃত্যুর কোনো আশঙ্কাই ছিল না। তাই এটি কোনোভাবেই সাক্ষ্য আইনের অধীনে "ডাইং ডিক্লারেশন" হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রিভি কাউন্সিলের লর্ড অ্যাটকিন এই মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দেন। তিনি বলেন, মৃত্যুকালীন ঘোষণার জন্য মৃত্যু আসন্ন হওয়ার বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই; বাক্যটি যদি মৃত্যুর পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত হয় (circumstances of the transaction which resulted in his death), তবে সেটি সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক।
লর্ড অ্যাটকিন তার রায়ে বলেন:
"It is not necessary that the declarant should be under expectation of death... The statement may be made before the cause of death has arisen, or before the deceased has any reason to anticipate being killed."
এই রায়ের ভিত্তিতে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের চেইন মিলিয়ে পাকালাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়।
#সাক্ষ্য #আইন #বিখ্যাত #মামলা