22/12/2025
"খ" তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি নামজারি করার পদ্ধতি সাধারণ জমির নামজারির চেয়ে ভিন্ন এবং এতে কিছু বিশেষ ধাপ ও শর্ত অনুসরণ করতে হয়। মূলত, এই সম্পত্তির মালিকানা আদালত কর্তৃক আবেদনকারীর পক্ষে নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণিত হতে হয় বা বৈধ প্রমাণাদি ও দলিলাদি থাকতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
"খ" তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি নামজারির জন্য আবেদনকারীর যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন:
আবেদনকারীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্বাক্ষর।
জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি (NID)।
জমির মালিকানার মূল দলিল এবং ভায়া দলিল (যদি থাকে)।
সম্পত্তির সর্বশেষ খতিয়ানের (পরচা) অনুলিপি।
সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ (দাখিলা)।
ওয়ারিশান সনদপত্র (যদি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন এবং তা তিন মাসের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে)।
বণ্টননামা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
আদালতের রায়/ডিক্রি: যদি আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তার সত্যায়িত কপি জমা দেওয়া অপরিহার্য।
নামজারি পদ্ধতি
১. আবেদন দাখিল: আবেদনকারীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-নামজারির জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ফরমে জমির বিস্তারিত পরিচয়, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, পরিমাণ, মৌজা ও জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
২. প্রাথমিক যাচাই-বাছাই: আবেদন জমা দেওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কাগজপত্র এবং জমিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন। এক্ষেত্রে দেখা হবে যে, আবেদনকৃত জমিটি আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত কিনা।
৩. বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ: "খ" তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে, ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত বিশেষ পরিপত্র এবং নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়। যদি বাতিলকৃত "খ" তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মালিকানা আবেদনকারীর পক্ষে আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হয়, তবে সেই সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করে নামজারি করা হবে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করা হবে।
৪. তদন্ত ও শুনানি: ভূমি কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার ভূমি - AC Land) প্রয়োজনে সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের (আবেদনকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিনিধি) শুনানির জন্য ডাকতে পারেন।
৫. অনুমোদন ও রেকর্ড সংশোধন: যাচাই-বাছাই এবং শুনানির পর, যদি মালিকানা সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারির জন্য অনুমোদন দেবেন এবং রেকর্ড সংশোধন করা হবে।
৬. ফি পরিশোধ ও খতিয়ান সংগ্রহ: নামজারি অনুমোদনের পর, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি (সাধারণত ১,১০০ টাকা) অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর সংশোধিত খতিয়ান এবং ডিসিআর (DCR - Duplicate Carbon Receipt) সংগ্রহ করা যাবে।